ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিএডিসিসহ কৃষি ফার্মের শ্রমিকদের নিয়মিতকরণ ও মজুরি বাড়ানোর দাবি


বিএডিসিসহ কৃষি ফার্মের শ্রমিকদের নিয়মিতকরণ ও মজুরি বাড়ানোর দাবি

বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন (বিএএফএলএফ) অনিয়মিত শ্রমিকদের নিয়মিতকরণ, দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, নিয়মিত শ্রমিকদের জন্য দৈনিক মজুরি ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং অনিয়মিত শ্রমিকদের জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হোক।

রোববার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি আজিজুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম ছরোয়ার উপস্থিত ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

আরও পড়ুন: প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে এক্সপ্যাট ওয়ার্ল্ড কাপ

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণা খামার, বীজ উৎপাদন খামার, বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, নার্সারি, হর্টিকালচার সেন্টার ও উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন কৃষি উৎপাদন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন ধরে কৃষি গবেষণা, মানসম্মত বীজ ও কৃষিপণ্য উৎপাদন এবং পুষ্টিকর খাদ্যের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে সংশ্লিষ্ট খামার ও প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরাও উৎপাদন কার্যক্রমে অবদান রাখছেন। তবে সংগঠনটির অভিযোগ, তাদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে না।

সংগঠনটি দাবি করেছে, ‘কৃষি ফার্ম শ্রমিক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা-২০১৭’ অনুযায়ী অনিয়মিত শ্রমিকদের নিয়মিতকরণের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ক্ষেত্রে তা কার্যকর করা হচ্ছে না। নীতিমালার ২(ছ) ধারায় নিয়মিত পদে কাজের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে শ্রমিক নিয়োগ না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ৩ নম্বর ধারায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কমপক্ষে তিন বছর কাজ করা এবং বছরে ২৪০ দিন কর্মরত অনিয়মিত শ্রমিকদের জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়মিত করার সুযোগ রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

ফেডারেশনের অভিযোগ, ২০০২ সালের পর থেকে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ সময় ধরে এসব বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করছে না। বিএডিসির খামারগুলোতে সারা বছরই নিয়মিতভাবে বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে অভিজ্ঞ ও দক্ষ শ্রমিকেরা এসব কাজে নিয়োজিত থাকলেও তাদের নিয়মিত করা হচ্ছে না।

শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র না দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংগঠনটি বলেছে, এতে শ্রমিকদের আইনগত অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অনিয়মিত শ্রমিক হিসেবে কাজ করায় তারা বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের নিয়মিতকরণ, কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা এবং বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: মিরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের হোতা তিন ভাই গ্রেফতার

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ফেডারেশনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয় একটি অফিস আদেশ জারি করে। ওই আদেশে বিএডিসিতে কর্মরত অনিয়মিত শ্রমিকদের ‘কৃষি ফার্ম শ্রমিক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা-২০১৭’ অনুযায়ী নিয়মিতকরণের ব্যবস্থা নিয়ে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে বিএডিসির চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সংগঠনটির অভিযোগ, এখন পর্যন্ত ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলা হয়, সর্বশেষ ২০২০ সালে কৃষি ফার্ম শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও মজুরি বাড়েনি। এ সময়ে দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকেরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ফলে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে ১৩ দফা দাবি জানানো হয়, দাবিগুলো হলো—

১. বিএডিসিসহ সব গবেষণা খামারে কর্মরত অনিয়মিত শ্রমিকদের নিয়মিতকরণে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরের আদেশ দ্রুত বাস্তবায়ন।

আরও পড়ুন: সাত মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চীনের তিব্বত

২. নিয়মিত শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং অনিয়মিত শ্রমিকদের ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ।

৩. চাকরি বা নিয়োগের অবসানে পূর্ণ কর্মবছরপ্রতি ৬০ দিনের মজুরির সমপরিমাণ আর্থিক সুবিধা প্রদান।

৪. কৃষি ফার্ম শ্রমিকদের জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু।

৫. বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে 'কৃষি ফার্ম শ্রমিক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা' সংশোধন করে আইনি ভিত্তি প্রদান।

আরও পড়ুন: নিছিদ্র নিরাপত্তায় দুর্গাপূজা, ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি পরিদর্শন করলেন শতাধিক মণ্ডপ

৬. নারী কৃষি ফার্ম শ্রমিকদের পূর্ণ বেতনে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রদান।

৭. কৃষি ফার্ম শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন।

৮. প্রতি হেক্টরে শ্রমিকের সংখ্যা সাতজন নির্ধারণ।

৯. প্রত্যেক শ্রমিককে ৩০ দিনের মজুরির অর্ধেকের সমপরিমাণ নববর্ষ ভাতা প্রদান।

আরও পড়ুন: ঢাকায় আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ইমাম সম্মেলন

১০. পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে কর্মরত শ্রমিকদের দৈনিক মজুরির ৫০ শতাংশ হারে পাহাড়ি ভাতা প্রদান।

১১. সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় কৃষি ফার্ম শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু।

১২. স্বাস্থ্যবিমাসহ চিকিৎসা ভাতা চালু।

১৩. কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী ও অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের পোষ্যদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদান।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নিখোঁজ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসে থেকেও দেশের মানুষের পাশে তারেক রহমান : রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৪ পি.এম


প্রবাসে থেকেও দেশের মানুষের পাশে তারেক রহমান : রিজভী

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের প্রতিটি সংকট ও দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী।

তিনি রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলানগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতিহা পাঠ শেষে এসব কথা বলেন।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই মাজার জিয়ারতের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, ‘তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন কেবল জাতীয় পর্যায়েই নয়, দেশের একদম প্রান্তিক অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে। করোনা মহামারি, অতিবৃষ্টি, বন্যা কিংবা শীতের প্রকোপ—প্রতিটি জাতীয় সংকটে প্রবাসে থেকেও তিনি প্রতিনিয়ত নির্দেশনা দিয়েছেন এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কঠিন সময়েও এ সংগঠনটি তরুণ ও কিশোরদের বিজ্ঞান ও শিক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে অনলাইনে সায়েন্স এক্সিবিশনসহ নানামুখী ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে যাওয়া মানুষকে কৃত্রিম পা সংযোজন, বৃক্ষরোপণ এবং চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার মতো অসংখ্য মানবিক কাজ পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি।’

অনুষ্ঠানে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, পরিচালক ড. মোর্শেদ হাসান খানসহ দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক ও জ্যেষ্ঠ পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৫ পি.এম


আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

বলিউড অভিনেত্রী রাখি সাওয়ান্ত যেন বিতর্কের ছায়া থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। নানা ধরনের মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি প্রায়ই সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে থাকেন। এবার ১৬ বছর আগে ঘটে যাওয়া একটি মৃত্যুর ঘটনার কারণে তিনি আইনি জটিলতায় পড়েছেন। ভারতের উত্তর প্রদেশের ঝাঁসির একটি আদালত রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি ২০১০ সালের। ঝাঁসির প্রেম নগর এলাকার বাসিন্দা লক্ষ্মণ নামের এক যুবক তার স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের কারণে রাখি সাওয়ান্তের সঞ্চালনায় একটি টেলিভিশন রিয়েলিটি শোতে অংশগ্রহণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই অনুষ্ঠানের মঞ্চে লক্ষ্মণকে উদ্দেশ্য করে রাখি আপত্তিকর ও অপমানজনক মন্তব্য করেছিলেন।

অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হওয়ার পর লক্ষ্মণ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই বছরেই লক্ষ্মণের মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে লক্ষ্মণের মা রাখি সাওয়ান্তসহ চারজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

পরে মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার পাশাপাশি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করার অভিযোগও যুক্ত করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং চার্জশিট দাখিলের পর আদালত রাখির বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঝাঁসির জেলা সরকারি আইনজীবী মৃদুলকান্ত শ্রীবাস্তবের মতে, মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে রাখি সাওয়ান্তকে আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করতে হবে। ফলে দেড় দশকেরও বেশি সময় আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তবে মামলার অভিযোগ এবং আদালতের পরোয়ানা জারির বিষয়টি চূড়ান্ত দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সমতুল্য নয়। মামলার পরবর্তী শুনানি এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এর আইনি পরিণতি নির্ধারিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রজনীকান্তের প্রতিদিনের রুটিন প্রকাশ করলেন মিরনা মেনন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৬ পি.এম


রজনীকান্তের প্রতিদিনের রুটিন প্রকাশ করলেন মিরনা মেনন

দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় সুপারস্টার রজনীকান্ত বর্তমানে ৭৫ বছর বয়সী। তবুও, পর্দায় তার অ্যাকশন দৃশ্য দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম। বয়স বাড়লেও শরীরচর্চার অভ্যাসে তিনি কখনো ঢিলেমি দেননি, এমনটাই জানিয়েছেন ‘জেলার ২’ সিনেমার অভিনেত্রী মিরনা মেনন।

অভিনেত্রী জানান, শুটিংয়ের স্থানে জিমের ব্যবস্থা না থাকলেও রজনীকান্ত নিজের শরীরচর্চার রুটিন বজায় রাখার জন্য ব্যবস্থা করে নিতেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরকে সচল রাখার জন্য তার এই নিয়মিত অভ্যাস শিক্ষণীয়। মিরনা বলেন, “কোনো দিন ব্যায়াম বাদ দিতেন না” বলেই তিনি দেখেছেন।

রজনীকান্তের রুটিনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো— সাঁতার এবং ট্রেডমিলে হাঁটা বা দৌড়ানো। সাঁতার শরীরের বিভিন্ন পেশিকে কাজে লাগায় এবং হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। পানির মধ্যে শরীরের ওপর চাপ তুলনামূলক কম পড়ায় এটি অনেকের জন্য সুবিধাজনক ব্যায়াম হতে পারে। অন্যদিকে, ট্রেডমিলে হাঁটা বা দৌড়ানো দেহের সহনশীলতা বাড়াতে সহায়ক।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটা বা সাঁতার ছাড়াও পেশির শক্তি বজায় রাখার জন্য উপযুক্ত শক্তিবর্ধক ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত শরীরচর্চা চলাফেরার ক্ষমতা ও প্রতিদিনের কাজ করার সামর্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং অসুস্থতার ইতিহাস অনুযায়ী ব্যায়ামের ধরন ঠিক করা জরুরি।

‘জেলার ২’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় রজনীকান্তকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন মিরনা মেনন। তিনি জানান, রজনীকান্ত ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম সেরে তবেই শুটিংয়ে আসতেন। শুটিংয়ের জন্য অনেক জায়গায় যেতে হয়েছে, যেখানে জিমের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু তাতেও তিনি অনুশীলন বন্ধ রাখেননি। ব্যায়ামের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিজের ঘরে রাখার ব্যবস্থা করে নিতেন।

অভিনেত্রী জানান, তিনি নিজেও শুটিংয়ের সময় শরীরচর্চার জন্য সময় বের করতেন। ঢালু ট্রেডমিলে হাঁটা কিংবা সঙ্গে নিয়ে যাওয়া ছোট ডাম্বেল দিয়ে ব্যায়াম করতেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। হাঁটতে বেরিয়ে অনেক সময় রজনীকান্তকে শরীরচর্চা করতে দেখেছেন তিনি।

মিরনা মেনন বলেন, রজনীকান্তের খাদ্যাভ্যাসও বেশ নিয়ন্ত্রিত। তিনি ঘরোয়া সাদামাটা খাবার পছন্দ করেন এবং অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করেন। নিয়মমাফিক খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে চলেন বলেও শুটিংয়ের সহকর্মীদের কাছ থেকে শুনেছেন তিনি। দুধ, দই, সাদা ভাত ও চিনির মতো কিছু খাবার খান না এ অভিনেতা।

রজনীকান্তের রুটিন থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো— শরীরচর্চার জন্য সবসময় আধুনিক জিমের প্রয়োজন নেই। পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যায়ামের বিকল্প খুঁজে নেওয়া এবং নিয়মিত শরীরকে সচল রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, শরীরের সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যায়াম এবং বিশ্রাম— সব মিলিয়েই সুস্থভাবে বয়স বাড়ানোর অভ্যাস তৈরি হয়, এমনটাই জানিয়েছেন অভিনেত্রী মিরনা মেনন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মঙ্গলের উপগ্রহ থেকে নমুনা সংগ্রহে ঐতিহাসিক মহাকাশ অভিযান শুরু করছে জাপান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৭ পি.এম


মঙ্গলের উপগ্রহ থেকে নমুনা সংগ্রহে ঐতিহাসিক মহাকাশ অভিযান শুরু করছে জাপান

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ : সৌরজগতের উৎপত্তি এবং পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভবের রহস্য উন্মোচনের উদ্দেশ্যে মঙ্গলের উপগ্রহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার একটি ঐতিহাসিক মহাকাশ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে জাপান। আশা করা হচ্ছে, এটি হবে মঙ্গল অঞ্চলে গিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসার প্রথম অভিযান।

মনুষ্যবিহীন ‘মার্শিয়ান মুনস এক্সপ্লোরেশন’ (এমএমএক্স) অভিযানটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মহাকাশ সংস্থাগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে। এটি ভবিষ্যতে মঙ্গলে মানুষের অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি (জাক্সা)’র সূত্রে টোকিও থেকে এএফপি জানিয়েছে, এমএমএক্স মহাকাশযান বহনকারী এইচ-৩ রকেটটি মঙ্গলবার জাপানের তানেগাশিমা মহাকাশকেন্দ্র থেকে স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৪১ মিনিটে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী, এটি হবে সোমবার রাত ৭টা ৪১ মিনিট।

মহাকাশযানটি প্রায় এক বছর পর মঙ্গলের কাছে পৌঁছাবে। সেখানে এটি মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোসকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ তিন বছর প্রদক্ষিণ করবে। এরপর উপগ্রহটির পৃষ্ঠে অবতরণ করে অন্তত ১০ গ্রাম উপাদান সংগ্রহ করবে।

‘আইডেফিক্স’ নামের একটি রোভার ফোবোসের পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ করবে, যাতে নিরাপদে অবতরণের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করা যায়। ফরাসি কমিকসের জনপ্রিয় চরিত্র অ্যাস্টেরিক্সের কুকুরের নাম অনুসারে রোভারটির নামকরণ করা হয়েছে।

এমএমএক্স প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ইয়াসুহিরো কাওয়াকাতসু এএফপিকে বলেন, ‘ফোবোস থেকে নমুনা সংগ্রহ অবশ্যই বিশ্বে প্রথম। তবে এর অর্থ হলো, মঙ্গল ব্যবস্থায় গিয়ে আবার ফিরে আসারও এটিই প্রথম অভিযান।’

জাক্সা জানায়, এ অভিযানে ফোবোসকে ‘প্রাকৃতিক মহাকাশ স্টেশন’ হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে। মঙ্গলে যাওয়া ও ফিরে আসার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো নির্ধারণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে মানুষবাহী মঙ্গল অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

মহাকাশযানটি মঙ্গলের অপর উপগ্রহ ডেইমোসও পর্যবেক্ষণ করবে। তবে সেখানে অবতরণ না করে নমুনা নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসবে।

জাক্সার আশা, এ অভিযান মঙ্গল ও এর দুই উপগ্রহ কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে নতুন তথ্য প্রদান করবে। সৌরজগতের জন্মের রহস্য বোঝার জন্য এ তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মঙ্গলের উপগ্রহগুলোর উৎপত্তি নিয়ে একটি তত্ত্ব হলো ‘বিশাল সংঘর্ষ অনুমান’। এ তত্ত্ব অনুযায়ী, কোনো মহাজাগতিক বস্তু মঙ্গলের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার পর উপগ্রহ দুটি সৃষ্টি হয়।

অন্য একটি তত্ত্ব হলো ‘মহাকর্ষীয় আকর্ষণে বন্দি হওয়ার অনুমান’। এতে বলা হয়, উপগ্রহ দুটি মূলত গ্রহাণু, যেগুলো মঙ্গলের মহাকর্ষীয় আকর্ষণে আটকা পড়ে।

কোন তত্ত্বটি সঠিক, তা নির্ধারণ করা গেলে পাথুরে গ্রহগুলোতে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে বলে জাক্সা জানিয়েছে। সূর্যের সবচেয়ে কাছের চারটি পাথুরে গ্রহ হলো বুধ, শুক্র, পৃথিবী ও মঙ্গল।

আইডেফিক্স প্রকল্পে যুক্ত ফরাসি জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী প্যাট্রিক মিশেল বলেন, ‘এমএমএক্স সৌরজগতের বাইরের অঞ্চল থেকে ভেতরের পাথুরে গ্রহাঞ্চলে পানি, উদ্বায়ী পদার্থ ও জৈব যৌগ পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোকপাত করবে। এসব প্রক্রিয়া গ্রহগুলোকে প্রাণের উপযোগী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।’

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘ফোবোস ও ডেইমোস যদি সত্যিই এসব প্রাচীন সরবরাহব্যবস্থার অবশিষ্টাংশ হয়, তাহলে এগুলোতে প্রাণের উৎপত্তি সম্পর্কে—অথবা আরও নির্ভুলভাবে বললে, পাথুরে গ্রহে প্রাণের উদ্ভবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর পরিবহন সম্পর্কে—সূত্র থাকতে পারে।’

এমএমএক্স অভিযানটি ফ্রান্সের ন্যাশনাল সেন্টার ফর স্পেস স্টাডিজ (সিএনইএস), জার্মান অ্যারোস্পেস সেন্টার (ডিএলআর), যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইএসএ) এবং প্রায় ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে।

জাক্সার বিজ্ঞানীরা জানান, মহাকাশযানের অবতরণ-উপযোগী পা তৈরি করা ছিল প্রকল্পের অন্যতম কঠিন কাজ। কারণ ফোবোসে মহাকর্ষীয় আকর্ষণ অত্যন্ত দুর্বল।

২০২৪ সালে জাপানের মনুষ্যবিহীন ‘স্মার্ট ল্যান্ডার ফর ইনভেস্টিগেটিং মুন’ (স্লিম) চাঁদে অবতরণের পর কাত হয়ে পড়েছিল। তবে ওই ‘মুন স্নাইপার’ মহাকাশযানটি তথ্য পাঠাতে সক্ষম হয় এবং চাঁদের দুই সপ্তাহব্যাপী কয়েকটি রাতও টিকে ছিল।

মহাকাশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার অভিজ্ঞতাও রয়েছে জাপানের। জাক্সার মনুষ্যবিহীন ‘হায়াবুসা-২’ মহাকাশযান ২০২০ সালে পৃথিবী থেকে কয়েকশ কোটি কিলোমিটার দূরের একটি গ্রহাণু থেকে সংগ্রহ করা ৫ দশমিক ৪ গ্রাম পাথর ও ধুলিকণা নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে।

তবে আগের গ্রহাণু অভিযানের সঙ্গে এমএমএক্সের বড় পার্থক্য হলো, এবার মঙ্গলের অত্যন্ত কাছাকাছি গিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরতে হবে। এ ক্ষেত্রে মঙ্গলের প্রবল মহাকর্ষীয় আকর্ষণ অতিক্রম করে ফিরে আসা একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে এএফপিকে জানান কাওয়াকাতসু।

তিনি বলেন, ‘আমরা যাকে মহাকর্ষীয় কূপ বলি, তার গভীরে প্রবেশ করা কঠিন।’

ফোবোস মঙ্গলের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় কক্ষপথে ঘোরে।

মঙ্গলের নমুনা সংগ্রহে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের প্রতিযোগিতা

মঙ্গলের পৃষ্ঠ থেকে পাথর ও মাটির নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মহাকাশ সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে।

নাসার ‘পারসিভিয়ারেন্স’ রোভার ২০২১ সাল থেকে মঙ্গলে অনুসন্ধান চালাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছে। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন কংগ্রেসের ভোটের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কার্যত এ নমুনা ফেরত আনার অভিযান বাতিল করে দেয়।

অন্যদিকে, চীন জানিয়েছে, তাদের ‘তিয়ানওয়েন-৩’ মহাকাশযান ২০২৮ সালের দিকে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩১ সালের মধ্যে মঙ্গলের নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে দেশটি। সে ক্ষেত্রে এমএমএক্সের নমুনা ফেরত আসার আগেই চীন এ লক্ষ্য অর্জন করতে পারে।

জাক্সার বিজ্ঞানীদের মতে, মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোস থেকে সংগ্রহ করা বালু ও পাথরের নমুনা গ্রহটির পৃষ্ঠ থেকে সংগৃহীত নমুনার তুলনায় আরও বৈচিত্র্যময় তথ্য দিতে পারে। বিশেষ করে কোনো মহাজাগতিক বস্তুর সঙ্গে মঙ্গলের সংঘর্ষের ফলে ফোবোস সৃষ্টি হয়ে থাকলে, এ নমুনাগুলো সৌরজগতের প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%