বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৬:৩৩ পি.এম
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করাই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, যৌন হয়রানি সংক্রান্ত সকল অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ বৃহস্পতিবার ইউজিসি ভবনে ইউজিসি ও ইউএন উইমেনের মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মক্ষেত্র, জনপরিসর ও উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রকল্পের আওতায় এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
ইউজিসির সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম এবং ইউএন উইমেনের পক্ষে বাংলাদেশ প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কমিটি গঠন করা হলেও ইউজিসির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রেই এসব কমিটি প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে না। নারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রতিটি ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি কার্যকর করতে হবে।’
তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিযোগ গ্রহণ, প্রতিকার এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ইউজিসির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি তদারকি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের ডেপুটি হেড বেইবা জেরিনা বলেন, গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত ও উচ্চশিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। ইউজিসি ও ইউএন উইমেনের এই যৌথ উদ্যোগ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় প্রাথমিক পর্যায়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের জরিপ অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণীদের ১৬ শতাংশই প্রদেয় প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
ইউজিসির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক ড. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দ, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির প্রধান, ইউজিসি এবং ইউএন উইমেনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালে ভয়াবহ হড়কা বান ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবারের বিধ্বংসী বন্যার পর বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত দেশটির আটটি জেলা থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের সন্ধানে পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালি পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত মৃতের সংশোধিত সংখ্যা ৩৫৯ জনে পৌঁছানোর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, রাসুয়ায় ১৭টি, নুয়াকোটে ২৮টি, ধাদিঙে ৩৩টি, চিতওয়ানে ১৩২টি, গোর্খায় ৩০টি, তানাহুনে ২২টি, নওয়ালপরাসি পূর্বে ৮২টি এবং নওয়ালপরাসি পশ্চিমে ১৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে চিতওয়ান ও নওয়ালপরাসি পূর্ব জেলায়। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং বন্যার পানিতে আটকে পড়া ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে।
পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের সঙ্গে সমন্বয় করে নদীর তীরবর্তী এলাকা, ধ্বংসস্তূপ এবং দুর্গম স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসাবশেষে অবরুদ্ধ সড়কগুলোও পরিষ্কার করার কাজ চলছে।
বুধবার নেপালের উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর বন্যার পানি ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীপ্রবাহ ধরে দ্রুত ভাটির দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে নদীর তীরবর্তী জনবসতি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভোটেকোশি নদীর উজানে স্থাপিত কয়েকটি স্বয়ংক্রিয় বন্যা-পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রও পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে। ফলে আকস্মিক বন্যার শুরুতে এসব কেন্দ্র থেকে স্বাভাবিক সতর্কবার্তা পাওয়ার ব্যবস্থা ব্যাহত হয়।
এর আগে কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছিল, বন্যায় শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। সর্বশেষ এক প্রতিবেদনে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে ৮২৬ জনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কথা জানানো হয়। তাঁদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তাকর্মী এবং দেশি-বিদেশি পর্যটক রয়েছেন।
বন্যার ভয়াবহতায় নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান, গোর্খা, তানাহুন এবং নওয়ালপরাসিসহ একাধিক জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি নিখোঁজদের শনাক্ত ও তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বলিউড অভিনেতা অনুপম খের। তিনি দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তাদের একা না থাকার বিষয়টিতে গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া একটি বার্তায় অনুপম খের নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর দুঃখ ও আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আকস্মিক বন্যার ফলে অনেকের জীবন হারিয়েছে, পরিবারগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে।
তিনি লেখেন, "কিছু মুহূর্তের মধ্যে একজন মানুষের নিজের বলে পরিচিত সবকিছু হারিয়ে যাওয়ার কথা ভাবাও হৃদয়বিদারক।"
দুর্যোগে স্বজন হারানো পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে অনুপম খের বলেন, যারা এখনো নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষায় আছেন, তারা যেন দ্রুত তাদের প্রিয়জনের সন্ধান পান। যারা সবকিছু হারিয়েছেন, তাদের যেন আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সহায়তা মেলে—এমন প্রার্থনাও করেন তিনি।
অভিনেতা আরও বলেন, "এই কঠিন সময়ে বিশ্ববাসীর উচিত সহমর্মিতা ও দ্রুততার সঙ্গে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।" তিনি উল্লেখ করেন, যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করলে এই সংকট মোকাবেলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় সড়ক, সেতু ও ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধার অভিযানও চলছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে নিহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরো বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অনুপম খেরের বার্তায় শোকের পাশাপাশি দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও উঠে এসেছে। তিনি প্রার্থনা করেন, এমন দুঃসময়ে সবচেয়ে জরুরি হলো—ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যেন নিজেকে একা মনে না করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর প্রদানে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এড়াতে অটোমেটেড রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল কার্যক্রমে উদ্যোক্তাদের আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
আজ বৃহস্পতিবার ডিসিসিআই মিলনায়তনে ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট, ট্যাক্স, শুল্ক আইন এবং ব্যক্তিগত ই-রিটার্ন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন ও পরিমার্জন’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পশ্চিম)-এর অতিরিক্ত কমিশনার নির্ঝর আহমেদ।
সূচনা বক্তব্যে তাসকীন আহমেদ বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার ভ্যাট, আয়কর, কাস্টমস ডিউটি এবং ই-রিটার্ন ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। সংশোধিত নীতিমালা সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, কর প্রদানে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এড়ানোর পাশাপাশি জিডিপিতে করের অবদান বাড়াতে সরকারের প্রবর্তিত অটোমেটেড রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল কার্যক্রম সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের জ্ঞান অর্জন জরুরি।
নির্ঝর আহমেদ বলেন, রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে দেশের উদ্যোক্তারা সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থের জোগান দিয়ে থাকেন। তাই ব্যবসায়ের সব ক্ষেত্রে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনার পরিবর্তিত নিয়মনীতি সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের সচেতন থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের বাজেটে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়ন, ব্যাংক হিসাব খোলা, বাণিজ্য সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ ও নবায়নসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধন (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেসব উদ্যোক্তার এখনও ভ্যাট নিবন্ধন নেই, তাদের দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
নির্ঝর আহমেদ বলেন, ভ্যাট আইনের ৬৪ ধারায় প্রতি এক কর মেয়াদের পরিবর্তে তিন কর মেয়াদে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবসা পরিচালনা আরও সহজ হবে।
তিনি জানান, আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আপিলের ক্ষেত্রে দাবিকৃত করের ১০ শতাংশ জমা দেওয়ার বিধান সংশোধন করে আপিলাত ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ এবং হাইকোর্টের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়িক ব্যয় অনেকাংশে কমবে।
কর্মশালায় আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বিষয়ে দুটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব সেশনে ঢাকা চেম্বারের কাস্টমস ও ভ্যাট স্ট্যান্ডিং কমিটির উপদেষ্টা স্নেহাশীষ বড়ুয়া এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিকুল আলম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তারা অংশগ্রহণকারীদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেন।
কর্মশালায় ডিসিসিআইয়ের সদস্যভুক্ত শতাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ সময় ডিসিসিআই পরিচালক এম মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা: রাজধানীর শ্যামলীতে ঘটে যাওয়া আলোচিত ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল আসামি মো. নয়ন (২৮) সহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সাতজন কিশোর গ্যাং লিডার ও ছিনতাইকারী, একজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি, একজন মাদক কারবারি এবং একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
র্যাব-২ জানায়, গত এপ্রিল মাসে শ্যামলীতে প্রকাশ্যে সংঘটিত একটি ভয়াবহ ছিনতাইয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় প্রধান ছিনতাইকারী হিসেবে চিহ্নিত মো. নয়নকে মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং এলাকা থেকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন স্বীকার করেছে যে, সে একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের সক্রিয় সদস্য। দীর্ঘ সময় ধরে চক্রের সদস্যরা একত্রে মোহাম্মদপুর, আদাবরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছিল।
অভিযানে মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদ হাউজিং এলাকা থেকে আলোচিত ‘পাটালি গ্রুপের’ একজন কিশোর গ্যাং লিডার ও ছিনতাইকারী মো. আলমকে (২৪) একটি সামুরাইসহ গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে, মোহাম্মদপুরের বেরিবাঁধ এলাকা থেকে ১৯০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি মো. সবুজ হোসেনকে (৩৫) আটক করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে শেরেবাংলা নগরের পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠ এলাকা থেকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. ফাহিম হোসেনকে (২৪) গ্রেপ্তার করে র্যাব।
এছাড়া, মোহাম্মদপুরের হুমায়ুন রোড এলাকা থেকে স্বীকৃত কিশোর গ্যাং লিডার ও ছিনতাইকারী সজলকে (২২) এবং সাত মসজিদ হাউজিং এলাকা থেকে একাধিক মামলার আসামি মো. সজলকে (২৪) আটক করা হয়।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকা থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে ভুট্টোকে (৩৪) গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে, মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বাসেক খান সড়ক (ক্যান্সার গলি) এলাকা থেকে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে মো. আবির ওরফে মিরাজকে (২২) একটি সামুরাইসহ আটক করা হয়।
পশ্চিম কাটাসুর এলাকা থেকে ছিনতাইকারী চক্র ‘মুকুল গ্রুপের’ সক্রিয় সদস্য মো. হৃদয় ওরফে জ্যাক (২২) এবং মো. শাওনকে (২২) একটি সামুরাই ও একটি চাইনিজ কুড়ালসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের পিসিপিআর যাচাইয়ে জানা যায়, গ্রেপ্তার আলমের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা রয়েছে। সবুজ হোসেনের বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে।
এছাড়া, সজল (২২)-এর বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও শেরেবাংলা নগর থানায় চুরি ও দস্যুতার দুটি মামলা এবং সজল (২৪)-এর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদক ও দস্যুতার তিনটি মামলা রয়েছে। জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে ভুট্টোর বিরুদ্ধে তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নয়টি মামলা রয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ