সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৫৭ এম
ঢাকার বাসিন্দারা বিভিন্ন প্রয়োজনে দোকানপাট ও মার্কেটের উদ্দেশ্যে বের হন। কিন্তু যদি তারা তীব্র যানজটের পর গিয়ে দেখেন যে সব দোকানপাট বন্ধ, তাহলে তাদের প্রচেষ্টা বিফলে যাবে। তাই সোমবার রাজধানীর কোন কোন এলাকায় দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকবে, তা জানা প্রয়োজন।
যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ
আগারগাঁও, তালতলা, শেরেবাংলানগর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, পল্লবী, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, মিরপুর-১৩, মিরপুর-১৪, ইব্রাহীমপুর, কচুক্ষেত, কাফরুল, মহাখালী, নিউ ডিওএইচএস, ওল্ড ডিওএইচএস, কাকলী, তেজগাঁও ওল্ড এয়ারপোর্ট এরিয়া, তেজগাঁও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া, ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান-১, ২, বনানী, মহাখালী কমার্শিয়াল এরিয়া, নাখালপাড়া, মহাখালী ইন্টারসিটি বাস টার্মিনাল এরিয়া, রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁও, গোড়ান, মালিবাগের একাংশ, বাসাবো, ধলপুর, সায়েদাবাদ, মাদারটেক, মুগদা, কমলাপুরের একাংশ, যাত্রাবাড়ীর একাংশ, শনির আখড়া, দনিয়া, রায়েরবাগ ও সানারপাড়।
অর্ধদিবস বন্ধ যেসব মার্কেট
পল্লবী সুপার মার্কেট, মিরপুর বেনারসি পল্লী, ইব্রাহীমপুর বাজার, ইউএই মৈত্রী কমপ্লেক্স, বনানী সুপার মার্কেট, ডিসিসি মার্কেট গুলশান-১ এবং ২, গুলশান পিংক সিটি, মোল্লা টাওয়ার, আল-আমিন সুপার মার্কেট, রামপুরা সুপার মার্কেট, মালিবাগ সুপার মার্কেট, তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেট, কমলাপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, গোরান বাজার, আবেদিন টাওয়ার, ঢাকা শপিং সেন্টার, আয়েশা মোশারফ শপিং কমপ্লেক্স ও মিতালী অ্যান্ড ফ্রেন্ড সুপার মার্কেট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু করতে যাচ্ছে আন্ত নগর ট্রেন মহানগর এক্সপ্রেস। নতুন রুটে চলাচল শুরু হবে সোমবার (২৬ অক্টোবর) থেকে। একই সঙ্গে কার্যকর হবে ট্রেনটির নতুন সময়সূচি। এর ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের মধ্যবর্তী বিভিন্ন স্টেশনের যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে মহানগর এক্সপ্রেসের প্রথম যাত্রার উদ্বোধন করবেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে। ট্রেনটি রাত ৩টায় চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। এরপর রাত ৩টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।
ফিরতি পথে, কক্সবাজার থেকে ট্রেনটি সকাল ৮টায় ছেড়ে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। এরপর ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
মহানগর এক্সপ্রেসের রুট কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের ফলে ঢাকা বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও ফেনী স্টেশনের যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।
এতদিন ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস বিরতিহীন হওয়ায় এসব স্টেশনের যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাওয়ার সুবিধা পেতেন না। মহানগর এক্সপ্রেসের নতুন রুট চালু হলে মধ্যবর্তী স্টেশনগুলোর যাত্রীদের ভ্রমণ আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে কক্সবাজারগামী পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি রেলওয়ের আয়ও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেসে থাকবে ১৬টি কোচ। ট্রেনটিতে আসনসংখ্যা হবে ৭০৬ থেকে ৭৩৬টি। প্রতি সপ্তাহের রবিবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে। নতুন রুটে ট্রেন চলাচল শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে সূত্র। গত ১৬ অক্টোবর থেকে এই রুটের টিকিট বিক্রিও শুরু হয়েছে।
নতুন এই পরিষেবা চালু হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী বিভিন্ন এলাকার যাত্রীদের জন্য কক্সবাজার যাতায়াত আরো সহজ ও সুবিধাজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালেবান প্রশাসন আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক অভিযোগের প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। আফগান সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ভিত্তিহীন ও অমূলক অভিযোগ না করে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করা।
এএনআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তালেবান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল কাহার বালখি সাম্প্রতিক সীমান্ত সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ২০২২ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সীমান্ত সংক্রান্ত সহিংসতা ও হামলায় ১১০০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু।
পাকিস্তানকে কূটনৈতিক ও গঠনমূলক পথ বেছে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলখি বলেন, অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর পরিবর্তে নিজেদের জনগণের কল্যাণে এবং প্রকৃত কূটনীতির মাধ্যমে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা উচিত।
এর আগে, আফগান ভূমি থেকে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ওই মন্তব্যের কঠোর জবাব দিয়ে আফগান সরকারের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে জানান, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ও সংকট ঢাকতেই আফগানিস্তানের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি মন্তব্য ও সীমান্ত সংঘর্ষ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্ব এবং চলমান কূটনৈতিক সংকটকে আরো স্পষ্ট করে তুলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্য আফ্রিকার দেশ গ্যাবন আট মাস পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশটির উচ্চ যোগাযোগ কর্তৃপক্ষ (এইচএসি) এক টেলিভিশন বিবৃতির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি অনলাইন কনটেন্টের মাধ্যমে সংঘাত ও বিভাজন ছড়ানোর অভিযোগে ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব এবং ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যমগুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
প্রায় ২৫ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে তরুণদের জন্য সামাজিক মাধ্যমগুলো ব্যবসা ও বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। হঠাৎ করে এই নিষেধাজ্ঞা আসায় তা জনজীবনে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। তবে নিষেধাজ্ঞার সময় সাধারণ মানুষ বিকল্প হিসেবে ভিপিএন ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবেশ অব্যাহত রেখেছিল।
শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীদের কম বেতন এবং নিম্নমানের কর্মপরিবেশের বিরুদ্ধে চলমান ধর্মঘট নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। সেই সময় বিরোধীরা সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে এই পদক্ষেপকে আখ্যায়িত করেছিল।
উল্লেখ্য, তেল ও কাঠে সমৃদ্ধ এই দেশটিতে পূর্ববর্তী সরকারগুলোও তথ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট বা নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পবিত্র কোরআন ও হাদিসে একটি বিশেষ দিনের উল্লেখ করা হয়েছে, যেদিন প্রত্যেক মানুষের সকল কর্মের হিসাব নেওয়া হবে। এই দিনটি হবে অত্যন্ত কঠিন। সেদিন প্রতিটি কাজ, কথা ও দৃষ্টির হিসাব দিতে হবে। প্রত্যেক মানুষকে তাদের আমলনামা হাতে নিয়ে মহান রবের সামনে দাঁড়াতে হবে। এই চিন্তা মুমিনের অন্তরে ভয়ের সৃষ্টি করে। কারণ সেদিন প্রত্যেকে ভীত থাকবে এবং কেউ কাউকে সাহায্য করার মতো অবস্থায় থাকবে না।
কিন্তু সেই কঠিন দিনেও মহান আল্লাহর কিছু বান্দার জন্য রহমতের দরজা খোলা থাকবে। কারণ মহান আল্লাহ সেদিন তাঁর কিছু বান্দার হিসাব সহজ করে দেবেন। ইসলামের পরিভাষায় একে বলা হয় ‘হিসাবে ইয়াসির’, যার অর্থ সহজ হিসাব। ‘হিসাবে ইয়াসির’ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো—পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে, অত্যন্ত সহজভাবেই তার হিসাব-নিকাশ করা হবে।’ (সুরা ইনশিকাক, আয়াত : ৭-৮)
এই আয়াতে আরবিতে ‘হিসাবাই ইয়াসিরা’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ হলো, সহজ হিসাব। কিয়ামতের দিন যাদের হিসাব সহজ হবে, তারা কতই না ভাগ্যবান। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন যার হিসাব নেওয়া হবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে। [আয়েশা (রা.) বলেন] আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহ কি বলেননি, ‘অতঃপর যার আমলনামা তার ডান হাতে দেওয়া হবে তার হিসাব সহজভাবেই নেওয়া হবে’। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তা কেবল পেশ করা মাত্র। কিয়ামতের দিন যার হিসাব খতিয়ে দেখা হবে তাকে অবশ্যই আজাব দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৫৩৭)
সুবহানাল্লাহ! সুতরাং কঠিন কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর রহমত পেতে হলে নেক গুরুত্বসহকারে নেক-আমল করতে হবে। আল্লাহ সব মাফ করে দেবেন বলে পাপে নিমজ্জিত হয়ে থাকার সুযোগ নেই। কারণ সেদিন ‘হিসাবে ইয়াসিরের’ ভাগ্য অর্জন করতে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে, যা অন্য আয়াত দ্বারা স্পষ্ট হয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘তবে যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে। পরিণামে আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পূণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত : ৭০)
হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমার উম্মতের সত্তর হাজার লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ লোকেরা জিজ্ঞেস করল, তারা কারা, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)? তিনি বললেন, যারা ক্ষতস্থানে লোহা পুড়ে লাগায় না এবং (জাহিলী যুগের ন্যায়) ঝাড়ফুঁক বা মন্ত্রের দ্বারা চিকিৎসা কামনা করে না; বরং তারা আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল করে। (মুসলিম, হাদিস : ৪১২)
এ জন্য সব বিষয়ে আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল করা ও সব কুসংস্কার থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা মুমিনের কর্তব্য। মহান আল্লাহর রহমতের আশাও রাখতে হবে। কারণ কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাঁর কিছু বান্দাকে খুব সহজে পার করে দেবেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ মুমিন ব্যক্তিকে নিজের কাছে নিয়ে আসবেন এবং তার ওপর স্বীয় আবরণ দ্বারা তাকে ঢেকে নেবেন। তারপর বলবেন, অমুক পাপের কথা কি তুমি জান? তখন সে বলবে, হ্যাঁ, হে আমার রব! এভাবে তিনি তার কাছ হতে তার পাপগুলো স্বীকার করিয়ে নেবেন। আর সে মনে করবে যে তার ধ্বংস অনিবার্য। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, ‘আমি পৃথিবীতে তোমার পাপ গোপন রেখেছিলাম। আর আজ আমি তা মাফ করে দেব।’
তারপর তার নেক আমলনামা তাকে দেওয়া হবে। কিন্তু কাফির ও মুনাফিকদের সম্পর্কে সাক্ষীরা বলবে, এরাই তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিল। সাবধান, জালিমদের ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত। (বুখারি, হাদিস : ২৪৪১)
তাহলে কুফর ও শিরক থেকে নিজেদের দূরে রাখতে হবে। গুনাহ ছাড়তে হবে। গুনাহ হয়ে গেলে গোপনে মহান আল্লাহর কাছে তাওবা করে নিতে হবে। দম্ভভরে নিজের ও অন্যের গুনাহ প্রকাশ করে বেড়ানোও আরেকটি গুনাহ। আর তা গোপন রাখা আল্লাহর ক্ষমা লাভের একটি বড় উপায় হতে পারে।
হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে আমার সয উম্মতকে মাফ করা হবে, তবে প্রকাশকারী ব্যতীত। আর নিশ্চয় এ বড়ই অন্যায় যে কোনো লোক রাতের বেলা অপরাধ করল যা আল্লাহ গোপন রাখলেন। কিন্তু সে সকাল হলে বলে বেড়াতে লাগল, হে অমুক, আমি আজ রাতে এই এই কাজ করেছি। অথচ সে এমন অবস্থায় রাত কাটাল যে আল্লাহ তার কর্ম লুকিয়ে রেখেছিলেন, আর সে ভোরে উঠে তার ওপর আল্লাহর দেওয়া আবরণ খুলে ফেলল। (বুখারি, হাদিস : ৬০৬৯)
অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে লোক কোনো ঈমানদারের দুনিয়া থেকে কোনো মুসিবত দূর করে দেবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার থেকে মুসিবত সরিয়ে দেবেন। যে লোক কোনো দুস্থ লোকের অভাব দূর করবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দুরবস্থা দূর করবেন। যে লোক কোনো মুসলিমের দোষত্রুটি লুকিয়ে রাখবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষত্রুটি লুকিয়ে রাখবেন। বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সহযোগিতায় আত্মনিয়োগ করে, আল্লাহ ততক্ষণ তার সহযোগিতা করতে থাকেন। (মুসলিম, হাদিস : ৬৭৪৬)
সুতরাং গুনাহ হয়ে গেলে তার জন্য আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হতে হবে এবং তা গোপন রাখতে হবে। পাশাপাশি ঈমানের ওপর অটল থাকতে হবে। কারণ কিয়ামতের দিন কলেমার পাল্লা এত ভারি হবে যে তার সামনে পাহাড়সম গুনাহও হালকা হয়ে যাবে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৬৩৯)
এ ছাড়া বান্দার হকের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ মহান আল্লাহ বান্দার হক মাফ করবেন না। মহান আল্লাহ আমাদের সবার হিসাবকে সহজ করুন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ