০৪:০২ পি.এম
ময়মনসিংহের নান্দাইলে গভীর রাতে টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরা একটি ভাঙারির দোকানে আস্ত বড় ড্রাম ট্রাক কেটে বিক্রির চেষ্টা চলাকালে দুই যুবককে স্থানীয়রা হাতেনাতে আটক করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ট্রাকটি জব্দ করে এবং আটকদের থানায় নিয়ে যায়।
জব্দ করা ট্রাকের নথিপত্র যাচাই করার সময় দেখা যায়, বড় ড্রাম ট্রাকটি বৈধ দেখানোর জন্য যে কাগজপত্র দাখিল করা হয়েছে, তা মূলত একটি ছোট পিকআপ ভ্যানের। এই অভিনব জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর পুরো উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নান্দাইল উপজেলার সিংরুইল বাজারে শাহিনের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাড়া নিয়েছিলেন আনোয়ার হোসেন রুমালী ও সাদ্দাম হোসেন। তারা ওই প্রতিষ্ঠানের চারপাশ উঁচু টিন দিয়ে ঘেরাও করে ভেতরে ভাঙারির ব্যবসা করে আসছিলেন।
আরও পড়ুন: এমপির হস্তক্ষেপের পরও কমেনি ডাকাতি, নাসিরনগরের আনন্দপুরে ফের ডাকাতি আজ ভোররাতে আবারও ডাকাতির ঘটনা, আতঙ্কে স্থানীয়রা
রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘেরাও করা সীমানার ভেতর একটি বড় হলুদ রঙের ড্রাম ট্রাক প্রবেশ করতে দেখে স্থানীয় লোকজনের মনে সন্দেহ জাগে। কৌতূহবশত তারা ভেতরে গিয়ে দেখতে পান, পুরো একটি ড্রাম ট্রাক আধুনিক গ্যাস সিলিন্ডার ও কাটিং মেশিন দিয়ে কাটার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিষয়টি দেখে চুরির আশঙ্কায় স্থানীয়রা উপস্থিত সাদ্দাম ও নজরুল নামে দুজনকে হাতেনাতে আটক করে থানায় খবর দেয়। তবে এ সময় পালিয়ে যান মূল হোতা রুমালীসহ আরো তিনজন। পরে নান্দাইল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ড্রাম ট্রাকটি জব্দ করে এবং দুজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সোমবার সকালে নান্দাইল থানায় গিয়ে দেখা যায়, জব্দ করা বড় ড্রাম ট্রাকটি থানার সামনেই রাখা রয়েছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ড্রাম ট্রাকটির মূল রহস্য বেরিয়ে আসে এর কাগজপত্র পরীক্ষা করার পর। আটক সাদ্দামের দাবি অনুযায়ী সরবরাহ করা নোটারি পাবলিকের ‘পুরাতন ট্রাক বিক্রয় সংক্রান্ত চুক্তিপত্র’ ও এফিডেভিট ঘেঁটে দেখা যায়, সাদ্দাম হোসেন খাঁন নামে এক ব্যক্তি ২৩ আগস্ট ময়মনসিংহের চরকালিবাড়ি এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে মো. ফারুক নামে এক বিক্রেতার কাছ থেকে ৮ লাখ টাকায় গাড়িটি কিনেছেন। কাগজে গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং তৈরির সাল ২০১১ উল্লেখ করা হয়েছে।
বিআরটিএ ময়মনসিংহ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান জানান, এই নম্বর ও বিবরণটি আদতে একটি ছোট পিকআপ ভ্যানের, যা জালিয়াতি করে এই বড় ড্রাম ট্রাকের নামে চালানো হচ্ছিল।
নান্দাইল থানার এসআই খাইরুল ইসলাম জানান, আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উদ্ধার ট্রাকের কাগজপত্র চাওয়া হয়েছিল। তবে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সরবরাহ করা নথিপত্রটি জব্দ করা বড় ড্রাম ট্রাকের নয়। মূলত জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে একটি ছোট পিকআপের কাগজপত্র এখানে ব্যবহার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মহেশপুরে শ্বশুরের বিরুদ্ধে জামাই আব্দুর রহমান হত্যার অভিযোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন