প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা: রাজধানীর শ্যামলীতে ঘটে যাওয়া আলোচিত ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল আসামি মো. নয়ন (২৮) সহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সাতজন কিশোর গ্যাং লিডার ও ছিনতাইকারী, একজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি, একজন মাদক কারবারি এবং একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
র্যাব-২ জানায়, গত এপ্রিল মাসে শ্যামলীতে প্রকাশ্যে সংঘটিত একটি ভয়াবহ ছিনতাইয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় প্রধান ছিনতাইকারী হিসেবে চিহ্নিত মো. নয়নকে মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং এলাকা থেকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন স্বীকার করেছে যে, সে একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের সক্রিয় সদস্য। দীর্ঘ সময় ধরে চক্রের সদস্যরা একত্রে মোহাম্মদপুর, আদাবরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছিল।
অভিযানে মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদ হাউজিং এলাকা থেকে আলোচিত ‘পাটালি গ্রুপের’ একজন কিশোর গ্যাং লিডার ও ছিনতাইকারী মো. আলমকে (২৪) একটি সামুরাইসহ গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে, মোহাম্মদপুরের বেরিবাঁধ এলাকা থেকে ১৯০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি মো. সবুজ হোসেনকে (৩৫) আটক করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে শেরেবাংলা নগরের পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠ এলাকা থেকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. ফাহিম হোসেনকে (২৪) গ্রেপ্তার করে র্যাব।
এছাড়া, মোহাম্মদপুরের হুমায়ুন রোড এলাকা থেকে স্বীকৃত কিশোর গ্যাং লিডার ও ছিনতাইকারী সজলকে (২২) এবং সাত মসজিদ হাউজিং এলাকা থেকে একাধিক মামলার আসামি মো. সজলকে (২৪) আটক করা হয়।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকা থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে ভুট্টোকে (৩৪) গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে, মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বাসেক খান সড়ক (ক্যান্সার গলি) এলাকা থেকে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে মো. আবির ওরফে মিরাজকে (২২) একটি সামুরাইসহ আটক করা হয়।
পশ্চিম কাটাসুর এলাকা থেকে ছিনতাইকারী চক্র ‘মুকুল গ্রুপের’ সক্রিয় সদস্য মো. হৃদয় ওরফে জ্যাক (২২) এবং মো. শাওনকে (২২) একটি সামুরাই ও একটি চাইনিজ কুড়ালসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের পিসিপিআর যাচাইয়ে জানা যায়, গ্রেপ্তার আলমের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা রয়েছে। সবুজ হোসেনের বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে।
এছাড়া, সজল (২২)-এর বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও শেরেবাংলা নগর থানায় চুরি ও দস্যুতার দুটি মামলা এবং সজল (২৪)-এর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদক ও দস্যুতার তিনটি মামলা রয়েছে। জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে ভুট্টোর বিরুদ্ধে তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নয়টি মামলা রয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন