ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আহমদ রফিক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের আইকন হতে পারেন


আহমদ রফিক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের আইকন হতে পারেন

ভাষাসংগ্রামী ও রবীন্দ্রগবেষক আহমদ রফিক সব সময় নিজেকে অতিক্রম করে গেছেন। বাঙালির চিরায়ত অসাম্প্রদায়িকতার রূপ তাঁর মধ্যে মূর্ত হয়েছিল। লেখক ও গবেষক এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক মন্তব্য করেছেন যে, তিনি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের আইকন হতে পারেন।

আহমদ রফিকের প্রথম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণাঞ্জলি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘মহিমা তব উদ্ভাসিত’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে খামখেয়ালি সভা।

অনুষ্ঠানে আহমদ রফিকের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী, আহমদ রফিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ড. ইসমাইল সাদী এবং খামখেয়ালি সভা ট্রাস্টের সভাপতি মাহমুদ হাশিম।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি: আজকের শিক্ষার্থীরাই জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে

আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় আহমদ রফিকের ‘মাকে আমি কোনদিন’ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষ চিঠি’র অংশবিশেষ আবৃত্তি করেন। শিল্পী মঞ্জুয়ারা রশিদ রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খামখেয়ালি সভা ট্রাস্টের অন্যতম সদস্য ও চিত্রশিল্পী আবদুল মান্নান।

অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী বলেন, আহমদ রফিক ব্যক্তিগত সম্পদে আস্থা রাখতেন না। তিনি সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানায় বিশ্বাসও করতেন না। তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে এখন আহমদ রফিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মৃত্যুর কয়েক বছর আগে তিনি এ উদ্যোগকে স্বীকৃতিও দিয়েছিলেন।

ভীষ্মদেব চৌধুরী আরও বলেন, আহমদ রফিকের শেষ ইচ্ছাগুলোর একটি ছিল ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁর স্মরণে তরুণদের উদ্যোগে একটি ফাউন্ডেশন বা সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা এবং তাঁর সাধনার চর্চা চালিয়ে যাওয়া। এসব থেকেই আহমদ রফিকের স্বার্থহীন মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।

ইসমাইল সাদী বলেন, আহমদ রফিক কখনো নিজের কাজ বা অবদানের প্রচার করেননি। এ কারণে তাঁর জীবনের অনেক ঘটনা আড়ালে থেকে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, আহমদ রফিকের কর্মময় জীবনের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনী গ্রন্থ প্রকাশের প্রয়োজন রয়েছে।

আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা নেই: ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

আহমদ রফিকের প্রথম প্রয়াণবার্ষিকীর স্মরণাঞ্জলি অনুষ্ঠানে তাঁর স্মৃতি ও কর্মকে সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য চারটি কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে খামখেয়ালী সভার রবীন্দ্র গ্রন্থাগারে ‘আহমদ রফিক সংগ্রহ’ প্রতিষ্ঠা করে তাঁর রচনা ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ, ‘আহমদ রফিক স্মারক বক্তৃতা’ আয়োজন, ছয় মাস মেয়াদি ‘ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক অধ্যয়নসভা’ এবং রবীন্দ্রগবেষকদের জন্য ‘আহমদ রফিক গবেষণা বৃত্তি’ চালুর উদ্যোগ।

খামখেয়ালী সভা ট্রাস্টের সভাপতি মাহমুদ হাশিম এসব কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ছয় মাস মেয়াদি অধ্যয়নসভা চলতি নভেম্বরেই শুরু হবে। এ জন্য বর্তমানে সদস্য আহ্বান করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি চিত্রশিল্পী আবদুল মান্নান বলেন, আহমদ রফিকের স্মৃতি সংরক্ষণ ও তাঁর কর্মের চর্চা এগিয়ে নিতে প্রস্তাবিত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে খামখেয়ালী সভা কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে আহমদ রফিক ফাউন্ডেশনসহ লেখক, সাহিত্যিক, প্রকাশক ও তাঁর অনুরাগীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

আরও পড়ুন: বিচারকের কাছে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন জানালেন পলক

রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক রবীন্দ্রচর্চায় পথিকৃৎ ভূমিকা পালন করেন আহমদ রফিক। নানা কারণে পরে কেন্দ্রটির কার্যক্রম আর চালু রাখা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তাঁর গভীর দুঃখ ছিল।

তারুণ্যনির্ভর খামখেয়ালী সভার কর্মকাণ্ডে আহমদ রফিক খুশি ছিলেন। ২০১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর খামখেয়ালি সভা তাঁকে প্রথম ‘রবীন্দ্রগুণী’ সম্মাননা দেয়। আমৃত্যু তিনি সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন।

ভাষা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারীদের মধ্যে আহমদ রফিক ছিলেন অন্যতম। ছাত্রজীবনে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করলেও আমৃত্যু দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে গবেষণা করেছেন তিনি। তিন শতাধিক গ্রন্থে দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মননজগত তুলে ধরেছেন এই ভাষাসংগ্রামী ও গবেষক। আহমদ রফিক ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর মারা যান।

আরও পড়ুন: বেরোবিসাসের ষান্মাসিক সেরা ফিচার লেখক হলেন মাসফিকুল হাসান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তরুণদের জয়রথ ও রেকর্ডে পর্দা নামল ২০তম এশিয়ান গেমসের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩১ পি.এম


তরুণদের জয়রথ ও রেকর্ডে পর্দা নামল ২০তম এশিয়ান গেমসের

২০তম এশিয়ান গেমসের সমাপ্তি ঘটে তরুণ অ্যাথলেটদের রেকর্ড-ভাঙা কীর্তির মাধ্যমে, নানা জটিলতা সত্ত্বেও। রবিবার (৪ অক্টোবর) জাপানের মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে এক জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আয়োজনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

গেমসের সমাপ্তি টানেন অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) সভাপতি শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল থানি। তিনি পরবর্তী ২০৩০ সালের ২১তম আসরের আয়োজক দেশ দোহার (কাতার) কর্মকর্তাদের হাতে গেমসের মশাল তুলে দেন।

প্রায় ১৭ হাজার অ্যাথলেট ও কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এবারের আসরটি প্যারিস অলিম্পিকের চেয়েও বড় আকারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে আয়োজকদের ‘সহজ ও সুশৃঙ্খল’ পরিকল্পনার সঙ্গে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সমন্বয় না হওয়ায় মাঠের বাইরে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। অ্যাথলেটদের আবাসন সংকট, বিছানার অভাব এবং তীব্র পরিবহন বিপর্যয়ের কারণে আয়োজক কমিটিকে একাধিকবার প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হয়েছে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রায় প্রতিটি খেলাতেই গ্যালারিগুলো ছিল শূন্য। এমনকি অ্যাথলেটিক্সের মূল ইভেন্ট কিংবা ফুটবল ফাইনাল বাদে বাকি খেলাগুলোতে নামমাত্র দর্শকের উপস্থিতি আয়োজকদের হতাশ করেছে। তবে জাপানি অলিম্পিক কমিটির সভাপতি সেইকো হাশিমোতো সব সমস্যা স্বীকার করে নিয়ে একে ‘ভবিষ্যতের বড় ইভেন্ট আয়োজনের শিক্ষা’ বলে উল্লেখ করেছেন।

যদিও আয়োজকদের সাংগঠনিক ব্যর্থতা ছিল, মাঠের লড়াইয়ে তরুণ অ্যাথলেটদের পারফরম্যান্স ছিল অতিমানবীয়।

চীনের ১৩ বছর বয়সী সাঁতারু যু জিডি পুলে ৩টি একক স্বর্ণপদক জিতে আসরের সেরা নারী ক্রীড়াবিদ নির্বাচিত হয়েছেন। ৭ স্বর্ণ জিতে ইতিহাস গড়েছেন চীনের আরেক ১৯ বছর বয়সী সাঁতারু ঝাং ঝানশু। এটি ছিল এক আসরে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণপদক জয়।

জাপানের ১৭ বছর বয়সী বিস্ময়বালক শিন ওহাশি ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে বিশ্বরেকর্ড ভেঙে নতুন কীর্তি গড়েন। থাইল্যান্ডের ২০ বছর বয়সী স্প্রিন্টার পুরিপোল বুন্সন ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে জোড়া স্বর্ণ জিতে ছেলেদের আসরের সেরা ক্রীড়াবিদ নির্বাচিত হন।

পদক তালিকার শীর্ষস্থান বরাবরের মতো নিজেদের দখলে রেখেছে পরাশক্তি চীন। বিদেশের মাটিতে নিজেদের ইতিহাসের সেরা পারফরম্যান্স দিয়ে তারা ১৬৯টি স্বর্ণসহ মোট ৩৪১টি পদক জিতেছে। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জাপান ৮৩টি স্বর্ণসহ মোট ২৬৯টি পদক নিয়ে আসর শেষ করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়া ৩০টি স্বর্ণ, ৩১টি রৌপ্য ও ৫৪টি ব্রোঞ্জসহ মোট ১১৫টি পদক নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তান, যাদের সংগ্রহে রয়েছে ১৬টি স্বর্ণসহ মোট ৫৬টি পদক। ১২টি স্বর্ণসহ ইরান পঞ্চম স্থানে রয়েছে। সমানসংখ্যক ১২টি স্বর্ণ নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে থাইল্যান্ড। অন্যদিকে, ভারত এখন পর্যন্ত ১১টি স্বর্ণ, ২৪টি রৌপ্য ও ৩৩টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৬৮টি পদক জিতে তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের পদকসংগ্রহ এখনো সীমিত। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত একটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে, কিন্তু কোনো স্বর্ণ বা রৌপ্য পদকের দেখা পায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭ পদের ৫টিই শূন্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষা অফিসে সহায়কে চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩২ পি.এম


৭ পদের ৫টিই শূন্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষা অফিসে সহায়কে চলছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় বর্তমানে তীব্র জনবল সংকটে রয়েছে, যা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অনুমোদিত সাতটি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। এই দুজনের মধ্যে একজন অফিস সহায়ক এবং একজন নিরাপত্তাকর্মী। ফলে, কার্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম মূলত অফিস সহায়কের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

কার্যালয়ে কর্মরত দুজন হলেন অফিস সহায়ক সাজিদুর রহমান এবং নিরাপত্তাকর্মী মো. শাহজালাল। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সপ্তাহে মাত্র একদিন বাঞ্ছারামপুরে অফিস করেন। তিনি মূলত আশুগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত।

রবিবার (৪ অক্টোবর) সরেজমিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ে গিয়ে অফিস সহায়ক সাজিদুর রহমানকে পাওয়া যায়। তিনি জানান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী প্রতি বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অফিস করেন। বাকি সময় দাপ্তরিক কাজকর্ম তাঁকেই সামলাতে হয়।

মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্যাটার্ন অনুযায়ী কার্যালয়ে সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা। এর মধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, একাডেমিক সুপারভাইজার, সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষক এবং অফিস সহকারী কাম ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের পদগুলো শূন্য রয়েছে। বর্তমানে শুধুমাত্র অফিস সহায়ক ও নিরাপত্তাকর্মী কর্মরত আছেন।

কার্যালয় সূত্রে আরো জানা যায়, বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ২০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তিনটি জুনিয়র স্কুল, আটটি মাদরাসা ও চারটি কলেজসহ মোট ৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক ও প্রশাসনিক তদারকির দায়িত্ব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের।

সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে ১৬ ধরনের সেবা দেওয়ার কথা। এর মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, একাডেমিক ও প্রশাসনিক তত্ত্বাবধান, প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, বৃত্তি ও উপবৃত্তি-সংক্রান্ত কার্যক্রম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি, শিক্ষকদের টাইম স্কেল ও উচ্চতর স্কেল যাচাই-বাছাই, শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন খেলাধুলা এবং প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য প্রদান উল্লেখযোগ্য।

চলতি বছরের মে মাসে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম ফারুক বদলি হয়ে যাওয়ার পর আশুগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে বাঞ্ছারামপুরের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুই উপজেলার দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে গিয়ে বাঞ্ছারামপুরে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন, মনিটরিং ও শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জনবল সংকটের প্রভাব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ছে। বাঞ্ছারামপুর সরকারি এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান বলেন, ‘বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন কাজে শিক্ষকদের এই কার্যালয়ে আসতে হয়। পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় সাধারণ কাজের জন্যও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। এতে বিদ্যালয়ে সময়মতো ফিরতে না পারায় পাঠদান ব্যাহত হয়।’

অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমি সপ্তাহে একদিন বাঞ্ছারামপুর আসি। এটি আমার অতিরিক্ত দায়িত্ব। আমি স্থায়ীভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে কর্মরত।’

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এটি দুর্ভাগ্যজনক হলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো ছাড়া আমার কিছু করার নেই।’

এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল এমরান খান বলেন, ‘আমি জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় এমপি ও প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি স্যারকে ডিও লেটার পাঠিয়েছি। আশা করছি, শিগগিরই মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের জনবল সংকট পূরণ হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্লাইদুবাইয়ের মতো মার্কিন-ইসরায়েলি বিমানে হামলার আহ্বান আল-কায়েদার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩২ পি.এম


ফ্লাইদুবাইয়ের মতো মার্কিন-ইসরায়েলি বিমানে হামলার আহ্বান আল-কায়েদার

সাম্প্রতিক সময়ে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ‘ফ্লাইট ছিনতাইয়ের’ কথিত প্রচেষ্টার ঘটনা পর, আল-কায়েদা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমানে একই ধরনের হামলার আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংগঠনটির সমর্থকদের প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘আল-বায়ান’-এর সর্বশেষ সংখ্যায় এই আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানাচ্ছে হিন্দুস্তান টাইম।

ওয়ান-ইলেভেন বা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি।’ এছাড়া, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাইগামী উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথিত প্রচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ওমানি সহ-পাইলট হামাম আলহাম্মামির প্রশংসাও করা হয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করার আহ্বান জানানো হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

নিউইয়র্ক পোস্টের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আল-বায়ান’ একটি আরবি ভাষার সাপ্তাহিক প্রকাশনা, যা আল-কায়েদার সমর্থকেরা গত জুলাইয়ে চালু করেছে। শনিবার আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে প্রকাশনাটির ওই লেখাটি ছড়িয়ে পড়লে পরে সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

এদিকে, ফ্লাইদুবাইয়ের অভিযুক্ত পাইলট হামাম আলহাম্মামির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে আল-কায়েদার নেতাদের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করা কয়েকটি পোস্ট দেখা যায়। ঘটনার প্রায় ৯ ঘণ্টা পর ওই পোস্টগুলো প্রকাশিত হয়েছিল।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি পোস্টে ককপিটের ভেতরের কিছু ভিডিও ছিল। সেখানে কাছাকাছি থাকা ইসরায়েলি বিমানকে দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরে আল-কায়েদার সাবেক প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরির ছবিও প্রকাশ করা হয়। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আল-জাওয়াহিরি নিহত হন।

আরেকটি পোস্টে ইসলামের তিন পবিত্র স্থান—মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেমের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি দেখা যায়। তবে হামাম আলহাম্মামি তখন হেফাজতে থাকা অবস্থায় এসব পোস্ট কিভাবে তার অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হলো, তা স্পষ্ট নয়। পোস্টগুলো আগে থেকে নির্ধারিত ছিল কি না বা অন্য কেউ প্রকাশ করেছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে হামাম আলহাম্মামির লিংকডইন ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট দুটিই মুছে ফেলা হয়েছে বলে সিএনএন জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৩ পি.এম


শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মন্তব্য করেছেন যে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেছেন, "শেখ হাসিনাকে ফেরা‌তে আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় তো রয়েছে। তবে এর পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছাও থাকতে হবে।"

রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আসামিদের ফেরত আনার জন্য যে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে, সেটি যেন দ্রুত সম্পন্ন হয়, ভারত সরকার সেদিকে নজর দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ চুক্তির ভিত্তিতে ফেরত আনা সম্ভব কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "অবশ্যই, চুক্তি অনুযায়ী আসামিদের ফেরত আনা সম্ভব। সেই প্রক্রিয়াই এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।"

গত ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চীন ও মালয়েশিয়া সফরের পাশাপাশি জাতিসংঘ সফরও তিনি সংক্ষিপ্ত ও প্রয়োজনীয়ভাবে সম্পন্ন করেছেন। প্রয়োজনীয় দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক শেষে তিনি দেশে ফিরেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%