০৮:৪৩ পি.এম
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান উল্লেখ করেছেন যে, বঙ্গোপসাগরকে বাহ্যিক সামরিক হস্তক্ষেপমুক্ত একটি নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে রাখতে চায় বাংলাদেশ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের একটি সেশনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মুনীরুজ্জামানের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়, চীন ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং ভারসাম্য বজায় রাখতে বাংলাদেশ কী ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি জবাবে বলেন, দক্ষিণ এশিয়া এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ হয়ে উঠেছে। ভারত ও চীন উভয়কেই বাংলাদেশ অনেক কিছু দিতে পারে।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
সামুদ্রিক স্থিতিশীলতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। এই সাগর কেবল এই অঞ্চলের জন্য নয়, বরং ভারত মহাসাগরের জন্যও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত মহাসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলগত পরিকল্পনায় এই বিশাল উপসাগরের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাংলাদেশ এখানে সামুদ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে, যা ভারত ও চীন উভয়ের জন্য অপরিহার্য। "আমরা বঙ্গোপসাগরকে যে কোনো বাহ্যিক সামরিক হস্তক্ষেপমুক্ত একটি নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে রাখতে চাই।"
আঞ্চলিক সংযোগের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উদাহরণ দিয়ে মুনীরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি সংযোগকারী সেতু হিসেবে কাজ করে। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ভূ-কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। যদি বাংলাদেশ চীনের ইউনান প্রদেশ থেকে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত একটি স্থলপথ বা করিডোর তৈরি করে, তবে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সংযোগের মাধ্যমে ভারত ও চীন উভয় ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে একটি। এই সংকট এবং এর ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ বর্তমানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাংলাদেশের ভূমিকা ভারত ও চীন উভয়ের জন্য উপকারী।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন