প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে এক ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন পা হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দুর্ঘটনার শিকার হাসেম আলী (৬০) নামে ওই ব্যক্তি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হন।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটারে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ওই পায়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি। হাসেম আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে, তার ডান পায়ের অংশ ছাড়াই মরদেহ নিয়ে বেরিয়ে যান নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
এর আগে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার আব্দালপুরের শাহপুর নতুন মসজিদ মোড় এলাকায় একটি ইজিবাইক এবং ব্যাটারিচালিত ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন ভ্যানযাত্রী হাসেম আলী। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকের পরামর্শে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর অপারেশন থিয়েটারে তার বিচ্ছিন্ন ডান পা খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিচার দাবি করেছেন তারা।
বাড়ির উদ্দেশ্যে হাসপাতাল ত্যাগ করার সময় নিহত হাসেম ইবি থানার আব্দালপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং এলাকায় কৃষিকাজ করতেন। আব্দুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দার স্বপন গনমাধ্যমকে জানান, হাসেম তার প্রতিবেশী চাচাতো ভাই। তিনি অভিযোগ করেছেন যে হাসপাতালে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। এর পাশাপাশি, তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনা তদন্তে খতিয়ে দেখবেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন পা নিয়ে ভর্তি হলে হাসপাতালের স্টাফরা নিহতের স্বজনদের কাছে বিচ্ছিন্ন পায়ের অংশটি বুঝিয়ে দিয়েছে বলেছেন এবং এরপর কী হয়েছে জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, এ ব্যাপারে তার কিছু জানা নেই। তবে নিহতের পরিবার বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। এ ক্ষেত্রে যদি কারো গাফিলতি দেখা যায় তবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন