বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৬:৩৭ পি.এম
নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বলিউড অভিনেতা অনুপম খের। তিনি দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তাদের একা না থাকার বিষয়টিতে গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া একটি বার্তায় অনুপম খের নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর দুঃখ ও আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আকস্মিক বন্যার ফলে অনেকের জীবন হারিয়েছে, পরিবারগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে।
তিনি লেখেন, "কিছু মুহূর্তের মধ্যে একজন মানুষের নিজের বলে পরিচিত সবকিছু হারিয়ে যাওয়ার কথা ভাবাও হৃদয়বিদারক।"
দুর্যোগে স্বজন হারানো পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে অনুপম খের বলেন, যারা এখনো নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষায় আছেন, তারা যেন দ্রুত তাদের প্রিয়জনের সন্ধান পান। যারা সবকিছু হারিয়েছেন, তাদের যেন আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সহায়তা মেলে—এমন প্রার্থনাও করেন তিনি।
অভিনেতা আরও বলেন, "এই কঠিন সময়ে বিশ্ববাসীর উচিত সহমর্মিতা ও দ্রুততার সঙ্গে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।" তিনি উল্লেখ করেন, যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করলে এই সংকট মোকাবেলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় সড়ক, সেতু ও ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধার অভিযানও চলছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে নিহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরো বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অনুপম খেরের বার্তায় শোকের পাশাপাশি দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও উঠে এসেছে। তিনি প্রার্থনা করেন, এমন দুঃসময়ে সবচেয়ে জরুরি হলো—ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যেন নিজেকে একা মনে না করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর প্রদানে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এড়াতে অটোমেটেড রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল কার্যক্রমে উদ্যোক্তাদের আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
আজ বৃহস্পতিবার ডিসিসিআই মিলনায়তনে ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট, ট্যাক্স, শুল্ক আইন এবং ব্যক্তিগত ই-রিটার্ন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন ও পরিমার্জন’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পশ্চিম)-এর অতিরিক্ত কমিশনার নির্ঝর আহমেদ।
সূচনা বক্তব্যে তাসকীন আহমেদ বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার ভ্যাট, আয়কর, কাস্টমস ডিউটি এবং ই-রিটার্ন ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। সংশোধিত নীতিমালা সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, কর প্রদানে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এড়ানোর পাশাপাশি জিডিপিতে করের অবদান বাড়াতে সরকারের প্রবর্তিত অটোমেটেড রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল কার্যক্রম সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের জ্ঞান অর্জন জরুরি।
নির্ঝর আহমেদ বলেন, রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে দেশের উদ্যোক্তারা সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থের জোগান দিয়ে থাকেন। তাই ব্যবসায়ের সব ক্ষেত্রে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনার পরিবর্তিত নিয়মনীতি সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের সচেতন থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের বাজেটে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়ন, ব্যাংক হিসাব খোলা, বাণিজ্য সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ ও নবায়নসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধন (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেসব উদ্যোক্তার এখনও ভ্যাট নিবন্ধন নেই, তাদের দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
নির্ঝর আহমেদ বলেন, ভ্যাট আইনের ৬৪ ধারায় প্রতি এক কর মেয়াদের পরিবর্তে তিন কর মেয়াদে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবসা পরিচালনা আরও সহজ হবে।
তিনি জানান, আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আপিলের ক্ষেত্রে দাবিকৃত করের ১০ শতাংশ জমা দেওয়ার বিধান সংশোধন করে আপিলাত ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ এবং হাইকোর্টের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়িক ব্যয় অনেকাংশে কমবে।
কর্মশালায় আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বিষয়ে দুটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব সেশনে ঢাকা চেম্বারের কাস্টমস ও ভ্যাট স্ট্যান্ডিং কমিটির উপদেষ্টা স্নেহাশীষ বড়ুয়া এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিকুল আলম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তারা অংশগ্রহণকারীদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেন।
কর্মশালায় ডিসিসিআইয়ের সদস্যভুক্ত শতাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ সময় ডিসিসিআই পরিচালক এম মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা: রাজধানীর শ্যামলীতে ঘটে যাওয়া আলোচিত ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল আসামি মো. নয়ন (২৮) সহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সাতজন কিশোর গ্যাং লিডার ও ছিনতাইকারী, একজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি, একজন মাদক কারবারি এবং একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
র্যাব-২ জানায়, গত এপ্রিল মাসে শ্যামলীতে প্রকাশ্যে সংঘটিত একটি ভয়াবহ ছিনতাইয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় প্রধান ছিনতাইকারী হিসেবে চিহ্নিত মো. নয়নকে মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং এলাকা থেকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন স্বীকার করেছে যে, সে একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের সক্রিয় সদস্য। দীর্ঘ সময় ধরে চক্রের সদস্যরা একত্রে মোহাম্মদপুর, আদাবরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছিল।
অভিযানে মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদ হাউজিং এলাকা থেকে আলোচিত ‘পাটালি গ্রুপের’ একজন কিশোর গ্যাং লিডার ও ছিনতাইকারী মো. আলমকে (২৪) একটি সামুরাইসহ গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে, মোহাম্মদপুরের বেরিবাঁধ এলাকা থেকে ১৯০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি মো. সবুজ হোসেনকে (৩৫) আটক করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে শেরেবাংলা নগরের পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠ এলাকা থেকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. ফাহিম হোসেনকে (২৪) গ্রেপ্তার করে র্যাব।
এছাড়া, মোহাম্মদপুরের হুমায়ুন রোড এলাকা থেকে স্বীকৃত কিশোর গ্যাং লিডার ও ছিনতাইকারী সজলকে (২২) এবং সাত মসজিদ হাউজিং এলাকা থেকে একাধিক মামলার আসামি মো. সজলকে (২৪) আটক করা হয়।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকা থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে ভুট্টোকে (৩৪) গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে, মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বাসেক খান সড়ক (ক্যান্সার গলি) এলাকা থেকে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে মো. আবির ওরফে মিরাজকে (২২) একটি সামুরাইসহ আটক করা হয়।
পশ্চিম কাটাসুর এলাকা থেকে ছিনতাইকারী চক্র ‘মুকুল গ্রুপের’ সক্রিয় সদস্য মো. হৃদয় ওরফে জ্যাক (২২) এবং মো. শাওনকে (২২) একটি সামুরাই ও একটি চাইনিজ কুড়ালসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের পিসিপিআর যাচাইয়ে জানা যায়, গ্রেপ্তার আলমের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা রয়েছে। সবুজ হোসেনের বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে।
এছাড়া, সজল (২২)-এর বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও শেরেবাংলা নগর থানায় চুরি ও দস্যুতার দুটি মামলা এবং সজল (২৪)-এর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদক ও দস্যুতার তিনটি মামলা রয়েছে। জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে ভুট্টোর বিরুদ্ধে তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নয়টি মামলা রয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেগুলো পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে—এমন কোনও ‘নির্ভরযোগ্য প্রমাণ’ এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি।
আর্জেন্টিনার সংবাদপত্র ক্লারিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রোসি বলেন, যুদ্ধের কারণে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে আছে। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ের কাজ আবার শুরু করার জন্য আইএইএ প্রস্তুত রয়েছে।
গ্রোসি জানান, ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৪৪০ কেজি (৯৭২ পাউন্ড) উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনও গত বছরের ‘১২ দিনের যুদ্ধ’-এর সময় যেখানে ছিল, সেখানেই রয়েছে।
তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার ফলে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিছু অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে—এ সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সেগুলো ব্যাপকভাবে পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে—এমন কোনও দৃঢ় প্রমাণ আইএইএর হাতে নেই।
গ্রোসি বলেন, “স্থাপনাগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্ভবত তারা তাদের কিছু অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করেছে—এটি অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু এমনটা ঘটছে বলে কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। ফলে বিষয়টি এখনও বড় ধরনের অমীমাংসিত সমস্যা হয়ে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রস্তুত এবং আশা করছি যত দ্রুত সম্ভব সেখানে আবার আমাদের কাজ শুরু করতে পারব।”
হামলার পরও ইউরেনিয়ামের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। ইউরেনিয়াম উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ করার মাত্রা যত বাড়ে, তা পারমাণবিক জ্বালানি ও অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে ওঠে।
গ্রোসির বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনও গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের সময়কার অবস্থানেই রয়েছে। এর অর্থ হলো, হামলার পর ওই মজুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে—এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য আইএইএ’র হাতে নেই।
তবে এই মজুতের বর্তমান অবস্থা ও অবস্থান সরাসরি যাচাই করতে আইএইএর পরিদর্শকদের মাঠপর্যায়ের প্রবেশাধিকার প্রয়োজন। যুদ্ধের কারণে সেই যাচাই ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
পারমাণবিক আলোচনা স্থবির
গ্রোসির বক্তব্যে উঠে এসেছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা বর্তমানে কার্যত স্থবির। যুদ্ধ ও সামরিক হামলার কারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়নি।
আইএইএ দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে আসছে এবং তেহরানের ঘোষিত কর্মসূচি ও মজুত সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যাচাইযোগ্য তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করছে।
কিন্তু পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সামরিক হামলার পর আইএইএ’র পরিদর্শন ও নজরদারি কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
গ্রোসি বলেন, আইএইএ আবারও ইরানে গিয়ে কাজ শুরু করতে প্রস্তুত। তার মতে, যত দ্রুত সম্ভব পরিদর্শন ও যাচাই কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা জরুরি।
পুনর্নির্মাণের প্রমাণ না মিললেও উদ্বেগ কাটেনি
আইএইএ প্রধানের বক্তব্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও নিশ্চিত প্রমাণ না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হলেও, তিনি এটিও জানিয়েছেন যে কিছু অবকাঠামোর পুনর্গঠন শুরু হয়ে থাকতে পারে।
ফলে স্থাপনাগুলোর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সরাসরি পরিদর্শন ও প্রযুক্তিগত যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছে আইএইএ।
গ্রোসি যে বিষয়টিকে ‘বড় ধরনের অমীমাংসিত সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তার মূল কারণ হলো—স্থাপনাগুলো কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ইরান সেখানে কী ধরনের পুনর্গঠন করছে এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বর্তমানে ঠিক কী অবস্থায় রয়েছে—এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।
এ অবস্থায় আইএইএ’র পরিদর্শন পুনরায় শুরু হওয়াকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক স্বচ্ছতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভাগমন উপলক্ষে আনন্দ মিছিল এবং জশনে জুলুস জায়েজ কি না, এই বিষয়ে কওমি অঙ্গনের ওবায়দুল্লাহ হোসাইন সাহেবের সঙ্গে মুজাকারায় (মতবিনিময়) বসার আহ্বান গ্রহণ করেছেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব মুফতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন তাহেরী।
মুফতি তাহেরী একটি বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভ আগমনে আনন্দ মিছিল করা না-জায়েজ—এটি প্রমাণ করতে আমার সঙ্গে মুজাকারায় বসতে ওবায়দুল্লাহ হোসাইন সাহেব রাজি হয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কখনো ওবায়দুল্লাহ হোসাইনকে দেখেননি এবং তার নামও আগে শোনা হয়নি। তবে, মুজাকারায় বসতে তার কোনো আপত্তি নেই বলে তিনি জানান।
মুফতি তাহেরী বলেন, মুজাকারায় বসার জন্য ওবায়দুল্লাহ হোসাইন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামেয়া ইউনুসিয়া মাদরাসা থেকে অনুমতির শর্ত দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন করেন, “ওবায়দুল্লাহ হোসাইন সাহেব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামেয়া ইউনুসিয়া মাদরাসা থেকে অনুমতি পেয়েছেন কি? আশা করি, অনুমতিপত্রটি আমার হস্তগত করবেন অথবা ফেসবুকে আপলোড করবেন।”
তিনি আরও বলেন, “উদারতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ধর্মীয় সম্প্রীতি সুরক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বসার পরিবেশ তৈরি করে উভয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের রোডম্যাপ তৈরি করব, ইনশাআল্লাহ।”
মুফতি তাহেরী তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, মহানবী (সা.)-এর শুভাগমন উপলক্ষে আনন্দ মিছিল জায়েজ এবং শাব্দিক অর্থের বিবেচনায় ‘ঈদ’ শব্দ ব্যবহারে তার কোনো আপত্তি নেই।
পক্ষে—
মুফতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন তাহেরী
সাংগঠনিক সচিব—আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আত কেন্দ্রীয় পরিষদ
চেয়ারম্যান—দাওয়াতে ঈমানী বাংলাদেশ
সাজ্জাদানশীন—ফয়েজিয়া দরবার শরীফ, চাপুইর, ভাতশালা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ