ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফেনীতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ওএমএসের চাল-আটা মিলছে না


ফেনীতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ওএমএসের চাল-আটা মিলছে না

ফেনীতে ওএমএসের চাল ও আটা না পাওয়ায় দীর্ঘ দুই থেকে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেককেই খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। সরেজমিনে শহরের একাধিক ওএমএস কেন্দ্র পরিদর্শন করে জানা গেছে, জনপ্রতি পাঁচ কেজি চাল ও পাঁচ কেজি আটা কেনার সুযোগ রয়েছে। প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং আটা ২৪ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। ভোর থেকেই নিম্ন আয়ের মানুষের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় বিক্রয়কেন্দ্রের সামনে। সপ্তাহে একদিন বা দুদিন পণ্য কেনার সুযোগ মেলে। বরাদ্দ কম থাকায় অনেককে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে বিশ্বব্যাপী খাদ্যসংকট এবং দেশে চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে রাজধানীর পলাশী বাজার এলাকায় ওএমএস কার্যক্রম শুরু করে সরকার। দরিদ্র মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বল্পমূল্যে চাল ও আটা বিক্রির এই কর্মসূচি পরে দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা হয়। ২০১০ সালে ফেনী পৌরসভায় এই কার্যক্রম চালু হয়।

শুরুর দিকে ফেনী পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে ছয়টি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ওএমএস কার্যক্রম পরিচালিত হতো। ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এ কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়েনি। ফলে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিনের বেশি এ কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: সকালে যুবদল নেতা, সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ খুলনায়

খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পাশের জেলা কুমিল্লায় কয়েক দফায় বাড়িয়ে ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা ৩২ করা হয়েছে। নোয়াখালীতে ১৭টি, চাঁদপুরে ১৫টি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১২টি কেন্দ্র রয়েছে। এসব জেলার তুলনায় ফেনীতে বিক্রয়কেন্দ্র কম থাকায় স্থানীয় চাহিদার পুরোটা পূরণ করা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। ফলে নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ চাহিদা অনুযায়ী কম দামে চাল ও আটা কিনতে পারছেন না।

ফেনী পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার মো. আকবর হোসেন জানান, কোনো সপ্তাহে দুদিন, আবার কোনো সপ্তাহে তিন দিন পণ্য বরাদ্দ পান তিনি। প্রতি বরাদ্দে ৭৫০ কেজি চাল ও ৭৫০ কেজি আটা দেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিক্রি শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ চাল ও আটা সংগ্রহ করেন। তবে কেন্দ্র ও বরাদ্দ কমের কারণে অনেককেই খালি হাতে ফিরে যেতে হয়। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন এক টন করে চাল ও আটা বরাদ্দ দেওয়া হলে মানুষের চাহিদা কিছুটা পূরণ করা সম্ভব হবে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে ওএমএস কার্যক্রম শুরুর সময় ফেনী পৌরসভার জনসংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার। বর্তমানে তা বেড়ে ২ লাখ ৭৮ হাজারে দাঁড়িয়েছে। সূত্রটির হিসাবে এ সময়ে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪২ শতাংশ।

এছাড়া ফেনীতে স্টার লাইন গ্রুপের ১৭টি শিল্পকারখানা, আবুল খায়ের ম্যাচ ফ্যাক্টরি, কোয়ালিটি জুটমিলসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হাজারো শ্রমিক কাজ করেন। তাদের অনেকে স্বল্পমূল্যে খাদ্যপণ্য কিনতে ছুটে আসেন। কিন্তু পর্যাপ্ত বিক্রয়কেন্দ্র ও বরাদ্দ না থাকায় অনেকেই ওএমএসের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আরও পড়ুন: বরিশালে যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই আসামির বাড়িতে আগুন

ফেনীর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আলাউদ্দিন ঢালী বলেন, ফেনী পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে ওএমএসের কেন্দ্র রয়েছে মাত্র ছয়টি। একদিন ১ থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে কার্যক্রম চালানো হলে পরদিন ৭ থেকে ১২ নম্বর ওয়ার্ডে চালু রাখা হয়। এভাবে এক এলাকায় বিক্রি বন্ধ রেখে অন্য এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।

তিনি আরো বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন তিন টন চাল ও আটা ট্রাকের মাধ্যমে বিক্রির বরাদ্দ থাকলেও ফেনীতে এ ধরনের কোনো বরাদ্দ নেই। ফলে এখানে ওএমএসের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। বিক্রয়কেন্দ্র ও বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি চালুর প্রয়োজনীতার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

জেলা ওএমএস কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, ফেনীতে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যা কম নয়। অন্য জেলা থেকেও অনেকে কাজের সন্ধানে এ জেলায় আসেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ওএমএসের বিক্রয়কেন্দ্র বাড়ানো হয়নি, যা দুঃখজনক।

আরও পড়ুন: রংপুরে দোলনচাঁপা ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, চলাচল বন্ধ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেড়েছে ছিনতাই, নারীরা টার্গেটে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৬ এম


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেড়েছে ছিনতাই, নারীরা টার্গেটে

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই মহাসড়কে প্রতি রাতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। এমনকি দিনের বেলাতেও প্রকাশ্যে ঘটছে ছিনতাই। এর ফলে যাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সিএনজি অটোরিকশা ও মিশুক চালকের ছদ্মবেশে নারীদের টার্গেট করে ছিনতাই করা হচ্ছে। দিন-দুপুরে ঘটে যাওয়া ছিনতাইয়ের কারণে মহাসড়কে চলাচলকারী নারী যাত্রী ও জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক বেড়ে গেছে।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ দৈনন্দিন কাজে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাতায়াত করেন। স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতের জন্য সিএনজি অটোরিকশা ও মিশুক অন্যতম সহজ মাধ্যম। চালক বেশে যাত্রী উঠিয়ে নির্জন স্থানে পৌঁছালে, সেই চালকরাই ছিনতাইকারী হয়ে উঠছেন। কিছু ঘটনার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন যে, চালকের সঙ্গে সহযোগীও ছিল।

গত ১৮ অক্টোবর দুপুরে, মিশুক নিয়ে রোগী দেখতে ট্রেনিং সেন্টার থেকে হাড়িসর্দার এলাকায় যাচ্ছিলেন চৌদ্দগ্রাম ডায়াবেটিক হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জিনিয়া জামান। পথিমধ্যে মহাসড়কের অফবিট হোটেলের সামনে পেছন থেকে আসা সিএনজি অটোরিকশা থেকে তার হাতে থাকা ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে যায়। এতে অন্তঃসত্ত্বা ওই চিকিৎসক পড়ে আহত হন।

গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে ছিনতাইয়ের শিকার হন হাছিনা বেগম নামের অপর এক নারী। সিএনজিতে থাকা চালক ও যাত্রীবেশে ছিনতাইকারী চক্র তাকে অজ্ঞান করে মহাসড়কের ফালগুনকরা দিঘী ও মাজারের মাঝামাঝি একটি নির্জন স্থানে মারধর করে তার দুটি কানের দুল, মোবাইল ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। ওই নারীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়।

মিয়াবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নিরঞ্জন কুমার বলেন, ‘মহাসড়কে আমাদের টহল জোরদার করা হয়েছে, হাইওয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত আছে। মহাসড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার্থে টহল টিমকে আরো সক্রিয় করা হয়েছে।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আরিফ হোসাইন এসব ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, ‘প্রায়ই কিছু কিছু সিএনজি অটোরিকশার মধ্যে লোক বসে থাকে এবং পথের মধ্যে যাত্রী উঠিয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। আমরা এসব অবৈধ সিএনজি-অটোরিকশা ও চালক যারা এসব কাজে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রায়ই অভিযানে নামি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবারও বড়পর্দায় ফিরছেন এশা দেওল, মুক্তি ২০ নভেম্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৭ এম


আবারও বড়পর্দায় ফিরছেন এশা দেওল, মুক্তি ২০ নভেম্বর

১৪ বছরের বিরতি ভেঙে বলিউড কিংবদন্তি ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনির কন্যা এশা দেওল 'তুমকো মেরি কসম' সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে কামব্যাক করেন। ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমায় একজন ডিফেন্স লয়ার হিসেবে তিনি রাজকীয় প্রত্যাবর্তন করবেন এবং আবারও রুপালি পর্দায় ফিরছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘না তুম জানো না হাম’ খ্যাত নায়িকা এবার ‘প্রতাপ’ সিনেমার মাধ্যমে ফিরছেন। এই সিনেমাটি অ্যাকশন-ড্রামা ঘরানার এবং এতে তিনি ‘পুনম’ চরিত্রে অভিনয় করবেন।

প্রদীপ রঙ্গওয়ানী ও ইউভি ফিল্মস প্রযোজিত এই সিনেমায় এশার চরিত্রের ‘লুক’ ইতিমধ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে। পারিবারিক গল্পের উপর ভিত্তি করে নির্মিত সিনেমায় দেখা যাবে, পুনম জীবনের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে আত্ম-অনুসন্ধান, নীরবে লড়াই এবং নিজের অন্তর্নিহিত শক্তিকে চিনে নেয়।

সিনেমার ‘মোশন পোস্টার’ ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে অভিনেতা অমিত সাধকে এক দক্ষ এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্টের চরিত্রে দেখা যাচ্ছে। ক্ষমতা, ন্যায়বিচার এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পরিণতি নিয়ে তৈরি ‘প্রতাপ’-এ ব্যক্তিগত সংঘাতের সঙ্গে মিশেছে টানটান নাটকীয়তা।

সচিন সরাফের গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ‘প্রতাপ’ সিনেমায় এশা ও অমিত ছাড়াও অভিনয় করেছেন তিগমাংশু ধূলিয়া, সীমা বিশ্বাস ও মিলিন্দ গুনাজী। সিনেমার প্রচার-ঝলক আগামী ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত হবে এবং এটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে আগামী ২০ নভেম্বর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিয়ের জন্য যে ৩ আমলে সহজে হয় সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৭ এম


বিয়ের জন্য যে ৩ আমলে সহজে হয় সিদ্ধান্ত

বিয়ে মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি শুধুমাত্র দুটি মানুষের বন্ধন নয়, বরং ভালোবাসা, প্রশান্তি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের মাধ্যমে একটি সুন্দর পরিবার গড়ে তোলার বৈধ ও পবিত্র মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা মানুষের মধ্যে জোড়ায় জোড়ায় সম্পর্কের ব্যবস্থা করেছেন এবং বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর জীবনে ভালোবাসা ও প্রশান্তি দান করেন।

বর্তমান সময়ে নানা সামাজিক বাধা, অতিরিক্ত প্রত্যাশা, আর্থিক অসচ্ছলতা ও পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের জটিলতার কারণে অনেকের বিয়ে সময়মতো হচ্ছে না। কেউ উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে পাচ্ছেন না, আবার কেউ পারিবারিক ও সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতায় বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেকেই মানসিক কষ্ট ও হতাশায় ভুগছেন।

ইসলাম বিয়েকে সহজ করতে উৎসাহিত করেছে। বিয়ের সামর্থ্য অর্জন করলে তা অযথা বিলম্ব না করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা, তাঁর কাছে দোয়া করা এবং পবিত্র জীবনযাপনের চেষ্টা করাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে মনে রাখতে হবে, নির্দিষ্ট কোনো আমল করলেই দ্রুত বিয়ে হয়ে যাবে এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ নেই। বরং দোয়া, ইবাদত ও বৈধ উপায়ে জীবনসঙ্গী খোঁজার পাশাপাশি আল্লাহর ফয়সালার ওপর আস্থা রাখতে হবে।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা আর-রুম, আয়াত: ২১)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও সামর্থ্যবান যুবকদের বিয়ের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে। কেননা, বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহর দায়িত্ব, আল্লাহর পথে জিহাদকারী, চুক্তিবদ্ধ দাস যে মুক্তির অর্থ পরিশোধ করতে চায় এবং ওই ব্যক্তি যে পবিত্রতা রক্ষার উদ্দেশ্যে বিয়ে করতে চায়।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৬৫৫)

তাহলে বিয়ের জন্য অপেক্ষার সময় হতাশ না হয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং বাস্তবসম্মতভাবে বিয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত। কোরআন-হাদিসের আলোকে এমন তিনটি আমল তুলে ধরা হলো, যা বিয়ের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা ও তাঁর সাহায্য কামনায় করা যেতে পারে।

১. বেশি বেশি দোয়া করা

দোয়া মুমিনের অন্যতম শক্তি। জীবনের যেকোনো প্রয়োজন ও সংকটে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া উচিত। বিয়ের জন্যও নিজের ভাষায় আন্তরিকভাবে দোয়া করা যায়। আল্লাহর কাছে একজন নেককার, উত্তম চরিত্রের ও দ্বীনদার জীবনসঙ্গী চাওয়া যায়। পাশাপাশি নিজের চরিত্র সংশোধন, হালাল উপার্জনের ব্যবস্থা এবং বিয়ের পথ সহজ করে দেওয়ার জন্যও প্রার্থনা করা উচিত।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যখন আমার বান্দারা তোমার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তখন (বলে দাও) আমি তো নিকটেই। আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৬)

তবে দোয়া করার পাশাপাশি বৈধ উপায়ে পাত্র-পাত্রী খোঁজা, পরিবারকে সম্পৃক্ত করা এবং অযৌক্তিক সামাজিক বাধা কমানোর উদ্যোগও নিতে হবে।

২. কোরআনের একটি দোয়া পড়া

নেককার জীবনসঙ্গী ও উত্তম পরিবার লাভের জন্য পবিত্র কোরআনে বর্ণিত একটি সুন্দর দোয়া নিয়মিত পড়া যেতে পারে। দোয়াটি হলো,

আরবি: رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا উচ্চারণ: রব্বানা হাব লানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ‘ইউনিন, ওয়াজ‘আলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।

অর্থ: ‘হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের চোখের প্রশান্তি দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ বানিয়ে দিন।’ (সুরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৭৪)

এই দোয়ায় শুধু জীবনসঙ্গী পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং এমন পরিবার গঠনের প্রার্থনাও রয়েছে, যে পরিবার আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং নেক আমলের পথে চলতে সহায়ক হবে। ফরজ নামাজের পর, নফল ইবাদতের সময় কিংবা অন্য যেকোনো সময়ে দোয়াটি পড়া যায়। তবে বিয়ের জন্য এটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় বা নির্দিষ্ট নিয়মে পড়তেই হবে এমন কোনো সহিহ প্রমাণ নেই।

৩. নফল নামাজ আদায় করে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া

জীবনের কঠিন সময়ে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল। বিয়ের বিষয়ে দুশ্চিন্তা, অনিশ্চয়তা কিংবা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও নফল নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন তুলে ধরা যায়।

হজরত হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে কোনো কঠিন বিষয় উপস্থিত হলে তিনি নামাজ আদায় করতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৩১৯)

তাহলে বিয়ের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে নফল নামাজ আদায় করা যেতে পারে। নামাজ শেষে আন্তরিকভাবে দোয়া করতে হবে, যেন আল্লাহ উত্তম জীবনসঙ্গী নির্বাচন সহজ করে দেন এবং কল্যাণকর সময়ে বিয়ের ব্যবস্থা করে দেন।

এ ক্ষেত্রে ‘সালাতুল হাজত’ নামে প্রচলিত নামাজের নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলেমদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তাই কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতিকে নিশ্চিতভাবে সুন্নত বা দ্রুত বিয়ে হওয়ার পরীক্ষিত আমল হিসেবে প্রচার না করে সাধারণ নফল নামাজ আদায় করে দোয়া করাই নিরাপদ।

বিয়ে দেরি হওয়াকে নিজের অযোগ্যতা কিংবা আল্লাহর অসন্তুষ্টির নিশ্চিত প্রমাণ মনে করা উচিত নয়। প্রত্যেকের পরিস্থিতি ও জীবনের বাস্তবতা আলাদা। তাই দোয়া ও ইবাদতের পাশাপাশি পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিতে হবে, অযৌক্তিক প্রত্যাশা কমাতে হবে এবং হারাম সম্পর্ক থেকে বেঁচে থাকতে হবে। আল্লাহর কাছে এমন জীবনসঙ্গী চাইতে হবে, যিনি দুনিয়ার জীবনে প্রশান্তি এবং আখিরাতের কল্যাণ অর্জনে সহযোগী হবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুশাসনের প্রয়োজন, ক্ষমতার নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৮ এম


সুশাসনের প্রয়োজন, ক্ষমতার নয়

২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করে। দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসন, রাজনৈতিক নিপীড়ন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্বাচনি ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে দেশের মানুষ একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। সেই স্বপ্ন ছিল গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন, শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির। জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধুমাত্র একটি সরকারের পতনের আন্দোলন ছিল না; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের এক ঐতিহাসিক প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রধান দায়িত্ব এখন নির্বাচিত সরকারের। তবে রাজনৈতিক দল, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণেরও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সহিংসতায় প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এই বিপুল প্রাণহানি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, জনগণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার যেন আর কখনো ফিরে না আসে। গণতন্ত্র শুধু নির্দিষ্ট সময় অন্তর নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; গণতন্ত্রের প্রকৃত অর্থ হচ্ছে নাগরিকের মর্যাদা, সমান অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের নিশ্চয়তা।

পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু করেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল অতীতে একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার কোনো অনভিজ্ঞ রাজনৈতিক দলের সরকার নয়। রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে ধারণা এবং সাংগঠনিক সক্ষমতা তাদের রয়েছে। এই অভিজ্ঞতা সরকারের জন্য যেমন সুবিধা, তেমনি দায়িত্বও অনেক বেশি। রাষ্ট্র পরিচালনার জটিলতা সম্পর্কে অজ্ঞতার অজুহাত দেওয়ার সুযোগ তাদের নেই। জনগণ সরকারকে বিচার করবে অতীতের রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নয়, বরং বর্তমান কর্মকাণ্ড, সততা, দক্ষতা এবং বাস্তব অর্জনের ভিত্তিতে।

দেশের সংকটময় রাজনৈতিক উত্তরণ এবং নির্বাচনি পরিবেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে দীর্ঘ মেয়াদে সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ ও বিচারব্যবস্থাকে কার্যকর এবং স্বনির্ভর করে তোলা, যাতে সশস্ত্র বাহিনী তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব, পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং জাতীয় প্রতিরক্ষায় পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ দায়িত্ব ও এখতিয়ারের মধ্য থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে। নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি। মানুষ চায় নিরাপদ জীবন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সহনীয় মূল্য, কর্মসংস্থান, উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা। বাংলাদেশ বিগত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশ্বব্যাংকের ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ছিল প্রায় ৪০০ মার্কিন ডলার, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ২,৫০০ ডলারের বেশি হয়েছে। কিন্তু মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, অর্থ পাচার, বিনিয়োগের ঘাটতি এবং প্রশাসনিক অদক্ষতা দেশের অর্থনীতিকে চাপে রেখেছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজন বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ধারাবাহিক সংস্কার।

সুশাসনকে সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, আইনের শাসন, প্রশাসনিক দক্ষতা, নিরপেক্ষতা এবং জনগণের অংশগ্রহণ সুশাসনের প্রধান ভিত্তি। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্রীয় পদ কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা বা ক্ষমতা প্রদর্শনের স্থান নয়; এটি জনগণের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং ফল মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপান্তর করতে হবে। শুধু বক্তৃতা, ঘোষণা কিংবা রাজনৈতিক প্রচারণার মাধ্যমে জনগণের আস্থা দীর্ঘদিন ধরে রাখা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম দুর্বলতা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন, পুলিশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে ব্যাপক রদবদলের প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। রাজনৈতিক আনুগত্য, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা প্রভাবশালী মহলের সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদোন্নতি রাষ্ট্রের দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নতুন সরকারকে এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, সততা, দেশপ্রেম, দক্ষতা এবং পেশাগত সাফল্য হতে হবে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। দলীয় পরিচয় কখনোই যোগ্যতার বিকল্প হতে পারে না। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়; এগুলো জনগণের প্রতিষ্ঠান।

প্রধানমন্ত্রীকে এমন একটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, যেখানে গঠনমূলক সমালোচনাকে শত্রুতা হিসেবে দেখা হবে না। কোনো সরকার কিংবা নেতা সব বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষের সমালোচনার মধ্যেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ থাকতে পারে। সরকারকে সেগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে। ক্ষমতার চারপাশে শুধু প্রশংসাকারী, সুবিধাবাদী এবং তোষামোদকারীদের উপস্থিতি নেতৃত্বকে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, নেতারা যখন অপ্রিয় সত্য শোনা বন্ধ করেন, তখনই তাদের ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, রাজনৈতিক নিপীড়ন, দুর্নীতি এবং জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। গুরুতর অপরাধের অভিযোগের নিষ্পত্তি ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা যেন বিচার এড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি না করে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের প্রশ্নেও এই নীতি প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তবে বিচার অবশ্যই হতে হবে প্রমাণ, আইনি প্রক্রিয়া এবং স্বাধীন আদালতের মাধ্যমে; রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা সমষ্টিগত শাস্তির ভিত্তিতে নয়। অপরাধীর পরিচয় যা-ই হোক, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই অতীতের দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটানো সম্ভব।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ এবং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং বঙ্গোপসাগরের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব আমাদের জন্য যেমন সুযোগ সৃষ্টি করেছে, তেমনি নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জও বাড়িয়েছে। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালিত হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, সমতা, সার্বভৌমত্ব এবং বাস্তব সহযোগিতার ভিত্তিতে। কোনো বিদেশি শক্তির অযৌক্তিক প্রভাব কিংবা চাপের কাছে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া যাবে না। সীমান্ত নিরাপত্তা, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা, বাণিজ্যিক ভারসাম্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জাতীয় অগ্রাধিকারে থাকতে হবে। আঞ্চলিক ইতিহাস থেকে নেতৃত্বের গুরুত্ব সম্পর্কে মূল্যবান শিক্ষা নেওয়া যায়। ১৯৬৫ সালে স্বাধীনতার পর লি কুয়ান ইউয়ের নেতৃত্বে সিঙ্গাপুর সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়েও দক্ষ প্রশাসন, শিক্ষায় বিনিয়োগ, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। মালয়েশিয়ায় মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বে শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করে। হংকংয়ের অর্থনৈতিক উত্থানেও দক্ষ প্রশাসন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আইনের শাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এসব উদাহরণ প্রমাণ করে, দূরদর্শী নেতৃত্ব জাতীয় পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি; তবে সেই পরিবর্তন স্থায়ী করতে প্রয়োজন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও ধারাবাহিক নীতি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে ইতিহাস সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে। তার বাবা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয় পরিচয়, স্বনির্ভরতা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নীতির ইতিবাচক দিকগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বর্তমান সময়ের বাস্তবতায় সাহসী এবং বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তার চারপাশে থাকতে হবে পরীক্ষিত, দেশপ্রেমিক, যোগ্য, অভিজ্ঞ এবং স্বাধীনভাবে মতামত দিতে সক্ষম ব্যক্তিদের। ক্ষমতার কাছাকাছি আসা নতুন পরিচিত কিংবা সুবিধাবাদী ব্যক্তিরা যেন অযৌক্তিক প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং দলীয় নেতাদের বক্তব্য ও আচরণেও সংযম অপরিহার্য। অহংকার, উসকানিমূলক বক্তব্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জনগণের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির প্রবণতা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে নানা তকমা দিয়ে অপমান বা হয়রানির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য, অপপ্রচার এবং সহিংসতায় উসকানি মোকাবিলায় আইনসম্মত ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সরকারের সমালোচনার অধিকার অবশ্যই অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের নামে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করা গণতান্ত্রিক আদর্শের পরিপন্থী।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ ও ১৯৮২ সালের সামরিক হস্তক্ষেপ এবং ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, রাজনৈতিক সংঘাত ও দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে কতটা দুর্বল করতে পারে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলদারি, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি হস্তক্ষেপ, সাইবার আক্রমণ এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে প্রকৃত হুমকি মোকাবিলায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কার্যকর জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

সবশেষে রাজনৈতিক দলগুলোকে উপলব্ধি করতে হবে, গণতন্ত্র মানে যেকোনো মূল্যে অবিলম্বে ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা নয়। বিরোধী দলের দায়িত্ব সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা, বিকল্প নীতি প্রস্তাব করা এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক পথ অনুসরণ করতে হবে। ক্ষমতার লোভে দেশকে অস্থিতিশীল করা কিংবা জাতীয় স্বার্থকে বিপন্ন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশ সবার, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎও সবার। তাই রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যেও জাতীয় ঐক্য, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সামনে প্রতিহিংসা, কর্তৃত্ববাদ, দুর্নীতি ও দলীয় আধিপত্যের পুরোনো চক্র ভেঙে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এই সুযোগ কাজে লাগানোর প্রধান দায়িত্ব বর্তমান সরকারের। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উপলব্ধি করতে হবে, তার সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য শুধু পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকা নয়; বরং এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হবে, বিচারব্যবস্থা স্বাধীন থাকবে, প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং প্রতিটি নাগরিক নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার পাবে। ইতিহাসের শিক্ষা হলোÑক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু সুশাসনের মাধ্যমে অর্জিত জনগণের আস্থা এবং রাষ্ট্রের জন্য রেখে যাওয়া ইতিবাচক অবদান দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে প্রয়োজন সাহসী নেতৃত্ব, দায়িত্বশীল রাজনীতি, দক্ষ প্রশাসন এবং সর্বোপরি জাতীয় ঐক্য। ব্যক্তির চেয়ে দল, দলের চেয়ে দেশÑএই নীতিই হোক নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার মূল ভিত্তি।

লেখক: অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা

[email protected]

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%