প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘চায়না দুয়ারি’ জালটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সিলেটের বিশ্বনাথের অঞ্চলে এর অবাধ বিপনন এবং ব্যবহার থামছে না। এর অধিক ব্যবহারের কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং অন্যান্য জলজপ্রাণীর অস্তিত্ব সংকটে পরেছে। কারেন্ট জালের তুলনায় এটি আরও বিপজ্জনক, চায়না দুয়ারি জল বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধ করতে স্থানীয় মৎস্য দপ্তরের ভূমিকা নির্বিকার। সচেতন মহল দেশীয় মাছের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে ভয়ংকর এ জাল ব্যাপকভাবে বিভিন্ন নদী, হাওর, খাল ও জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় শিকারীরা অল্প পানিতে জাল পাতে। কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে, অর্ধেক পানির নীচে এবং অর্ধেক ডাঙ্গায় জাল বিছানো হয়েছে। হালকা ও সরু বুননের ছোট ফাঁসের লম্বা জালে ধরা পড়ছে নানা প্রজাতির দেশীয় ছোট এবং বড় মাছ। জলজ প্রাণীও বাদ পড়ছে না। এই জালের কারণে প্রকৃতির উপকারী প্রাণী যেমন ব্যাঙ, সাপ, কুচিয়া, শামুক, কাঁকড়াসহ নানা ধরনের পোকা-মাকড় মারা পড়ছে।
মৎস্য শিকারীরা জানাচ্ছেন, তারা নিষিদ্ধ জানার পরও জীবিকার তাগিদে মাছ শিকারে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করছেন। কারণ এর মাধ্যমে অল্প পরিশ্রমে অধিক পরিমাণ মাছ ধরা সম্ভব। এছাড়া, এটি গোপনে গভীর জলে পাতা যায়। এজন্য চায়না দুয়ারি জালের প্রতি সকলেই ঝুঁকছেন।
বিশ্বনাথের মৎস্য উদ্যোক্তা দিলদার খান মন্তব্য করেছেন, দেশের মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করতে একটি অসাধু চক্র ভংয়কর নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করছে। তিনি সতর্ক করেছেন যে চায়না দুয়ারি জালে শুধু দেশীয় মাছই নয়, সব ধরনের জলজপ্রাণীও বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এর বিরুদ্ধে এখনই স্থানীয় প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ বিষয়ে কথা হলে বিশ্বনাথ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন কুমার ধর ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’কে বলেছেন, ‘চায়না দুয়ারি জাল সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ। মৎস্য আইনে এটির বিপণন ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। মৎস্য অধিদপ্তর থেকে এই জালের ক্ষতিকর প্রভাব ও ব্যবহার নিয়ে প্রচারণার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন