মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
০৯:০৫ পি.এম
‘আমি এখন পথের ফকির হয়ে গেলাম। তিল তিল করে জমানো সব সঞ্চয় দিয়ে দোকানটি দাঁড় করিয়েছিলাম। এই দোকানের আয়েই স্ত্রী-সন্তানদের মুখে ভাত জুটতো। এক রাতেই আমার সব স্বপ্ন এভাবে মাটিতে মিশে যাবে, তা কখনো ভাবিনি।’
পোড়া দোকানের ছাইয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ডুকরে কেঁদে কথাগুলো বলছিলেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের ধানীপাড়া গ্রামের মো. আজিজুল হক (৩৫)। অগ্নিকাণ্ডে সহায়-সম্বল হারিয়ে তিনি এখন দিশেহারা। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সাজানো সংসারে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধানীপাড়া এলাকার ব্রিজসংলগ্ন অজয় চন্দ্র সাহার একটি ঘর ভাড়া নিয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে মুদি দোকান চালিয়ে আসছিলেন মৃত আব্দুল বাতেনের ছেলে আজিজুল হক। নিরাপত্তার জন্য প্রতিদিন রাতে তিনি দোকানেই ঘুমাতেন। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে শুক্রবার রাতে তিনি বাড়িতে ছিলেন।
আজিজুলের দাবি, শুক্রবার গভীর রাতে আনুমানিক ১টার দিকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা শত্রুতার জেরে দোকানে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা ছুটে এসে নেভানোর চেষ্টা করলেও এর আগেই দোকানের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়।
আগুনে দোকানের মুদি পণ্য, একটি বড় ফ্রিজ, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে গেছে। এতে তার প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন আজিজুল।
আজিজুল হক বলেন, ‘আমার জানামতে কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই। দোকানটি দিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারছিলাম। সবকিছু হারিয়ে এখন আমি নিঃস্ব।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল মন্নান বলেন, আজিজুল শান্ত ও ভালো স্বভাবের মানুষ। এলাকায় তার কারও সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ নেই। কীভাবে এত অল্প সময়ে দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ল, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানান তিনি।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাবাসীর সহায়তায় দুর্গাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন আজিজুল হক।
আজিজুলের দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ হয়ে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
সব হারিয়ে এখন শুধু সহায়তার অপেক্ষায় আজিজুল ও তার পরিবার। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী দায়ের করা মামলায় মো. শহিদ (৪০) নামের এক যুবলীগ নেতা, যিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ, পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার হয়েছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে মামুনশিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া শহিদ কুশনা ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্যসচিব হিসেবে পরিচিত।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর কোটচাঁদপুর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার প্রেক্ষিতে শহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারের পর শহিদকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ফুটবল লিগের আজকের দিনটি ছিল গোলের। একদিকে, একটি ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেও জয় না পাওয়ার হতাশা ছিল, অন্যদিকে, অন্য ম্যাচে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার উচ্ছ্বাসও ছিল।
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় সিটি ক্লাব ফর্টিস এফসিকে ৩-৩ গোলে রুখে দিয়েছে। অপরদিকে, চাঁদপুর স্টেডিয়ামে আবাহনী লিমিটেড ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে।
ফর্টিসের বিপক্ষে সিটি ক্লাব শুরু থেকেই দাপট দেখাতে থাকে। ম্যাচের ৫ ও ১৯ মিনিটে নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার ওনিয়েকাচি ওকাফোর দুটি গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তবে তিনি দুই গোলেই থেমে থাকেননি। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪ মিনিটে নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন ওকাফোর।
তবে ফর্টিস দুইবার পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে দারুণভাবে ফিরে আসে। ৩৮ মিনিটে মোহাম্মদ ইব্রাহিম গোল করে ব্যবধান কমান। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পা ইসা জালোর পেনাল্টিতে সমতা ফেরায় ফর্টিস।
৫৪ মিনিটে ওকাফোরের হ্যাটট্রিকে আবার এগিয়ে যায় সিটি ক্লাব। কিন্তু ৬৯ মিনিটে নরিকি আকান্দার দুর্দান্ত গোলে ফের সমতা আনে ফর্টিস। শেষ পর্যন্ত আর গোল না হওয়ায় ম্যাচটি ৩-৩ সমতায় শেষ হয়।
অন্যদিকে, আবাহনী লিমিটেডের ম্যাচটি একপেশে ছিল। ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে মারুফুল হকের দল।
ম্যাচের শুরুতেই নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি ওকাচি ও পাকিস্তানি মিডফিল্ডার মঈন আহমেদ দুটি গোল করে আবাহনীকে এগিয়ে দেন। ১৪ মিনিটে জাহিদের গোলে ব্যবধান কমালেও, ৩৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে আবাহনীর লিড বাড়ান ২০১৪ বিশ্বকাপে খেলা নাইজেরিয়ান তারকা মাইকেল বাবাতুন্দে।
৭৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ওকাচি। যোগ করা সময়ে আল আমিনের গোলে ৫-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয় আবাহনীর।
দুই ম্যাচ শেষে ফর্টিস ও সিটি ক্লাবের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট করে। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ফর্টিস পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে এবং সিটি ক্লাব চারে অবস্থান করছে। আবাহনী লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বড় জয় পেয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণী সিনেমার অন্যতম আলোচিত জুটি বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও মান্দানা। তাদের পর্দায় রসায়ন দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্কের গুঞ্জনেও ভক্তদের আগ্রহের অন্ত নেই। সম্প্রতি, ‘রণবালী’ সিনেমার সেট থেকে বিজয়ের শেয়ার করা কিছু মুহূর্ত সেই আগ্রহকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
আগামী পিরিয়ড অ্যাকশন ড্রামা ‘রণবালী’-র শুটিংয়ের মাঝে রাশমিকার সঙ্গে বিজয়ের বেশ কিছু খুনসুটির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ছবিগুলোতে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে তাদের আকর্ষণীয় উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, এবং বিজয়ের ক্যাপশনও নেটিজেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
বিজয় রাশমিকার সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেন, “এখানে সবাই ওকে কিউট স্যাভেজ বলে ডাকে। আমার প্রতিদিনের বিনোদনকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। আমি নিজে কতটা গম্ভীর, সেই ভাবনা থেকে ও আমাকে প্রতিনিয়ত দূরে রাখে।”
ছবিগুলোতে রাশমিকাকে দেখা যাচ্ছে বেগুনি রঙের সাবেকি শাড়ি ও সোনার গয়নায়। সিনেমায় তার চরিত্রের নাম ‘জয়াম্মা’। অন্যদিকে, বিজয়ের সাজেও ঐতিহ্যের ছোঁয়া ছিল। সাদা পোশাকে তাকে ‘শিঙ্গনামালা বব্বিলি রণবালী’ লুকে দেখা গেছে।
গম্ভীর ও উত্তেজনাপূর্ণ গল্পের শুটিংয়ের মাঝে এই জুটির খুনসুটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে বিজয়ের পোস্টে। পোস্টটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই মন্তব্যের ঘরে ভক্তরা তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। অনেকে তাদের একসঙ্গে ‘Pookie’ বলে অভিহিত করেছেন।
ঐতিহাসিক পটভূমিতে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের গল্পের পাশাপাশি বিজয় ও রাশমিকার এই মিষ্টি মুহূর্ত সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল আরো বৃদ্ধি করেছে।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, রাহুল সংকৃত্যায়ন পরিচালিত ‘রণবালী’ সিনেমাটি আগামী ১৬ অক্টোবর ২০২৬ মুক্তি পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়া বিদেশি নাগরিকদের ইউক্রেন সফর থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। রাজধানী কিয়েভে অবস্থানরত কূটনীতিক ও বিদেশি নাগরিকদের দ্রুত শহরটি ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাশিয়ার পক্ষ থেকে।
এছাড়াও, স্থানীয় বাসিন্দাদের সামরিক ও প্রশাসনিক স্থাপনাগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনীয় বাহিনীর ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ জবাবে কিয়েভসহ অন্যান্য শহরের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক হামলা অব্যাহত রাখবে মস্কো।
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, বিদেশি নাগরিকদের, বিশেষ করে কূটনৈতিক মিশনের কর্মীদের, ইউক্রেনে অবস্থান বা সেখানে ভ্রমণ না করার বিষয়ে পুনরায় সতর্ক করা হচ্ছে।
যদি কেউ এই সতর্কতা উপেক্ষা করে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির সম্মুখীন হয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায়ভার তাদের ওপর বর্তাবে বলেও জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই সতর্কবার্তাটি ২৫ মে প্রকাশিত এক বিবৃতির অংশ এবং বিদেশি অংশীদারদের কাছে পাঠানো কূটনৈতিক চিঠিতেও অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে ২৭ মে কূটনৈতিক কোরের জন্য আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল গালুজিন বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) দেশসমূহ, নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ডও তাদের নাগরিকদের ইউক্রেন ভ্রমণের বিরুদ্ধে বারবার পরামর্শ দিয়েছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, অনেক দেশের দূতাবাস এখনো কিয়েভে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিদেশি কর্মকর্তারা ইউক্রেন সফর অব্যাহত রেখেছেন। যারা এই পরামর্শগুলো উপেক্ষা করছেন, তারা নিজেদের চরম ঝুঁকিতে ফেলছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ