০৯:৩৩ এম
তিস্তাসহ দেশের চারটি নদীর পানি বর্তমানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। রংপুর অঞ্চলে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায়, এই অঞ্চলের নদ-নদীর পানির স্তর আরও বাড়তে সক্ষম হতে পারে। রবিবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এই তথ্যটি প্রকাশ করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বর্তমানে তিস্তা নদী ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর স্টেশনে সতর্কসীমায় অবস্থান করছে। তাছাড়া, সুরমা নদী ছাতক এবং সুনামগঞ্জ স্টেশনে, কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি স্টেশনে এবং সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা স্টেশনে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, গঙ্গা এবং পদ্মা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী পাঁচদিন ধরে এ নদীগুলোর পানির স্তর আরও বৃদ্ধি হতে পারে। তবে, পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা উপলব্ধি করা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। তবে, আগামী তিন দিনে এই অববাহিকার পানির স্তর বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হয়ে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে একটি স্বল্পমেয়াদী বন্যাবাহিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন, মনু ও যাদুকাটা নদীর পানি হ্রাস পেলেও ধলাই এবং খোয়াই নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী তিনদিন ধরে বৃদ্ধি পেয়ে চলতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায়, রংপুর বিভাগের উত্তরাঞ্চলের ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তিস্তা নদীর পানির স্তর কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। আগামী দুই দিন এই অঞ্চলের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়ে তৃতীয় দিনে স্থিতিশীল হতে পারে। তবে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে, নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যার পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।
ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, জিঞ্জিরাম, ভুলাই এবং কংস নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী তিনদিন ধরে অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ের মধ্যে নদীগুলো নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ এবং শেরপুর জেলায় সতর্কসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলস্বরূপ, নদীসংলগ্ন কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় হ্রাস পেয়েছে। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিনদিনের মধ্যে এই অঞ্চলের নদীগুলোর পানি অত্যন্ত দ্রুতভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
আরও পড়ুন: ধর্মীয় উৎসব শিশুদের নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দেয়: ডেপুটি স্পিকার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন