প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় বর্তমানে তীব্র জনবল সংকটে রয়েছে, যা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অনুমোদিত সাতটি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। এই দুজনের মধ্যে একজন অফিস সহায়ক এবং একজন নিরাপত্তাকর্মী। ফলে, কার্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম মূলত অফিস সহায়কের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
কার্যালয়ে কর্মরত দুজন হলেন অফিস সহায়ক সাজিদুর রহমান এবং নিরাপত্তাকর্মী মো. শাহজালাল। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সপ্তাহে মাত্র একদিন বাঞ্ছারামপুরে অফিস করেন। তিনি মূলত আশুগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত।
রবিবার (৪ অক্টোবর) সরেজমিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ে গিয়ে অফিস সহায়ক সাজিদুর রহমানকে পাওয়া যায়। তিনি জানান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী প্রতি বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অফিস করেন। বাকি সময় দাপ্তরিক কাজকর্ম তাঁকেই সামলাতে হয়।
মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্যাটার্ন অনুযায়ী কার্যালয়ে সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা। এর মধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, একাডেমিক সুপারভাইজার, সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষক এবং অফিস সহকারী কাম ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের পদগুলো শূন্য রয়েছে। বর্তমানে শুধুমাত্র অফিস সহায়ক ও নিরাপত্তাকর্মী কর্মরত আছেন।
কার্যালয় সূত্রে আরো জানা যায়, বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ২০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তিনটি জুনিয়র স্কুল, আটটি মাদরাসা ও চারটি কলেজসহ মোট ৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক ও প্রশাসনিক তদারকির দায়িত্ব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের।
সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে ১৬ ধরনের সেবা দেওয়ার কথা। এর মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, একাডেমিক ও প্রশাসনিক তত্ত্বাবধান, প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, বৃত্তি ও উপবৃত্তি-সংক্রান্ত কার্যক্রম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি, শিক্ষকদের টাইম স্কেল ও উচ্চতর স্কেল যাচাই-বাছাই, শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন খেলাধুলা এবং প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য প্রদান উল্লেখযোগ্য।
চলতি বছরের মে মাসে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম ফারুক বদলি হয়ে যাওয়ার পর আশুগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে বাঞ্ছারামপুরের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুই উপজেলার দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে গিয়ে বাঞ্ছারামপুরে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন, মনিটরিং ও শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জনবল সংকটের প্রভাব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ছে। বাঞ্ছারামপুর সরকারি এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান বলেন, ‘বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন কাজে শিক্ষকদের এই কার্যালয়ে আসতে হয়। পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় সাধারণ কাজের জন্যও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। এতে বিদ্যালয়ে সময়মতো ফিরতে না পারায় পাঠদান ব্যাহত হয়।’
অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমি সপ্তাহে একদিন বাঞ্ছারামপুর আসি। এটি আমার অতিরিক্ত দায়িত্ব। আমি স্থায়ীভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে কর্মরত।’
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এটি দুর্ভাগ্যজনক হলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো ছাড়া আমার কিছু করার নেই।’
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল এমরান খান বলেন, ‘আমি জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় এমপি ও প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি স্যারকে ডিও লেটার পাঠিয়েছি। আশা করছি, শিগগিরই মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের জনবল সংকট পূরণ হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন