ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জলরাশি মাঝখানে সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ ভূমি। পর্যটনের সম্ভাবনায় আমতলীর মাঝের চর


জলরাশি মাঝখানে সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ ভূমি। পর্যটনের সম্ভাবনায় আমতলীর মাঝের চর
 
 
চারদিকে পায়রা নদীর বিস্তীর্ণ কোথাও গাছপালার সারি, কোথাও খোলা সবুজ প্রান্তর। নদীর জলরাশির ওপর দিয়ে নৌকায় এগিয়ে গেলে ধীরে ধীরে চোখে পড়ে এই অপরূপ ভূখণ্ড।
 
 দূর থেকে দেখলে মনে হয়, পায়রা নদীর বুকেই যেন জেগে উঠেছে সবুজের একটি দ্বীপ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নিরিবিলি পরিবেশে ঘেরা এমনই সম্ভাবনাময় স্থান বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝের চর।
পায়রা নদীবেষ্টিত মাঝের চর এখনো পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠেনি। নেই পর্যটকদের জন্য পরিকল্পিত অবকাঠামো, নির্ধারিত নৌঘাট কিংবা বসার ব্যবস্থা। তবু প্রকৃতির নিজস্ব সৌন্দর্যেই জায়গাটি আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।
 
 বিশেষ করে নদী, সবুজ প্রকৃতি, নৌভ্রমণ ও গ্রামীণ জীবনের স্বাভাবিক পরিবেশ—সব মিলিয়ে মাঝের চরকে ঘিরে একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্যের ভিত্তি রয়েছে।
নদী, সবুজ আর নীরবতার মেলবন্ধন
মাঝের চরের অন্যতম আকর্ষণ এর চারপাশের নদী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। পায়রা নদীর জলরাশি ঘিরে থাকা এই ভূখণ্ডে শহরের কোলাহল নেই। নদীর ওপর নৌযাত্রা, খোলা আকাশ, সবুজ গাছপালা এবং গ্রামীণ জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দর্শনার্থীদের জন্য ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে।
 
সকালে নদীর ওপর সূর্যের আলো, বিকেলে পশ্চিম আকাশের রঙ বদলানো এবং সন্ধ্যায় নদীর বুকে নেমে আসা নীরবতা—প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এসবই হতে পারে আকর্ষণের উপাদান। একই সঙ্গে স্থানীয় জীবনযাত্রা, নদীনির্ভর মানুষের কর্মকাণ্ড ও কৃষিভিত্তিক পরিবেশ পর্যটকদের সামনে উপকূলীয় জনপদের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে পারে।
 
পরিকল্পিত উদ্যোগে হতে পারে পর্যটনকেন্দ্র
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের সাধারণ অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, কোনো প্রাকৃতিক স্থানকে পর্যটনকেন্দ্রে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু অবকাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়; স্থানীয় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, ভূমির ধারণক্ষমতা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকাকেও বিবেচনায় নিতে হয়। মাঝের চরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।
 
প্রথম ধাপে চরের ভূমির প্রকৃতি, আয়তন, যোগাযোগব্যবস্থা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে সমীক্ষা করা যেতে পারে। এরপর সম্ভাব্যতা যাচাই করে সীমিত পরিসরে পরিবেশবান্ধব পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। নিরাপদ নৌযাতায়াত, একটি নির্ধারিত নৌঘাট, পর্যটকদের বসার স্থান, হাঁটার পথ, বিশ্রামস্থল, তথ্যকেন্দ্র, সাইনবোর্ড, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রাথমিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে দর্শনার্থীদের জন্য জায়গাটি আরও উপযোগী হতে পারে।
 
তবে উন্নয়নের নামে যাতে চরের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ নষ্ট না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত কংক্রিট স্থাপনা, অপরিকল্পিত দোকানপাট কিংবা প্লাস্টিক ও বর্জ্যের বিস্তার এই সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
‘ইকো-ট্যুরিজম’ হতে পারে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত
মাঝের চরকে প্রচলিত পর্যটনকেন্দ্রের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব বা ইকো-ট্যুরিজম গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
 
 দেশীয় বৃক্ষরোপণ, পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক জলাধার ও সবুজ এলাকা রক্ষা, নির্দিষ্ট হাঁটার পথ এবং প্লাস্টিকবিরোধী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এখানে প্রকৃতিনির্ভর পর্যটনের পরিবেশ তৈরি করা যেতে পারে।
এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পর্যটকরা শুধু বিনোদনের জন্য নয়, প্রকৃতি ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য দেখতেও এখানে আসতে পারেন।
 
 শিক্ষার্থী, প্রকৃতিপ্রেমী, আলোকচিত্রী ও গবেষকদের জন্যও জায়গাটি আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
বদলাতে পারে স্থানীয় অর্থনীতির চিত্র
মাঝের চরকে ঘিরে পর্যটন কার্যক্রম চালু হলে এর সুফল স্থানীয় মানুষের কাছেও পৌঁছাতে পারে। নৌযান পরিচালনা, স্থানীয় পর্যটক গাইড, খাবারের দোকান, স্থানীয় কৃষিপণ্য ও হস্তশিল্প বিক্রি, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয় নারীদের তৈরি খাদ্যপণ্য বা হস্তশিল্প, কৃষকের উৎপাদিত পণ্য এবং স্থানীয় ঐতিহ্যভিত্তিক খাবার পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করা গেলে পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব।
 
 এতে একদিকে যেমন স্থানীয় উদ্যোক্তারা লাভবান হবেন, অন্যদিকে পর্যটকরাও একটি এলাকার নিজস্ব সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
যোগাযোগ ও নিরাপত্তায় গুরুত্ব
তবে মাঝের চরকে পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সবচেয়ে বড় বিষয়গুলোর একটি হবে নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা। নদীপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নৌযান, নিরাপদ নৌঘাট, লাইফ জ্যাকেট, আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্কতা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা নির্দেশিকা, পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক তথ্যফলক এবং জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা রাখা দরকার। পর্যটন মৌসুমে অতিরিক্ত মানুষের চাপ সামাল দেওয়ার সক্ষমতাও পরিকল্পনার অংশ হওয়া উচিত।
 
প্রয়োজন সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
মাঝের চরকে পর্যটন সম্ভাবনার আলোচনায় আনতে স্থানীয় প্রশাসন, পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রথমে একটি বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করে চরের পরিবেশগত ঝুঁকি, যোগাযোগ, ভূমির ব্যবহার, পর্যটক ধারণক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্ধারণ করা যেতে পারে।
এরপর পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত পরিসরে পর্যটন কার্যক্রম শুরু করে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে উন্নয়ন করা যেতে পারে। এতে একদিকে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতির ঝুঁকিও কমবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পায়রা নদীর বুকের এই প্রাকৃতিক ভূখণ্ডের সম্ভাবনাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। পর্যটন উন্নয়নের পাশাপাশি মাঝের চরের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
 
প্রকৃতির সৌন্দর্যকে পুঁজি করে নয়, প্রকৃতিকে রক্ষা করেই পরিকল্পিত পর্যটন গড়ে তোলা গেলে মাঝের চর ভবিষ্যতে আমতলীর পর্যটন মানচিত্রে নতুন একটি আকর্ষণ হিসেবে জায়গা করে নিতে পারে। পায়রা নদীর জলরাশির মাঝখানে সবুজে ঘেরা এই চর তখন শুধু স্থানীয় মানুষের পরিচিত একটি ভূখণ্ড নয়—হয়ে উঠতে পারে উপকূলীয় বাংলাদেশের প্রকৃতি, নদী ও মানুষের জীবনকে কাছ থেকে দেখার একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে প্রথম প্ল্যানটেইন থেকে নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ব্রয়লার মাংস উৎপাদনে বাকৃবির সাফল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাকৃবি প্রতিনিধি

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ পি.এম


দেশে প্রথম প্ল্যানটেইন থেকে নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ব্রয়লার মাংস উৎপাদনে বাকৃবির সাফল্য
ব্রয়লার মুরগির উৎপাদনে কৃত্রিম মেডিসিনের বিকল্প হিসেবে ঔষধি উদ্ভিদ প্ল্যানটেইন ব্যবহার করে নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ব্রয়লার মাংস উৎপাদনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। প্রায় দুই দশকের ধারাবাহিক গবেষণায় প্ল্যানটেইনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ঔষধি বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে ‘বাউ-প্লান্টিভ’ নামে একটি ফাইটোজেনিক ফিড অ্যাডিটিভ তৈরি করেছেন তারা। এটি ব্যবহারে ব্রয়লার মাংসে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি মাংসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য ও হিট স্ট্রেস সহনশীলতা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশে প্ল্যানটেইনের বীজ উৎপাদন, চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও খামারে ব্যবহারের সম্ভাব্য একটি দেশীয় ভ্যালু চেইন গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করেছেন গবেষকরা।

গবেষণাটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রকল্প পরিচালক ও বাকৃবির এনিমেল নিউট্রিশন বিভাগের ড. মোহাম্মদ আল-মামুন। সহযোগী গবেষক হিসেবে রয়েছেন উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. তামান্না হক। গবেষণায় স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও যুক্ত রয়েছেন। বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস (বিএএস)-ইউএসডিএ অর্থায়নে ‘সাসটেইনেবল কমার্শিয়ালাইজেশন অব প্ল্যানটেইন অ্যান্ড সিড ভ্যালু চেইন ডেভেলপমেন্ট ফর সেফ অ্যান্ড ফাংশনাল ব্রয়লার মিট প্রোডাকশন’ প্রকল্পের আওতায় গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে।

ড. মোহাম্মদ আল-মামুন বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো প্রাকৃতিকভাবে নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন পোল্ট্রি মাংস উৎপাদন করা। প্রচলিত ব্রয়লার উৎপাদনে ব্যবহৃত কৃত্রিম মেডিসিন, ভিটামিন ও গ্রোথ প্রমোটরের বিকল্প হিসেবে আমরা প্ল্যানটেইন নিয়ে গবেষণা করছি। আমাদের লক্ষ্য শুধু বাউ-প্লান্টিভ বাজারে আনা নয়, বরং প্ল্যানটেইন থেকে বীজ, বীজ থেকে ফিড, ফিড থেকে কার্যকরী মাংস এবং গবেষণা থেকে একটি টেকসই বাংলাদেশভিত্তিক বাণিজ্যিক সিড-টু-মিট ভ্যালু চেইন তৈরি করা।’

ড. আল-মামুন বলেন, ‘বাউ-প্লান্টিভ খাওয়ানো ব্রয়লারের হাড়ের গঠন শক্তিশালী হয় এবং হাড়ে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও আয়রনের পরিমাণ বাড়ে। মুরগির দৈহিক তৎপরতাও বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি পালক ঘন ও উজ্জ্বল হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব মুরগির মাংসে স্বাস্থ্যকর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বা আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিডের পরিমাণ প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে মাংসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য বাড়ে এবং গরমের ধকল বা হিট স্ট্রেস সহ্য করার সক্ষমতাও উন্নত হয়। গবেষণার প্রতিটি ট্রায়ালে প্রায় ৪৫০টি করে ব্রয়লার মুরগি নিয়ে ৩৫ দিন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এভাবে তিনটি পৃথক পর্যায়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। ময়মনসিংহ ও মানিকগঞ্জে উন্মুক্ত মাঠের পাশাপাশি এসি ও নন-এসি গ্রিনহাউসেও প্ল্যানটেইন চাষ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে প্ল্যানটেইন উৎপাদনের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে।

গবেষক বলেন, প্ল্যানটেইন চাষের ক্ষেত্রে বীজের আমদানিনির্ভরতা ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আমদানিকৃত প্যারেন্টাল বীজ দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতি একরে মাত্র আড়াই কেজি বীজ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে প্রথম প্রজন্মের (জি-১) বীজ উৎপাদন বেড়ে প্রায় ১৪০ কেজিতে এবং দ্বিতীয় প্রজন্মে (জি-২) প্রতি একরে প্রায় ২০০ কেজিতে পৌঁছেছে। বর্তমানে এক একর প্ল্যানটেইন থেকে উৎপাদিত বীজ দিয়ে প্রায় ৮০ একর জমিতে নতুন করে চাষ করা সম্ভব। ফলে ভবিষ্যতে আমদানিকৃত বীজের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশে প্ল্যানটেইনের বীজের একটি শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

 প্ল্যানটেইনকে প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে দেশীয় কয়েকটি ঔষধি উদ্ভিদের সমন্বয়ে ‘বাউ-প্লান্টিভ’ নামে ফাইটোজেনিক ফিড অ্যাডিটিভ তৈরি করা হয়েছে। ব্রয়লার ও দেশি মুরগির ওপর ধারাবাহিক পরীক্ষায় এর ইতিবাচক প্রভাব পাওয়া গেছে। প্রচলিত কৃত্রিম অ্যাডিটিভের তুলনায় বাউ-প্লান্টিভ ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয়ও কিছুটা কমে। প্রচলিত মেডিসিন ব্যবহারে প্রতি মুরগিতে গড়ে সাড়ে ৮ টাকা খরচ হলেও বাউ-প্লান্টিভ ব্যবহারে তা প্রায় ৭ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

ড. আল-মামুন বলেন, ‘বাংলাদেশে প্ল্যানটেইন নিয়ে গবেষণার কাজ আমিই প্রথম শুরু করি। ২০০৪ সালে জাপানে পিএইচডি করার সময় থেকেই এই ভেষজ নিয়ে কাজ করছি। ব্রয়লার মুরগিতে প্ল্যানটেইনের ব্যবহার বাংলাদেশ তো বটেই, বিশ্বেও প্রথমবারের মতো আমরা করেছি। জাপানে গবেষণার সময় প্ল্যানটেইনের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু হলেও পরে বাংলাদেশে এর চাষ, ব্যবহার ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করা হয়েছে। আমাদের তৈরি বাউ-প্লান্টিভ এখন গবেষণাগার থেকে খামার পর্যায়ে প্রয়োগের পর্যায়ে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন মূল চ্যালেঞ্জ বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ। সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বীজ কোম্পানি, ফিড মিল, পোল্ট্রি শিল্প, এনজিও ও বাজার ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি আধুনিক প্রসেসিং, ব্লাস্ট ফ্রিজিং ও কোল্ড-চেইন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ উদ্যোগ সফল হলে একদিকে নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ পোল্ট্রি মাংস উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে প্ল্যানটেইন বীজ ও ফিড অ্যাডিটিভ শিল্পের বিকাশ, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।’

প্ল্যানটেইন একটি ঔষধি উদ্ভিদ। এতে গ্লাইকোসাইড, ক্যাটালপলসহ বিভিন্ন বায়োঅ্যাক্টিভ যৌগ রয়েছে। উদ্ভিদটির শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত প্ল্যানটেইনের বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদানের মান জাপানে উৎপাদিত প্ল্যানটেইনের কাছাকাছি বলে গবেষণায় দেখা গেছে। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় অক্টোবর থেকে মে পর্যন্ত প্রায় আট মাস এটি চাষ করা সম্ভব।

গবেষক বলেন, ‘বাউ-প্লান্টিভ’ প্ল্যানটেইন ও দেশীয় কয়েকটি ঔষধি ভেষজের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটির কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিলে এবং চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। গবেষণার বিভিন্ন ফলাফল নিয়ে ‘পোল্ট্রি সায়েন্স জার্নাল’ ও ‘ইতালিয়ান জার্নাল অব অ্যানিমেল সায়েন্স’সহ বিভিন্ন সাময়িকীতে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। উদ্ভাবিত প্রযুক্তির পেটেন্টের জন্যও আবেদন করা হয়েছে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার ফার্মগেটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে প্রকল্পটির সমাপনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের (বিএএস) সভাপতি অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএএসের সহ সভাপতি অধ্যাপক ড. জেড এন তাহমিদা বেগম । প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. মোহাম্মদ আল-মামুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা মো বয়জার রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম বলেন, একটি ভালো কৃষি প্রযুক্তি বা উন্নত জাত উদ্ভাবনে দীর্ঘ সময় ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। বিশ্বজুড়ে কৃষি উৎপাদনে ধান, গমসহ বিভিন্ন ফসলে বহুগুণ ফলন বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশেও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। উন্নত বিশ্বে বেসরকারি খাতের অর্থায়নেই সিংহভাগ গবেষণা পরিচালিত হয়। বাংলাদেশেও জিন এডিটিং, হাইব্রিড জাত ও গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি সম্প্রসারণে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠপর্যায়ে পাইলটিং ও রিফাইনমেন্টের মাধ্যমে কৃষকের ব্যবহারের উপযোগী করতে হবে। নতুন প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশিকা বা ম্যানুয়াল প্রস্তুত করতে হবে। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (ডিএলএস) ও সম্প্রসারণ সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তিন ধাপে কার্যকর প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে।
 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হামের উপসর্গে একদিনে ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩১০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


হামের উপসর্গে একদিনে ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩১০

হামের উপসর্গে সারাদেশে (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩১০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে সোমবার বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী—চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯৮ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ১০১ জন।

১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশের হাসপাতালগুলোয় মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৯ জন হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ৭০৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মান্না: দেশের বিভিন্ন স্থানে চলছে ‘অত্যাচারের উৎসব’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


মান্না: দেশের বিভিন্ন স্থানে চলছে ‘অত্যাচারের উৎসব’

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না দেশের বিভিন্ন স্থানে খুন, ধর্ষণ, হামলা, গ্রেপ্তার ও মানুষের নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, গণঅভ্যুত্থানের পর যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কার এবং সংবিধান বিতর্ক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

মান্না জানান, রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলা হলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তার ভাষায়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় এখন ‘অত্যাচারের উৎসব’ চলছে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—কেউই নিরাপত্তার বাইরে নয়।

সালমান মুক্তাদিরের একটি ভিডিওর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রতি তার স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় একটি পরিবারের পাশাপাশি সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মান্নার ভাষ্য, স্টুডিওটি পুনর্নির্মাণের সামর্থ্য মালিকের থাকলেও সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের জীবিকা কী হবে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

একইভাবে একটি বাড়ি ভেঙে দেওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে মান্না বলেন, সেখানে এক মা ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। গণঅভ্যুত্থানের পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা ছিল কি না—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।

নিজ দলের এক নেতার গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি। তিনি জানান, শিবগঞ্জ উপজেলা নাগরিক ঐক্যের সেক্রেটারিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বিষয়টি জানতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, পুলিশের কাছে কোনো মামলা নেই; আদালতে মামলা হয়েছে। পরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন না হওয়ার পাশাপাশি জজকোর্টও কয়েক দিন বসেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ পরিস্থিতিকে বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে মান্না প্রশ্ন তোলেন, একজন রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করার পর মামলার কপি না দেওয়া এবং আদালতের কার্যক্রম না চলার বিষয়টি কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার চাপ কমছে না। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

মান্না বলেন, এসব বিষয়ে কথা বললে কেউ কেউ তাকে বিএনপির বিরোধিতাকারী হিসেবে দেখাতে পারেন। তবে তার দাবি, তিনি কোনো দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন না; বরং দেশের পরিস্থিতি নিয়ে সত্য কথাই বলছেন। বিএনপি ব্যর্থ হলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে উল্লেখ করে তিনি দলটির সফলতাও কামনা করেন।

রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে মান্না বলেন, এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রয়োজন যেখানে গণতন্ত্র ও সংবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ না হলে ভবিষ্যতে আবারও স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গণভোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংবিধান পরিষদ গঠনের কথা ছিল। সংবিধানের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনের পক্ষ থেকে আরেকটি গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে—এমন বক্তব্য এসেছে বলেও উল্লেখ করেন মান্না।

বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে ‘গায়ের জোরে’ কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে কাজ করার যে কথা বলা হয়েছিল, সেটিও বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের সেক্রেটারি শহিদুল্লাহ কায়সার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিল্লুর চৌধুরী দীপু ও দেলোয়ার হোসেন রাজাসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জে আসিফ মাহমুদের রিট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জে আসিফ মাহমুদের রিট

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরুর প্রেক্ষাপটে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ বলে যে বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে এবং গণমাধ্যমে তা প্রচারের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি ২৪-এর গণ অভ্যুত্থানের অন্যতম সমন্বয়ক, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় (রিট পিটিশন নং ১৩৮৮৫/২০২৬) আসিফ মাহমুদের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা এই রিট দায়ের করেন। রিটে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, কমিশনের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) এবং সহকারী পরিচালককে (জনসংযোগ কর্মকর্তা) বিবাদী করা হয়েছে।

আইনজীবী জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর এবং ১৩ সেপ্টেম্বর দুদক কর্তৃক অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ের আইনি কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এই রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে তিনটি প্রধান বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা ও প্রতিকার চাওয়া হয়েছে। প্রথমত, অনুসন্ধান বা তদন্ত শুরু হওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তার আইনগত কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে কেন তা বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সেই মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আসিফ মাহমুদ বা অন্য কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে তদন্ত বা অনুসন্ধান চলাকালীন প্রেস ব্রিফিং করে সম্মানহানি, প্রোপাগান্ডা কিংবা ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ পরিচালনা থেকে বিরত রাখতে দুদক ও সংশ্লিষ্টদের ওপর নির্দেশনার আবেদন করা হয়েছে।

তৃতীয়ত, আইনজীবী উল্লেখ করেন যে, সংবাদ সম্মেলনে জনসমক্ষে আসিফ মাহমুদের মর্যাদা ও সুনামের অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে, সেই কারণে একই গুরুত্ব ও প্রচার দিয়ে দুদককে পুনরায় প্রেস ব্রিফিং করে ভুল স্বীকার করার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। এতে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে অভিযুক্ত করার বা প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার দাবি করার মতো যে আইনি কর্তৃত্ব দুদকের নেই—তা স্পষ্ট করে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার আবেদন জানানো হয়।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী কোনো অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ কেবল অনুসন্ধান শেষে উঠে আসতে পারে। কিন্তু অনুসন্ধানের শুরুতেই দুদকের উপ-পরিচালক ও সহকারী পরিচালক আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ, পদোন্নতি বাণিজ্য, ডিএনসিসির প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন ও বিদেশে অর্থপাচারসহ বহুবিধ অভিযোগ তুলে ব্রিফিং করেন। এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের পক্ষ থেকে উক্ত বক্তব্যকে 'স্লিপ অব দ্য টাং' বা অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বলা হলেও গণমাধ্যমে তার কোনো আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট প্রত্যাহার বা বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়নি।

আইনজীবী আরও জানান, এই ধরনের প্রোপাগান্ডা সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা নাগরিকের জীবন, মান-মর্যাদা ও সুনামের সুরক্ষার যে মৌলিক অধিকার রয়েছে, তার সরাসরি লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এটি দুদকের ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১’-এর নীতিমালারও স্পষ্ট ব্যত্যয়।

আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, উত্থাপিত অভিযোগগুলো অবাস্তব। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির যে বিষয়টি আনা হয়েছে, তা তার পদত্যাগের (১১ ডিসেম্বর ২০২৫) প্রায় পাঁচ মাস পর (১১ মে ২০২৬) কার্যকর হয়, ফলে সেখানে তার সম্পৃক্ততা আইনগতভাবে অসম্ভব। রিটে অভিযোগ করা হয়, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে তার প্রার্থিতা ঘোষণার পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই 'মিডিয়া ট্রায়াল' শুরু করা হয়েছে।

হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে রিট আবেদনটি জমা দেওয়া হয়েছে। আইনজীবীদের প্রত্যাশা, শিগগিরই এই রিটের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%