১০:১৪ পি.এম
ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঘাটারচর এলাকায় একটি কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়ি হারানো ও চালককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও চালকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তাদের নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। এই সময় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুসসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
সোমবার মধ্যরাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ঘাটারচর এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালে কুরিয়ার সার্ভিসের অফিসের সামনে পরিস্থিতি থমথমে ছিল। বিচার দাবিতে শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে সড়কে অবস্থান নেন।
আরও পড়ুন: লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল
শ্রমিকদের অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যায় কুরিয়ার সার্ভিসের চালক শাহ আলম একটি গাড়ি নিয়ে ঘাটারচর থেকে বের হন। ভ্রমণের সময় নাস্তা করতে গিয়ে তার গাড়িটি হারিয়ে যায়। পরে তিনি কোম্পানির কার্যালয়ে গিয়ে জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে গাড়িটি শনাক্ত করার অনুরোধ করেন কিন্তু কর্মকর্তারা তার কথা বিশ্বাস না করে তাকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে কুরিয়ার সার্ভিসের শ্রমিক ও চালকরা অফিসের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করে। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কিছু যানবাহনের ওপর ভাঙচুরেরও ঘটনা ঘটে, যা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি রুহুল কুদ্দুস, এসআই মামুন, মোহাম্মদ সোহাগ, কনস্টেবল জয়নাল এবং শ্রমিক ও পথচারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শ্রমিক প্রতিনিধি আনোয়ার এবং চালক রুবেল বলেছেন, আমরা চালক শাহ আলমের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে আন্দোলন করছি। বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনেক শ্রমিক কাজে ফিরে যাবে না।
আরও পড়ুন: নোয়াখালী সদর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি রুহুল কুদ্দুস বলেছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছে। এ সময় উত্তেজিত শ্রমিকরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে আমিসহ আমার এসআই মামুন, সোহাগ ও কনস্টেবল জয়নাল, শ্রমিক এবং পথচারী মিলিয়ে অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় থানায় চালক শাহ আলমের স্ত্রী ময়না আক্তার এবং আটি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জলিল পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন