প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হিমবাহ ধস ও প্রাণঘাতী আকস্মিক প্লাবনের ট্র্যাজেডি কাটিয়ে ওঠার আগেই নেপাল-তিব্বত সীমান্তে একটি পানির বাঁধ ফের ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় নেপালে নতুন করে ধ্বংসাত্মক পাহাড়ি ঢল ও বন্যার আশঙ্কায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নদী অববাহিকার সাধারণ বাসিন্দা, উদ্ধারকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীদের অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জরুরি নির্দেশ দিয়েছে নেপাল কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৬ আগস্ট যে স্থানে প্রথম পাহাড়ি ঢল আঘাত হেনেছিল, সেই একই স্থানে কাদা ও পানির উচ্চতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। ফলে ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। খবর দ্য ইকোনমিক টাইমসের।
নেপাল পুলিশ পৃথক এক সতর্কবার্তায় তিব্বতের দিকে বাঁধ ভাঙার তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, দ্রুত এলাকা থেকে উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষকে নিরাপদ উচ্চতায় অবস্থান নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে স্বজনদের মৃতদেহ ও নিখোঁজদের উদ্ধারে যে কর্মীরা জীবন বাজি রেখে কাজ করছিলেন, নতুন ঢলের ঝুঁকিতে তাদের নিরাপত্তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।
এর আগে নেপাল-চীন সীমান্তের সন্নিকটে তিব্বত থেকে উৎপন্ন ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলে বিশাল একটি কৃত্রিম জলাধার তৈরি হওয়া নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করে আবহাওয়া দপ্তর। চীনা কর্তৃপক্ষ নেপাল সরকারকে জানিয়েছে, অতিবৃষ্টি ও ঢলে গঠিত ওই জলাধারে ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে। আগামী কয়েক দিনে আরও ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি প্রবেশ করলে পুরো কাঠামো ধসে পড়ে নিচের দিকে বিপুল বেগে পানি নেমে আসতে পারে।
প্রসঙ্গত, বুধবার(২৬ আগস্ট) ভয়াবহ বিপর্যয়ে শত শত প্রাণহানির পাশাপাশি নেপালের বিস্তীর্ণ বসতি, সেতু, সড়ক ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো এক লহমায় ধ্বংস হয়ে যায়। সেই ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজদের খোঁজে যখন স্বজন ও উদ্ধারকারীরা হন্যে হয়ে খুঁজছেন, ঠিক সেই সময়ে তিব্বতের এই নতুন বাঁধ ভাঙার খবর যেন নেপালের দুর্গত মানুষের জন্য মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন