০৯:৩১ পি.এম
নারায়ণগঞ্জে আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের কাছে হেফাজতে থাকা অবস্থায়, এক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গণপিটুনি দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এই ঘটনার ফলে আদালত প্রাঙ্গণজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ফতুল্লার চাঁনমারি এলাকার ক্যাবল অপারেটর (ডিস ব্যবসায়ী) নাসির হত্যা মামলার প্রধান আসামি শরিফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালতে হাজির করার সময় এই ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ শরিফের সাত দিনের রিমান্ড নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিল।
পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আদালতে হাজির করার সময় আকস্মিকভাবে বিক্ষুব্ধ জনতা শরিফের ওপর আক্রমণ করে। একপর্যায়ে, পুলিশের হেফাজতে থাকা আসামি শরিফ মাটিতে পড়ে গেলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এই সময় আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা শরিফের ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আসামিকে এজলাসে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানান, নাসির হত্যা মামলার আসামি শরিফ গত ১৭ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর থেকে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে ছিলেন। আজ রিমান্ড শুনানির জন্য তাকে আদালতে হাজির করা হলে, শুনানি শেষে আদালত আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গণপিটুনির বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আসামির বিরুদ্ধে নাসির ছাড়াও এর আগে আরও হত্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে। এই কারণে এলাকার মানুষ তার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে রয়েছে। আদালতে রিমানন্ড শুনানির খবর শোনার পর নিহতের পরিবারের লোকজন ও এলাকার অনেক মানুষ জড়ো হন। আসামিকে আদালতে হাজির করার সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন আকস্মিকভাবে তাকে মারধর করা শুরু করেন। এই সময় পুলিশের সাথেও তাদের ধাক্কাধাক্কি হয়। এর মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশের সহায়তায় আসামিকে নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আদালতে হাজির করা হয় এবং রিমান্ড অনুমোদিত হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, এই ঘটনার পটভূমিতে গত ১৪ মে দুপুরে ফতুল্লা মডেল থানার চাঁনমারি মাউরাপট্টি এলাকায়, নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ক্যাবল অপারেটর নাসির হোসেনকে। এ ঘটনার পর নিহতের পরিবার থানায় মামলা করলে, প্রধান আসামি শরিফ গত ১৭ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর থেকে তিনি জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন