বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৫ পি.এম
জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আনসার সদস্যদের পেশাদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের পাঁচ হাজারেরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা এবং কেপিআইয়ের নিরাপত্তায় প্রায় ৫৫ হাজারের বেশি অঙ্গীভূত আনসার সদস্য নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবেলা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বাহিনীর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আনসার ভিডিপি একাডেমীতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অঙ্গীভূত আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মহাপরিচালক আরও বলেন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডাকাতির চেষ্টা প্রতিহত করার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে দুষ্কৃতিকারীদের অপতৎপরতা প্রতিরোধে অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা সাহসিকতা, সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তাদের এই অবদান বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদাকে সমুন্নত রেখেছে।
অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে আবদুল মোতালেব বলেন, তাদের বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেস্ট প্রথা বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিজ বিভাগে বদলির সুযোগ সৃষ্টি এবং রেশন ব্যবস্থার মান ও পরিমাণ বৃদ্ধিসহ সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাহিনীর সংস্কার ও সদস্যকল্যাণে গৃহীত উদ্যোগগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, বর্তমান সময়ের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের প্রশিক্ষণকে আরও যুগোপযোগী করা হয়েছে। মৌলিক প্রশিক্ষণে শারীরিক সক্ষমতা, সাধারণ ও অস্ত্র প্রশিক্ষণ, অস্ত্র পরিচালনা, নিরাপত্তা পদ্ধতি, ইনসিডেন্ট ম্যানেজমেন্ট, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, ঝুঁকি মূল্যায়ন, আইন ও বিধিবিধানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তাদের অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজ থেকে তারা বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গর্বিত আনসার। এই পরিচয় তাদের জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি দেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করে সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য নবীন অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান মহাপরিচালক।
গত ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ৬০ দিনব্যাপী অঙ্গীভূত আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণে অনুমোদিত ৬৯২ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ৬৫৪ জন অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মধ্যে ৬২৭ জন সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। প্রশিক্ষণে ফায়ারে প্রথম স্থান অর্জন করেন কুমিল্লা জেলার কাজী আবু সাঈদ, ড্রিলে প্রথম স্থান অর্জন করেন নোয়াখালী জেলার ফিজুর রহমান এবং সেরা প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচিত হন খাগড়াছড়ি জেলার সাবিকুর রহমান। কৃতিত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের পুরস্কার বিতরণ ও বিশেষ অভিনন্দন জানান মহাপরিচালক।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কুচকাওয়াজ শেষে তুরষ্ক জেন্ডামেরি দলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় একটি দাঙ্গা প্রতিরোধ নিরাপত্তা মহড়া প্রদর্শন করা হয়। মহড়া শেষে মহাপরিচালক বলেন, যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় আনসার ব্যাটালিয়ন, আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন ও অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা নিজস্ব সক্ষমতায় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাহিনীর এই সক্ষমতার প্রতিফলন সম্প্রতি গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন মোকাবেলায়ও পরিলক্ষিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ, আনসার ও ভিডিপি একাডেমির কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত মহাপরিচালক) সাইফুল্লাহ রাসেল, তুরস্ক থেকে আগত প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-প্রশিক্ষক এবং বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যের একটি আবাসিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি এক বালককে ধর্ষণে সহপাঠীকে প্ররোচনা দিয়েছেন। ৯২ বছর বয়সী ডেরেক বার্কারের বিরুদ্ধে চারটি বালকের ওপর যৌন নিপীড়নের আটটি অভিযোগের বিচার চলছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ব্রিস্টল ক্রাউন কোর্টে অনুষ্ঠিত শুনানিতে এক ভুক্তভোগী জানান, ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে সমারসেটের মনকটন কম্বে স্কুলে শিক্ষকতা করার সময় বার্কার তাকে স্কুলের ভেতরে নিজের ফ্ল্যাটে যেতে বলেছিলেন। সেখানে এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় বার্কার উপস্থিত ছিলেন এবং পুরো ঘটনার আয়োজন করেছিলেন বলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ।
ভুক্তভোগী আরও জানান, বার্কার সরাসরি তাকে নির্যাতন না করলেও তিনি ধর্ষণের পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছিলেন। পরে তাকে পোশাক পরে ক্লাসে যেতে বলেন। একইভাবে একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথাও তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন।
২০২২ সালে ওই ব্যক্তি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। তবে বার্কারের আইনজীবী তাবিথা ম্যাকফারলেন আদালতে জানান, তার মক্কেল সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা কিংবা ধর্ষণে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগও তিনি মানেননি।
বার্কারের বিরুদ্ধে তিনটি ধর্ষণে সহায়তা ও প্ররোচনা, তিনটি শিশুর সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং দুটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। মামলার বিচার চলছে। সূত্র: ইয়াহু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের গণতন্ত্রে প্রায় ২০ কোটি মুসলিমের রাজনৈতিক অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব কতটা নিশ্চিত? এই প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে। কারাবন্দি মুসলিম গবেষক শারজিল ইমামের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে বিতর্কটি আবার উন্মোচিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য প্রকাশ করে।
শারজিল ইমাম, যিনি ৩৮ বছর বয়সী, ২৯ সেপ্টেম্বর দিল্লির কারাগার থেকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য কুইন্ট’-কে একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি দেশের জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সংবিধান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ২১ কোটি মুসলিম বসবাস করলেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তাদের রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিনিধিত্ব খুবই সীমিত। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ মুসলিম হলেও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ যথেষ্ট নয়।
শারজিলের অভিযোগ, ভারতের সংবিধানে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণা মুসলিমদের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার মতে, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কে এই শারজিল ইমাম?
শারজিল ইমাম বিহার রাজ্যের জাহানাবাদ জেলার বাসিন্দা। তিনি মুম্বাইয়ের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন। সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করার পর তিনি গবেষণায় ফিরে যান এবং দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতের মুসলিমদের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করছিলেন। ২০১৯ সালে নরেন্দ্র মোদি সরকারের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাসের পর দেশজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হয়। মুসলিম নারীদের নেতৃত্বে দিল্লির শাহিনবাগে দীর্ঘদিনের অবস্থান কর্মসূচি আন্দোলনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। শারজিল ছিলেন ওই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক।
২০২০ সালের জানুয়ারিতে আন্দোলনের সময় দেওয়া বক্তব্যের কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দিল্লির সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় উসকানি ও ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই সহিংসতা শুরু হওয়ার সময় তিনি কারাগারে ছিলেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন মুসলিম শিক্ষার্থী ও অধিকারকর্মীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিচার ছাড়াই কারাবন্দি রয়েছেন।
গান্ধী-নেহরুর রাজনীতি নিয়েও প্রশ্ন
সাক্ষাৎকারে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী এবং প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর রাজনৈতিক দর্শন নিয়েও সমালোচনা করেন শারজিল। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি এবং ক্ষমতাসীন বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির মধ্যে মৌলিক কিছু মিল রয়েছে। উভয় ধারাই ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা ভাগাভাগির ক্ষেত্রে একই ধরনের ধারণা অনুসরণ করে।
তবে শারজিলের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন অনেক বিশ্লেষক। আইন গবেষক মোহাম্মদ জিশান আহমদের মতে, শারজিল গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ধর্মনিরপেক্ষতা এবং হিন্দুত্ববাদকে একইভাবে দেখা যুক্তিসংগত নয়। তার মতে, মুসলিম সমাজের ভেতরে শ্রেণি, জাতপাত, নারী অধিকার এবং মতাদর্শগত পার্থক্যও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, তুরস্কের ইবনে খালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইরফান আহমদ মনে করেন, ভারতের মুসলিমদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের সংকট শুধুমাত্র কোনো একটি রাজনৈতিক দলের কারণে নয়; বরং দেশটির জাতীয়তাবাদের ধারণার মধ্যেই এর শিকড় রয়েছে।
শারজিল ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব চালুর পক্ষে মত দিয়েছেন। তার মতে, বর্তমান নির্বাচনী পদ্ধতিতে সংখ্যাগরিষ্ঠদের প্রভাব বেশি থাকায় মুসলিমরা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়ছেন। তিনি কবি ও দার্শনিক মুহাম্মদ ইকবালের রাজনৈতিক চিন্তাধারার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে তার এসব বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন অনেকে। তাদের মতে, শারজিলের প্রস্তাব ভারতের সংবিধান এবং ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
এদিকে, শারজিলের সঙ্গে একই মামলায় কারাবন্দি আরেক সাবেক শিক্ষার্থী নেতা উমর খালিদের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। উমর খালিদ ভারতের সংবিধান এবং ধর্মনিরপেক্ষতার কাঠামোর মধ্যে থেকেই রাজনৈতিক আন্দোলনের পক্ষে কথা বলেন। তার মুক্তির দাবিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিভিন্ন ব্যক্তি ও মানবাধিকার সংগঠন সক্রিয় হয়েছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, উমর খালিদের বিষয়ে উদারপন্থী ও বামপন্থীদের সরব অবস্থান থাকলেও শারজিলের ক্ষেত্রে তাদের অনেকেই নীরব। এর কারণ হিসেবে শারজিলের রাজনৈতিক বক্তব্যে ধর্মীয় পরিচয় এবং মুসলিমদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে শারজিল ইমামের সাক্ষাৎকার ভারতের মুসলিমদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দেশটির গণতন্ত্রে সংখ্যালঘুদের অবস্থান কতটা শক্তিশালী, সেই প্রশ্নও আবার সামনে এসেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেসরকারি স্কুল এবং কলেজে কর্মরত ৩৭৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী নতুনভাবে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। একই সময়ে বিএড স্কেল পেয়েছেন ১ হাজার ৫৯৪ জন এবং উচ্চতর গ্রেড বা টাইম স্কেল পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৭৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এমপিও কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
নতুন এমপিওভুক্তদের মধ্যে ২৭২ জন স্কুল পর্যায়ের এবং ১০৪ জন কলেজ পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। বিএড স্কেল প্রাপ্ত ১ হাজার ৫৯৪ জনই স্কুল পর্যায়ের শিক্ষক। অন্যদিকে, উচ্চতর গ্রেড বা টাইম স্কেল প্রাপ্ত ৫ হাজার ৪৭৪ জনের মধ্যে ৫ হাজার ১৬৯ জন স্কুলের এবং ৩০৫ জন কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী।
এছাড়া, জানা গেছে, সারাদেশে এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ৩ হাজার ৪৮১টি বকেয়া আবেদন। এর মধ্যে স্কুল পর্যায়ে ২ হাজার ৮৯৩টি এবং কলেজ পর্যায়ে ৬৪৮টি আবেদন রয়েছে।
অঞ্চলভিত্তিক পরিসংখ্যান
ঢাকা অঞ্চল: নতুন এমপিওভুক্ত হয়েছেন ৪০ জন স্কুল পর্যায়ের এবং ২৯ জন কলেজ পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারী। বিএড স্কেল পেয়েছেন ২৫৫ জন। উচ্চতর গ্রেড বা টাইম স্কেল পেয়েছেন ৪৪৩ জন স্কুলের এবং ২০ জন কলেজের। এ অঞ্চলে বকেয়া আবেদন রয়েছে ৩৭৭টি স্কুলের এবং ১১৫টি কলেজের। মোট আবেদন জমা পড়েছে ১ হাজার ২৯৬টি স্কুলে এবং ২৫৫টি কলেজে।
রাজশাহী অঞ্চল: নতুন এমপিওভুক্ত হয়েছেন ৭৫ জন স্কুলের এবং ৩৪ জন কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী। বিএড স্কেল পেয়েছেন ৩০০ জন স্কুল শিক্ষক। উচ্চতর গ্রেড বা টাইম স্কেল পেয়েছেন ৪৮৪ জন স্কুলের এবং ৭৪ জন কলেজের। বকেয়া আবেদন রয়েছে ৪১৯টি স্কুলের এবং ১৩৭টি কলেজের। মোট আবেদন জমা পড়েছে ২ হাজার ২টি স্কুলে এবং ৪৩৫টি কলেজে।
রংপুর অঞ্চল: নতুন এমপিও পেয়েছেন ৭৭ জন স্কুলের এবং ১০ জন কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী। বিএড স্কেল পেয়েছেন ২৬৬ জন। উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন ৬৭২ জন স্কুলের এবং ৩২ জন কলেজের। বকেয়া আবেদন রয়েছে ৩৫৫টি স্কুলের এবং ১১৮টি কলেজের। মোট আবেদন জমা পড়েছে ১ হাজার ৭০৮টি স্কুলে এবং ২৫৫টি কলেজে।
খুলনা অঞ্চল: নতুন এমপিওভুক্ত হয়েছেন ১৪ জন স্কুলের এবং ১৪ জন কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী। বিএড স্কেল পেয়েছেন ১১৫ জন। উচ্চতর গ্রেড বা টাইম স্কেল পেয়েছেন ১ হাজার ২৩৩ জন স্কুলের এবং ৮২ জন কলেজের। বকেয়া আবেদন রয়েছে ৩২৪টি স্কুলের এবং ৮২টি কলেজের। মোট আবেদন জমা পড়েছে ১ হাজার ৫৫৪টি স্কুলে এবং ২১২টি কলেজে।
এছাড়া, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলেও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
অঞ্চলভিত্তিক মোট নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ময়মনসিংহে স্কুল পর্যায়ে ১ হাজার ১৬৫টি এবং কলেজে ৯০টি, কুমিল্লায় স্কুলে ৯২২টি এবং কলেজে ১৩৪টি, চট্টগ্রামে স্কুলে ৫৯৭টি এবং কলেজে ১০৭টি, বরিশালে স্কুলে ১ হাজার ২০৬টি এবং কলেজে ২৮৫টি এবং সিলেটে স্কুলে ৪২৩টি এবং কলেজে ৭৬টি আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢালিউডের নির্মাতা আদনান আল রাজীব দীর্ঘ সময় ধরে বিজ্ঞাপন, নাটক এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা নির্মাণ করে আসছেন। তিনি বহুল আলোচিত স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘আলী’ নির্মাণের মাধ্যমে সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। এই সিনেমাটি বিখ্যাত কান চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় স্থান করে নিয়েছিল। স্পেশাল মেনশন অর্জন করে তিনি ইতিহাস রচনা করেছেন। তাই, আদনান আল রাজীবের পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা সম্পর্কে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ছিল।
এখন পর্যন্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার আঙিনায় পদার্পণ করেননি এই নির্মাতা। তবে সম্প্রতি তিনি নিজের প্রথম সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। গুঞ্জন উঠেছিল যে, আদনানের প্রথম সিনেমার নায়ক হবেন সিয়াম আহমেদ। কিন্তু সেই গুঞ্জন সত্যি হয়নি। বুধবার (৪ নভেম্বর) নির্মাতা নিজেই জানালেন, তার প্রথম সিনেমার নাম ‘অপলক’। এই সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করবেন তার স্ত্রী মেহজাবীন চৌধুরী এবং তার বিপরীতে আফরান নিশো জুটি হয়ে কাজ করবেন।
পরিচালক আদনান আল রাজীব এবং মেহজাবীন চৌধুরী স্বামী-স্ত্রী। বিনোদন জগতে তাদের পথচলা অনেক দিনের। এবার আদনান তার প্রথম সিনেমায় স্ত্রী মেহজাবীন চৌধুরীকে নায়িকা হিসেবে নিয়েছেন। যদিও অভিনেত্রীর সিনেমায় অভিষেক অনেক আগে হয়েছে।
এদিকে, আফরান নিশো এবং মেহজাবীন চৌধুরী ছোটপর্দার অন্যতম সফল জুটি। তারা একসঙ্গে বহু নাটক করেছেন। ভিকি জাহেদের ‘পুলসিরাত’ সিনেমাতেও তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন। এবার আদনানের সিনেমায়ও এই তারকা জুটি যুক্ত হলেন।
সম্প্রতি ‘অপলক’ সিনেমায় চুক্তিস্বাক্ষরের ছবি পোস্ট করে আদনান আল রাজীব বলেন, "আমার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘অপলক’। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুরো টিমের অনেকখানি স্বপ্ন আর ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার পৃথিবীতে এবার যুক্ত হলেন আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা একটা সৎ, সরল আর মন ছুঁয়ে যাওয়া রোমান্টিক ফিল্ম বানাতে চাই। যেখানে মানুষ ভালোবাসার পাশাপাশি নিজেদেরও খুঁজে পাবেন।"
এ নির্মাতা বলেন, "আশা করি, যে মায়া নিয়ে ছবিটা বানাতে যাচ্ছি, সেই মায়াটুকু আপনাদের কাছেও পৌঁছাবে।"
এদিকে, মেহজাবীন চৌধুরীও সামাজিক মাধ্যমে সেই ছবিগুলো পোস্ট করেছেন। নিজের ফেসবুক পেজে ছবি পোস্ট করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে অভিনেত্রী বলেন, "আমাদের সিনেমা ‘অপলক’ অবশেষে হচ্ছে। সিনেমাটির জন্য আমি উদগ্রীব হয়ে আছি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ