প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আনসার সদস্যদের পেশাদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের পাঁচ হাজারেরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা এবং কেপিআইয়ের নিরাপত্তায় প্রায় ৫৫ হাজারের বেশি অঙ্গীভূত আনসার সদস্য নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবেলা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বাহিনীর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আনসার ভিডিপি একাডেমীতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অঙ্গীভূত আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মহাপরিচালক আরও বলেন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডাকাতির চেষ্টা প্রতিহত করার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে দুষ্কৃতিকারীদের অপতৎপরতা প্রতিরোধে অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা সাহসিকতা, সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তাদের এই অবদান বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদাকে সমুন্নত রেখেছে।
অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে আবদুল মোতালেব বলেন, তাদের বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেস্ট প্রথা বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিজ বিভাগে বদলির সুযোগ সৃষ্টি এবং রেশন ব্যবস্থার মান ও পরিমাণ বৃদ্ধিসহ সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাহিনীর সংস্কার ও সদস্যকল্যাণে গৃহীত উদ্যোগগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, বর্তমান সময়ের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের প্রশিক্ষণকে আরও যুগোপযোগী করা হয়েছে। মৌলিক প্রশিক্ষণে শারীরিক সক্ষমতা, সাধারণ ও অস্ত্র প্রশিক্ষণ, অস্ত্র পরিচালনা, নিরাপত্তা পদ্ধতি, ইনসিডেন্ট ম্যানেজমেন্ট, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, ঝুঁকি মূল্যায়ন, আইন ও বিধিবিধানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তাদের অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজ থেকে তারা বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গর্বিত আনসার। এই পরিচয় তাদের জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি দেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করে সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য নবীন অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান মহাপরিচালক।
গত ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ৬০ দিনব্যাপী অঙ্গীভূত আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণে অনুমোদিত ৬৯২ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ৬৫৪ জন অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মধ্যে ৬২৭ জন সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। প্রশিক্ষণে ফায়ারে প্রথম স্থান অর্জন করেন কুমিল্লা জেলার কাজী আবু সাঈদ, ড্রিলে প্রথম স্থান অর্জন করেন নোয়াখালী জেলার ফিজুর রহমান এবং সেরা প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচিত হন খাগড়াছড়ি জেলার সাবিকুর রহমান। কৃতিত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের পুরস্কার বিতরণ ও বিশেষ অভিনন্দন জানান মহাপরিচালক।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কুচকাওয়াজ শেষে তুরষ্ক জেন্ডামেরি দলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় একটি দাঙ্গা প্রতিরোধ নিরাপত্তা মহড়া প্রদর্শন করা হয়। মহড়া শেষে মহাপরিচালক বলেন, যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় আনসার ব্যাটালিয়ন, আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন ও অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা নিজস্ব সক্ষমতায় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাহিনীর এই সক্ষমতার প্রতিফলন সম্প্রতি গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন মোকাবেলায়ও পরিলক্ষিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ, আনসার ও ভিডিপি একাডেমির কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত মহাপরিচালক) সাইফুল্লাহ রাসেল, তুরস্ক থেকে আগত প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-প্রশিক্ষক এবং বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন