বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১১:৫৪ এম
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত নবম জাতীয় পে স্কেল এখন বাস্তবায়নের পথে নানা জটিলতার সম্মুখীন হয়েছে। তাছাড়া, বেতন কমিশনের সুপারিশ, সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রভাব এবং বিভিন্ন ভাতার কাঠামো—এই সব বিষয় একসাথে সামঞ্জস্য করতে গিয়ে বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সচিব কমিটি হিমশিম খাচ্ছে।
এদিকে, সরকার প্রচলিত বেতন বৃদ্ধির পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে। নতুন প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামোতে শুধু গ্রেড নয়, বরং কর্মকর্তাদের আয়, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চালু থাকা একই হারে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তুলনামূলকভাবে অধিক সুবিধা পেতে পারেন, এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রসঙ্গটি দ্রুত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করার জন্য অর্থ বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সব গ্রেডে জনপ্রতি গড়ে ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট প্রদান করা হয়। তবে নতুন খসড়ায় এই কাঠামোর পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামাে অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে বিশালগ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বহাল থাকবে। পঞ্চম গ্রেডে এটি ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণের সুপারিশ রয়েছে। আর প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে, বেতন বৃদ্ধি নিয়ে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের জন্য সরকার একটি ব্যাপক জরিপ পরিচালনা করেছে। এই জরিপে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান অংশ নিয়েছেন।
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান ইনক্রিমেন্ট পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছেন। অপরদিকে, ৫০ দশমিক ৪৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির হার সমন্বয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাছাড়া ৩১ দশমিক ৫৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জীবনযাত্রার ব্যয় ভিত্তিতে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের সুপারিশ করেছেন। একসঙ্গে ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
এদিকে, গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিচার বিভাগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কারিগরি বিষয় নিষ্পত্তির পর অর্থমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
নবম জাতীয় বেতন কাঠামো প্রণয়নে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে-২০২৫’-এর তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। জরিপ অনুযায়ী, দেশে একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। সিটি করপোরেশন এলাকায় এই ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা এবং ছয় সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক ব্যয় ৬৬ হাজার ২৫৩ টাকা।
বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সচিব কমিটি প্রথম গ্রেডের মূল বেতন দেড় লাখ টাকা নির্ধারণ এবং বেতন ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৭.৫ রাখার চেষ্টায় রয়েছেন। বর্তমানে এই অনুপাত ১:৯.৪।
বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারী বেতন-ভাতা মিলিয়ে ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে এই পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে।
এছাড়া বিভিন্ন গ্রেডে ভাতা বৃদ্ধিরও প্রস্তাব রয়েছে। বিশেষ করে যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতা সম্পর্কে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি ভাতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার, এটা কোনো ডামি ভোটের সরকার নয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই সরকার জনকল্যাণের সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সকলে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা করেই কাজ করছি।
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত আন্তরিক। দুর্যোগকালীন এই পরিস্থতিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁর সরাসরি নির্দেশনা নিয়েই আমি রাঙ্গামাটিতে ছুটে এসেছি। শুধু রাঙ্গামাটি নয়, পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয়ে খোঁজ খবর রাখতে প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমি সেভাবেই কাজ করছি।
পার্বত্যাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি উদ্যোগগুলো পাহাড়ের স্থানীয় সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। বাঙালিসহ পার্বত্য অঞ্চলের ১২টি জাতিগোষ্ঠীর সমঅধিকারভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করে একটি সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নির্ভর পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সাধারণ নির্বাচনের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের কল্যাণের জন্য সবসময় কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে। বর্তমান দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের পাশে সরকার অতীতের মতো আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে।
গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। রাঙ্গামাটি শহরের ভেদভেদী লোকনাথ ব্রহ্মচারী মন্দির আশ্রমের হলরুমের আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমিন, জেলা বিএনপি’র সভাপতি দীপন তালুকদার দিপু, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এড. মামুনুর রশীদ মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম শাকিল, জেলা জাসাসের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল হোসেন বাবলুসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি আরো বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার, জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জনগণকে সচেতন করতে আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।' তিনি আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শনকালে টানা বৃষ্টি এবং পাহাড় ধসের সম্ভাবনা দেখা দিলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষকে সরকারী আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেয়ার অনুরোধ করেন। তিনি জানান, আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিন পার্বত্য জেলার জন্য মোট ১৩শ’ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটির জন্য ৫শ’ মেট্রিক টন, খাগড়াছড়ির জন্য ৪শ’ মেট্রিক টন এবং বান্দরবানের জন্য ৪শ’ মেট্রিক টন বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী ও খাবার বিতরণ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলেন ও তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে খোঁজ খবর নেন।
টানা বৃষ্টি এবং পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপিকে কাছে পেয়ে সরকারের সহযোগিতা প্রদানের জন্য ধন্যবাদ জানান। তারা আবেগাপ্লুত হয়ে প্রতিমন্ত্রীর সাথে মন খুলে কথা বলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাপাতি, সামুরাই এবং দেশীয় ধারালো অস্ত্র হাতে গভীর রাতে অপরাধ সংগঠনের প্রস্তুতি চলছিল। টার্গেট ছিল ডাকাতি এবং পুলিশের সোর্সের ওপর হামলার পরিকল্পনা। তবে তাদের পরিকল্পনার বাস্তবায়নের আগেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কুত্তা ফারুক’সহ ছিনতাই চক্রের সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এসময় বেশ কয়েকটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
বুধবার (৮ জুলাই) মধ্যরাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শেখেরটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে আদাবর থানা পুলিশ। পুলিশ জানায়, মধ্যরাতের একটি মুরগির ফার্মে ডাকাতির প্রস্তুতি নিয়েছিল ফারুক নেতৃত্বাধীন চক্রটি।
এছাড়া, কিছুদিন আগে আদাবর এলাকার ‘কিশোর গ্যাং নেতা’ বিল্লাল হোসেন ওরফে ভাইস্তা বিল্লাল এবং মউরা সোহেলকে গ্রেপ্তারের প্রতিশোধ নিতে পুলিশের সোর্সের ওপর হামলার জন্য স্থানীয় সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি শরীয়তপুর ও মাদারীপুর থেকে ভারাটে সন্ত্রাসী এনেছিল তারা।
এসময় ছিনতাই চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে চাপাতি, সামুরাইসহ বেশ কয়েকটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
ছিনতাই চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের খবরে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা। এ সময় তারা নিজেদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বর্ণনা দেন। তবে পুলিশ যখন অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে, তখন আসামিরা কিছুদিন পরই জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে এক ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন পা হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দুর্ঘটনার শিকার হাসেম আলী (৬০) নামে ওই ব্যক্তি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হন।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটারে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ওই পায়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি। হাসেম আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে, তার ডান পায়ের অংশ ছাড়াই মরদেহ নিয়ে বেরিয়ে যান নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
এর আগে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার আব্দালপুরের শাহপুর নতুন মসজিদ মোড় এলাকায় একটি ইজিবাইক এবং ব্যাটারিচালিত ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন ভ্যানযাত্রী হাসেম আলী। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকের পরামর্শে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর অপারেশন থিয়েটারে তার বিচ্ছিন্ন ডান পা খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিচার দাবি করেছেন তারা।
বাড়ির উদ্দেশ্যে হাসপাতাল ত্যাগ করার সময় নিহত হাসেম ইবি থানার আব্দালপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং এলাকায় কৃষিকাজ করতেন। আব্দুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দার স্বপন গনমাধ্যমকে জানান, হাসেম তার প্রতিবেশী চাচাতো ভাই। তিনি অভিযোগ করেছেন যে হাসপাতালে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। এর পাশাপাশি, তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনা তদন্তে খতিয়ে দেখবেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন পা নিয়ে ভর্তি হলে হাসপাতালের স্টাফরা নিহতের স্বজনদের কাছে বিচ্ছিন্ন পায়ের অংশটি বুঝিয়ে দিয়েছে বলেছেন এবং এরপর কী হয়েছে জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, এ ব্যাপারে তার কিছু জানা নেই। তবে নিহতের পরিবার বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। এ ক্ষেত্রে যদি কারো গাফিলতি দেখা যায় তবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর তুরাগ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় পৃথক দুটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে পুলিশ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই অভিযানে মাদক, জুয়ার সরঞ্জাম এবং নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, বুধবার (৮ জুলাই) তুরাগ থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নিয়মিত মামলার আসামি, বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তি এবং আইনগত কারণে সংঘাতে জড়িত দুটি শিশু মত রয়েছে। এই অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ১৩ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
একই দিন যাত্রাবাড়ী থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিলেন।
এছাড়া বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে ১টা ১০ মিনিটের সময় ধলপুরের বাদল সরদার গলিতে অভিযান চালিয়ে জুয়া খেলার সময় ১৩ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। এ সময় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে জুয়া খেলার তাস এবং নগদ ২ হাজার ২৫০ টাকা জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে নিয়মিত ও পরোয়ানাভুক্ত মামলার আসামি এবং অন্যান্য বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ