ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বরগুনা বিপন্ন, বাড়ছে জনজীবনের চরম সঙ্কট


জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বরগুনা বিপন্ন, বাড়ছে জনজীবনের চরম সঙ্কট

জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমুখী অভিঘাতে বিপন্ন উপকূলীয় জেলা বরগুনা। নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও সুপেয় পানির সংকটের ফলে জনজীবনে চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। কৃষিজমি, বসতভিটা, মৎস্যসম্পদ ও গ্রামীণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে মানুষের জীবন-জীবিকা ব্যাহত হচ্ছে। দুর্যোগের ক্ষতি সামাল দিতে গিয়ে অনেক পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে। ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ থাকলেও উপকূলের মানুষের নিরাপত্তা ও টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বরগুনার অর্থনীতি প্রধানত কৃষি, মৎস্য আহরণ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা এই জেলার বিষখালী, পায়রা ও বলেশ্বর নদ এবং উপকূলীয় জনপদে বসবাসকারী মানুষের জীবন প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার এবং দুর্যোগের ঝুঁকি এই নির্ভরশীলতাকে ক্রমেই অনিশ্চিত করে তুলছে।

নদীভাঙনে বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেক নদীতীরবর্তী মানুষ। তালতলী, পাথরঘাটা, আমতলী, বেতাগী, বামনা ও বরগুনা সদর উপজেলার বিভিন্ন নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন এবং বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত মে মাসে তালতলীর নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়ী এলাকায় পায়রা নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধের একটি অংশে ফাটল ও মাটিধসের সৃষ্টি হয়। এর ফলে আশপাশের গ্রামের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নদীভাঙনে জমি হারানোর পাশাপাশি পরিবারগুলো হারায় বসতঘর, গাছপালা ও জীবিকার অবলম্বন। পুনর্বাসন ও নতুন করে ঘর নির্মাণের ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে অনেক পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে।

আরও পড়ুন: ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে, নিহত ৩ ও আহত ১৬

বরগুনা জেলা শহরে বসবাসরত হযরত আলী হাওলাদার নদীভাঙনের দীর্ঘমেয়াদি অভিঘাতের শিকার। একসময় স্বচ্ছল জীবনযাপন করলেও নদীভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে এখন সরকারি খাসজমিতে নির্মিত একটি জীর্ণ ঘরে তাঁর দিন কাটছে।

তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, 'একসময় নিজের ঘরবাড়ি ছিল, সংসার চলত। কখনো ভাবিনি নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে অন্য জায়গায় এসে এভাবে থাকতে হবে। নদীভাঙনে সব হারানোর পর আগের অবস্থায় আর ফিরতে পারিনি। এখন এই ছোট, জীর্ণ ঘরেই দিন কাটে। আগে নিজের জমি ও বাড়ি নিয়ে যে নিশ্চিন্ত জীবন ছিল, এখন সেই নিশ্চয়তা নেই।'

হযরত আলীর মতো নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ শুধু জমি বা ঘর হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে হারিয়ে যায় সঞ্চয়, সামাজিক অবস্থান, পরিচিত পরিবেশ এবং নতুন করে জীবন গড়ার সামর্থ্য। স্থায়ী পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকলে তাঁদের অনেকেই দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটাতে বাধ্য হন।

লবণাক্ততা বরগুনার আরেকটি বড় সংকট। উপকূলীয় কিছু এলাকায় পুকুর, খাল ও ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততার কারণে নিরাপদ পানীয় জল সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বরগুনার বিভিন্ন স্থানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে লবণাক্ততার ঝুঁকি ইতোমধ্যে চিহ্নিত হয়েছে। নিরাপদ পানির উৎস নির্ধারণে স্থানভিত্তিক পরীক্ষা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন গবেষকেরা। পানির সংকটে বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ভোগান্তি বাড়ছে। দূর থেকে পানি সংগ্রহ এবং পরিবারের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

আরও পড়ুন: আজ নাটোর ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ

পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকার জরিনা বেগম সেই সংকটেরই একজন ভুক্তভোগী। পরিবারের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য নিরাপদ পানি সংগ্রহ করতে তাঁকে দূরের উৎসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে ঘরের অন্যান্য কাজ সামলানোর পাশাপাশি সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হচ্ছে।

তিনি নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, 'সংসারের রান্নাবান্না, খাওয়া আর ছেলেমেয়েদের জন্য নিরাপদ পানি জোগাড় করতে অনেক কষ্ট হয়। কাছাকাছি সব জায়গার পানি পান করার উপযোগী নয়। তাই দূরের উৎস থেকে পানি আনতে হয়। পানি সংগ্রহ করতেই অনেকটা সময় চলে যায়। আমাদের এলাকায় নির্ভরযোগ্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা থাকলে এত কষ্ট করতে হতো না।'

নিরাপদ পানির অভাব উপকূলীয় নারীদের ওপর বাড়তি শ্রমের বোঝা তৈরি করছে। একই সঙ্গে পানির গুণমান নিশ্চিত না হলে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, নিরাপদ পানির স্থায়ী উৎস তৈরি এবং বিদ্যমান উৎসগুলোর নিয়মিত পরীক্ষা তাই জরুরি।

জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব কৃষিতেও পড়ছে। লবণাক্ততা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ফসল, বীজতলা, পুকুর এবং গবাদিপশুর ক্ষতি হয়। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কৃষকের আয় কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে সার, বীজ, সেচ ও শ্রমের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চাষাবাদ আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেড়েছে ছিনতাই, নারীরা টার্গেটে

তালতলী উপজেলার আবদুল করিম নামের এক কৃষকের অভিজ্ঞতা এই অনিশ্চয়তার চিত্র তুলে ধরে। তিনি বলেন, জমিতে লবণাক্ততার প্রভাব এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফসলের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। উৎপাদন খরচ উঠে না। সংসার চালানো ও পরবর্তী মৌসুমে চাষাবাদের অর্থ জোগাড় করা নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে।

আবদুল করিম বলেন, 'জমিতে ঠিকমতো ফসল না হলে আমাদের সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে। চাষ করতে আগে টাকা খরচ করতে হয়। কিন্তু লবণাক্ততা, অনিয়মিত বৃষ্টি আর জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে থাকার কারণে ফসল নষ্ট হলে সেই টাকা আর ওঠে না। তখন ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়। জমি আছে, কিন্তু জমি থেকে আগের মতো আয় হয় না। নেই জীবন জীবিকার নিশ্চয়তা।'

কৃষকের এই সংকট মোকাবিলায় লবণসহিষ্ণু ফসলের সম্প্রসারণ, মাটির লবণাক্ততা পরীক্ষা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও কার্যকর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি কৃষকদের সময়োপযোগী পরামর্শ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বরগুনার জেলেদের জীবনেও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বৈরী আবহাওয়া ও ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে না পারলে আয় বন্ধ থাকে। নৌকা ও জালের ক্ষতি হলে নতুন করে কাজ শুরু করতে অর্থের প্রয়োজন হয়। তবে মাছের প্রাপ্যতা কমে যাওয়া কিংবা জেলেদের আয়হানির সব কারণকে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলা না গেলেও অতিরিক্ত আহরণ, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা, বাজারদর ও পরিচালন ব্যয়ের প্রভাবও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: ফেনীতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ওএমএসের চাল-আটা মিলছে না

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণাতেও পরিবর্তনের অনুভূতি তৈরি করছে। বরগুনা সদরের বড় লবণগোলা জামে মসজিদের ইমাম মো. নজরুল ইসলাম মনে করেন, ঋতুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য ও সময়ের পরিচিত ছন্দে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তিনি নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলেন, 'ছয় ঋতুর বাংলাদেশের যে পরিচিত রূপ আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি, এখন তার সঙ্গে বাস্তবতার অনেক অমিল মনে হয়। কখনো দীর্ঘ সময় প্রচণ্ড গরম, কখনো অসময়ে বৃষ্টি, আবার শীতও ঠিক সময়ে অনুভব করা যায় না। প্রকৃতির পরিবর্তন দেখে আগে অনেকটা বোঝা যেত কোন ঋতু চলছে। এখন সেই স্বাভাবিক ছন্দ যেন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।'

ইমাম মো. নজরুল ইসলামের এই পর্যবেক্ষণ উপকূলের মানুষের আবহাওয়া পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগের প্রতিফলন।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করছে। দুর্যোগের পর পানির উৎস দূষিত হলে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত গরমে শ্রমজীবী মানুষ অসুস্থতার ঝুঁকিতে পড়েন। সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং রোগীদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ ব্যাহত হয়। বারবার দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আয় কমে গেলে শিক্ষা, চিকিৎসা ও খাদ্য ব্যয়ের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: সাতকানিয়ায় সাঙ্গুর ভাঙনে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে, স্থানীয়দের জীবনযাত্রা বিপন্ন

জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, জলবায়ুজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা, বেড়িবাঁধের ভাঙন রোধ, নৌপথের নাব্যতা সংকট নিরসন, লবণাক্ততা মোকাবিলা, বাস্তুহারা জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন এবং সরকারি সেবা জোরদার করা জরুরি।

বরগুনার জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার, নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, নিরাপদ পানির উৎস সংরক্ষণ, জলবায়ুসহিষ্ণু কৃষি সম্প্রসারণ এবং দুর্যোগকালীন আশ্রয় ও পুনর্বাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য কার্যকর সহায়তা, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এসব উদ্যোগে স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা ও চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়াও জরুরি।

জলবায়ু পরিবর্তনের দায় একা উপকূলের মানুষের নয়, অথচ এর ক্ষতির ভার তাদেরই বেশি বহন করতে হচ্ছে। নদী, সাগর ও কৃষিজমিনির্ভর বরগুনার মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় এখনই সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন: চৌমুহনী অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত, নাগরিকদের কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাগুরায় ৩ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১৫ লাখ টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩০ পি.এম


মাগুরায় ৩ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১৫ লাখ টাকা জরিমানা

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় অবস্থিত মেসার্স সীমান্ত ব্রিকস, মেসার্স নদী ব্রিকস এবং মেসার্স নাবা ব্রিকস নামক তিনটি ইটভাটায় মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে সঙ্গী হিসেবে ছিলেন প্রসিকিউটর কমল কুমার বর্মণ, যিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, মাগুরা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে যখন মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়, তখন উল্লিখিত তিনটি ইটভাটাকে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধনী ২০১৯) এর ৪, ৫ ও ৬ ধারার বিধান লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এই আইন অনুযায়ী, ১৪, ১৫ ও ১৬ ধারায় ৫ লাখ টাকা করে মোট ১৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়।

এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন মাগুরা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম। অভিযানে অংশগ্রহণ করে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সদস্যবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালিয়াকৈরে মহাসড়ক জুড়ে অবৈধ দোকান ও অটো স্ট্যান্ড, শিক্ষার্থী ও গার্মেন্টস শ্রমিকরা জিম্মি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩২ পি.এম


কালিয়াকৈরে মহাসড়ক জুড়ে অবৈধ দোকান ও অটো স্ট্যান্ড, শিক্ষার্থী ও গার্মেন্টস শ্রমিকরা জিম্মি

গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র সফিপুর। প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে ২০ হাজারেরও বেশি যানবাহন এবং প্রায় দেড় লাখ মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু অবৈধ হকার এবং থ্রি-হুইলারের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, মহাসড়কের ফুটপাত পেরিয়ে মূল সড়কের ওপর তিন থেকে চার সারিতে অবৈধ শতাধিক দোকান বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে একটি সিন্ডিকেট। সড়কের এক পাশে সারিবদ্ধভাবে অটোরিকশা দাঁড়িয়ে রয়েছে, আর অন্য পাশে বাজার বসিয়েছেন হকাররা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ২৮০ ফুট প্রস্থের এই সড়কের বড় অংশ দখল হয়ে যাওয়ায় কিছু কিছু স্থানে যানবাহন চলাচলের জন্য মাত্র ২০ ফুট জায়গা অবশিষ্ট রয়েছে। ফলে তীব্র যানজটের পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারীরা।

মহাসড়কের দুই পাশে ২০টির বেশি স্কুল-কলেজ এবং শতাধিক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি রয়েছে। ফুটপাত পুরোপুরি দখল হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন শিক্ষার্থী ও পোশাকশ্রমিকেরা।

সফিপুর মডেল স্কুলের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ না থাকায় দোকানদারদের ধাক্কা সহ্য করে বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হয়। বাস-ট্রাকের নিচে পড়ার ভয় নিয়ে চলাচলের কারণে প্রায়ই স্কুলে পৌঁছাতে দেরি হয়।

একই ধরনের আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন সোয়েটার কারখানার শ্রমিক রহিমা বেগম। তিনি জানান, সকাল-সন্ধ্যা যাতায়াতের সময় ফুটপাত না থাকায় এক কিলোমিটার পথ হাঁটতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। এছাড়া চালকেরা সুযোগ বুঝে ১০ টাকার রিকশাভাড়া ৩০ টাকা দাবি করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সারা দিনই এখানে যানজট লেগে থাকে, কিন্তু পুলিশ বিষয়টি না দেখার ভান করে থাকে।

সফিপুর মহাসড়কের এই ভোগান্তি সম্পর্কে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, ফুটপাত দখলের বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তিনি বলেন, এটি জাতীয় মহাসড়ক হওয়ায় এখানে কোনো অবৈধ স্থাপনা বরদাশত করা হবে না। ইতিমধ্যে হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুতই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও মহাসড়ক যানজট নিরসন কমিটির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষার্থীরা ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ এই সড়কে জিম্মি হয়ে আছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, অতি দ্রুত ফুটপাত দখলমুক্ত করা না হলে শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামবেন।

এদিকে হাইওয়ে পুলিশের এসপি জানান, মহাসড়কটি তাদের নজরদারিতে রয়েছে। বর্তমানে শারদীয় দুর্গোৎসবের বিশেষ নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ততা থাকলেও পূজা শেষ হওয়ার পর ক্রাইম ডিভিশনের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পুরো সড়ক হকার ও স্ট্যান্ডমুক্ত করা হবে। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করবে- এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ওসমানী উদ্যানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩২ পি.এম


জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ওসমানী উদ্যানের

রাজধানীর ওসমানী উদ্যান ও এর প্রাঙ্গণে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যা প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। উদ্বোধনটি অনুষ্ঠিত হবে সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায়।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, প্রায় ১০ বছর বন্ধ থাকার পর নগরবাসীর জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে রাজধানীর ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন আধুনিকায়ন করা উদ্যানটি এবং নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। উদ্বোধনের পর একই দিন উদ্যানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে নগরবাসী আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন ওসমানী উদ্যান ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। উদ্যানটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে মানুষ সেখানে হাঁটাচলা, অবসর যাপন ও পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটাতে পারেন।

জুলাই শহীদ ও জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের স্মরণে উদ্যানে নির্মাণ করা হয়েছে বিশেষ ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। এর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি স্মরণ করার সুযোগ পাবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তারেক জিয়া নন, উনি ‘আরেক জিয়া: চিফ হুইপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৩ পি.এম


তারেক জিয়া নন, উনি ‘আরেক জিয়া: চিফ হুইপ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৃণমূল জনগণের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করে তাদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেছেন, "তাকে তারেক জিয়া না বলে আপনারা যদি বলেন ‘আরেক জিয়া’, সেটাই ঠিক হবে। উনি তারেক জিয়া না, উনি আরেক জিয়া।"

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটায় বরগুনা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

শেখ হাসিনা ও তারেক রহমানের রাজনীতির মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিপরীতে তারেক রহমান দেশ গঠনকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, "শেখ হাসিনার রাজনীতি ছিল শুধুই ক্ষমতায় থাকার। অন্যদিকে তারেক রহমান মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসের ওপর আস্থা রাখেন। সব নির্যাতন ও অবিচারের মুখেও তিনি প্রতিশোধের রাজনীতি এড়িয়ে দেশ গঠনে মনোযোগ দেওয়ার আদর্শে বিশ্বাসী।"

তারেক রহমানের কর্মনিষ্ঠার প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, "তিনি আপাদমস্তক একজন কর্মঠ ও মানবদরদী নেতা।" কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

কল্যাণমূলক কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি জানান, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে দেশের গরিব, অসহায় ও দুস্থ ৫০ লাখ পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় মাসে আড়াই হাজার টাকা সহায়তার পাশাপাশি শিশুদের জন্য মিড-ডে মিল, বিনা মূল্যে বই বিতরণ এবং ইংরেজি ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটানো হচ্ছে। এ ছাড়া নারীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে স্নাতকোত্তর (এমএ) পর্যন্ত মেয়েদের সম্পূর্ণ পড়াশোনার খরচ সরকারের বহন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে চিফ হুইপ বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের পর ক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান দেশকে তিন বছরের মধ্যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন। খাল খনন কর্মসূচি, তৈরি পোশাকশিল্পের সূচনা এবং হাঁস-মুরগি পালনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির বিপ্লব তাঁর হাত ধরেই হয়েছিল।

শারদীয় দুর্গোৎসব ও ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানে সব নাগরিকের অধিকার সমান এবং এ দেশে কোনো ‘সংখ্যালঘু’ বিভাজন নেই। এবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আবেদনের চেয়েও বেশি অনুদান হিসেবে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং উৎসব উদযাপনে সরকারি ছুটি পাঁচ দিন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%