০২:১৭ পি.এম
গত ৪ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’ ওয়াশিংটনের রেগান ন্যাশনাল বিমানবন্দরের কাছে একটি যাত্রীবাহী বিমানের সাথে মাঝ-আকাশে সংঘর্ষের চরম ঝুঁকিতে পড়েছিল। বর্তমানে জানা যাচ্ছে, হোয়াইট হাউসে চলমান নির্মাণকাজের কারণে সৃষ্ট রেডিও গোলযোগের ফলে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা ট্রাম্পের হেলিকপ্টার উড্ডয়নের প্রস্তুতির সতর্কবার্তামূলক কলগুলো শুনতে পাননি।
ফলে, ঠিক যে মুহূর্তে ‘মেরিন ওয়ান’ আকাশে উড়ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই তারা একটি যাত্রীবাহী বিমানকে উড্ডয়নের অনুমতি দিয়ে বসেন।
আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে
ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড-এনটিএসবি’র একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোনাল্ড রেগান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের কাছে প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টারটি ‘এনভয় এয়ার’-এর ওই যাত্রীবাহী বিমানের খুব কাছাকাছি চলে আসার ঠিক আগের সপ্তাহে, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার এবং মেরিন ওয়ানের পাইলটরা একটি বৈঠকে বসেছিলেন। এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল মেরিন ওয়ানের উড্ডয়নের আগে কন্ট্রোলাররা যে প্রথামাফিক তিন মিনিটের পূর্ব-সতর্কবার্তা কল পান না, তা নিয়ে আলোচনা করার জন্য। ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা হলে অন্য কারো মাধ্যমে রেডিও কলগুলো স্থানান্তরের পরিকল্পনাও করেছিলেন তারা।
কিন্তু ৪ আগস্টের দুর্ঘটনার দিন সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
ঘটনার পর টেকনিশিয়ানরা আবিষ্কার করেন যে, মেরিন ওয়ানের টাওয়ারের সাথে যোগাযোগে মাঝেমধ্যে সমস্যা হওয়ার মূল কারণ ছিল হোয়াইট হাউসের নির্মাণকাজের কারণে হেলিকপ্টারটির অবস্থান নতুন একটি জায়গায় সরিয়ে নেওয়া। এই সমস্যার সমাধানে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এফএএ রেডিও রিসিভারটি বিমানবন্দরের কাছের একটি এলাকা থেকে সরিয়ে রেগান বিমানবন্দরের টাওয়ারের চূড়ায় স্থাপন করে। পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে দেখা গেছে, এই পরিবর্তনের পর রেডিওগুলো বেশ ভালোভাবে কাজ করছে।
আরও পড়ুন: স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৮, আহত ৮০
এভিয়েশন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেফ গুজেটি বলেন, ‘যদিও তারা পূর্ববর্তী কিছু যোগাযোগ সমস্যার ব্যাপারে অবগত ছিলেন, তাও তারা কখনোই এর মূল কারণটি উদঘাটন করতে পারেননি।’ ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এফএএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা দুর্ঘটনার পরপরই বিমানবন্দর এবং মেরিন ওয়ানের পাইলটদের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করতে ওই অ্যান্টেনাটি সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। হোয়াইট হাউস এই প্রাথমিক প্রতিবেদনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
যাত্রীবাহী বিমান এবং হেলিকপ্টার; উভয়ই একই সময়ে আকাশে থাকায় নিরাপত্তা বিধিমালারও লঙ্ঘন বলে মনে হয়েছে, যা গত বছর ওই ব্যস্ত বিমানবন্দরের কাছে ঘটে যাওয়া একটি মাঝ-আকাশের সংঘর্ষের পর কার্যকর করা হয়েছিল। ওই দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত হয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: কাতারের নতুন প্রস্তাব ইরানকে, যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা
তবে কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, প্রেসিডেন্ট কখনোই কোনো বিপদের মধ্যে ছিলেন না। তাছাড়া, গত বছরের ওই দুর্ঘটনার অনেক আগে থেকেই পেন্টাগনের সাথে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে, যার অধীনে প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার উড্ডয়নের তিন মিনিট আগে কন্ট্রোলারদের সতর্কবার্তা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
এনটিএসবি জানিয়েছে, টাওয়ারের রেকর্ডিং থেকে দেখা গেছে যে কন্ট্রোলাররা সেদিন মেরিন ওয়ানের পাইলটের কাছ থেকে উড্ডয়নের প্রস্তুতির সতর্কবার্তামূলক কলগুলো শুনতে পাননি। তবে পৃথক আরেকটি রেকর্ডিংয়ে দেখা গেছে যে হেলিকপ্টার থেকে সেই কলগুলো করা হয়েছিল। হেলিকপ্টারের পাইলটরা তাদের তিন মিনিটের সতর্কবার্তা কলটি ‘জয়েন্ট বেস অ্যানাকোস্টিয়া-বলিং’-এর হেলিকপ্টার ঘাঁটির মাধ্যমে স্থানান্তরের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সেই চেষ্টাও সফল হয়নি।
এফএএ স্বীকার করেছে যে, একে অপরের থেকে দূরে সরে যাওয়ার আগে হেলিকপ্টার এবং যাত্রীবাহী বিমানটি ক্ষণিকের জন্য খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল। মেরিন ওয়ানের পাইলটরা বিমানটিকে দেখতে পেয়ে সাময়িকভাবে উড্ডয়ন স্থগিত করেন এবং বিমানটি নিরাপদ দূরত্বে চলে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। এরপর বিমানটি দ্রুত হেলিকপ্টারের ওপর দিয়ে উঁচুতে উঠে যায়। এনটিএসবি জানিয়েছে, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী বিমান দুটির মধ্যকার সবচেয়ে কম দূরত্ব ছিল পাশাপাশি মাত্র ১.৩ কিলোমিটার এবং উপর-নিচে প্রায় ৭০০ ফুট।
এনভয় এয়ার ফ্লাইটের কর্মীরা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, উড্ডয়নের পরপরই তারা তাদের সংঘর্ষ এড়ানো পদ্ধতি থেকে ট্রাফিকের সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন। কিন্তু তারা হেলিকপ্টারটিকে কখনই দেখতে পাননি। জেফ গুজেটি বলেছেন যে, তিনি কন্ট্রোলারদের কোনো দোষ দেখছেন না কারণ তারা মেরিন ওয়ানের সতর্কবার্তাগুলো শুনতেই পাননি। আর যখনই তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে হেলিকপ্টারটি উড়ছে, তখনই তারা দ্রুত পাইলটদের সতর্ক করেন এবং রেগান বিমানবন্দরে অবতরণ করতে যাওয়া অন্য একটি বিমানকে অবতরণ বাতিল করে আকাশে চক্কর দেওয়ার নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন