১০:২৪ এম
রাজধানীর ফকিরাপুলে অবস্থিত সিএম এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট এজেন্সিতে চাঁদাবাজি ও হামলার ঘটনায় পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। এই ঘটনায় ডিএমপির পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মীর ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় ডিএমপির মতিঝিল থানায় একটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে প্রতিষ্ঠানটিতে চাঁদা দাবি করা হয় এবং তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ ১৬ জনের একটি দলের সদস্যদের আটকের চেষ্টা করে পুলিশ। চারজনকে আটক করতে সক্ষম হলেও বাকিরা পালিয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, পালিয়ে যাওয়ার আধা ঘণ্টা পর প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মী বাসায় যাওয়ার জন্য ভবনের নিচে নামলে তাদের ওপর হামলা চালায় ওই চক্রের সদস্যরা। হামলার সময় তাদের হাতে ও পায়ে চাপাতি দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে স্থানীয় সন্ত্রাসী শুভ’র নেতৃত্বে প্রায় ১৫ সদস্যের একটি দল পরিকল্পিতভাবে প্রতিষ্ঠানটিতে চাঁদাবাজি করতে যায়। তাদের কাছে দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের প্রায় সবাইকে আটক করে। পরে মুচলেকা নিয়ে ১২ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সময় শুভর সহযোগী হিসেবে ছিলেন সাইদুর রহমান, ইলিয়াস হোসেন, শিমুল, ফারুক আহমেদ, আরাফ হোসেন, মাইনুদ্দিন, তপন, শাওন, মোশাররফ হোসেন, সামিউল হক, নেছার ও হাসান।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, শুভ ও তার সহযোগীদের জিজ্ঞাসাবাদে জাহিদ ওরফে গের গের জাহিদের নাম উঠে এসেছে। তাদের পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জাহিদের নামে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলা রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানান।
এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের পক্ষে সাহেব আলী বাদী হয়ে ডিএমপির পল্টন থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেছেন। মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা
অপরদিকে, ঘটনার আধা ঘণ্টা পর প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মী ভবনের নিচে নেমে বাসায় যাওয়ার সময় তাদের ওপর হামলা চালায় উল্লিখিত চাঁদাবাজ চক্রের অন্য সদস্যরা। হামলার সময় তাদের হাতে ও পায়ে চাপাতি দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। হামলা ও গুরুতর জখমের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মী ইমতিয়াজ বাদী হয়ে ডিএমপির মতিঝিল থানায় একটি মামলা করেছেন। এতে ১৪ জনের নাম উল্লেখ ও ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
কর্মীদের ওপর পরবর্তী হামলায় গের গের জাহিদ নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ওই চক্রের অন্য সদস্যরা হামলা চালায়। এ সময় কর্মীদের হাতে ও পায়ে চাপাতি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
এই বিষয়ে মতিঝিল থানার ওসি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এজাহার পাওয়ার পরে মামলা তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক, কিন্তু আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে, চেষ্টা করছি, ইনশাআল্লাহ হয়ে যাবে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাদের কারণে এলাকার ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অতিষ্ঠ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন