১২:৩২ পি.এম
গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র সফিপুর। প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে ২০ হাজারেরও বেশি যানবাহন এবং প্রায় দেড় লাখ মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু অবৈধ হকার এবং থ্রি-হুইলারের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, মহাসড়কের ফুটপাত পেরিয়ে মূল সড়কের ওপর তিন থেকে চার সারিতে অবৈধ শতাধিক দোকান বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে একটি সিন্ডিকেট। সড়কের এক পাশে সারিবদ্ধভাবে অটোরিকশা দাঁড়িয়ে রয়েছে, আর অন্য পাশে বাজার বসিয়েছেন হকাররা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ২৮০ ফুট প্রস্থের এই সড়কের বড় অংশ দখল হয়ে যাওয়ায় কিছু কিছু স্থানে যানবাহন চলাচলের জন্য মাত্র ২০ ফুট জায়গা অবশিষ্ট রয়েছে। ফলে তীব্র যানজটের পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারীরা।
মহাসড়কের দুই পাশে ২০টির বেশি স্কুল-কলেজ এবং শতাধিক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি রয়েছে। ফুটপাত পুরোপুরি দখল হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন শিক্ষার্থী ও পোশাকশ্রমিকেরা।
আরও পড়ুন: শীর্ষ মাদক ডিলার গ্রেফতার: ২ বোতল ভারতীয় সিরাপ দিয়ে আদালতে সোপর্দ করলো দামকুড়া থানা পুলিশ
সফিপুর মডেল স্কুলের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ না থাকায় দোকানদারদের ধাক্কা সহ্য করে বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হয়। বাস-ট্রাকের নিচে পড়ার ভয় নিয়ে চলাচলের কারণে প্রায়ই স্কুলে পৌঁছাতে দেরি হয়।
একই ধরনের আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন সোয়েটার কারখানার শ্রমিক রহিমা বেগম। তিনি জানান, সকাল-সন্ধ্যা যাতায়াতের সময় ফুটপাত না থাকায় এক কিলোমিটার পথ হাঁটতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। এছাড়া চালকেরা সুযোগ বুঝে ১০ টাকার রিকশাভাড়া ৩০ টাকা দাবি করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সারা দিনই এখানে যানজট লেগে থাকে, কিন্তু পুলিশ বিষয়টি না দেখার ভান করে থাকে।
সফিপুর মহাসড়কের এই ভোগান্তি সম্পর্কে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, ফুটপাত দখলের বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তিনি বলেন, এটি জাতীয় মহাসড়ক হওয়ায় এখানে কোনো অবৈধ স্থাপনা বরদাশত করা হবে না। ইতিমধ্যে হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুতই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও মহাসড়ক যানজট নিরসন কমিটির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষার্থীরা ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ এই সড়কে জিম্মি হয়ে আছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, অতি দ্রুত ফুটপাত দখলমুক্ত করা না হলে শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামবেন।
আরও পড়ুন: রায়পুরায় বাসে পুলিশের অভিযান, ১৪০ রাউন্ড সিসা গুলিসহ নারী আটক
এদিকে হাইওয়ে পুলিশের এসপি জানান, মহাসড়কটি তাদের নজরদারিতে রয়েছে। বর্তমানে শারদীয় দুর্গোৎসবের বিশেষ নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ততা থাকলেও পূজা শেষ হওয়ার পর ক্রাইম ডিভিশনের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পুরো সড়ক হকার ও স্ট্যান্ডমুক্ত করা হবে। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করবে- এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন