ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়াদের উদ্ধারে নেপাল সেনাবাহিনীর অভিযান


জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়াদের উদ্ধারে নেপাল সেনাবাহিনীর অভিযান

ঢাকা, ২৮ আগস্ট, ২০২৬ : দুই দিন আগে ভয়াবহ বন্যায় জলমগ্ন হয়ে পড়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা পড়া প্রায় ১০০ জনকে উদ্ধারে শুক্রবার হেলিকপ্টারে করে অভিযান চালিয়েছে নেপাল সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল।

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে খুঁজে বের করে উদ্ধার করা। ত্রিশূলী-৩ এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কয়েকজন আটকা পড়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘দুটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। তবে কাজটি কঠিন। কারণ সুড়ঙ্গের প্রবেশপথগুলো খুঁজে বের করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজও চলছে।’

আরও পড়ুন: ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সেনাবাহিনী উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রতিকূল আবহাওয়া ও দ্রুতগতির বন্যার পানির মধ্যে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন পরিস্থিতিতে কিছুক্ষণ আগে সুড়ঙ্গে আটকা পড়া ৩৫০ জন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে নেপাল সেনাবাহিনীর একটি দল সফলভাবে উদ্ধার করেছে।’

এতে বলা হয়, ‘একই সুড়ঙ্গে আটকা পড়া আরও শতাধিক মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সেনাবাহিনী এখনও কাজ করছে।’ 

উদ্ধার বা আটকা পড়া ব্যক্তিদের জাতীয়তা সম্পর্কে আর কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় ওয়াকফের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ

শুক্রবার নেপালের উত্তর সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞের বর্ণনা দিয়েছেন।

ত্রিশূলী উপত্যকার অন্যান্য বাঁধ প্রকল্প থেকে উদ্ধার হওয়া শ্রমিকরা জানিয়েছেন, অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

যে স্থানে কাজ করছিলেন সেখান থেকে আকাশপথে সরিয়ে নেওয়া দেব শ্রেষ্ঠ এএফপিকে বলেন, ‘সেখানে অন্তত ৪০০ শ্রমিক ছিলেন। যতজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন।’

শ্রমিক বুদ্ধ তামাং বলেন, বন্যার পানি আঘাত হানার সময় তিনি বাঁধের একটি সুড়ঙ্গে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। পরে তিনি সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে সহায়তা পান।

আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

তামাং বলেন, ‘আমি সুড়ঙ্গে থাকায় বেঁচে গেছি।’ ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকা থাকার পর বৃহস্পতিবার তাকে আকাশপথে সরিয়ে নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘অন্য পাশে কাজ করা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সবাই পানির স্রোতে ভেসে গেছেন।’

আরেক শ্রমিক অর্জুন কুমার তামাং তিনি যেখানে কাজ করছিলেন, সেই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির’ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘কতজন মারা গেছেন জানি না। তবে পানির স্রোতের প্রচণ্ডতায় সবকিছু ভেসে গেছে।’

আরও পড়ুন: মাইশার মৃত্যুর পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, বিশেষজ্ঞ দল আসছে

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবারের এই দুর্যোগের কারণ ছিল হিমবাহ ধসে পড়া। এর ফলে বরফমিশ্রিত ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত সৃষ্টি হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে হিমবাহ গলে যাচ্ছে। এতে হিমবাহের হ্রদের বন্যা ও হিমবাহ ধসে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

ধ্বংসযজ্ঞের কারণে পার্বত্য এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সেখানে সড়ক ও সেতুই প্রায়ই চলাচলের একমাত্র পথ।

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ খাতও। চালু ও নির্মাণাধীন উভয় ধরনের বেশ কয়েকটি প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন: জিয়া এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন: এমপি হাফিজ ইব্রাহিম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার ফেরার তাগিদ চীনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৭ পি.এম


ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার ফেরার তাগিদ চীনের

নিষেধাজ্ঞার হুমকির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট ও ইরানের মধ্যে চলা সংঘাত নিরসনে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরার তাগিদ দিয়েছে চীন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, একতরফা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে এই বিরোধের সমাধান সম্ভব নয়।

নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র ইরানের বিষয়ে বলেন, আলোচনা ও সমঝোতাই একমাত্র কার্যকর উপায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চীন অবৈধ ও একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধী এবং এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান সুসংগত ও স্পষ্ট। জোরপূর্বক চাপ প্রয়োগকারী অর্থনৈতিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের অবস্থান সবসময়ই অটল।

ইরানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের পরই বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এই বিবৃতিটি এল। বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপের পরিকল্পনা আছে কি না এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, কে বলল, আমি তা করছি না? আমি তা করছি কি না, তা তো আপনারা জানেন না। আসলে সবকিছুর ঘোষণা দেওয়ার তো প্রয়োজন নেই, তাই না?

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট নিশ্চিত করেছেন, তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে। তিনি জানান, ওয়াশিংটন তার অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ উদ্যোগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ জোরদার করছে এবং প্রেসিডেন্ট সব বিকল্পই খোলা রেখেছেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, ডন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদুরোবিহীন ভেনেজুয়েলায় ভয় কমলেও দুর্ভোগ কমেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৮ পি.এম


মাদুরোবিহীন ভেনেজুয়েলায় ভয় কমলেও দুর্ভোগ কমেনি

ঢাকা, ২৮ আগস্ট, ২০২৬ : মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার আট মাস পর দেশটির মানুষের মধ্যে মিশ্র অনুভূতি বিরাজ করছে।

তার পতনে স্বস্তি এলেও চলমান অর্থনৈতিক দুর্ভোগ নিয়ে এখন অধৈর্য হয়ে উঠছেন মানুষ। অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের উদ্যোগ সত্ত্বেও দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি এখনও সংকটের মধ্যে রয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য অনিশ্চিত আয় ও আকাশছোঁয়া খাদ্যমূল্যই এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা।

কারাকাস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

মারবেলিস দালিজ ও তার স্বামী আরলিন্দো দা সিলভা একটি মিষ্টান্নের দোকান চালান। অতিমুদ্রাস্ফীতি ও নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট তাদের ব্যবসার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।

মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ‘আমাদের অনেক প্রত্যাশা ও আনন্দ ছিল,’ 

দালিজএএফপিকে বলেন, পরবর্তী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আগেই কাজ শেষ করার তাড়ায় তিনি এক গ্রাহকের জন্য দ্রুত খাবার প্রস্তুত করছিলেন।

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বাস্তবতা আমাদের সব আশা ভেঙে দিয়েছে।’

৫৪ বছর বয়সী এই মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক অল্প মুনাফায় কোনোরকমে টিকে আছেন। ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন না তিনি।

অর্থনীতি একটি বিপর্যয়। ‘আশা করি, একসময় এই পরিস্থিতি কেটে যাবে এবং আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াব।’

মূল্যবৃদ্ধি ভেনেজুয়েলাবাসীকে ‘ধ্বংস করছে’-বলিভারের ব্যাপক অবমূল্যায়নের কারণে ২০১৯ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি কার্যত ডলারনির্ভর হয়ে পড়েছে।

মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের পর অনেকেই দেশে ডলারের প্রবাহ বাড়বে বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু বলিভারে হিসাব করা বার্ষিক মূল্যস্ফীতি এখন প্রায় ৫৭৫ শতাংশ।

মূল্যবৃদ্ধি ভেনেজুয়েলাবাসীকে ‘ধ্বংস করছে’ বলে মন্তব্য করেন অধিকারকর্মী জায়দা মুজিকা।

৬১ বছর বয়সী মুজিকা এএফপিকে বলেন, ‘নিকোলাস মাদুরোকে যখন যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে গেল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ নিয়ে আমার অনেক আশা ছিল।’

তিনি বলেন, ‘তারা স্বৈরশাসককে সরিয়েছে, কিন্তু স্বৈরশাসনকে নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের জন্য উপকারী এমন কিছুই ঘটেনি।’

মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে কার্যত ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে সরকার পরিচালনা করছেন।

তিনি বিদেশি ও বেসরকারি পুঁজির জন্য বেশ কয়েকটি খাত উন্মুক্ত করেছেন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।

ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজ ইন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইইএসএ) অধ্যাপক হোসে ম্যানুয়েল পুয়েন্তে বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য এটি যথেষ্ট নয়।’

তিনি বলেন, যতদিন ভেনেজুয়েলায় ‘বিশ্বের সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি’ থাকবে, ততদিন দেশটির সমস্যাগুলো থেকেই যাবে।

মাদুরোকে আটকের খবর ৩ জানুয়ারি নিজ বাড়িতে উদযাপন করেছিলেন হাভিয়ের চাকন ও তার স্ত্রী দেলিয়া। মাদুরোর ১৩ বছরের শাসনামলে চলা দমন-পীড়নের কারণে তারা ভীত ছিলেন।

কারাকাসের ব্যস্ত কুইন্তা ক্রেসপো বাজারে এএফপিকে হাভিয়ের বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই, আমরা ভেবেছিলাম পরিবর্তন আসবে।’

৪৪ বছর বয়সী এই পোশাক প্রস্তুতকারক বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ভেনেজুয়েলায় আমরা শুধু বেঁচে আছি।’

এরই মধ্যে ২৪ জুন এক মিনিটের ব্যবধানে উত্তর ভেনেজুয়েলায় দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়।

এই দুর্যোগে ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারান। আহত হন আরও বিপুল সংখ্যক মানুষ। ধ্বংস হয় কয়েক শত ভবন।

কারাকাসের একটি বাজারে পরিচ্ছন্নতাসামগ্রী বিক্রি করেন ৪০ বছর বয়সী কারমেন রামিরেজ। ভূমিকম্পে তার বাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পিকআপ ভ্যানের পেছনে রাখা পণ্যগুলো গোছাতে গোছাতে রামিরেজ বলেন, ‘বেরিয়ে এসে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’

মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক দালিজ বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। মাদুরোর সময়ের তুলনায় এখন মানুষ কম ভয় পায়। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর ভিন্নমত দমনে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালিয়েছিলেন মাদুরো।

বাতাসে সদ্য তৈরি খাবারের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে দালিজ বলেন, এটি উদযাপনের মতো একটি বিষয়।

তিনি বলেন, ‘আগে ইনস্টাগ্রামে রাজনীতি নিয়ে একটি পোস্ট দেওয়ার সাহসও আমার ছিল না।’

‘কিন্তু এখন দিই, এখন লিখি, ‘মাদুরো চলে গেছে, কী দারুণ!’

রদ্রিগেজ দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, রাজনৈতিক বন্দিদের স্বজন এবং এমনকি বামপন্থী কর্মীরাও নিজেদের অধিকারের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ করেছেন।

নির্বাচনের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে নির্বাচিত বিরোধী নেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক রূপান্তর নিয়ে আলোচনাতেও অংশ নিচ্ছে।

তবে সবাই যে আগের চেয়ে স্বস্তিতে আছেন, তা নয়।

৫৬ বছর বয়সী সাবেক রাজনৈতিক বন্দি জেরি ওস্তোস বলেন, সরকার ‘ভিন্ন মত পোষণের কারণে এখনও মানুষকে কারাগারে রাখছে।’

মাদুরোবিরোধী একটি ব্যানার প্রদর্শনের দায়ে ওস্তোস দুই বছর কারাভোগ করেন। মার্চে মুক্তি পাওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে চলমান হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রতি মাসে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে।

সরকার জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে ১ হাজার ৪৬ জন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে বেসরকারি সংস্থা ফোরো পেনাল বলছে, এখনও প্রায় ৪০০ জন কারাগারে রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শত শত পুরুষের সামনে অন্তর্বাস পরে আমাকে নাচতে হয়েছিল: দিয়া মির্জা 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৮ পি.এম


শত শত পুরুষের সামনে অন্তর্বাস পরে আমাকে নাচতে হয়েছিল: দিয়া মির্জা 

সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে বলিউডে পা রাখা অভিনেত্রী দিয়া মির্জা অভিনয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকের কাছে পরিচিত মুখ। নানা ধরনের চরিত্রে এখনো নিয়মিত দেখা যায় তাকে।

তবে ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তুমসা নেহি দেখা’ সিনেমার ‘মুঝে তুমসে মোহাব্বত হ্যায়’ গানটি দিয়াকে নতুনভাবে আলোচনায় এনেছিল। ইমরান হাশমির সঙ্গে তার সেই গ্ল্যামারাস নাচ দর্শকের নজর কাড়লেও ক্যামেরার পেছনের অভিজ্ঞতা ছিল অভিনেত্রীর জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই গানের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন দিয়া মির্জা। তিনি জানান, সেটে উপস্থিত শত শত পুরুষের সামনে তাকে অন্তর্বাস পরে নাচের দৃশ্যের শুটিং করতে হয়েছিল। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে তিনি বেশ দ্বিধায় ও অস্বস্তিতে ছিলেন।

দিয়ার ভাষ্য, তখন নিজের শরীর নিয়ে খুব একটা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না তিনি। রক্ষণশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে এমন পোশাকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো তার জন্য সহজ ছিল না।

তবে শেষ পর্যন্ত সেই অভিজ্ঞতাই তার জীবনে আত্মবিশ্বাস ও মুক্তির অনুভূতি এনে দেয়।

দিয়া বলেন, এই শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা আমাকে এমনভাবে মুক্ত করেছিল, যা আমি কখনো আশা করিনি। নৃত্যপরিচালক বৈভবী মার্চেন্টের জন্যই আমি এই গানের শুটিং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে করতে পেরেছিলাম। সেটে যারা কাজ করছিলেন, প্রত্যেকেই আমাকে খুব নিরাপদ অনুভব করিয়েছিলেন।

পোশাক ও শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন নারী হিসেবে এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন কাজ। কারণ শত শত মানুষের সামনে তাকে অন্তর্বাস পরে ক্যামেরার সামনে নাচতে হয়েছিল।

তবে কেন শেষ পর্যন্ত তিনি সেই দৃশ্যে কাজ করতে রাজি হয়েছিলেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন অভিনেত্রী। তার মতে, একজন অভিনেতার জন্য চরিত্রের প্রয়োজন এবং চরিত্রের ভেতরের সত্যকে বোঝা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

দিয়া বলেন, বিষয়টি অস্বস্তিকর হতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। কারণ আমি বুঝতে পেরেছিলাম, একজন অভিনেতার জন্য চরিত্রের সত্যিটা খুঁজে বের করা জরুরি এবং সেই চরিত্রের মাধ্যমে কী প্রকাশ করা হচ্ছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঘরে ৫০০ জন মানুষ থাকুক বা ১ হাজার জন, সেটা আর আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।

হায়দরাবাদে রক্ষণশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠা দিয়া জানান, একসময় নিজের শরীর নিয়ে তার যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল। কিন্তু ‘তুমসা নেহি দেখা’ সিনেমার ওই গানের শুটিংই তাকে নিজের প্রতি আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

দর্শকের কাছে এটি হয়তো ছিল একটি গ্ল্যামারাস গানের দৃশ্য। তবে দিয়া মির্জার কাছে সেই অভিজ্ঞতা ছিল নিজের সীমাবদ্ধতা ভেঙে বেরিয়ে আসা, আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া এবং এক ধরনের মুক্তির অনুভূতির স্মরণীয় অধ্যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে সড়কে ঝুঁকির কারণ পরিত্যক্ত ভবন, চরম দুর্ভোগে চালক ও পথচারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী প্রতিনিধি

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৯ পি.এম


কাউখালীতে সড়কে ঝুঁকির কারণ পরিত্যক্ত ভবন, চরম দুর্ভোগে চালক ও পথচারী

পিরোজপুরের কাউখালী থেকে নেছারাবাদ, বানারীপাড়া ও গরিয়ারপাড় হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাওয়ার অন্যতম সংক্ষিপ্ত ও ব্যস্ততম সড়কে একটি জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ভবন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই ভবনটি কাউখালী বেইলি ব্রিজ সংলগ্ন সড়ক ঘেঁষে অবস্থিত, যার কারণে নিয়মিতভাবে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং ঘটছে ঘন ঘন দুর্ঘটনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবনটির মালিক একজন ব্যক্তি, যার নাম আব্দুল হক। দীর্ঘ সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ভবনটির চাল ও দেয়ালের অংশ ভাঙাচোরা হয়ে পড়েছে এবং তা সরাসরি সড়কের ওপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে প্রসারিত রয়েছে। এর ফলে সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে। ঢাকা, পিরোজপুর, খুলনা ও বরিশালগামী যাত্রী ও ভারী যানবাহনসমূহ যখন বেইলি ব্রিজ অতিক্রম করে এই অংশে পৌঁছায়, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনকে দেখতে পারে না। এতে প্রতিনিয়তই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

এলাকাবাসী ও সড়ক ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকাবাসী বারবার ভবনটি অপসারণের জন্য মালিক আব্দুল হককে অনুরোধ করেছেন। তবে তিনি কোনো তোয়াক্কা না করে ভবনটি অপসারণ করা থেকে বিরত রয়েছেন। সরকারি উদ্যোগ কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের তাগিদ সত্ত্বেও ভবনটি অপসারণ না হওয়ায় ভবন মালিকের "খুঁটির জোর" কোথায়—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাস চালক জানান, "বেইলি ব্রিজের পার হয়েই মোড় ঘেঁষে এই পুরনো ভবনটি থাকায় বিপরীত দিক থেকে গাড়ি আসলে দেখতে অসুবিধা হয়। বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গিয়েছি। দ্রুত এটি সরিয়ে ফেলা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।" এ ব্যাপারে ভবনের মালিকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে জানা গেছে, এই ভবন নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

সড়কে যাতায়াতকারী হাজারো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে, ভবনটি অপসারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও নির্বাহী কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন কাউখালীবাসী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%