মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৭ পি.এম
যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে জাতীয় গ্রিড প্রায় দুই ঘণ্টা পর সচল হয়েছে। বর্তমানে ধাপে ধাপে বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৩ টার দিকে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংস্থাটির পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে, দুপুর আড়াইটায় জাতীয় গ্রিডের রিস্টোরেশন কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুতের সব গ্রিড লাইন ও গ্রিড উপকেন্দ্রগুলো সচল রয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধাপে ধাপে চালু করার কাজ চলছে। উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে বিক্ষিপ্ত লোডশেডিংও কমে আসবে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ জনসাধারণের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে অনাকাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ বিচ্যুতির কারণে।
এদিকে, দুপুর আড়াইটার দিকে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাঠানো জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহালের কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহাল করা হয়েছে। বাকি অংশেও স্বল্পসময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ ফিরছে। কালাচাঁদপুর এলাকার বাসিন্দা নাহিদা আক্তার বলেন, ‘দুপুর পৌনে ১টার কিছু সময় আগে বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে আড়াইটার দিকে আবার ফিরে আসে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় ইলেকট্রিক চুলায় রান্না বসিয়েও শেষ করতে পারিনি। ফলে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয়েছে। সেইসঙ্গে গরমতো ছিলোই।’
বনশ্রীর বাসিন্দা জুনায়েদ বলেন, ‘দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। সাধারণত ঢাকায় বিদ্যুৎ গেলে ১ ঘণ্টা বা তারও কম সময় লাগে। কিন্তু দুপুর সাড়ে ১২টার পর হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়, আর ফিরে আসে আড়াইটারও পর। গরমে বাসা থেকে বেরিয়ে বাইরে বাইরে ঘুরছিলাম।’
এদিন দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে রাজধানী ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বড় একটি এলাকা এবং চট্টগ্রামের কিছু অংশে একযোগে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ঢাকার এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : নারী হকি খেলোয়াড়দের প্রতিভা বিকাশ ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের বিশেষ উদ্যোগ অপরাজেয় আলো নারী হকির তৃতীয় পর্বে গোলকিপার ট্রেনিং ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আগামীকাল বুধবার সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ রাজধানীর মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে পরিচালিত হবে।
যদিও এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি দুদিন আগে শুরু হয়েছে, তবে বুধবার হবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। ঢাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তা এবং সাবেক তারকা হকি খেলোয়াড়রা উপস্থিত থাকবেন।
ব্র্যাক ব্যাংকের উদ্যোগে তৃণমূলের নারীদের স্বাবলম্বী ও দক্ষ করে তুলতে ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক খেলোয়াড়কে পেশাদার গোলকিপিং গিয়ার্স (একটি সম্পূর্ণ গোলকিপার সেট ও ব্যাগ), একটি করে হকি স্টিক এবং অনুশীলনের জন্য প্রয়োজনীয় বল প্রদান করা হচ্ছে।
দেশব্যাপী চলমান এই কর্মসূচির প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর, বর্তমানে মোট ২২টি জেলা থেকে বাছাইকৃত ২৪ জন প্রতিভাবান নারী গোলরক্ষককে নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে এইচএসসি পর্যন্ত মেয়েরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে খেলোয়াড়দের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী এই ক্যাম্পে মেয়েরা প্রতিদিন সকাল ও বিকাল দুই বেলা কঠোর অনুশীলন করছে।
দুইজন অভিজ্ঞ ট্রেইনারের অধীনে খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতায় গড়ে তুলতে ক্যাম্পটি পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় নারী হকি দলের সাবেক সফল গোলরক্ষক সুমি আক্তার সার্বক্ষণিক মূল প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ট্রেইনার হিসেবে আরও রয়েছেন জাতীয় পুরুষ হকি দলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক নুরুজ্জামান নয়ন।
ব্র্যাক ব্যাংক ও হকি ফেডারেশনের প্রত্যাশা, এই বিশেষায়িত গোলকিপিং ট্রেনিং ক্যাম্পের মাধ্যমে আগামী দিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশের নারীরা হকিতে অভাবনীয় সাফল্য বয়ে নিয়ে আসবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টোকিও, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত।
তিনি একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে এবং দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার বিষয়েও কথা বলেন।
আজ জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করার পাশাপাশি নির্বিঘ্নে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার এবং দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান প্রথমদিকের স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর একটি। স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে।
পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুইবার জাপান সফর এবং তাঁর মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন।
তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে জাপানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ বাণিজ্য কর্মকর্তা সোমবার বলেছেন, চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিনিয়োগ ব্যাংক থেকে উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসকে কয়েকশ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর মধ্যে বিদ্যমান শুল্ক আরোপ স্থগিত রাখার সমঝোতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এ ঋণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, তার দপ্তর এ বিষয়ে ‘কোনো বিস্তারিত তথ্য পায়নি’। তিনি যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টির সমাধান করার আহ্বান জানান।
এক বিবৃতিতে গ্রিয়ার বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে আশা করেছিলাম, এয়ারবাসকে দেওয়া ইউরোপের বাণিজ্য-বিকৃতিকারী ভর্তুকির দিন শেষ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতি উড়োজাহাজ শিল্পে আটলান্টিকের দুই পাশের বাণিজ্য নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।’
গত জুনে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি) এয়ারবাসের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করতে রেকর্ড ৩০০ কোটি ইউরো বা ৩৪০ কোটি ডলার অর্থায়নের ঘোষণা দেয়।
তখন ইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট আমব্রোয়াজ ফায়োল এএফপিকে বলেছিলেন, ব্যাংকটির ইতিহাসে নজিরবিহীন এই অর্থায়নের লক্ষ্য হলো এয়ারবাসকে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও নমনীয়তা দেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ২০০৪ সাল থেকে কথিত অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। উভয় পক্ষই অভিযোগ করে আসছে, প্রতিপক্ষ সরকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি লঙ্ঘন করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দিচ্ছে।
এ বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং ও এয়ারবাস।
দীর্ঘ ১৭ বছরের এই বিরোধের জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ একে অপরের শত শত কোটি ডলারের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিল।
তবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ে ২০২১ সালে উভয় পক্ষ পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। এরপর থেকে দুই পক্ষের কেউই ওই বিরোধের জেরে পুনরায় শুল্ক আরোপ করেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের মধ্যে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশের অনেক রোগী বিদেশে যেতে বাধ্য হন। বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষতার সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি সেবার মান এবং আস্থার বিষয়ও এতে যুক্ত। এর ফলে প্রতিবছর বিপুল অর্থ দেশের বাইরে চলে যায়। এই প্রবণতা কমাতে দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শহীদ আবু সাইদ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুইদিনব্যাপী আয়োজিত ‘কোলোরেক্টাল সার্জারি সম্মেলন-২০২৬’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, দক্ষ জনবল নিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি আধুনিক, সাশ্রয়ী ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
চিকিৎসাসেবায় মানবিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, চিকিৎসা কেবল একটি পেশা নয়, এটি মানুষের জীবন, মর্যাদা ও আশার সাথে সম্পর্কিত এক মহান দায়িত্ব। রোগীর প্রতি মানবিক আচরণ, চিকিৎসার বিষয়গুলো সহজ ভাষায় রোগী ও তার স্বজনদের বুঝিয়ে বলা, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা এবং দরিদ্র রোগীদের প্রতি বিশেষ সহমর্মিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
তিনি জানিয়ে দেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কেউ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসন, অব্যবস্থাপনা, সীমাহীন দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে সময়মতো চিকিৎসা, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত না করেই ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। অবকাঠামোর অভাবে অনেক যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত থেকেছে। এমনকি টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় কর্মী ছাড়াই পরীক্ষাগারের যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান নিয়োগে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক সুপরিকল্পনা, দক্ষ জনবল, জনবান্ধব নীতি, জবাবদিহিতা এবং অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ সময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন, যা দেশের চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এই অর্থের প্রতিটি টাকা কার্যকর, যথাযথ ও স্বচ্ছভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি জানান, সরকার দেশের ১০০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, টেকনিশিয়ান ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগসহ স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে জনমুখী করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ কোলোরেক্টাল রোগে আক্রান্ত। লজ্জা, সংকোচ ও অসচেতনতার কারণে অনেক রোগী চিকিৎসকের কাছে আসতে দেরি করেন, ফলে রোগ জটিল আকার ধারণ করে।
এ জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং সহজলভ্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে সবাইকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে একটি জাতীয় কোলোরেক্টাল সার্জারি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপনের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে যথাযথ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সম্মেলনের সার্বিক সফলতা কামনা করে তিনি বলেন, এই সম্মেলনে বিশ্বসেরা সার্জনদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থেকে আপনারা সমৃদ্ধ হবেন এবং দেশের সাধারণ মানুষের সেবায় এই সুযোগকে কাজে লাগাবেন। আপনাদের হাত ধরেই একটি আধুনিক, সাশ্রয়ী, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
এর আগে রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ সোসাইটি অফ কোলন এন্ড রেক্টাল সার্জন্স (বিএসসিআরএস)- এর পক্ষ থেকে সম্মাননা স্বারক প্রদান করা হয়।
বিএসসিআরএস-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সাহাদত হোসেন শেখ।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এফ এম সিদ্দিকী, ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স ও সার্জন্স- এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক এবং ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক (মহাসচিব) ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল।
দুইদিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা এ দেশের তরুণ চিকিৎসকদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন ও তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ