শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:৩৯ এম
জুমার দিন মুসলমানদের জন্য সপ্তাহের সেরা ও বরকতময় দিন হিসেবে বিবেচিত হয়। এই বিশেষ দিনে জুমার ফরজ নামাজের দুই রাকাতের পাশাপাশি সুন্নাত নামাজ আদায় করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও সওয়াবের কাজ। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে— জুমার সুন্নত নামাজের সংখ্যা আসলে কত রাকাত এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তার সাহাবিরা এ বিষয়ে কী আমল করেছেন?
১. প্রতিদিন ১২ রাকাত সুন্নতের ফজিলত
সাধারণ দিনগুলোর মধ্যে ফরজ নামাজের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তার সাহাবিরা নিয়মিত ১২ রাকাত সুন্নত গুরুত্বের সঙ্গে (মুআক্কাদা) আদায় করতেন। এই নামাজগুলোর অপরিসীম ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত খুশী হয়ে একটি সুখবর দিয়েছেন। সাধারণ দিনে ১২ রাকাত সুন্নত যেভাবে আদায় করতে হয়—
ফজর: ফরজের পূর্বে ২ রাকাত সুন্নত।
জোহর: ফরজের পূর্বে ৪ রাকাত ও ফরজের পরে ২ রাকাত সুন্নত।
মাগরিব: ফরজের পরে ২ রাকাত সুন্নত।
ইশা: ফরজের পরে ২ রাকাত সুন্নত।
২. জুমার দিনে সুন্নত নামাজের সঠিক হিসাব
জুমার আগে: ৪ রাকাত সুন্নত।
জুমার পরে: ৪ রাকাত সুন্নত।
কিছু আলেমের মতে, জুমার পরে ৬ রাকাত সুন্নত আদায় করা উত্তম। তবে অধিকাংশ আলেমের মতামত হলো— জুমার পর ৪ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা এবং অতিরিক্ত ২ রাকাত পড়া সুন্নতে জায়েদা বা গায়রে মুআক্কাদা।
৩. জুমার পূর্বের ৪ রাকাত সুন্নতের দলিল
জুমার ফরজ নামাজের পূর্বে ৪ রাকাত সুন্নত আদায়ের ভিত্তি সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়িদের আমল থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) জুমার আগে নিয়মিত চার রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করতেন। এছাড়া প্রখ্যাত তাবেয়ি হজরত ইবরাহিম নাখঈ (রহ.) উল্লেখ করেছেন যে, সাহাবায়ে কেরাম জুমার মূল ফরজের পূর্বে চার রাকাত সুন্নত আদায় করতেন।
৪. কুরআন ও হাদিসের আলোকে সুন্নত নামাজের দলিল
সুন্নত নামাজের মর্যাদা এবং দৈনন্দিন ১২ রাকাতের গুরুত্ব সম্পর্কে হাদিসে সরাসরি বিবরণ এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতিদিনের ১২ রাকাত সুন্নত আদায়ের ফজিলত বর্ণনা করে বলেছেন—
مَنْ صَلَّى اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً فِي يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ بُنِيَ لَهُ بِهِنَّ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ
‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন ও রাতে (ফরজ ব্যতীত) ১২ রাকাত (সুন্নত) নামাজ আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে।’ (মুসলিম ৭২৮)
সাধারণ দিনের সুন্নত বণ্টনের হাদিস
রাসুলুল্লাহ (সা.) এ ১২ রাকাতের সময়সীমা ও বণ্টন নির্দেশ করে ইরশাদ করেছেন—
أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاةِ الْفَجْرِ
‘চার রাকাত জোহরের ফরজের আগে, দুই রাকাত জোহরের ফরজের পরে, দুই রাকাত মাগরিবের ফরজের পরে, দুই রাকাত ইশার ফরজের পরে এবং দুই রাকাত ফজরের ফরজের আগে।’ (তিরমিজি ৪১৫)
হজরত আবু উবাইদ (রহ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بن مسعود، أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ الْجُمُعَةِ أَرْبَعًا
‘আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) জুমার পূর্বে চার রাকাত নামাজ আদায় করতেন।’ (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা ৫৪০২২)
এ ছাড়া প্রখ্যাত তাবেয়ি হজরত ইবরাহিম নাখঈ (রহ.) সাহাবিদের সুন্নত আদায়ের আমল সম্পর্কে বলেছেন—
كَانُوا يُصَلُّونَ قَبْلَ الْجُمُعَةِ أَرْبَعًا
‘সাহাবায়ে কেরাম জুমার পূর্বে চার রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করতেন।’ (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা ৫৪০৫)
জুমার দিনটি ইমানদারদের জন্য আনন্দের ও সাওয়াব অর্জনের এক অবারিত সুযোগ। জুমার ফরজের দুই রাকাতের পাশাপাশি জুমার পূর্বে ৪ রাকাত এবং জুমার পরে ৪ রাকাত (কিংবা অতিরিক্ত আরও ২ রাকাতসহ ৬ রাকাত) সুন্নত আদায়ের মাধ্যমে আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও সাহাবিদের অনুসৃত পথের সঠিক অনুসরণ করতে পারি। জুমার দিনের এই মহান আমলগুলো যেন আল্লাহর নৈকট্য ও জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম অর্জনে সহায়ক হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকাতে প্রতিদিনই কেনাকাটার জন্য কোথাও না কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তবে, কোনো মার্কেটে যাওয়ার আগে ওই এলাকার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন সম্পর্কে জানা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায়, বিড়ম্বনায় পড়তে হতে পারে আপনাকে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) তারিখে জানুন, কোন কোন মার্কেট, শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে।
যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে
আজিমপুর সুপার মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, চকবাজার, বাবুবাজার, নয়াবাজার, কাপ্তানবাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠ বাজার, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ইসলামপুর কাপড়ের দোকান, ছোট কাঁটারা, বড় কাঁটারা হোলসেল মার্কেট, শারিফ ম্যানসন, ফুলবাড়িয়া মার্কেট ও সান্দ্রা সুপার মার্কেট।
বন্ধ থাকবে যেসব এলাকার দোকানপাট
আহসান মঞ্জিল, লালবাগ, কোতোয়ালি থানা, ওয়ারী, বংশাল, নবাবপুর, সদরঘাট, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, শাঁখারী বাজার, চাঁনখারপুল, বাংলাবাজার, পাটুয়াটুলী, ফরাশগঞ্জ, শ্যামবাজার, জুরাইন, করিমউল্লাহবাগ, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, মীরহাজীরবাগ, দোলাইপাড়, টিপু সুলতান রোড, ধূপখোলা, গেণ্ডারিয়া, দয়াগঞ্জ, স্বামীবাগ, ধোলাইখাল, জয়কালী মন্দির, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ ও গুলিস্তানের দক্ষিণ অংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বাজারে সোনার দাম কমে গেছে। সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিপ্রতি সোনার দাম সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়েছে। নতুন কোনো ঘোষণা না আসায় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নির্ধারিত দামেই সোনা বিক্রি হবে।
বাজুসের নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৫৭৫ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোনার পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ২৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৮৪৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৫০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। সোনা ও রুপার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। তবে অলংকারের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে স্বর্ণের অলংকারে ৫ শতাংশ এবং রুপার অলংকারে ৬ শতাংশ ভ্যাট ছাড়ের বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ১৩ অক্টোবর সোনার দাম কমানো হয়েছিল। সে সময় ভরিতে ৩ হাজার ০২৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, এক ভরি সোনা বা রুপার ওজন ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মোহাম্মদ সাদিক, ৫৭ বছর বয়সী, আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের বাসিন্দা, ৫৮ সন্তানের বাবা। চার স্ত্রীর সঙ্গে বিশাল এই পরিবারের ভরণপোষণ করতে গিয়ে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অর্থের অভাবে কখনো কখনো পরিবারের কিছু শিশু ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে বাধ্য হয়। খবর খামা প্রেস এজেন্সির।
বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাদিকের জন্য নিজের সব সন্তানের নাম মনে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। খাবার খাওয়ার সময় কখনো কখনো তাকে পরিবারের সদস্যদের গুনে দেখতে হয়। তখন দেখা যায়, কিছু সন্তান বাড়িতে নেই। দীর্ঘ সময় ধরে সাদিক ও তার স্ত্রীরা ১৪ সন্তানেরও মৃত্যু দেখেছেন।
সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তার বক্তব্য, একটি গাড়ি বিক্রি হলে তিনি প্রায় এক হাজার আফগানি আয় করেন। এই সামান্য আয়ে এত সদস্যের খাবার, পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো তার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংসারের খরচ চালাতে তার কয়েকজন সন্তানও কাজ করে। তারা কেউ কেউ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাগজ ও প্লাস্টিক সংগ্রহ করে।
পরিবারে সাধারণত দিনে দুই বেলা খাবার রান্না হয়। রান্নার দায়িত্ব পালন করেন দুই স্ত্রী। শীতকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে একসঙ্গে খাবার খান, আর গ্রীষ্মকালে উঠানে জড়ো হন। ঘুমানোর ব্যবস্থা অপ্রতুল। কখনো ছয়-সাতজনকে একটি পাতলা কম্বল ভাগাভাগি করে ঘুমাতে হয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে পরিবারের বসবাসের পরিবেশের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। বাড়ির ঘরগুলোতে প্রচলিত দরজা-জানালা নেই। দরজার পরিবর্তে পাতলা পর্দা ব্যবহার করা হয়। গোসলের স্থানটি কাপড় ও থালাবাসন ধোয়ার কাজে ব্যবহৃত হয় এবং কখনো কখনো শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
এত প্রতিকূলতার মধ্যেও সাদিক সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর চেষ্টা করছেন। তবে শিক্ষার ব্যয় বহন করা তার পরিবারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাদিকের বক্তব্য অনুযায়ী, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তিনি বড় পরিবার গড়তে চেয়েছিলেন। তবে এত সন্তানের নাম মনে রাখা ও তাদের দেখাশোনা করা যে কতটা কঠিন, সে বিষয়েও তিনি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
একবার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে এক ধর্মীয় নেতার কাছে ভুল করে তিনি এক মেয়ের পরিবর্তে অন্য মেয়ের নাম বলে ফেলেন। প্রায়ই সন্তানদের নাম মনে করতে না পেরে তাদের ‘আমার ছেলে’ বা ‘আমার সন্তান’ বলে ডাকেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাদিকের চার স্ত্রী যখন তাকে বিয়ে করেন, তখন তাদের বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। প্রথম বিয়ের সময় সাদিকের বয়স ছিল ২০ বছর। প্রতিটি বিয়ের আগে কনের বিয়ের মূল্য বা দেনমোহরের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে তাকে দীর্ঘ সময় ধরে সঞ্চয় করতে হয়েছে।
সাদিকের পরিবারের পরিস্থিতি বাল্যবিবাহ, অল্প বয়সে গর্ভধারণ এবং বারবার সন্তান জন্মদানের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগের বিষয় তুলে ধরেছে। কৈশোরে গর্ভধারণ মায়েদের জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। ঘন ঘন গর্ভধারণ নারীর শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সীমাবদ্ধতা এসব ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সাদিক জানান, তিনি পড়তে বা লিখতে পারেন না। পরিবারের সদস্যদের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তার জন্য তিনি সরকার, ত্রাণ সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন।
তার প্রধান চাওয়া হলো, সন্তানরা যেন শিক্ষার সুযোগ পায় এবং পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়। বিশাল পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার এই সংগ্রামে তিনি এখন আর্থিক সহায়তাকেই বড় ভরসা হিসেবে দেখছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বের বিভিন্ন শহরের মতো, ঢাকাও দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণের সমস্যায় ভুগছে। এই পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নগরায়ন এবং যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বাতাসের মান নিয়মিত আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে থাকে।
চলতি মাসের অধিকাংশ সময় ঢাকার বায়ু অসাস্থ্যকর অবস্থায় ছিল। তবে আজ দূষণের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সূচকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার অবস্থান বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ১২তম। এ সময় শহরের বায়ুমানের স্কোর ছিল ১৪৪, যা শুধুমাত্র সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত। গত বৃহস্পতিবার ঢাকার বায়ুমান ছিল ১৭৩। এই হিসাবে, গতকালের তুলনায় আজ বাতাসে দূষণের মাত্রা অনেকটা কম বলা যায়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমান ওঠানামা করতে পারে।
তালিকার শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, যার বায়ুমানের স্কোর ছিল ২৮৮, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’। ভারতের দিল্লিতেও বায়ুদূষণের ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে, শহরটির বায়ুমানের স্কোর ছিল ২৪৩, ফলে এই শহরের বাতাসও ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এদিকে, বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর এমন আটটি শহরের মধ্যে রয়েছে- ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি, মিশরের কায়রো, ইন্দোনেশিয়ার মেদান, কাতারের দোহার, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, ভারতের মুম্বাই ও কলকাতা এবং সেনেগালের ডাকার।
ঢাকার মতো বায়ুমান সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, এমন ১২টি শহরও রয়েছে। এগুলো হলো- কঙ্গোর কিনশাসা, ভিয়েতনামের হেনোয়, বাহারাইনের মানামা, আরব আমিরাতের দুবাই, উজবেকিস্তানের তাশকেন্ত, চীনের বেইজিং, সৌদি আরবের রিয়াদ, সিঙ্গাপুরের সিঙ্গাপুর, কুয়েতের কুয়েত সিটি, পাকিস্তানের করাচি, যুক্তরাষ্ট্রের হিউসটন এবং নেপালের কাঠমান্ডু।
একটি শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, তা জানিয়ে থাকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। প্রতিষ্ঠানটির মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘অনেক ভালো’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে ‘মাঝারি বা সহনীয়’ ধরা হয়।
১০১ থেকে ১৫০ স্কোর ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে তা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে গণ্য হয়। স্কোর ৩০১-এর বেশি হলে সেটি ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
যখন বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর হয়, তখন শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘক্ষণ বাইরে অবস্থান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ