বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:০৯ পি.এম
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠার ২০ বছর অতিক্রম করলেও শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের সমাধানে এখনও কার্যকর ও স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৯,৫০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত থাকলেও, পাঁচটি আবাসিক হলে আসন সংখ্যা মাত্র ২,৬৫০টি। ফলে, প্রায় ৭১ শতাংশ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
২০০১ সালে নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৩৩টি বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে প্রায় ৯,৫০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু আবাসিক সুবিধা সেই তুলনায় বাড়েনি। এর ফলে, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে মেস, হোস্টেল অথবা ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। এতে তাদের পড়াশোনার ব্যয়ের পাশাপাশি বাসস্থান, খাবার, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যাতায়াতের খরচও বহন করতে হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, নোবিপ্রবির পাঁচটি আবাসিক হলে মোট ২,৬৫০টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হলে ৪৩০টি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক উকিল হলে ৫১১টি, হযরত বিবি খাদিজা হলে ৪৩৫টি, নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলে ৬১০টি এবং জুলাই শহীদ স্মৃতি ছাত্রী হলে ৫২০টি আসন রয়েছে। এসব আসনের মধ্যে ডাবলিং ও ফ্রেশার্স রুমের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি হলের মধ্যে দুটি ছাত্রদের এবং তিনটি ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত। আসনসংখ্যার তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় আবাসিক হলের একটি আসন অনেক শিক্ষার্থীর কাছে যেন ‘সোনার হরিণ’। বিশেষ করে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য মেস বা ভাড়া বাসার অতিরিক্ত খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
নবীন শিক্ষার্থীদের ওপর আবাসন সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে। ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট শূন্য আসনে অনূন্য ৫% আসন সংরক্ষিত থাকলেও, তা সহনীয় মাত্রা নয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম বর্ষ থেকেই হলের আসনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। আবাসন ব্যয়ের চাপ সামলাতে গিয়ে তাদের পড়াশোনার ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
আইন বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী তাজভীর আহমেদ বলেন, “বগুড়া থেকে নোয়াখালীতে পড়াশোনা করতে এসেছি আমি। আমাদের মতো দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসের আবাসিক হল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। হলে সিট না পাওয়ায় আমার মাইজদীতে থাকতে হচ্ছে, ফলে অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় হচ্ছে, এক প্রকার হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি। একজন স্টুডেন্ট হিসেবে আমি লেখাপড়ায় করব নাকি এগুলো নিয়ে টেনশন করব!”
বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়ারিয়া বিনতে দেলোয়ার বলেন, “শিক্ষার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে সুদূর ময়মনসিংহ থেকে নোয়াখালীতে আসা। বিশ্ববিদালয়ে পড়াশোনা করার পাশাপাশি থাকার বিষয়টিও একজন শিক্ষার্থীর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত হল না থাকায় বাধ্য হয়ে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দূরে মেসে থাকতে হচ্ছে যার জন্য বাসা ভাড়া, খাওয়া-দাওয়া, যাতায়াতের খরচ মিলিয়ে পরিবারের ওপর চাপ পড়ে। এর পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতা, যাতায়াত সমস্যা, বাসে ভিড় এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে হয়রানি ইত্যাদি পরিস্থিতির জন্য পড়াশোনায় ব্যাহত ও বিলম্ব সৃষ্টি হয়।”
আবাসিক সমস্যা সমাধানের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “নোবিপ্রবিতে আবাসিক হলের সংকট রয়েছে। এ সংকট নিরসনে নতুন হল নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ছেলেদের জন্য দুটি এবং মেয়েদের জন্য দুটি মোট চারটি আবাসিক হল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট নির্মাণের জন্যও একটি প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে আমাদের কাজ করতে হবে। ইনশাআল্লাহ, প্রকল্পগুলো অনুমোদন করিয়ে এনে ধীরে ধীরে আবাসিকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সমস্যার সমাধান করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুই বছরের বেশি সময় পর ঢাকার নবাবগঞ্জে অটোরিকশাচালক রাহুল হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় পিবিআই উত্তরাস্থ ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ, পিপিএম এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন।
পিবিআই জানায়, ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি নবাবগঞ্জের চক সিংহড়া এলাকায় অটোরিকশাচালক মো. রাহুল (১৯) নিখোঁজ হন। তিনি ওই এলাকার একটি ওয়ার্কশপে বসবাস করতেন। নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং ভাড়ায় চালিত অটোরিকশাটিও পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে ওয়ার্কশপের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে একটি ঘাসের জমির আইলের ঝোপ থেকে রাহুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মো. আঃ রহমান বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্তভার পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে পিবিআই ঢাকা জেলার ওপর ন্যস্ত হয়। পিবিআইয়ের তদন্ত দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে মো. সমেজ (৩২) ও মো. সবুজ মিয়া (২৮)কে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খবির ওরফে গোবিন্দ (২৮), মো. হাবিব ওরফে সজল (৩৬) এবং মো. লালন মোড়া (৪০)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, গ্রেপ্তার আসামিরা রাহুলের পূর্বপরিচিত ছিলেন। ইয়াবা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে রাহুলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পাশাপাশি তাঁর অটোরিকশাটি ছিনতাই করে বিক্রি করার পরিকল্পনাও ছিল বলে পিবিআই জানিয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে রাহুলকে অটোরিকশাসহ নবাবগঞ্জের একটি খোলা মাঠে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েকজন আসামি আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে রাহুলকে ইয়াবা সেবন করানোর পর তাঁর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে অটোরিকশার ব্যাটারি দিয়ে আঘাত এবং শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
হত্যার পর মরদেহটি অটোরিকশায় করে একটি গ্যারেজে নেওয়া হয় এবং সেখানে দুই দিন রাখা হয়। পরে রাতের আঁধারে মরদেহটি ওয়ার্কশপের পাশে ফেলে রাখা হয়। সেখান থেকেই পরবর্তীতে রাহুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পিবিআই আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর রাহুলের অটোরিকশাটি বিক্রি করে পাওয়া টাকা আসামিরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়।
গ্রেপ্তার আসামি মো. সবুজ মিয়া ও মো. লালন মোড়া আদালতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। পিবিআই ঢাকা জেলা জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে। তাদেরকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু সই করা নোটিশে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
শোকজপ্রাপ্ত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান এবং মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাত।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির দ্বিতীয় তলায় সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবিরের কক্ষে প্রবেশ করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এ সময় সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান, নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির, মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাত এবং জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক নয়নসহ আরও পাঁচ থেকে ছয়জন তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।
নোটিশে দাবি করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সাখাওয়াত হোসেন খানকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন। যখন তাদের এই আচরণের কারণ জানতে চাওয়া হয়, তখন তারা মারমুখী হয়ে ওঠেন।
এছাড়া ঘটনার দিন অনলাইন গণমাধ্যমে অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান দাবি করেন যে, তারা সাখাওয়াত হোসেন খানকে দুই ঘণ্টা আটকে রেখেছিলেন এবং পরে ক্ষমা চেয়ে চলে যান। নোটিশে আনোয়ার প্রধানের এই বক্তব্যকে মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু অভিযুক্তদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন খানের কাছে ক্ষমা চাইতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সেই আহ্বানে সাড়া দেননি। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকা, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করা এবং দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগও আনা হয়েছে।
নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে যে, গত ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর তার দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা হয়। এমনকি তার সরকারি চেম্বার প্রায় দেড় মাস ধরে তালাবদ্ধ রাখা এবং তাকে ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
শোকজপ্রাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান বলেন, "আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে শোকজ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আমাকে অফিশিয়ালি কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি। আমি হোয়াটসঅ্যাপেই শোকজের জবাব দেব।"
মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, "অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক। তার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা যাবে না। দলের নিয়ম অনুযায়ী শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব না দিলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এল নিনো আবহাওয়াগত অবস্থা বিশ্বজুড়ে তীব্র হয়ে উঠছে। জাতিসংঘের বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থা ডব্লিউএমও সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, এর ফলে বৈশ্বিক আবহাওয়ার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার ডব্লিউএমও একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, এল নিনো ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের এল নিনো ১৯৫০ সালের পর নথিভুক্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনাগুলোর একটি হতে পারে।
এল নিনো হলো মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন ঘটে।
এনডিটিভির বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ডব্লিউএমওর মাসিক ‘গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বরে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় রেকর্ড মাত্রায় বাড়তে পারে।
জাতিসংঘের এই অঙ্গসংস্থা আরও জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। এটি পর্যবেক্ষণ শুরুর পর সর্বোচ্চ মাত্রা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেছেন, এল নিনো এরইমধ্যে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দ্রুত তীব্র হচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ।
সাধারণত এল নিনো দুই থেকে সাত বছর পরপর দেখা দেয় এবং একবার দেখা দিলে ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হতে পারে। এর বিপরীত পর্যায়কে বলা হয় লা নিনা।
ডব্লিউএমও জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে গিয়ে কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা, আবার কোথাও অতিবৃষ্টির কারণে বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। কৃষি, বাস্তুতন্ত্র, অর্থনীতি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার ওপরও এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।
এল নিনো পৃথিবীতে নতুন করে তাপ তৈরি করে না। বরং প্রশান্ত মহাসাগরে সঞ্চিত তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে তীব্র করে। বর্তমানে সমুদ্রের তাপমাত্রা ইতিমধ্যে রেকর্ড পর্যায়ে থাকায় এবার নির্গত হওয়ার মতো তাপের পরিমাণও বেশি।
মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা এরইমধ্যে বেড়েছে। শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হলে বিভিন্ন অঞ্চলে চরম তাপমাত্রার পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান মন্তব্য করেছেন যে, ভবিষ্যতে পানি বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা না শিখলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে। তাই দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিটি ক্ষেত্রে পানির গুরুত্ব ও সঠিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মন্ত্রী বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে ইউনিসেফের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব কথা বলেন। বৈঠকে নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা এবং উপকূলীয় এলাকায় বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, ইউনিসেফের সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ওয়াসা ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রকল্প চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী নিরাপদ ও সুপেয় পানির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, পানি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ভবিষ্যতে পানি বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বৈশ্বিকভাবে পানি মানবজাতির জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এজন্য এখন থেকেই পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মন্ত্রী পানি ব্যবস্থাপনায় উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শেখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রায় ৬০ বছর আগে সুইডেনের মতো দেশগুলো প্রাকৃতিক সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহারের নেতিবাচক দিক উপলব্ধি করেছিল। বাংলাদেশও বর্তমানে একই ধরনের বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে। তাই এসব দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও শিল্পায়নের সঙ্গে পানির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। বিশেষ করে বস্ত্র ও পোশাকশিল্পে বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে শিল্পকারখানার বর্জ্যের কারণে দেশের অনেক নদী ও খালের পানি দূষিত হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকাতেও পানিসংক্রান্ত নানা সমস্যা বিদ্যমান।
তিনি বলেন, উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে, তবে সেই উন্নয়ন যেন মানুষের জীবন ও পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। শুধু ভালো আবাসন নিশ্চিত করলেই হবে না, মানুষের জন্য নিরাপদ পানি ও সুস্থ পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ