ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা: ইসি সচিব


এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা: ইসি সচিব

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন যে স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। ঋণখেলাপী ও জামিনদাররাও প্রার্থী হিসাবে অযোগ্য হবেন। তদুপরি, যদি ইউটিলিটি বিল বকেয়া থাকে, তবে তারা নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে অযোগ্য হয়ে যাবেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কমিশনের ১২তম সভা শেষে এই বিষয়ে এ কথা জানান তিনি।

আখতার আহমেদ আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলার পরিষদের যেসব আইন রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

তিনি জানান, এসকল প্রস্তাব কমিশন চূড়ান্ত করেছে এবং দ্রুত আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা ১৬ বছর ও তার বেশি বয়সীদের ডাটা কালেকশন করি এনআইডির পর বা ভোটার তালিকার জন্য। যখন একজন ১৮ বছর বয়সে পৌঁছান, তখন তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে যান। তবে তার আগ পর্যন্ত এটি ডরম্যান্ট (থাকে)।

তিনি আরও বলেন, ডাটা কালেকশনটিকে কোন লেভেল পর্যন্ত নামানো সম্ভব তা নিয়ে কিছু পর্যালোচনার পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটি এসএসসি নাকি ক্লাস এইট নাকি প্রাথমিক, যেটাই হোক না কেন, একটি তুলনামূলক বিবরণী অনুযায়ী পরবর্তীতে সিদ্ধান্তে আসা হবে।

আরও পড়ুন: মানবসেবাই আসল ধর্ম: ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর মন্তব্য

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাসের প্রথম ২০ দিনে দেশে এলো ২৪ হাজার ৮২১ কোটি টাকার রেমিট্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ এম


মাসের প্রথম ২০ দিনে দেশে এলো ২৪ হাজার ৮২১ কোটি টাকার রেমিট্যান্স

চলতি জুলাই মাসের প্রথম ২০ দিনে দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এসেছে মোট ২০১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ হিসেবে প্রায় ২৪ হাজার ৮২১ কোটি ৪০ লাখ টাকা হিসাব করা হয়েছে (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে)।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরিফ হোসেনের দেওয়া তথ্যমতে, সোমবার ২০ জুলাই তারিখে প্রবাসী আয় এসেছে ৯২২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। গত বছরের জুলাই মাসের প্রথম ২০ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। যদি সেই তুলনায় দেখা যায় তাহলে চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২৩ দশমিক ১০ শতাংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রিয় নবীর সুন্নতই মুক্তির দিশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৪ এম


প্রিয় নবীর সুন্নতই মুক্তির দিশা

সুন্নাতে রসুল পালন করার মাধ্যমে আমাদের জন্য হেদায়েত ও মুক্তি নিহিত রয়েছে। প্রিয় নবী (সা.) যেভাবে একটি কাজ সম্পন্ন করেছেন, আমাদেরও সেই কাজ সেইভাবে করতে হবে। রসুল (সা.) যেভাবে নামাজ পড়েছেন, সেভাবেই আমাদের নামাজ পড়তে হবে। তদ্রুপ, প্রিয় নবী (সা.) যেভাবে খাওয়াদাওয়া করেছেন, আমাদেরও সেভাবে খাওয়াদাওয়া করতে হবে।

পবিত্র কোরআনের সুরা আলে ইমরানের ৩১ নম্বর আয়াতে আল্লাহপাক বলেছেন, ‘হে নবী, আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর। তাহলে মহান আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের জীবনের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। আল্লাহ অতিশয় দয়ালু মেহেরবান।’ এই আয়াতটির মূল বক্তব্য হলো, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভালোবাসতে চায়, সে যেন প্রিয় নবী (সা.)-এর অনুসরণ করে। আর যিনি রসুল (সা.)-এর অনুসরণ করবেন, আল্লাহ তাকে দুটি পুরস্কার দেবেন। কিন্তু এই দুটি পুরস্কার এত বেশি মূল্যবান যে এর চেয়ে মূল্যবান আর কিছু নেই।

পুরস্কার দুটির মধ্যে প্রথমটি হলো, সৃষ্টির কর্তা আল্লাহ আপনাকে ভালোবাসবেন। দ্বিতীয়টি হলো, আল্লাহ আপনার জীবনে সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। যদি কেউ এই দুটি পুরস্কার পেতে পারে, তাহলে তার জীবনের আর কোনো পুরস্কারের প্রয়োজন থাকবে না। এই দুটি পুরস্কার প্রিয় নবী (সা.)-এর সুন্নত পালন করলে পাওয়া যাবে। এবার বোঝা গেল, আল্লাহর ভালোবাসার মানদণ্ড হলো রসুলের সুন্নত পালন করা, এবং যার মধ্যে যত বেশি রসুলের সুন্নত থাকবে, সে তত বেশি আল্লাহর ভালোবাসা পাবে। একইসাথে এটাও নিশ্চিত হলো যে নবী (সা.)-এর সুন্নত পালন করা গেলে সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জিত হবে। আল্লাহপাকের ভালোবাসা একটি জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।

হাদিসের মাধ্যমে সুন্নতে রসুলের অনুসরণের প্রতি ব্যাপকভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। হজরত ইরবাজ ইবনে সারিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, একবার রসুল (সা.) আমাদের নিয়ে নামাজ পড়লেন। এরপর তিনি আমাদের দিকে মনোনিবেশ করে এমন একটি হৃদয়স্পর্শী আলোচনা করলেন, যা আমাদের অশ্রু গড়িয়ে পড়তে বাধ্য করেছিল এবং আমাদের অন্তর ভয়ে কম্পমান হয়ে গিয়েছিল। এই অবস্থায় এক ব্যক্তি বললেন, ইয়া রসুলুল্লাহ! এটা যেন বিদায় দানকারীর উপদেশ। অতএব আমাদের আরও কিছু অসিয়ত করুন। তিনি তখন বললেন, ‘আমি তোমাদের তাকওয়া অবলম্বন এবং আমিরের আনুগত্যের অসিয়ত করছি, এমনকি আমির যদি এক হাবশি ক্রীতদাসও হয়। মনে রেখো! আমার পরে যারা বেঁচে থাকবে, তারা অনেক মতবিরোধ দেখবে। অতএব তোমরা আমার এবং আমার পরবর্তী খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নতকে অবলম্বন করতে থাকবে, যারা হেদায়াতের পথ অনুসরণ করতে থাকবে। প্রিয় নবীর সুন্নত পালনের মধ্যে রয়েছে মুক্তি। তোমরা এই সুন্নত ও আদর্শকে ধারণ করবে এবং মজবুতভাবে তা পালন করবে। ইসলাম ধর্মে নতুন উদ্ভাবিত যেকোনো মতাদর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে। কারণ, প্রতিটি নতুন মতাদর্শই বিদআত, এবং প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতার কারণ। মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ।

এ এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, সব সময় বিদআত থেকে দূরে থাকতে হবে। ইসলাম ধর্মের নামে নতুন কিছু সমাজে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বললেই বিদআত। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত অপর এক হাদিসে তিনি বলেন, রসুল (সা.) আমাকে নির্দেশ করেছেন, হে বৎস! তুমি যদি সকাল-সন্ধ্যা এভাবে থাকতে পার যে, তোমার অন্তরে কারও প্রতি হিংসা ও অকল্যাণ চিন্তা নেই, তাহলে তাই করো। এরপর তিনি বললেন, এটা হচ্ছে আমার সুন্নত ও নীতি। আর যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে ভালোবাসে, সে আমাকেই ভালোবাসে। আর যে আমাকে ভালোবাসলো, সে জান্নাতে আমার সঙ্গেই থাকবে। তিরমিজি। আরেকটি হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, প্রিয় নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ফেতনা-ফাসাদের জমানায় আমার সুন্নতকে আঁকড়ে ধরবে, তার জন্য রয়েছে ১০০ শহীদের সওয়াব। অর্থাৎ যে ব্যক্তি শেষ জমানায় নিজের জীবনকে সুন্নত অনুযায়ী সাজাবে এবং সকাল থেকে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা থেকে সকাল সব কাজ প্রিয় নবীর (সা.) পদ্ধতি অনুযায়ী করবে, আল্লাহ তাকে ১০০ শহীদের সওয়াব দেবেন। এই শেষ জমানায় সুন্নতের প্রতি অটল থাকলে এত বড় পুরস্কারের কারণ হলো যে তখন এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে যেখানকার মানুষ নবীর (সা.) সুন্নতের প্রতি ব্যাপক অবহেলা করবে। সমাজে সুন্নত পালনকারীর প্রতি বিদ্রূপ করা হবে এবং তাকে নিয়ে হাসাহাসি করা হবে। এমন কঠিন সময়ে সুন্নত পালন করলে এত বড় পুরস্কার পাওয়া যাবে।

♦ লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশি বিনিয়োগে সংখ্যা বাড়লেও নতুন মূলধন আসছে কম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২০ এম


বিদেশি বিনিয়োগে সংখ্যা বাড়লেও নতুন মূলধন আসছে কম

বাংলাদশে বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০২-এ। তবে, এই বিস্তারের বিপরীতে নতুন করে আসা মূলধনের বিনিয়োগের গতি তুলনামূলকভাবে কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখা যায়, মোট এফডিআই প্রবাহের বড় অংশই আসছে আগের মুনাফা বা পুনর্বিনিয়োগ থেকে। নতুন বিনিয়োগটি আসছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যের বরাতে এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রতিদিন জানায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে ২ হাজার ৬০২টি প্রতিষ্ঠান এফডিআই সংক্রান্ত রিপোর্টিংয়ের আওতায় রয়েছে। গত কয়েক বছরে এ সংখ্যা বেড়ে গেছে, যা দেশটির বিনিয়োগ পরিবেশে বিদেশি অংশগ্রহণের বিস্তার নির্দেশ করে। কিন্তু প্রকৃত হিসাবে নতুন বিনিয়োগের অংশ সীমিত।

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে যে, ২০২৫ সালে মোট বিনিয়োগের মধ্যে প্রায় ৪৪ দশমিক ১৫ শতাংশ এসেছে পুনর্বিনিয়োগকৃত মুনাফা থেকে। অর্থাৎ, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের অর্জিত লাভের বড় অংশ দেশে রেখে আবার বিনিয়োগ করছেন। অন্যদিকে, নতুনভাবে আসা ইক্যুইটি মূলধনের অংশ প্রায় ৩১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ ছাড়া আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণের অংশ প্রায় ২৪ দশমিক ৫২ শতাংশ, যা মূলত মাতৃপ্রতিষ্ঠান থেকে সহায়তা হিসেবে আসে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও বিনিয়োগ প্রবাহে বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী এফডিআই প্রবাহ বেড়ে প্রায় ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে এর বড় অংশ গেছে উন্নত দেশগুলোতে, যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ। বিপরীতে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এফডিআই প্রবাহ প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। ফলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করার বিষয়টি আরও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, দেশে বিদেশি বিনিয়োগের উপস্থিতি ও বিস্তার বাড়লেও নতুন মূলধন প্রবাহের গতি এখনো প্রত্যাশিত নয়। বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের পুনর্বিনিয়োগের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যাচ্ছে, যা স্বল্পমেয়াদে ইতিবাচক হলেও দীর্ঘমেয়াদে বড় আকারের বিনিয়োগ প্রবাহ নিশ্চিত করতে নীতিগত ও কাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দেশে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াটা ইতিবাচক, কিন্তু নতুন কোনো ‘ফ্রেশ টাকা’ বা মূলধন না আসা অর্থনীতির জন্য সতর্কবার্তা। বিনিয়োগের অনেকাংশই আসছে পুরোনোদের পুনর্বিনিয়োগ থেকে। বিশ্বব্যাপী উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিনিয়োগ কমায় আমাদের প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে। দীর্ঘমেয়াদে বড় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পেতে হলে শুধু পুরোনোদের ওপর ভরসা না করে, ব্যবসা সহজ করার মাধ্যমে নতুন বিদেশি কোম্পানি আকর্ষণ করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে আমদানি-রপ্তানি দু’দিকেই লাভের সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৮ এম


ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে আমদানি-রপ্তানি দু’দিকেই লাভের সম্ভাবনা

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সম্মাননীয় ফেলো, সিপিডি বলছেন, ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি করলেও লাভ এবং রপ্তানি করলেও লাভ। তাই ভারতীয় বাণিজ্যের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখা উচিত।

গতকাল বিকালে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে সেলফোনে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেন। বিগত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশের জন্য ভারতের রপ্তানি ১৬ বিলিয়ন ডলার থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বিভিন্ন বাধার মুখে পড়েছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিনে এসব বিষয়ে সিপিডির সম্মাননীয় এই ফেলো বলেন, ২০২১ সালের দিকে বিভিন্ন কারণে আমদানী পণ্যের দাম বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আমদানি ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ওই সময় ভারত যে ১৬ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য করেছে বাংলাদেশে, তা মূলত ‘প্রাইস ইফেক্ট’ এর জন্য। এই ‘প্রাইস ইফেক্ট’ বাদ দিলে বাংলাদেশে ভারতের বাণিজ্য কম হওয়ার পেছনে অন্য কিছু কারণ রয়েছে, এর মধ্যে ইম্পোর্ট ডাইভারসিফিকেশনের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। অর্থাৎ, বাংলাদেশ অন্য জায়গা থেকে আমদানি করছে।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান উল্লেখ করেন, ভালোবেসে তো কেউ আমদানি করে না। প্রতিযোগিতার বিচারে বেসরকারি খাত পণ্য আমদানির উৎস বেছে নেয়। ভারত সময় সময় বিভিন্ন পণ্যে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কখনো চাল, কখনো পিঁয়াজে। বাংলাদেশ ওইসব পণ্যের চাহিদা মেটাতে বিকল্প গন্তব্য থেকে আমদানির পথ বেছে নিয়েছে। আবার (ভারত থেকে) স্থলপথে সুতা আমদানিও বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ।

এসব কারণে ভারতের রপ্তানি বাণিজ্য কিছুটা সক্ষমতা হারিয়েছে। অন্যদিকে ভারতও স্থলপথে কিছু পণ্য আমদানির পথ বন্ধ রেখেছে। এই কারণে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য হ্রাস পেয়েছে।

রাজনৈতিক সংকটের কারণে বাণিজ্যে স্থবিরতার বিষয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক বলেন, ভারত থেকে আমদানি করে বেসরকারি খাত এবং রপ্তানি করে বেসরকারি খাত। দেশটি থেকে যদি প্রতিযোগিতামূলক দরে শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করা যায়, তবে রপ্তানি খাতে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে পারব। ভারত থেকে আমদানির ফলশ্রুতিতে ভোক্তা কল্যাণ বৃদ্ধি পায় এবং আমদানি প্রতিস্থাপন ও রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা শক্তিশালী হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের আমদানি বাড়লে ভারতেরও বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়। এখন দুই পক্ষের মধ্যে এই লাভজনক বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে হলে উভয় পক্ষকেই এগোতে হবে। কিছু নন-ট্যারিফ বাধা রয়েছে, সেগুলো দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য যত বেশি উন্মুক্তভাবে করতে পারি, ততই লাভের।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের আলোচনা চার বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। যৌথ বাণিজ্য কমিশনের বৈঠকও হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে বাণিজ্যের গতি আনতে কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এত কিছুর পরও ভারত বাংলাদেশকে শূন্য শুল্ক সুবিধা (জিরো ট্যারিফ) দিচ্ছে ২০১১ সাল থেকে। এতে বাংলাদেশ সুফল পেয়েছে। ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে ৪০ বছর লেগেছিল। জিরো ট্যারিফ সুবিধার কারণে ২০১৭ সালে ১ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য পরবর্তী ৫ বছরে, ২০২২ সালে সেটি দ্বিগুণ বেড়ে ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই সুবিধা কীভাবে আরও কাজে লাগানো যায়, সে দিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত। এর পাশাপাশি আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের এলডিসি সুবিধা নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যে ভোটাভুটি হবে, সেখানে ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশ ভোট দেবে। আমাদের প্রয়োজনেই এই দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। ভারতে আমরা যে শূন্য শুল্ক পাচ্ছি সেই সুবিধা আরও সম্প্রসারণ করতে অর্থাৎ এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তীতে শূন্যমূল্য সুবিধা সম্প্রসারণের আলোচনা ভারতের সঙ্গে শুরু করতে পারি। যেমনটি আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও চীনের সঙ্গে করেছি। মর্যাদার ভিত্তিতে, উইন-উইন সিচুয়েশন থেকে ভারতের সঙ্গে আলোচনা মাধ্যমে যদি আমরা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়ে যাওয়ার পথ তৈরি করতে পারি, সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক করতে পারি, সেটাও আমাদের বাণিজ্যের জন্য লাভজনক হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%