১২:৪২ এম
প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাতটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে এক নড়বড়ে সেতু পার হতে হচ্ছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও ব্যবহার করতে হচ্ছে। চার দশকের পুরোনো সেতুটির সংযোগ সড়ক ভেঙে গিয়ে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে, এবং সুরক্ষার কোনো নিশ্চয়তা নেই। নিচে গর্জে ওঠা তিস্তা খাল এবং ওপরে প্রতিদিনের এই মরণফাঁদ পেরিয়েই চিলমারী ও পার্শ্ববর্তী উলিপুর উপজেলার বাসিন্দাদের উপজেলা সদর, বাজার কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে হয়। কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার বালাবাড়িহাট থেকে সাদুল্লাগামী সড়কের তিস্তা খালের ওপর নির্মিত সেতুটির বর্তমান অবস্থা এমন। ১৯৮০ এর দশকে নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ২০১৯ সালের ভয়াবহ বন্যায় এটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাত বছর কেটে গেলেও সেতুটির সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে পড়ার ফলে দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে গেছে।
এই পথ দিয়ে সিঙের ভিটা, নালারপাড়, হাজিপাড়া, চাচিয়ারপাড়, উত্তর সাদুল্যা, দক্ষিণ সাদুল্যা ও উমানন্দসহ বিভিন্ন এলাকার হাজারো মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই প্রান্তের সংযোগ সড়কের পিচ উঠে গিয়ে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে এবং কিনারা ভেঙে গেছে। বর্ষাকালে গর্তে পানি জমে থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময় থাকে। অটো, রিকশা ও অন্যান্য হালকা যানবাহন অত্যন্ত ধীরগতিতে ও হেলেদুলে সেতু পার হচ্ছে। প্রতিদিন এই পথে যাতায়াত করা শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার বলেন, "সেতু পার হতে খুব ভয় করে। দীর্ঘদিন ধরে শুনছি নতুন সেতু হবে, কিন্তু কোনো কাজ হতে দেখছি না।"
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মাহবুব আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "সাতটি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এই পথ। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।" এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুটি নির্মাণের জন্য ইতিপূর্বে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের (পিআইও) পক্ষ থেকে মাপজোক করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আপত্তির কারণে সেই উদ্যোগ আটকে যায় বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। দীর্ঘদিনের এই প্রশাসনিক জটিলতা ও অবহেলার অবসান ঘটিয়ে অবিলম্বে নতুন সেতু নির্মাণ ও সংযোগ সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সাইদুর রহমান বলেন, "সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এটি ব্যবহার করছেন। সেতুর পাশাপাশি সংযোগ সড়কের অবস্থাও নাজুক। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া না হলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।"
আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিলমারী উপজেলা প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) প্রদীপ কুমার বলেন, "আমি সম্প্রতি চিলমারীর দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই।" তবে সম্প্রতি বদলী হওয়া কর্মকর্তা মো. জুলফিকার আলী বলেন, "উক্ত সেতুটির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আগেই চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন