ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আলভারেজের গোলে ১০ জনের আতলেতিকোর মূল্যবান ড্র


আলভারেজের গোলে ১০ জনের আতলেতিকোর মূল্যবান ড্র

মৌসুমের প্রথম গোলের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া দলকে পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেন হুলিয়ান আলভারেজ। ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের গোলের ফলে জার্মান ক্লাব স্টুটগার্টের মাঠ থেকে ড্র নিয়ে ফিরেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

গ্রীষ্মকালীন দলবদলের সময় বার্সেলোনা আলভারেজকে দলে ভিড়ানোর চেষ্টা করেছিল। তবে আতলেতিকো তাদের লা লিগার প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে তাকে বিক্রি করতে রাজি হয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাত্র ৮০ সেকেন্ডের মাথায় সমতাসূচক গোলটি করেন আলভারেজ। বিরতির সময় বদলি হিসেবে নামা আদেমোলা লুকম্যান বক্সের ভেতরে মার্কবিহীন অবস্থায় থাকা আলভারেজকে বল বাড়িয়ে দেন, আর তিনি দুর্দান্ত শটে জালে বল পাঠান।

আরও পড়ুন: এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের পাওয়ার প্লেতে স্কলার্সের ৮৫ রান

এরপর ৬৪তম মিনিটে আতলেতিকোর মিডফিল্ডার মোর্তেন হিউলমান্দ অ্যাঞ্জেলো স্টিলারের ওপর বেপরোয়া ট্যাকলের জন্য লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। তবে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও স্প্যানিশ ক্লাবটি লড়াকু মানসিকতা ধরে রেখে মূল্যবান একটি পয়েন্ট ধরে রাখে।

পিএসজির বিপক্ষে হারের হ্যাটট্রিক বার্সার

ফোডেনের হ্যাটট্রিকে সিটির গোল উৎসব

সাত গোলের রোমাঞ্চ জিতল লিভারপুল

আরও পড়ুন: মেসিকে পেছনে ফেলে সর্বকালের সেরা ব্যালন ডি’অর ভোটে এগিয়ে রোনালদো

ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে স্টুটগার্ট ছড়ি ঘোরায়। ৩৬তম মিনিটে তারা লিড নিতে সক্ষম হয়। জেমি লেভেলিং বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে গোল করে বুন্দেসলিগার দলটিকে এগিয়ে নেন।

তবে প্রথমার্ধে তৈরি করা আরও কয়েকটি সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার জন্য স্টুটগার্টকে আফসোস করতে হয়।

গোলের পর আতলেতিকো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু হিউলমান্দের লাল কার্ড তাদের শেষ ২৬ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য করে।

সেই সুযোগে স্টুটগার্ট আক্রমণের চাপ বাড়ায়। তবুও তারা জয়সূচক গোল খুঁজে পায়নি। ম্যাচের সেরা সুযোগটি আসে ম্যাক্সিমিলিয়ান মিটেলস্টাড্টের কর্নার থেকে, কিন্তু ডিফেন্ডার জেফ শাবোর হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি।

আরও পড়ুন: সম্পর্কে নতুন মোড়: ভার্জিনিয়া ফনসেকা ভিনিকে ছেড়ে স্বামীর কাছে ফিরলেন

আসরে তিন ম্যাচে একটি করে জয়, হার ও ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১৫ নম্বরে আতলেতিকো। সমান ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে তিনে স্টুটগার্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের যেসব এলাকায় গ্যাস ৩ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫২ এম


ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের যেসব এলাকায় গ্যাস ৩ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে

আজ বুধবার ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের কিছু অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকবে, যা ডেমরা ডিআরএসের আউটলেট ভালভ প্রতিস্থাপন কাজের জন্য করা হচ্ছে। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই সমস্যার সম্মুখীন হবে সব শ্রেণির গ্রাহক। এই তথ্য তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিতাস কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডেমরা ডিআরএসের আউটলেট ভালভ প্রতিস্থাপন কাজের জন্য বুধবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে বেঙ্গল গ্লাস, শুকরশী, শিমরাইল এবং শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিমাংশের সান্দিরা বালুঘাট থেকে কাঁচপুর সেতুর পশ্চিম পাশের এলাকায়।

এ কারণে এসব এলাকায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও অন্যান্য শ্রেণির গ্রাহকরা সাময়িকভাবে গ্যাসের অভাবে ভুগতে পারেন। সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস কর্তৃপক্ষ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গৌরনদীতে একই মাঠে মসজিদ-মন্দির, ৫৪ বছর ধরে সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৩ এম


গৌরনদীতে একই মাঠে মসজিদ-মন্দির, ৫৪ বছর ধরে সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত

শারদীয় দুর্গাপূজা হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। বরিশাল জেলার ৫৯০টি পূজা মণ্ডপে এ বছরও শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে বরিশালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যা সারাদেশের মতোই।

তবে, একই মাঠে মসজিদ ও মন্দিরের অবস্থান শারদীয় দুর্গোৎসবে সম্প্রীতির এক অনন্য বন্ধন প্রকাশ করছে। একপাশে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করছেন, অন্যপাশে পূজারিরা পূজা অর্চনা করছেন। এই প্রার্থনার সুরে মানবতা ও সম্প্রীতির বার্তা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পৌঁছে দিচ্ছে।

বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আধুনা গ্রামে অবস্থিত শেনেরহাট বাজার জামে মসজিদ ও সার্বজনীন দুর্গা মন্দির দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, একই মাঠের ১০ ফুট দূরত্বে মসজিদ ও মন্দিরের অবস্থান। প্রতিবছরের মতো এবারও জাঁকজমকপূর্ণভাবে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে ওই স্থানে। এই এলাকায় দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। বরং স্থানীয় মুসলিম নর-নারীরা প্রতিবেশীদের পূজা উদযাপনে সহযোগিতা করে থাকেন।

স্থানীয় প্রবীণদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৫৪ বছর ধরে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রেখে চলেছে। দুর্গাপূজার সময় মন্দির থেকে ভেসে আসে ঢাকঢোল, উলু ও শঙ্খধ্বনি। রাতভর চলে আরতি ও পূজা অর্চনা। তবে, মসজিদে আজান শুরু হলে নীরবতা বজায় রাখেন পূজারি ও ভক্তরা।

নামাজ শেষ হলে শুরু হয় আরতি

মন্দিরের পূজারি স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, "মসজিদে আজান শুরু হলেই আমরা পুরো অনুষ্ঠানের বিরতি দেই। নামাজ শেষে আবার আমাদের কার্যক্রম শুরু করি। আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এখানে কেউ কারও জন্য বিরক্তির কারণ হননি কখনোই। বরং দুই ধর্মের অনুসারীরা আগলে রেখেছেন তাদের এই পবিত্র উপাসনালয়।"

স্থানীয় সমাজসেবক মাকসুদ মৃধা বলেন, "এখানে সবাই মিলেমিশে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করছেন। আমাদের পূর্বপুরুষেরাও এমনটিই করেছেন। ছোটোবেলা থেকেই আমরা পূজা দেখতে মণ্ডপে যাই। আবার ঈদে আমাদের অনুষ্ঠানে আসেন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিবেশীরা।"

মন্দির কমিটির সভাপতি শংকর চন্দ্র দাস জানান, "১৯৭২ সালে আধুনা শেনের বাড়িতে সার্বজনীন দুর্গা মন্দির স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে একই মাঠে আধুনা জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মন্দিরের মাত্র দশ ফুট দূরত্বে অবস্থিত জামে মসজিদে ইসলাম ধর্মের মানুষ তাদের ধর্ম পালন করে আসছেন। আমরা মন্দিরে আমাদের ধর্ম পালন করে আসছি। মসজিদ ও মন্দির পাশাপাশি হলেও আমাদের কোনো সমস্যা হয় না।"

তিনি আরও বলেন, "৫৪ বছর ধরে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ এভাবেই ধরে রেখেছে তাদের সম্প্রীতির বন্ধন। এই বন্ধন স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য গড়ে তুলেছে।"

আধুনা শেন জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা কামরুল ইসলাম বলেন, "এখানে ধর্ম নিয়ে কারও মধ্যে কোনো বাড়াবাড়ি নেই। মসজিদে আজান হলেই হিন্দু ভাইয়েরা ঢাক-ঢোলের আওয়াজ বন্ধ রাখেন।"

আজান ও নামাজ শেষ হলেই আবার তাদের কার্যক্রম শুরু করেন। বছরের পর বছর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে এখানে যে যার ধর্ম পালন করেন। কেউ কারও প্রতি বিন্দুমাত্র বিরক্তির কারণ হননি কখনও।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, "উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আধুনা গ্রামের একইস্থানে মসজিদ ও মন্দির দীর্ঘ বছর ধরে ওই এলাকায় সম্প্রীতির আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। যা এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ।"

তিনি বলেন, "আমরা এ রকম সমাজ ব্যবস্থাই চাই, যেখানে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করবে।" সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩৬৭ দিন ধরে চলা তাপঝড়ের প্রভাব পড়েছে পৃথিবীর ৮৫ শতাংশ এলাকায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৩ এম


৩৬৭ দিন ধরে চলা তাপঝড়ের প্রভাব পড়েছে পৃথিবীর ৮৫ শতাংশ এলাকায়

বিশ্বজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের বিস্তার ও স্থায়িত্ব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একসময় স্বল্পস্থায়ী ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা দেওয়া তাপপ্রবাহ এখন বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে, কখনো কখনো মাসের পর মাস স্থায়ী হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মতে, এমন বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহকে ‘তাপঝড়’ বা ‘হিট স্টর্ম’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্থায়ী একটি রেকর্ড গড়া তাপঝড় পৃথিবীর প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকায় প্রভাব ফেলেছে।

রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৬০-এর দশকে বছরে গড়ে প্রায় পাঁচটি তাপঝড় সক্রিয় থাকলেও চলতি দশকে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০২টিতে। গত ছয় দশকের তাপমাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ পরিবর্তন শনাক্ত করেছে সংস্থাটি।

কী এই তাপঝড়?

রয়টার্সের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো স্থানে টানা পাঁচ দিন বা তার বেশি সময় অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করলে তাকে তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর যদি এমন তাপপ্রবাহ পৃথিবীর মোট আয়তনের অন্তত এক শতাংশ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, তবে তাকে ‘তাপঝড়’ বলা হয়।

বিশ্বের ১০ লাখের বেশি ভৌগোলিক এলাকার ১৯৬০ সাল থেকে প্রতিদিনের তাপমাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করেছে রয়টার্স। এ গবেষণায় দুই ডজন আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু গবেষকের মতামতও নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৬০-এর দশকে সবচেয়ে বড় তাপপ্রবাহটি প্রায় ৪৬ দিন স্থায়ী হয়েছিল। আটলান্টিক মহাসাগর, লাতিন আমেরিকার কিছু অংশ ও পশ্চিম আফ্রিকাজুড়ে বিস্তৃত ওই তাপপ্রবাহ পৃথিবীর প্রায় ছয় শতাংশ এলাকায় প্রভাব ফেলেছিল।

অন্যদিকে, চলতি দশকের সবচেয়ে বড় তাপঝড়টি ৩৬৭ দিন স্থায়ী হয়ে পৃথিবীর প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকায় কোনো না কোনো সময়ে প্রভাবিত করে। এই পরিস্থিতিতে তাপপ্রবাহের বিস্তার ও স্থায়িত্ব উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

তাপঝড়ের ভয়াবহ প্রভাব

তাপঝড়ের প্রভাব শুধুমাত্র অসহনীয় গরমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘস্থায়ী তাপমাত্রা বৃদ্ধি মাটির আর্দ্রতা কমিয়ে খরা তীব্র করতে পারে, দাবানলের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং কৃষি উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। একই সঙ্গে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য তাপজনিত অসুস্থতায় প্রাণহানির আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।

২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্থায়ী তাপঝড়ের সময় সৌদি আরবের মক্কায় হজ চলাকালে তাপমাত্রা ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। ওই সময় ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় দীর্ঘস্থায়ী খরা ও দাবানল পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

এছাড়া ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে লিবিয়ার দেরনা শহরে বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। তবে এসব দুর্যোগের প্রতিটির সঙ্গে তাপঝড়ের সরাসরি কারণগত সম্পর্ক আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

জলবায়ু পরিবর্তন কতটা দায়ী?

রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৬০-এর দশক থেকে চলতি দশক পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে তাপপ্রবাহ ও তাপঝড়ে আক্রান্ত পৃথিবীর গড় অংশ বেড়েছে ১২ গুণেরও বেশি।

জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো এবং অন্যান্য মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের ফলে গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ছে এবং অনেক অঞ্চলে চরম তাপপ্রবাহের ঝুঁকি তীব্র হচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানির পর্যায়ক্রমিক ঘটনা এল নিনোও নির্দিষ্ট সময়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

নিউজিল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলিংটনের অধ্যাপক জেমস রেনউইকের মতে, তাপঝড় বৈশ্বিক সভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ তাপ। দীর্ঘস্থায়ী চরম গরমের ফলে খাদ্যসংকট, দুর্ভিক্ষ, প্রাণহানি এবং সীমিত সম্পদ নিয়ে সংঘাতের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে?

জলবায়ু পরিবর্তনের গতি কমানো না গেলে দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তৃত তাপপ্রবাহের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহর, দরিদ্র জনগোষ্ঠী, কৃষিনির্ভর অঞ্চল এবং যেসব এলাকায় পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও শীতল থাকার ব্যবস্থা নেই, সেসব জায়গায় এর প্রভাব বেশি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার, পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ নিশ্চিত, কর্মক্ষেত্রে গরম থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা এবং তাপসহনশীল নগর পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। কারণ, তাপঝড় কেবল আবহাওয়াগত ঘটনা নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা, অর্থনীতি ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও ক্রমবর্ধমান হুমকি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যেসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করবে না ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৪ এম


যেসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করবে না ইরান

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার জন্য ওয়াশিংটনকে আস্থা পুনর্গঠনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সামাজিক মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এই বক্তব্য দেন। এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত মাসে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত পাঠিয়েছিল তেহরান। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড় দেওয়া এবং দেশটির ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা। রেজাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রতিক্রিয়াকে অপর্যাপ্ত বলে উল্লেখ করেছেন।

মঙ্গলবার তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও ইরানের এই নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটন যদি আস্থা পুনর্গঠনের পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আলোচনা এগোবে না। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে ইরানের জনগণ ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে।

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে নেওয়ার মার্কিন দাবিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। রেজাই বলেন, "সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের এক গ্রামও ইরান থেকে সরানো হবে না।" তার মতে, এসব পারমাণবিক উপাদান ইরানের জনগণের সম্পদ এবং দেশের অভ্যন্তরেই তা ব্যবহার করা হবে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধ আলোচনা করার পথে অন্যতম প্রধান বাধা। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে, তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার অবস্থানে অনড় রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়েও নিজেদের শর্ত পূরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ইরান। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি উন্মুক্ত করার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে অবরোধ প্রত্যাহারসহ তেহরানের দাবিগুলো মেনে নিতে হবে বলে জানিয়েছে দেশটি।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু হবে কি না, তা এখন ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। তবে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য আলোচনা প্রক্রিয়ার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%