সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪১ পি.এম
শিল্পকলা একাডেমির শীর্ষ পদে কে আসছেন, এ নিয়ে সংস্কৃতি অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা। কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন মহাপরিচালক (ডিজি) পদে এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ পূর্ণ করে সদ্য বিদায় নিয়েছেন। পদটি শূন্য হলে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহা. হারুন-অর-রশীদকে একাডেমির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমানে সাংস্কৃতিক মহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—কে বসবেন শিল্পকলার স্থায়ী আসনে? সরকারের পক্ষ থেকে আগামী দুইদিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নতুন প্রজ্ঞাপন আসবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক পদে একাধিক ব্যক্তির নাম শোনা গেলেও, মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে একমাত্র বিদায়ি মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন-এর ফাইল জমা পড়েছে।
রেজাউদ্দিন স্টালিন পুনর্নিয়োগের ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে স্মার্ট শিল্পকলা গড়তে চান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও লালনভূমির প্রধান কেন্দ্র। গত এক বছর অত্যন্ত প্রতিকূল ও চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্য দিয়ে আমি এই গুরুদায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। বিগত দিনে দেশের সামগ্রিক পটপরিবর্তনের পর একাডেমির প্রশাসনিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই ছিল আমার মূল লক্ষ্য।’
তিনি আরো বলেন, শিল্পকলা একাডেমিকে যে কোনো জটিলতামুক্ত করে প্রকৃত অর্থেই শিল্পীবান্ধব ও জনমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা বিলিয়ে দেব। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে শিল্পকলাকে নতুন রূপ দিতে চাই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হামের উপসর্গে সারাদেশে (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩১০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে সোমবার বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী—চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯৮ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ১০১ জন।
১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশের হাসপাতালগুলোয় মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৯ জন হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ৭০৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না দেশের বিভিন্ন স্থানে খুন, ধর্ষণ, হামলা, গ্রেপ্তার ও মানুষের নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, গণঅভ্যুত্থানের পর যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কার এবং সংবিধান বিতর্ক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মান্না জানান, রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলা হলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তার ভাষায়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় এখন ‘অত্যাচারের উৎসব’ চলছে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—কেউই নিরাপত্তার বাইরে নয়।
সালমান মুক্তাদিরের একটি ভিডিওর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রতি তার স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় একটি পরিবারের পাশাপাশি সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মান্নার ভাষ্য, স্টুডিওটি পুনর্নির্মাণের সামর্থ্য মালিকের থাকলেও সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের জীবিকা কী হবে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
একইভাবে একটি বাড়ি ভেঙে দেওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে মান্না বলেন, সেখানে এক মা ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। গণঅভ্যুত্থানের পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা ছিল কি না—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নিজ দলের এক নেতার গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি। তিনি জানান, শিবগঞ্জ উপজেলা নাগরিক ঐক্যের সেক্রেটারিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বিষয়টি জানতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, পুলিশের কাছে কোনো মামলা নেই; আদালতে মামলা হয়েছে। পরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন না হওয়ার পাশাপাশি জজকোর্টও কয়েক দিন বসেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ পরিস্থিতিকে বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে মান্না প্রশ্ন তোলেন, একজন রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করার পর মামলার কপি না দেওয়া এবং আদালতের কার্যক্রম না চলার বিষয়টি কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার চাপ কমছে না। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
মান্না বলেন, এসব বিষয়ে কথা বললে কেউ কেউ তাকে বিএনপির বিরোধিতাকারী হিসেবে দেখাতে পারেন। তবে তার দাবি, তিনি কোনো দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন না; বরং দেশের পরিস্থিতি নিয়ে সত্য কথাই বলছেন। বিএনপি ব্যর্থ হলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে উল্লেখ করে তিনি দলটির সফলতাও কামনা করেন।
রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে মান্না বলেন, এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রয়োজন যেখানে গণতন্ত্র ও সংবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ না হলে ভবিষ্যতে আবারও স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গণভোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংবিধান পরিষদ গঠনের কথা ছিল। সংবিধানের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনের পক্ষ থেকে আরেকটি গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে—এমন বক্তব্য এসেছে বলেও উল্লেখ করেন মান্না।
বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে ‘গায়ের জোরে’ কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে কাজ করার যে কথা বলা হয়েছিল, সেটিও বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের সেক্রেটারি শহিদুল্লাহ কায়সার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিল্লুর চৌধুরী দীপু ও দেলোয়ার হোসেন রাজাসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ