ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সেই বৃদ্ধকে রিকশা উপহার দিলেন জেলা প্রশাসক


সেই বৃদ্ধকে রিকশা উপহার দিলেন জেলা প্রশাসক

বৃদ্ধ রফিকুল ইসলাম দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে নিজ দুই পায়ে প্যাডেল রিকশা চালিয়ে সংসার জীবনের অর্থ উপার্জন করছিলেন। ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানোর ক্ষেত্রে কষ্ট অনেকটাই কমে যায়। কিন্তু অর্থের অভাবে তিনি সেই ব্যাটারিচালিত রিকশা কিনতে পারছিলেন না। সদর উপজেলার যতনপুকুরী মরিচ বাড়ি এলাকার এই বৃদ্ধ রিকশাচালকের কষ্টের কথা যখন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়, তখন বিষয়টি পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়ার পারভিনের নজরে আসে। সোমবার দুপুরে তিনি বৃদ্ধ রফিকুল ইসলামকে একটি নতুন ব্যাটারিচালিত রিকশা উপহার দেন।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইমাম রাজী টুলুসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার তিন ছেলে-মেয়ে রয়েছেন। আমার বয়স হয়েছে। প্যাডেল দিয়ে রিকশা চালানো খুব কষ্টকর বিষয়। জেলা প্রশাসক যে ব্যাটারি চালিত রিকশা উপহার দেবেন, তা ভাবতেই পারিনি। আমি অত্যন্ত খুশি।

জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভিন জানিয়েছেন, মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়েই আমি জেলা প্রশাসক পদে এসেছি। আমি কাজ করে যাচ্ছি। প্যাডেল রিকশা চালানো সত্যিই কষ্টের একটি ব্যাপার। বিষয়টি আমার নজরে আসার পর আমি এই ছোট্ট উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যে পথে ‘আপা’ হেঁটেছিলেন, আপনারাও সেই পথেই হাঁটছেন: ডা. শফিকুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ পি.এম


যে পথে ‘আপা’ হেঁটেছিলেন, আপনারাও সেই পথেই হাঁটছেন: ডা. শফিকুর রহমান

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যে পথে আপা হাঁটছিলেন, আপনারাও সেভাবেই এখন হাঁটছেন। আপা যাওয়ার আগে বলতেন, আমি পালাই না, অমুকের মেয়ে পালায় না। তবে এখন কী হয়েছে? শেষ পর্যন্ত তিনিও পালিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, বাচ্চারা স্লোগান দিয়েছিল, পালাইছে রে পালাইছে। এই পথে যাঁরা হাঁটবেন, তাঁদের পালাতে হবে। এই পথ হলো পালানোর পথ। এই পথে হাঁটলে আপনি মক্কা পৌঁছাতে পারবেন না, আপনার গন্তব্য হবে দিল্লি। এই পথের শেষ ঠিকানা হলো দিল্লি। আমাদের দেশের জনগণ দিল্লির খবরদারি বাংলাদেশে চায় না। আমরা কাউকে আধিপত্যবাদ মানি না।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জামায়াতের আমির তার এই কথা বলেন। শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন হত্যার বিচার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এই জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়।

শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, আমরা কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নিই না। ইনশাআল্লাহ, আমরা মজবুতভাবে মাথা উঁচু করে যতদিন বেঁচে থাকবো, মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে চাই। বিড়াল হিসেবে বাঁচতে চাই না। বেড়ালের জীবন আমাদের জীবন হবে না ইনশাআল্লাহ। আপনাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। লড়াই চলছে, লড়াই চলবে। ইনশাআল্লাহ, হকের বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হবে।

গণভোট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গণভোটে আপনারা রায় দিয়েছেন। সরকারে এখন যারা আছেন তারাও বলছিলেন, রায় দিন। আমি স্পষ্ট বলছি, গণভোট না মানলে শুধু না হবেন না, একসময় নাই হয়ে যাবেন। জনতার রায়কে অগ্রাহ্য, অপমান করে অতীতে কেউ টিকে থাকেনি, শান্তি পায়নি, সম্মান পায়নি, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে পারেনি। আপনারা মজলুম ছিলেন, আমরা চাই আপনারা সঠিক পথে ফিরে আসুন। জনগণের সংস্কার সাধন করুন, ফ্যাসিবাদের রাস্তা বন্ধ করুন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাস্তা খুলে দিন। যদি খুলে দেন, আমরা বিরোধী দল হিসেবে আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।

ক্ষমতার লোভ নিয়ে তিনি সতর্ক বার্তা দেন, ক্ষমতা কারও কোমরের নিচে চিরস্থায়ী নয়। আল্লাহ যাকে পছন্দ করেন, তাকে ক্ষমতায় বসান, আর যখন উঠিয়ে নিতে চান, তখন উঠিয়ে নেন।

ফ্যাসিবাদকে ভাইরাসের সঙ্গে তুলনা করে শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদ একটি রোগ। এটি নির্দিষ্ট কোনো দলের সঙ্গে থাকে না, এটি একটি ভাইরাস। এটি যেখানেই ভর করে, তারা ফ্যাসিবাদী। এক ফ্যাসিবাদীকে তাড়িয়ে, বাংলাদেশের জনগণ আরেক ফ্যাসিবাদী চায় না।

২০২৪ সালের আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ভাই-বোনেরা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন, মায়েরা ১০ মাসের শিশুসন্তান নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। হয়তো আমাদের আবার রাস্তায় নামতে হতে পারে। যাদের জন্য প্রয়োজন হলে একবার নয়, শতবার নামবো ইনশাআল্লাহ। যত সময় আল্লাহ জীবন দিয়ে রেখেছেন, যত সময় নামার শক্তি আল্লাহ রাখবেন, তত সময় জাতির প্রয়োজনে অবশ্যই নামবো। আমরা কাপুরুষ নই, আমরা দুর্বল নই। কাপুরুষ হচ্ছে তারা যারা অপরাধ করে, যারা দখল বাণিজ্য করে, যারা নিরীহ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তোলে, যারা মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠন করে। সে যে হোক, আমার সন্তানও হলে, সেটাও কাপুরুষ।

সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, আমরা দেখতে চাই আমাদের শিশু নিরাপদ, আমাদের মেয়ে নিরাপদ, আমাদের মা নিরাপদ, আমাদের যুবক নিরাপদ, আমাদের বয়স্ক মানুষের নিরাপদ। সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদ, সকল বর্ণের মানুষ নিরাপদ, এই দেশের সকল ভাষার মানুষ নিরাপদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার নির্ধারিত দামে সার না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ, কৃষকদের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩১ পি.এম


সরকার নির্ধারিত দামে সার না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ, কৃষকদের বিক্ষোভ

আমন মৌসুমে সরকার নির্ধারিত দামে সার না পাওয়ার অভিযোগ দুটির নিয়ে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তাদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে পর্যাপ্ত ও সময়মতো সার না পাওয়ার কারণে আমন উৎপাদনে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সোমবার সকালে কালীগঞ্জ বাজার এলাকায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে কয়েক হাজার কৃষক এ বিক্ষোভ আন্দোলন করেন। এর ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। পাথর ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ দূরপাল্লার অনেক যানবাহন আটকা পড়ে, যার ফলে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে ভোগান্তি ঘটে।

আন্দোলনকারী কৃষকদের অভিযোগ, আমন চাষের ভরা মৌসুমে এলাকায় সারের সংকট তৈরি হয়েছে, যা অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে যে তাদের সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে।

কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত প্রতি বস্তা টিএসপি সারের দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা, কিন্তু বাজারে সেটা ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে, ১ হাজার ৫০ টাকার ডিএপি সার ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং ১ হাজার ৩৫০ টাকার ইউরিয়া সার ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষকদের দাবি, বাড়তি দামে সার কিনতে গিয়ে আমন চাষের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। অর্থাভাবে অনেক কৃষক জমিতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার দিতে পারছেন না। তারা হুঁশিয়ারি দেন, যদি দ্রুত সরকার নির্ধারিত দামে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ইউএনও কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী আগামী দুই দিনের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে সার বিতরণের আশ্বাস দেন।

প্রশাসনের আশ্বাস পাওয়ার পর প্রায় দুই ঘণ্টা পর কৃষকেরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন। এর ফলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পঞ্চগড়ের বোদায় দুই স্কুলের ৪ পরীক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ পি.এম


পঞ্চগড়ের বোদায় দুই স্কুলের ৪ পরীক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এই দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র চারজন এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।

প্রতিষ্ঠান দুটি হলো চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে এবং সে অকৃতকার্য হয়েছে। অন্যদিকে, বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু তাদের কেউ পাস করেনি।

সোমবার বিদ্যালয় দুটি পরিদর্শন করা হয়। বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির জন্য শিক্ষার্থীর উপস্থিতির দাবি ১০০ জন, কিন্তু বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে। এই সময়ে তিনজন শিক্ষক বিদ্যালয়ে ছিলেন, কিন্তু প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন না। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ১০ জন শিক্ষক এবং পাঁচজন কর্মচারী কর্মরত আছেন। তবে বিদ্যালয়ে কোথাও কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান হয় না এবং শিক্ষকরা স্কুলে এসে আবার চলে যান। শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও অনেক কম। তাদের দাবি, এমপিওভুক্তির আশায় এই প্রতিষ্ঠানটি কোনোভাবে চালু রাখা হয়েছে। তাদের মতে, আগের বছরগুলোতেও এই বিদ্যালয়ের ফলাফল ভালো ছিল না।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ললিতা রাণী বলেছেন, "আমাদের স্কুল থেকে এবার একজন পরীক্ষা দিয়েছে। সে ফেল করেছে। সে পড়ালেখায় দুর্বল ছিল।"

অন্যদিকে, বোদা সর্দারপাড়া বিদ্যালয়ে কোনো সাইনবোর্ড নেই, এবং টিনের চালার একটি কক্ষ তালাবদ্ধ। টিনের ছাউনি দেওয়া আরেকটি বড় ঘরের দরজা-জানালা এবং বেড়া নেই। বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়েও পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বোদা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুর ইসলাম বলেছেন, "এসএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, বোদা উপজেলায় দুটি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন পরীক্ষার্থী ছিল, সে ফেল করেছে। আর বোদা সর্দারপাড়া বালিকা বিদ্যালয় থেকে তিনজন পরীক্ষার্থী ছিল, তিনজনই ফেল করেছে।"

তিনি আরও বলেন, "এই দুটি প্রতিষ্ঠানই নন-এমপিও। এখানে পাঠদানের ধারাবাহিকতা কখনোই ছিল না। এমন বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো। প্রতিষ্ঠান দুটিকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ফিডব্যাক এবং লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নীলফামারীর হাজীমুলের বাঁশের তৈরি পণ্য যাচ্ছে বিদেশে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩৫ পি.এম


নীলফামারীর হাজীমুলের বাঁশের তৈরি পণ্য যাচ্ছে বিদেশে

নীলফামারী, ১০ আগস্ট, ২০২৬ : এক সময় গ্রাম-গঞ্জ ও শহরের প্রতিটি বাড়িতে বাঁশের তৈরি ডালা, চালুনি-কুলাসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্যের ব্যাপক ব্যবহার ছিল। এখন আর আগের মতো ওইসব পণ্যের কদর নেই বললেই চলে। প্রযুক্তির কল্যাণে এর বাজার দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিকের পণ্য।

ওইসব পণ্যের কদর না থাকলেও বাঁশের সিলিংয়ের ব্যবহার এবং গুরুত্ব রয়েছে সর্বত্র। বাঁশের তৈরি পণ্যে কদর কমতে থাকায় কষ্টে জীবন চলতো নীলফামারীর হাজীমুল ইসলামের।

ইতোমধ্যে তিনি বাঁশের তৈরি সিলিংসহ বিভিন্ন ধরনের নান্দনিক পণ্য তৈরি করে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে ফেলেছেন। বলা যেতে পারে এখন তিনি বাঁশজাত হস্তশিল্পের একজন সফল উদ্যোক্তা।

হাজীমুলের কারখানায় তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের নান্দনিক বাঁশের পণ্য। পরিবেশবান্ধব এসব পণ্য এখন স্থানীয় বাজারের গণ্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে দেশের বাইরেও। তার এ উদ্যোগে শুধু নিজের ভাগ্যই বদলায়নি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় অন্তত ২০ নারী-পুরুষের।

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার উত্তর সোনাখুলি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের হাজীমুল ইসলামের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পটিও বেশ সংগ্রামের। বাঁশের সিলিং (টিনসেড ঘরের রুমের সিংলিং) তৈরির মিস্ত্রি থেকে তার এ সংগ্রামের পথ শুরু। উপায় খুঁজতে থাকেন বাঁশের কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর। সেই স্বপ্নে স্থাপন করেন ছোট পরিসরে বাঁশের পণ্য তৈরির কারখানা।

এরপর কারখানায় তৈরি পণ্যের বাজার ও কাঁচামাল সংগ্রহে পড়তে হয়েছে নানা বিরম্বনায়। কিন্তু থেমে যায়নি স্বপ্ন, ধীরে ধীরে বিভিন্ন মাধ্যমে পণ্যের প্রচার, স্থানীয় ক্রেতাদের আস্থায় বাড়তে থাকে তার ব্যবসার প্রসার। এতে করে টিকে থাকে তার স্বপ্ন। এখন নজরকাড়া ডিজাইনে বিভিন্ন বায়ারের মাধ্যমে এসব পণ্য রপ্তানি হচ্ছে দেশের বাইরে।

সরেজমিনে সৈয়দপুর উপজেলার উত্তর সোনাখুলি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে তার নিজ বাড়িতে গড়ে তোলা কারখানায় গিয়ে দেখা মেলে বাঁশের তৈরি করা নজরকাড়া পণ্য। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু হয় কর্মব্যস্ততা। কর্মচারীরা যেমন ব্যস্ত বিভিন্ন পণ্য তৈরির কাজে। তেমনি হাজীমুল ব্যস্ত পণ্যের নকশা ফুটিয়ে তুলতে। সকলের দক্ষ হাতের নিপুণ কারুকাজে সাধারণ বাঁশ হয়ে উঠছে দৃষ্টিনন্দন সামগ্রী হিসেবে।

হাজীমুল ইসলাম বাসসকে বলেন, তার ওই কারখানায় বাঁশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ১২০ প্রকার পণ্য। এসবের মধ্যে ঝুড়ি, ট্রে, টেবিল ল্যাম্প স্ট্যান্ড, সাবানদানি, কলমদানি, ফুলদানি, টিস্যুবক্স, সোফা সেট, একতারা ও ম্যাগাজিন ফাইল হোল্ডারসহ ঘর সাজানোর বিভিন্ন উপকরণ উল্লেখযোগ্য। তৈরি পণ্যের একটি অংশ স্থানীয় বাজারে বিক্রি হলেও বিভিন্ন বায়ারের মাধ্যমে যাচ্ছে বিদেশে।

হাজীমুল ইসলামের কারখানায় বর্তমানে স্থানীয় নারী ও পুরুষ মিলে প্রায় ২০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। তাদের শ্রম, দক্ষতা ও সৃজনশীলতায় তৈরি হচ্ছে এসব পণ্য। শ্রমিকের মজুরি, বাঁশ, বেত ও কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য ক্রয় খরচ বাদে বিক্রি ও রপ্তানি থেকে মাসে গড় আয় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বলে জানান তিনি। এ আয় দিয়ে বর্তমানে স্বাচ্ছন্দ্যে চলছে তার সংসারসহ ৩ সন্তানের লেখাপড়া।

কাঁচামাল হিসেবে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া থেকে ‘ভুতুম’ জাতের বাঁশ (লম্বা ও মোটা আকৃতির) সংগ্রহ করেন। প্রতিটি বাঁশে পরিবহনসহ গড়ে খরচ হয় ৭শ’ টাকা। এসব বাঁশ প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয় বিভিন্ন পণ্য।

তিনি কাঁচামালের উচ্চমূল্য ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত মূলধন ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব ব্যবসা সম্প্রসারণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হাজীমুল ইসলাম চায় তার এ উদ্যোগকে আধুনিক উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করতে। এজন্য কারখানায় সংযোজন করতে চান আধুনিক যন্ত্রপাতি। নিত্য নতুন ডিজাইনের পণ্য তৈরি করে কারখানায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চান আরো অধিক মানুষের। কিন্তু এসবের বড় বাধা পুঁজির যোগান।

তিনি বলেন, ‘সহজ শর্তে ঋণ পেলে আমার এ ছোট উদ্যোগকে অনেক বড় করা সম্ভব হবে। দেশের যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একাজে সম্পৃক্ত করা হলে কমবে বেকারত্ব, বাড়বে কর্মসংস্থানের সুযোগ। এজন্য আন্তর্জাতিক বাজারে বাঁশের পণ্যের পরিচিতি বাড়াতে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নেয়া হলে দেশের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হবে’।

নীলফামারী বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক মো.নূরেল হক বাসসকে বলেন, ‘হাজীমুলের বাঁশদিয়ে তৈরি ১২০ প্রকার পণ্য এখন শুধু একটি কুটির শিল্প উৎপাদন কেন্দ্র নয়, এটি এক জীবন্ত স্বপ্নের নাম। বাঁশের প্রতিটি বুননে লেখা হচ্ছে তার আত্মনির্ভরতার গল্প। জানিয়ে দিচ্ছে গ্রামীণ বাংলার বাঁশজাত শিল্পের সম্ভাবনার কথা। এখানে শুধু পণ্য তৈরি হচ্ছে না, তৈরি হচ্ছে আত্মনির্ভরতার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের পরিধি পেরিয়ে যাচ্ছে দেশের সীমানা’।

বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে বাঁশ, বেত ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে নীলফামারীর মতো অঞ্চলে বাঁশভিত্তিক কুটির শিল্পের জন্য তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা’।

হাজীমুল ইসলামের উদ্যোগকে সফল করতে বিসিকের পক্ষ থেকে বিনা সুদে এক লাখ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে এগিয়ে নিতে বিসিক সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছে বলেও জনান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%