০৯:০৯ এম
ভ্যাট ও করব্যवস্থার ওপর প্রস্তাবিত বিষয়গুলোর মধ্যে কিছু সংশোধনী আনা হবে, আবার কয়েকটি বিষয় প্রত্যাহার হতে পারে। এ ছাড়া, ব্যাংক হিসাব খুলতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করা এবং সঞ্চয়পত্রের ওপর করারোপ থেকে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার।
পাশাপাশি, সরকার ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে চার লাখ টাকায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। এসব সংশোধনসহ আজ সোমবার প্রস্তাবিত অর্থ বিল ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। পরে আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) সংসদে বাজেট ২০২৬-২৭ পাস করা হবে, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। অর্থ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে, ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলোর তীব্র আপত্তি, অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ এবং বাস্তবায়নের সক্ষমতার বিষয়ে প্রশ্নের কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রস্তাবিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর ও ভ্যাটব্যবস্থার পুনঃবিবেচনা করতে যাচ্ছে সরকার। খুচরা ব্যবসায় প্যাকেজভিত্তিক ভ্যাট, ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন বাধ্যতামূলক করা, ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা, আয়কর স্ল্যাব এবং জমির মূলধনী মুনাফা কর—এই পাঁচটি বিষয় আলোচনায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, সংসদে বাজেট পাসের আগেও এবং অর্থ বিলের চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় এসব প্রস্তাবে সংশোধন আসতে পারে। বাজেটে প্রস্তাব করা হয়েছিল যে, বছরে ৫০ লাখ টাকার কম বিক্রয় বা টার্নওভার রয়েছে এমন খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নির্দিষ্ট বা ‘স্পেসিফিক’ ভ্যাট ব্যবস্থা চালু করা হবে।
ব্যবসার ধরন এবং অবস্থান অনুযায়ী মাসিক এক হাজার থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত ভ্যাট নির্ধারণের পরিকল্পনা ছিল। তবে এ প্রস্তাব বাস্তবায়নে খুচরা ব্যবসায়ীদের হয়রানির আশঙ্কা এবং বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সরকার আপাতত এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারে, এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
নতুন ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, দেশে বিপুলসংখ্যক জনগণের করযোগ্য আয় নেই, কিন্তু তাদের ব্যাংকিং সেবা প্রয়োজন। টিআইএন বাধ্যতামূলক হলেই সাধারণ গ্রাহকদের ওপর অযথা প্রশাসনিক চাপ তৈরি হতে পারে।
করদাতাদের জন্য স্বস্তির খবর, ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সূত্র জানায়, করমুক্ত আয়সীমা চার লাখ টাকা হতে পারে এবং এটি ২০২৭-২৮ অর্থবছরেও বহাল থাকতে পারে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
করমুক্ত সীমা বৃদ্ধির পাশাপাশি আয়করের বিভিন্ন স্তর বা স্ল্যাবেও পরিবর্তন আনার আলোচনা চলছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের করদাতাদের ওপর করের চাপ কমাতে কিছু সমন্বয় আনা হতে পারে। জমির মূলধনী মুনাফা কর কমানোর বিষয়েও চিন্তা করা হচ্ছে। জমি উন্নয়ন প্রকল্পে ভূমির মালিকদের জন্য প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ মূলধনী মুনাফা কর কমিয়ে ৫ শতাংশ করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
যতদূর জানা গেছে, উচ্চ কর হার বহাল থাকলে ভূমি উন্নয়ন ও আবাসন খাতে বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। ব্যবসায়ীদের মতে, হঠাৎ করে নতুন কর এবং ভ্যাট ব্যবস্থা চালু হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বেশি সমস্যা হতে পারে। অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদরা কর ও ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা জানালেও, বাস্তবায়নের আগে যথাযথ গবেষণা এবং প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়েছেন।
সামগ্রিকভাবে বাজেটের বিতর্কিত কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে সরকারের নমনীয় অবস্থান ব্যবসায়ী ও করদাতাদের মধ্যে স্বস্তি তৈরির সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি সংসদে অর্থ বিল পাস এবং সরকারের শেষ মুহূর্তের পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে নির্ভর করবে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন