বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৯ পি.এম
বাংলাদেশে গবেষণার পরিধি বৃদ্ধির সাথে সাথে গবেষণার মান, সততা এবং দায়িত্বশীল প্রকাশনার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জাতীয় গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেছে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব), যেখানে গবেষণায় নৈতিকতা, প্রকাশনার মান, একাডেমিক মেন্টরশিপ, গবেষণা মূল্যায়ন এবং জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হবে।
‘হিউম্যানিটিজে দায়িত্বশীল গবেষণা ও প্রকাশনা’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠক আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ইউল্যাবের ঢাকার মোহাম্মদপুরের ৬৮৮ বেড়িবাঁধ রোডের ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন ইউল্যাবের উপাচার্য অধ্যাপক শামসাদ মর্তুজা। গোলটেবিল বৈঠকের আহ্বায়ক ও সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইউল্যাবের ইংরেজি ও মানবিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু সালেহ মোহাম্মদ রাফি।
আলোচনায় বাংলাদেশের গবেষণা ও প্রকাশনার বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে মানবিক শাখায় উপযুক্ত জার্নাল নির্বাচন, পিয়ার-রিভিউয়ের মানদণ্ড, লেখকসত্ত্ব ও উদ্ধৃতি নীতি, জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার এবং গবেষণা মূল্যায়নের পরিবর্তিত পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এছাড়াও, গবেষকদের জন্য কার্যকর একাডেমিক মেন্টরশিপ, প্রকাশনায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রণোদনা এবং নতুন গবেষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়েও অংশগ্রহণকারীরা মতবিনিময় করেছেন।
গোলটেবিল বৈঠকে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শায়লা সুলতানা, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. সরকার হাসান আল জায়েদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফারজানা ইয়াসমিন চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান চৌধুরী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাজিয়া মনজুর এবং ইউল্যাবের অফিস অব ফ্যাকাল্টি রিসার্চের পরিচালক অধ্যাপক ড. আনোয়ার হক জোয়ারদার।
আয়োজকদের মতে, গবেষণার বিস্তারের পাশাপাশি গবেষণাকর্মের মান ও সততা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে দায়িত্বশীল গবেষণা ও প্রকাশনার পরিবেশ তৈরি করতে পারে, সে বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
ইউল্যাব মনে করছে, গোলটেবিল বৈঠকটি শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; বরং এটি বাংলাদেশে দায়িত্বশীল গবেষণা-সংস্কৃতি নিয়ে বৃহত্তর জাতীয় সংলাপের সূচনা। গবেষণার মানোন্নয়ন ও একাডেমিক উৎকর্ষের লক্ষ্যে ভবিষ্যতে গবেষক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরো বিস্তৃত আলোচনার ক্ষেত্র তৈরির প্রত্যাশা আয়োজকদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া এমপি গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শেরেবাংলা নগর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, ২৮ সেপ্টেম্বর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত তার উপস্থিতে রিমান্ড শুনানির জন্য আজ বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।
এর আগে, ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের পার্শ্ববর্তী ন্যাম ভবনে এমপি নজরুলের ফ্ল্যাট থেকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর রাতে এমপি নজরুল ও তার স্ত্রী মাকসুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
এ ঘটনায় ২১ সেপ্টেম্বর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও নজরুলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে বাদির বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়।
৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকসুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকসুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল মোবাইলে বাদিকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে মরিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন বাবা মাসুম বিল্লাহ।
লাশ উদ্ধারের সময় মেয়ের বিছানার ওপর তার লেখা ‘সুইসাইড নোট’ দেখতে পান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানের জামিন আবেদন রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় আদালত নামঞ্জুর করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়।
আজ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করেন তার আইনজীবী। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদনটি নামঞ্জুর করে।
ক্যান্টনমেন্ট থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা, পুলিশের উপ-পরিদর্শক তারেক রহমান বাসস’কে এই তথ্য জানান।
এর আগে, ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে, ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান তার দ্বিতীয় দফায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বুধবার, রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনে রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক এবং উসকানিমূলক মন্তব্য করেন।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর সেই অডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই তাকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং ডিএমপি সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।
এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একটি জীবনের দীর্ঘ পথচলা। সেই পথের প্রতিটি বাঁকে জমে থাকে অভিজ্ঞতার গল্প, ত্যাগের স্মৃতি আর পরিবার-সমাজের জন্য রেখে যাওয়া নীরব অবদান। একসময় যাঁদের হাত ধরে সন্তানরা হাঁটতে শেখে, যাঁদের ঘাম ও মমতায় গড়ে ওঠে একটি পরিবার; সময়ের স্রোতে তাঁরাই একদিন বয়সের এই ভারে ধীর হয়ে আসেন। তবে বয়স তাঁদের অবদানকে ছোট করে না; বরং জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞাই হয়ে ওঠে পরবর্তী প্রজন্মের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
এই মানবিক উপলব্ধিকে সামনে রেখে “দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জে পালিত হয়েছে ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান ও দায়িত্ববোধের বার্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও জেলা প্রবীণ হিতৈষী সংঘের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১০টায় জেলা সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) ও ডায়াবেটিক হাসপাতালের বিপরীত এলাকা থেকে র্যালিটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে প্রবীণ ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। র্যালি থেকে প্রবীণদের অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) ডা. মো. আতাউল সারোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি প্রবীণদের পাশে প্রশাসনের থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘প্রবীণদের কল্যাণে সরকার বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে প্রবীণদের প্রতি দায়িত্ববোধ কেবল রাষ্ট্র বা প্রশাসনের নয়; এর শুরু হতে হবে পরিবার থেকেই। ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের শেখাতে হবে; বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে কীভাবে সম্মানের সঙ্গে কথা বলতে হয়, কীভাবে তাঁদের প্রয়োজন ও অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতে হয়।’
জেলা প্রশাসকের ভাষায়, কাউকে সম্মান করে সম্বোধন করাও এক ধরনের সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবিক শিক্ষা। সেই শিক্ষা পরিবারে গড়ে উঠলে প্রবীণদের প্রতি অবহেলা অনেকটাই কমে আসবে এবং প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মের সম্পর্ক আরও মানবিক হয়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রবীণদের জন্য সমাজ, রাষ্ট্র ও প্রশাসন রয়েছে। তাই কোনো প্রবীণ নাগরিক নিজেকে কখনো একা ভাববেন না। সন্তানরা যথাযথভাবে দেখাশোনা না করলে প্রবীণরা সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা প্রশাসকের এই বক্তব্যে যেন উঠে আসে বয়সের ভারে নত হয়ে পড়া মানুষগুলোর প্রতি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের এক মানবিক অঙ্গীকার। পরিবারে অবহেলার শিকার কোনো প্রবীণকে একা পড়ে থাকতে হবে না; প্রশাসন তার পাশে দাঁড়াবে, এমন আশ্বাস দেন তিনি।
প্রবীণদের দৈনন্দিন সেবার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলার ব্যাংকগুলোতে প্রবীণদের জন্য পৃথক ও অগ্রাধিকারভিত্তিক সেবা চালুর বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবায় ইনডোর ও আউটডোরে পৃথকভাবে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও আশার কথা শোনান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, প্রবীণদের জন্য হেলথ কার্ড চালুর বিষয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে। তবে প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার চিন্তা সরকার অনেক আগেই গ্রহণ করেছে এবং সে অনুযায়ী কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি প্রবীণদের জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে সমাজের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, একটি সমাজ কতটা মানবিক, তা শুধু তার উন্নয়ন কিংবা অবকাঠামো দিয়ে নয়; সেই সমাজ তার প্রবীণ মানুষদের কতটা সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদা দিতে পারে, তার মধ্য দিয়েও প্রকাশ পায়।
আলোচনা সভায় জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন, অর্থ ও প্রতিষ্ঠান) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান স্বাগত বক্তব্য দেন। আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. প্রল্লব কুমার দেবনাথ, জেলা প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সাধারণ সম্পাদক মো. ফিরোজ উদ্দীন ভূঞা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মেহের উদ্দিন, নির্বাহী সদস্য এস এম হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আতিয়া রহমান এবং প্রফেসর আব্দুল গণি।
বক্তারা বলেন, প্রবীণরা কোনোভাবেই পরিবার বা সমাজের বোঝা নন। তাঁদের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান, মূল্যবোধ ও ত্যাগ পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অমূল্য সম্পদ। তাই তাঁদের প্রতি সহানুভূতির চেয়ে বেশি প্রয়োজন সম্মান, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা। এ জন্য পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
দিবসটির আয়োজন যেন শেষ পর্যন্ত একটি সহজ অথচ গভীর সত্যই মনে করিয়ে দিল; বয়স মানুষের জীবনের একটি সংখ্যা মাত্র, মর্যাদার মাপকাঠি নয়। যে হাত একদিন সন্তানকে ধরে হাঁটতে শিখিয়েছে, যে মানুষটি নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে পরিবারকে দাঁড় করিয়েছেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই মানুষটির হাত শক্ত করে ধরে রাখাই একটি মানবিক সমাজের পরিচয়।
সভায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, প্রবীণ ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) মেডিকেল সেন্টারের কার্যক্রমের সময় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগে সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. শাম্মী আরা নিপাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. আবদুল আলিম বছিরের স্বাক্ষরিত একটি নোটিশে তাঁকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ডা. শাম্মী আরা নিপা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের দপ্তরপ্রধানের রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, মেডিকেল সেন্টার সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সচল থাকার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তিনি একক সিদ্ধান্তে গত ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর মেডিকেল সেন্টারের কার্যক্রম সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নোটিশে এই ঘটনাকে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
নোটিশ পাওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জবাব দিতে বলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ