মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
০৭:৪৩ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ। ‘আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান, জীবন ও সুস্থতার সুরক্ষায় তাদের অবদান’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয় উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে।
কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সেক্রেটারি ও সদর উপজেলার পারগানার সভাপতি কর্নেলিয়াস মুরমু। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের তথ্য, যোগাযোগ ও প্রচার সম্পাদক প্রদীপ হেমব্রম, আদিবাসী যুবনেতা সিপোনেন মেহব্রুম, ফোরামের সম্পাদিকা মলিকা সরণ, এনজিও সিনেরিয়া ম্যানেজার ও সমাজকর্মী নিকোলাস মুরমু, আদিবাসী কোল নেত্রী কল্পনা কোল মুরমু, রেডিও মহানন্দার স্টেশন মাস্টার রেজাউল করিম টুটুলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এই শোভাযাত্রাটি শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড় থেকে শুরু হয়ে উদয়ন মোড়, নিউমার্কেট, সেন্টু মার্কেট ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (ডিসি অফিস) চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানেই পরে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ। কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্য ও প্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। সমাবেশ থেকে তারা সাত দফা দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সংবিধানে ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান; সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠন; আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ভূমি দখল বন্ধ করে কার্যকর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা; আদিবাসীদের সংস্কৃতি সংরক্ষণে রাজধানীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা; সাঁওতালসহ সকল আদিবাসী শিশুর জন্য প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত চালু করা; জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকার ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন নীতি-নির্ধারণী প্রতিষ্ঠানে আদিবাসীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া আলফ্রেড সরেন, চুডু সরেন, বাগদা ফার্মের তিন সাঁওতাল নেতা শ্যামল হেমরম, মঙ্গল মার্ডী ও রমেশ টুডু, চলেশ রিছিল, পীরেন স্নালসহ সমতল ও পাহাড়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং আদিবাসীদের ভূমি প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা। বক্তারা সমাবেশে বলেন, ‘তারা আদিবাসী, তবে আদিম নয়।’ বক্তারা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করলেও বিভিন্ন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেন। বক্তারা আরও বলেন, অনেক আদিবাসী পরিবার কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও শিক্ষা ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
এছাড়া, বক্তারা জানান যে, নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ না থাকায় শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বক্তারা বলেন, তারা নিজেদের ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ পরিচয়ের পরিবর্তে ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি চান। দীর্ঘদিনের ভূমি সমস্যা সমাধান, দখল হয়ে যাওয়া ভূমি প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং আদিবাসীদের অধিকার ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বক্তারা আহ্বান জানান।
সমাবেশ থেকে সরকারের কাছে এসব দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা খাদ্য গুদামে ধান দিয়েছিল একটি সিন্ডিকেট। খবর অনুযায়ী, নাভজান বেওয়ার স্বামী তিন বছর আগে মারা গেছেন। তার ১৫ শতকের বসতভিটা ছাড়া কোনো জমি নেই। সংসার চলে অন্যের বাড়িতে কাজ করে। বিধবা ভাতা দেওয়ার কথা বলে এলাকার দুলাল নামের এক ব্যক্তি তাকে ব্যাংকে নিয়ে যান। পরে তাকে দুটি চেক বইয়ের পাতার মাধ্যমে দুই দফায় এক হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়।
যেমন করে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়নের ছাটবাড়ী গ্রামের এই নারীর নাম উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষক তালিকায় ওঠে এলাকার একটি সিন্ডিকেটের কারসাজিতে। এই প্রতারণার মাধ্যমে কৃষকের বদলে সরকারী গুদামে নাভজান বেওয়ার নামে ধান দিয়ে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি। স্থানীয় প্রভাবশালী এবং ধান ব্যবসায়ীরাও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত।
প্রকৃত কৃষকের বদলে তালিকায় উঠে এসেছে হতদরিদ্র, ভূমিহীন, দিনমজুরসহ অকৃষকদের নাম। এতে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। খাদ্য ও কৃষি বিভাগ একে অপরের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নাগেশ্বরীতে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ৮০৭ জনের কাছে দুই হাজার ৪২৩ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। ধানের দর প্রতি মেট্রিক টন ৩৬ হাজার টাকা। এই জন্য অনলাইনে আবেদন নেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, একটি চক্র দরিদ্র, ভূমিহীন ও দিনমজুরদের নাম ব্যবহার করে প্রায় এক হাজার আবেদন করেছে বিভিন্ন সরকারি সহায়তার নামে। পরে লটারির মাধ্যমে কৃষক বাছাইয়ের সময় তালিকায় অর্ধেকের বেশি অকৃষকের নাম এসেছে।
তালিকাভুক্ত অনেকেই জানেন না, তাদের নামে আবেদন হয়েছে। পরে সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাদের ব্যাংক হিসাব খুলে এক থেকে দুই হাজার টাকা দিয়ে বিদায় দেন। তাদের নামে গুদামে ধান দেওয়ার পর সরকারি অর্থ তুলে নেয় ওই চক্রটি।
কচাকাটা ইউনিয়নের ছাটবাড়ী গ্রামের ১৬ জন ভুয়া কৃষকের সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের কারো আবাদি জমি নেই। অথচ সরকারি রেকর্ডে তারা কৃষক হিসাবেই ধরা হয়েছেন এবং খাদ্য গুদামে ধান দিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এলাকার দুলাল মিয়া কৃষি কার্ড, বিধবা কার্ড, ভিজিডি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তার নাম ভাঙিয়ে তাদের ব্যাংকে নিয়ে হিসাব খোলেন এবং ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর করান। পরে জনপ্রতি এক থেকে দুই হাজার টাকা তারা হাতে দেন।
ছাটবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা আছিয়া জানান, ‘ব্যাংকে সই নিয়ে বাইরে পান খেতে পাঠায় দিছে। পরে ওরা চেক দিয়া টাকা তুলছে। এরপর বাড়িতে এসে এক হাজার টাকা দিয়েছে।’
স্থানীয় কৃষক আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি বছরে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ ধান উৎপাদন করেন। অথচ কখনো সরকারি গুদামে ধান দিতে পারেননি। তার অভিযোগ, প্রকৃত কৃষক বাদ দিয়ে দরিদ্র মানুষের নাম ব্যবহার করে সিন্ডিকেট সরকারী লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
অভিযুক্ত দুলাল মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘শুধু কচাকাটা নয়, নাগেশ্বরীর সব ইউনিয়নেই কৃষক ধান দেননি। কৃষক ধান বিক্রি করে ব্যবসায়ীর কাছে।’ তিনি দাবি করেন, কোনো আর্থিক সুবিধা নেননি। তার দাবি, প্রভাবশালী মহলের ‘বড় ভাইদের’ নির্দেশ পালন করছেন।
নাগেশ্বরী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাউছার হাবিব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। কৃষি বিভাগের দেওয়া কৃষকের তালিকা অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ‘স্বল্প সময়ে আবেদনকারী কৃষকদের যাচাই-বাছাই করা সম্ভব নয়। কৃষক নন এমন ব্যক্তির নাম থাকলেও তারা ধান দিতে পারবেন না। এসব নাম বাতিল করে পুনরায় লটারির নিয়ম রয়েছে। তবে খাদ্য বিভাগ এসব বিষয়ে কৃষি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করেনি। তাদের জানা নেই কাদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ হচ্ছে।’
উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আট কোটি ৭২ লাখ ২৮ হাজার টাকার ধান সংগ্রহ করা হবে। এই সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানা, শাহমখদুম থানা এবং বিশেষ মাদকবিরোধী টিমের পৃথক অভিযানের মাধ্যমে ট্যাপেন্টাডল ও ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ সর্বমোট চারজন কথিত মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে, তাদের কাছে ছিল মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং মোবাইল ফোনও। একই সঙ্গে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে আরও ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
রবিবার বিকালে নগর পুলিশের মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মোঃ গাজিউর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার বিকেল পৌনে ৪টার সময় রাজপাড়া থানা পুলিশ বসুয়া বটতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মুনসুর আলীর ছেলে মো. শাকিব আহমেদকে (২৫) ২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করে।
একই দিন রাত পৌনে ৯টার দিকে কাজিহাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে লুৎফর রহমানের ছেলে মো. শাহরিয়ার রহমান আকাশকে (২৭) ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দাশপুকুর আইডি বাগানপাড়া মোড় এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডিঙ্গাডোবা, লক্ষীপুর পাঠারমোড় কাঠমিল এলাকার মৃত সাজ্জাত আলী রমজানের ছেলে মোঃ তানজিম রায়হানকে (২২) ২৭ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, একটি মোবাইল ফোন এবং মাদক বিক্রির নগদ ৩ হাজার ৫০০ টাকাসহ গ্রেফতার করে পুলিশ।
এদিকে, দিনগত রাত ২টার দিকে রাজপাড়া থানার লক্ষীপুর শেরশাহ রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে রবিউল ইসলাম বাবুর ছেলে মোঃ বিপ্লবকে (২৯) ৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির নগদ ১৩ হাজার ৮০০ টাকা এবং একটি মোবাইল ফোনসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ ছাড়া রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত নিয়মিত বিশেষ অভিযানে মোট ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৫ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, ৮ জন মাদক মামলার আসামি এবং অন্যান্য মামলার ১১ জন রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার সকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোণা, ৯ আগস্ট, ২০২৬ : ‘আদিবাসী জীবন ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সুরক্ষায় এগিয়ে আসুন’ এবং ‘আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান করি: জীবন ও সুস্থতা সুরক্ষায় এগিয়ে আসি’ এই প্রতিপাদ্যে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়েছে জেলার কলমাকান্দায়।
আজ রোববার, দিনের বেলায় উপজেলা নলছাপ্রা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (টিডব্লিউএ) কলমাকান্দা উপজেলা শাখা এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও উন্নয়নমূলক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের (ডিএসকে) নির্বাহী পরিচালক ডা. দিবালোক সিংহ।
ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন কলমাকান্দা উপজেলা শাখার চেয়ারম্যান মুকুট স্নালের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বালুচড়া সেক্রেড হার্ট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চারু চার্লস নকরেক।
কারিতাস এনজিও কর্মকর্তা সুজনা রুরাম ও সুজন ম্রংয়ের যৌথ সঞ্চালনায় দিবসটিতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কলমাকান্দা থানার ওসি (তদন্ত) সজল সরকার, ডিএসকের সহকারী পরিচালক শরীয়ত উল্লাহ, উপজেলা সিপিবির সভাপতি কমরেড সিদ্দিকুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিশিকান্তি জাম্বিল, নলছাপ্রা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কপোতী ঘাগ্রা, ময়মনসিংহ অঞ্চল কারিতাস আইসিডিপি প্রোগ্রাম অফিসার বুলবুল মানখিন, কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীম, বারসিক উপজেলা কো-অর্ডিনেটর গুঞ্জন রেমা, কলমাকান্দা উপজেলা টিডব্লিউএর সেক্রেটারি সুজিত মানখিন এবং কলমাকান্দা উপজেলা বাগাছাসের সেক্রেটারি সুপার কান্তি রিছিল।
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনধারা, সংস্কৃতি, মাতৃভাষা, সামাজিক মূল্যবোধ এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ঐতিহ্যগত জ্ঞান দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বক্তারা যোগ করেন, আধুনিকতার অগ্রযাত্রার পাশাপাশি এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণে সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, আদিবাসী নারীদের ঐতিহ্যগত স্বাস্থ্যজ্ঞান এবং প্রসবকালীন সময়ে ধাত্রীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি নিরাপদ মাতৃস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে তাদের কাজের সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
দিবসটির কর্মসূচিতে ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টার, দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র, বারসিক বাংলাদেশ, কারিতাস আলোক কোরে-২ প্রকল্প, বাগাছাস, গাসু, বাহাছাস, বাজাহাস, নলছাপ্রা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড, বালুচড়া ধর্মপল্লী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড, বালুচড়া সেক্রেড হার্ট উচ্চ বিদ্যালয় ও নলছাপ্রা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। স্থানীয় আদিবাসী শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং জীবনধারার নানা দিক তুলে ধরা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলনবিলে ৫০ মণ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার চলনবিল অধ্যুষিত বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে এই পোনা অবমুক্ত করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে, তাড়াশ উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাজিব আহমেদ মাসুমের ব্যক্তিগত অর্থায়নে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে নেতৃত্বদানকারী ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি মো. আয়নুল হক।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’—এটি আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। তিনি আরো বলেন, প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হলে দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়বে, যা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করবে এবং মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তিনি চলনবিলের উন্মুক্ত জলাশয়ে ৫০ মণ মাছের পোনা অবমুক্ত করার উদ্যোগটিকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে দেশের প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ আরো সমৃদ্ধ হবে।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন ফকির, তাড়াশ পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার সাইফুল ইসলাম, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি গোপাল চন্দ্র ঘোষ, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শুকুর মির্জা ও মো. মিলন খান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মো. সাইফুল খান এবং আট ইউনিয়নের যুবদলের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ