প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার, এটা কোনো ডামি ভোটের সরকার নয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই সরকার জনকল্যাণের সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সকলে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা করেই কাজ করছি।
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত আন্তরিক। দুর্যোগকালীন এই পরিস্থতিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁর সরাসরি নির্দেশনা নিয়েই আমি রাঙ্গামাটিতে ছুটে এসেছি। শুধু রাঙ্গামাটি নয়, পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয়ে খোঁজ খবর রাখতে প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমি সেভাবেই কাজ করছি।
পার্বত্যাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি উদ্যোগগুলো পাহাড়ের স্থানীয় সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। বাঙালিসহ পার্বত্য অঞ্চলের ১২টি জাতিগোষ্ঠীর সমঅধিকারভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করে একটি সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নির্ভর পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সাধারণ নির্বাচনের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের কল্যাণের জন্য সবসময় কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে। বর্তমান দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের পাশে সরকার অতীতের মতো আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে।
গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। রাঙ্গামাটি শহরের ভেদভেদী লোকনাথ ব্রহ্মচারী মন্দির আশ্রমের হলরুমের আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমিন, জেলা বিএনপি’র সভাপতি দীপন তালুকদার দিপু, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এড. মামুনুর রশীদ মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম শাকিল, জেলা জাসাসের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল হোসেন বাবলুসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি আরো বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার, জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জনগণকে সচেতন করতে আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।' তিনি আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শনকালে টানা বৃষ্টি এবং পাহাড় ধসের সম্ভাবনা দেখা দিলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষকে সরকারী আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেয়ার অনুরোধ করেন। তিনি জানান, আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিন পার্বত্য জেলার জন্য মোট ১৩শ’ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটির জন্য ৫শ’ মেট্রিক টন, খাগড়াছড়ির জন্য ৪শ’ মেট্রিক টন এবং বান্দরবানের জন্য ৪শ’ মেট্রিক টন বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী ও খাবার বিতরণ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলেন ও তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে খোঁজ খবর নেন।
টানা বৃষ্টি এবং পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপিকে কাছে পেয়ে সরকারের সহযোগিতা প্রদানের জন্য ধন্যবাদ জানান। তারা আবেগাপ্লুত হয়ে প্রতিমন্ত্রীর সাথে মন খুলে কথা বলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন