ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

৩৬৭ দিন ধরে চলা তাপঝড়ের প্রভাব পড়েছে পৃথিবীর ৮৫ শতাংশ এলাকায়


৩৬৭ দিন ধরে চলা তাপঝড়ের প্রভাব পড়েছে পৃথিবীর ৮৫ শতাংশ এলাকায়

বিশ্বজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের বিস্তার ও স্থায়িত্ব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একসময় স্বল্পস্থায়ী ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা দেওয়া তাপপ্রবাহ এখন বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে, কখনো কখনো মাসের পর মাস স্থায়ী হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মতে, এমন বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহকে ‘তাপঝড়’ বা ‘হিট স্টর্ম’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্থায়ী একটি রেকর্ড গড়া তাপঝড় পৃথিবীর প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকায় প্রভাব ফেলেছে।

রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৬০-এর দশকে বছরে গড়ে প্রায় পাঁচটি তাপঝড় সক্রিয় থাকলেও চলতি দশকে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০২টিতে। গত ছয় দশকের তাপমাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ পরিবর্তন শনাক্ত করেছে সংস্থাটি।

কী এই তাপঝড়?

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

রয়টার্সের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো স্থানে টানা পাঁচ দিন বা তার বেশি সময় অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করলে তাকে তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর যদি এমন তাপপ্রবাহ পৃথিবীর মোট আয়তনের অন্তত এক শতাংশ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, তবে তাকে ‘তাপঝড়’ বলা হয়।

বিশ্বের ১০ লাখের বেশি ভৌগোলিক এলাকার ১৯৬০ সাল থেকে প্রতিদিনের তাপমাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করেছে রয়টার্স। এ গবেষণায় দুই ডজন আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু গবেষকের মতামতও নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৬০-এর দশকে সবচেয়ে বড় তাপপ্রবাহটি প্রায় ৪৬ দিন স্থায়ী হয়েছিল। আটলান্টিক মহাসাগর, লাতিন আমেরিকার কিছু অংশ ও পশ্চিম আফ্রিকাজুড়ে বিস্তৃত ওই তাপপ্রবাহ পৃথিবীর প্রায় ছয় শতাংশ এলাকায় প্রভাব ফেলেছিল।

অন্যদিকে, চলতি দশকের সবচেয়ে বড় তাপঝড়টি ৩৬৭ দিন স্থায়ী হয়ে পৃথিবীর প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকায় কোনো না কোনো সময়ে প্রভাবিত করে। এই পরিস্থিতিতে তাপপ্রবাহের বিস্তার ও স্থায়িত্ব উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আস্থার অভাব’, বুথফেরত জরিপে মন্তব্য আইজেনকোটের

তাপঝড়ের ভয়াবহ প্রভাব

তাপঝড়ের প্রভাব শুধুমাত্র অসহনীয় গরমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘস্থায়ী তাপমাত্রা বৃদ্ধি মাটির আর্দ্রতা কমিয়ে খরা তীব্র করতে পারে, দাবানলের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং কৃষি উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। একই সঙ্গে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য তাপজনিত অসুস্থতায় প্রাণহানির আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।

২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্থায়ী তাপঝড়ের সময় সৌদি আরবের মক্কায় হজ চলাকালে তাপমাত্রা ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। ওই সময় ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় দীর্ঘস্থায়ী খরা ও দাবানল পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

এছাড়া ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে লিবিয়ার দেরনা শহরে বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। তবে এসব দুর্যোগের প্রতিটির সঙ্গে তাপঝড়ের সরাসরি কারণগত সম্পর্ক আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে

জলবায়ু পরিবর্তন কতটা দায়ী?

রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৬০-এর দশক থেকে চলতি দশক পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে তাপপ্রবাহ ও তাপঝড়ে আক্রান্ত পৃথিবীর গড় অংশ বেড়েছে ১২ গুণেরও বেশি।

জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো এবং অন্যান্য মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের ফলে গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ছে এবং অনেক অঞ্চলে চরম তাপপ্রবাহের ঝুঁকি তীব্র হচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানির পর্যায়ক্রমিক ঘটনা এল নিনোও নির্দিষ্ট সময়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

নিউজিল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলিংটনের অধ্যাপক জেমস রেনউইকের মতে, তাপঝড় বৈশ্বিক সভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ তাপ। দীর্ঘস্থায়ী চরম গরমের ফলে খাদ্যসংকট, দুর্ভিক্ষ, প্রাণহানি এবং সীমিত সম্পদ নিয়ে সংঘাতের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে।

আরও পড়ুন: সুদানে স্বর্ণের খোঁজে শ্রমিকেরা জীবন ঝুঁকিতে, খনিতে প্রাণ হারাচ্ছেন

সামনে কী অপেক্ষা করছে?

জলবায়ু পরিবর্তনের গতি কমানো না গেলে দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তৃত তাপপ্রবাহের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহর, দরিদ্র জনগোষ্ঠী, কৃষিনির্ভর অঞ্চল এবং যেসব এলাকায় পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও শীতল থাকার ব্যবস্থা নেই, সেসব জায়গায় এর প্রভাব বেশি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার, পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ নিশ্চিত, কর্মক্ষেত্রে গরম থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা এবং তাপসহনশীল নগর পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। কারণ, তাপঝড় কেবল আবহাওয়াগত ঘটনা নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা, অর্থনীতি ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও ক্রমবর্ধমান হুমকি।

আরও পড়ুন: জার্মান ভাইস মিনিস্টার ড. বারবেল কোফলারের আবুল খায়ের স্টীল মেল্টিং লিমিটেড পরিদর্শন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যেসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করবে না ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৪ এম


যেসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করবে না ইরান

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার জন্য ওয়াশিংটনকে আস্থা পুনর্গঠনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সামাজিক মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এই বক্তব্য দেন। এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত মাসে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত পাঠিয়েছিল তেহরান। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড় দেওয়া এবং দেশটির ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা। রেজাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রতিক্রিয়াকে অপর্যাপ্ত বলে উল্লেখ করেছেন।

মঙ্গলবার তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও ইরানের এই নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটন যদি আস্থা পুনর্গঠনের পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আলোচনা এগোবে না। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে ইরানের জনগণ ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে।

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে নেওয়ার মার্কিন দাবিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। রেজাই বলেন, "সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের এক গ্রামও ইরান থেকে সরানো হবে না।" তার মতে, এসব পারমাণবিক উপাদান ইরানের জনগণের সম্পদ এবং দেশের অভ্যন্তরেই তা ব্যবহার করা হবে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধ আলোচনা করার পথে অন্যতম প্রধান বাধা। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে, তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার অবস্থানে অনড় রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়েও নিজেদের শর্ত পূরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ইরান। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি উন্মুক্ত করার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে অবরোধ প্রত্যাহারসহ তেহরানের দাবিগুলো মেনে নিতে হবে বলে জানিয়েছে দেশটি।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু হবে কি না, তা এখন ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। তবে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য আলোচনা প্রক্রিয়ার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লিমোজের ঐতিহাসিক টাউন হলে আগুন, ৩৪ বছর বয়সী সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৪ এম


লিমোজের ঐতিহাসিক টাউন হলে আগুন, ৩৪ বছর বয়সী সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

ফ্রান্সের লিমোজ শহরের ১৯ শতকের ঐতিহাসিক টাউন হলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। ৩৪ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যে ভবনটিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এতে টাউন হলের ছাদ ও ঘড়ির টাওয়ারের বড় অংশ ধসে পড়ে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি উগ্র বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ফ্রান্সের জাতীয় নিরাপত্তা নজরদারি তালিকাতেও ছিলেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।

লিমোজ শহরের টাউন হলের আগুনের ঘটনা দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের সময় ঘটে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং স্কুলসহ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার মান নিয়ে অসন্তোষ থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও প্রতিবাদী গোষ্ঠী যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত জোরদার করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ঘটনাটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তদন্তে সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের সংশ্লিষ্টতাও রয়েছে। তবে ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে নতুন করে বিক্ষোভের আশঙ্কায় দেশটির বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু শনিবারের সম্ভাব্য বিক্ষোভে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্যারিস, মার্সেই, লিয়ঁসহ কয়েকটি শহরের কিছু এলাকায় রাতের কারফিউও জারি বা বহাল রাখা হয়েছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ এর আগে স্বীকার করেন, সপ্তাহান্তের সহিংসতার সময় কয়েকটি শহরে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। ওই সহিংসতায় দোকানপাট ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, অস্থিরতা শুরুর পর থেকে দেশজুড়ে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

বিক্ষোভের আয়োজকেরা আগামী শনিবার আবারও কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। এ ছাড়া ফরাসি শ্রমিক সংগঠন সিজিটি আগামী ৫ নভেম্বর বড় ধরনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানের আরাফাত মিনহাস গড়লেন ৫৫ বছরের ইতিহাসে অনন্য রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৪ এম


পাকিস্তানের আরাফাত মিনহাস গড়লেন ৫৫ বছরের ইতিহাসে অনন্য রেকর্ড

শ্রীলঙ্কার পর ইংল্যান্ডকেও গুঁড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ইংলিশদের ৮৭ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে তারা। এই ম্যাচে বিশেষভাবে নজর কাড়েন আরাফাত মিনহাস। তিনি এমন একটি রেকর্ড স্থাপন করেছেন, যা ক্রিকেটের ৫৫ বছরের ইতিহাসে আর কেউ করতে পারেনি। তরুণ অলরাউন্ডারের কল্যাণে পাকিস্তানের বড় জয় সহজ হয়ে ওঠে।

পাকিস্তান অবশ্য ইংলিশদের বিরুদ্ধে বিপদে পড়েছিল। ১৩১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসেছিল তারা। তখন সাতে ব্যাট করতে নামেন মিনহাস। তিনি ৫৮ বলে ৫৯ রান করেন। এই ইনিংসটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইনিংসটি খেলতে গিয়ে তিনি হাসান নওয়াজের সঙ্গে সঙ্গ দেন। হাসান ৭৪ বলে ৭৯ রান করে পাকিস্তানকে বড় পুঁজি এনে দেন। হাসানের বিদায়ের পর ফাহিম আশরাফের সঙ্গেও একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন মিনহাস। এর ফলে শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন দল ৩০২ রানের বিশাল স্কোর গড়ে।

মিনহাস পরবর্তীতে বল হাতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ৩০৩ রান তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড এক পর্যায়ে ১ উইকেট হারিয়ে ১২০ রানে পৌঁছে যায়। সেখান থেকে তারা আর ৯৫ রান যোগ করতেই অলআউট হয়ে যায়। এই সময় মিনহাস তার কারিশমা দেখান। তিনি একে একে ৬টি উইকেট তুলে নেন। প্রথমে উইকেটে দারুণভাবে সেট হয়ে থাকা টম ব্যান্টনকে (৫৭) আউট করেন। এরপর হ্যারি ব্রুক (৫), জর্ডন কক্স (১৮), উইল জ্যাকস (১৯), জেমি ওভারটন (১) ও আদিল রশিদ (০) কে আউট করেন।

পাকিস্তানের হয়ে এটি মিনহাসের মাত্র পঞ্চম ওয়ানডে। ২১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের ওয়ানডেতে এটি দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট। নিজের অভিষেকে ৫ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করেছিলেন, এবার ইংলিশদেরও গুঁড়িয়ে দিলেন।

এবার তিনি একটি রেকর্ডও গড়লেন। ওয়ানডে ইতিহাসের মাত্র সপ্তম খেলোয়াড় হিসেবে একই ম্যাচে ছয় উইকেট ও হাফ সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন। পূর্ণ সদস্য দেশের মধ্যে তিনি পঞ্চম। তবে তার কীর্তি বিশেষভাবে অনন্য, কারণ তার বয়স। তিনি এই রেকর্ডটি গড়লেন মাত্র ২১ বছর ২৯১ দিন বয়সে। এই তালিকায় থাকা পূর্ণ সদস্য দেশের সকল খেলোয়াড়ই এই কীর্তিটি গড়েছেন অন্তত ২৬ বছর বয়সে।

তালিকায় তার পরবর্তী অবস্থানে আছেন স্কটল্যান্ডের জশ ডেভি। তিনি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে ৫৩* রান ও ৬ উইকেট নেন। তার বয়স ছিল ২৪ বছর ১৬৪ দিন। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার ল্যান্স ক্লুজনার আছেন। তিনি শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ১৯৯৭ সালে লাহোরে ৫৪* রান ও ৬ উইকেট নেন। তখন তার বয়স ছিল ২৬ বছর ৬৩ দিন।

আয়ারল্যান্ডের পল স্টার্লিং আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে গ্রেটার নয়ডায় ৯৫ রান ও ৬ উইকেট নেন। তার বয়স ছিল ২৬ বছর ১৯৫ দিন। নিউজিল্যান্ডের স্কট স্টাইরিস ২০০২ সালে পোর্ট অব স্পেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৬৩* রান ও ৬ উইকেট নেন। তখন তার বয়স ছিল ২৬ বছর ৩৩৭ দিন।

ইংল্যান্ডের পল কলিংউড ২০১৫ সালে নটিংহামে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ১১২* রান ও ৬ উইকেট নেন। তার বয়স ছিল ২৯ বছর ২৬ দিন। সবচেয়ে বেশি বয়সে এই কীর্তিটি গড়েছেন শাহিদ আফ্রিদি। ২০১৩ সালে প্রভিডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিনি ৭৬ রান করেন ও ৭ উইকেট নেন। তখন তার বয়স ছিল ৩৩ বছর ১৩৫ দিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বগুড়ায় রেস্তোরাঁর পেছনে নিরবকে কুপিয়ে চলে যায় ১২ দুর্বৃত্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ এম


বগুড়ায় রেস্তোরাঁর পেছনে নিরবকে কুপিয়ে চলে যায় ১২ দুর্বৃত্ত

বগুড়া শহরের সেউজগাড়ী এলাকায় ২৮ বছর বয়সী নাফিউল ইসলাম নিরবকে রামদা ও চাপাতি দিয়ে গুরুতরভাবে কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে সেউজগাড়ী আমতলা এলাকার একটি রেস্তোরাঁর পেছনের গলিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, আহত নিরবের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নাফিউল ইসলাম নিরব, যিনি ফরিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে, হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়দের দ্বারা উদ্ধার হয়ে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে নিরব আমতলা এলাকার একটি রেস্তোরাঁর পেছনের গলিতে বসে ছিলেন। তখন ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা রামদা ও চাপাতি দিয়ে নিরবের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপ দেয়। হামলার পর তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে এবং আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইব্রাহীম আলী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে খবর পেয়ে। হামলার কারণ অনুসন্ধান এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%