মোঃ ওসমান গনি শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
০৯:০৭ পি.এম
শেরপুরে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি: প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা
শরতের কাশফুল আর নির্মল আকাশ জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে শেরপুরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বিশেষ করে প্রতিমা তৈরির কাজে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।
শেরপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পালপাড়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রতিমা তৈরির কারখানা ও মণ্ডপে এখন চলছে কর্মব্যস্ততা। বাঁশ, খড় ও মাটির নিপুণ প্রলেপে তৈরি হচ্ছে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা। মাটির কাজ শেষ হলে শুরু হবে রং, সাজসজ্জা ও অলংকরণের চূড়ান্ত পর্ব।
কারিগররা জানান, দুর্গাপূজার সময় ঘনিয়ে আসায় প্রতিমা তৈরির কাজ দ্রুত শেষ করতে দিন-রাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার কাজ এগোচ্ছে স্বাভাবিক গতিতে। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বাঁশ, খড়, মাটি, রং ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে গেলেও প্রতিমার পারিশ্রমিক সে তুলনায় বাড়েনি। এতে অনেকটা হতাশ তারা।
প্রতিমা তৈরির প্রধান কারিগর বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। দিন-রাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু প্রতিমার দাম তেমন বাড়েনি। তারপরও বাপ-দাদার পেশা ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা এ কাজ করে যাচ্ছেন।
প্রধান কারিগরদের পাশাপাশি সহযোগী কারিগররাও সমানতালে কাজ করছেন। কেউ বাঁশের কাঠামো তৈরি করছেন, কেউ খড় দিয়ে প্রতিমার অবয়ব দিচ্ছেন, আবার কেউ মাটির প্রলেপ দিয়ে ফুটিয়ে তুলছেন দেব-দেবীর মুখাবয়ব ও শরীরের বিভিন্ন অংশ।
শেরপুর জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলার পাঁচটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভায় প্রায় ১৭৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এসব মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজে জেলার আটটি দল কারিগর হিসেবে কাজ করছে।
শেরপুর জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক জিতেন মজুমদার বলেন, এ বছর জেলায় ১৭৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবকে কেন্দ্র করে নতুন সরকারের কাছে সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে দুর্গাপূজা ঘিরে জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়া।
সব মিলিয়ে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততায় এখন মুখর শেরপুরের পালপাড়া ও বিভিন্ন পূজামণ্ডপ। আর্থিক টানাপোড়েন থাকলেও পূর্বপুরুষের পেশা ও ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রত্যয় এবং দেবী দুর্গার আগমনের অপেক্ষায় দিন গুনছেন কারিগররা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। যখন একজন দেশের সরকারপ্রধান জাতিসংঘের মতো বৈশ্বিক ফোরামে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন, তখন সফরের প্রতিটি কর্মসূচি, বৈঠক, আলোচনা, অর্জন ও প্রত্যাশা জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। এই সফর শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সফর নয়, বরং এটি রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র সাত মাসের মধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর জন্য এটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাংলাদেশের জন্যও একটি বড় সুযোগ। এই সফরের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক, জাতীয় স্বার্থ, অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু, অভিবাসন, নিরাপত্তা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয়।
এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরকে কেন্দ্র করে আলোচনা ও সমালোচনা—দুটিই হতে পারত। গণমাধ্যমের দায়িত্ব ছিল সফরের ইতিবাচক দিক তুলে ধরা এবং প্রয়োজন হলে গঠনমূলক প্রশ্ন করা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে মনে হয়েছে, আমাদের গণমাধ্যমের একটি বড় অংশ সেই দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে অন্য কিছু বিষয় নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিল।
বিশেষ করে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে আগে থেকেই নির্ধারিত রাজনৈতিক বিতর্ক, দলীয় রাজনীতি কিংবা পরস্পরকে দোষারোপের বিষয়গুলোই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। একজন সাংবাদিকের কাজ কেবল স্টুডিওতে বসে রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা করা নয়। সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বিষয় নিয়ে তথ্যভিত্তিক আলোচনা, অনুসন্ধান এবং জনগণের সামনে সঠিক তথ্য তুলে ধরা সাংবাদিকতার অন্যতম দায়িত্ব।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সফরটি সফল হয়েছে কি না—তা বিচার করার অধিকার যেমন জনগণের রয়েছে, তেমনি প্রধানমন্ত্রীরও রয়েছে জনগণের কাছে তার সফরের অর্জন তুলে ধরার দায়বদ্ধতা।
কয়টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে? কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে? বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোন কোন বিষয়ে আশ্বাস পাওয়া গেছে? নতুন কোনো বিনিয়োগ, সহযোগিতা বা সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে কি না? আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের জন্য কী ধরনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে? সফরের সীমাবদ্ধতা বা অপূর্ণতাই বা কী?
এসব প্রশ্নের উত্তর জনগণের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব গণমাধ্যমের। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের অনেক গণমাধ্যমেই এসব মৌলিক প্রশ্ন নিয়ে পর্যাপ্ত অনুসন্ধান বা বিশ্লেষণ চোখে পড়েনি।
এখানে প্রশ্নটি শুধু প্রধানমন্ত্রীর সফলতা বা ব্যর্থতার নয়। আসল প্রশ্ন হলো—এই সফর থেকে বাংলাদেশের জনগণ কী পেল?
সরকারের অর্জনকে সরকারপন্থী প্রচারণায় পরিণত করা যেমন সাংবাদিকতার কাজ নয়, তেমনি কোনো অর্জনকে অস্বীকার করাও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিচয় নয়। একজন পেশাদার সাংবাদিকের কাজ হলো তথ্য সংগ্রহ করা, যাচাই করা, প্রশ্ন করা এবং জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরা।
আমাদের গণমাধ্যমের একটি বড় অংশের মধ্যে এখন যেন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্য কিংবা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের প্রতি পক্ষপাত অনেক সময় সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্যকে আড়াল করে ফেলছে। সংবাদপত্র বা টেলিভিশনে কোন খবর কতটা গুরুত্ব পাবে, কোন বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান হবে এবং কোন বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হবে—এসব সিদ্ধান্ত যদি কেবল মালিকপক্ষ, প্রতিষ্ঠান বা ক্ষমতাসীনদের সন্তুষ্ট করার চিন্তা থেকে নেওয়া হয়, তাহলে সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অথচ একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম সরকারের প্রতিপক্ষ নয়; বরং রাষ্ট্রের স্বার্থে সরকারের একটি গঠনমূলক সহযোগী। গণমাধ্যম সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা করবে, ভুল হলে প্রশ্ন করবে, অনিয়ম হলে অনুসন্ধান করবে এবং প্রয়োজন হলে কঠোর সমালোচনাও করবে। তবে সেই সমালোচনা হতে হবে তথ্যনির্ভর, যুক্তিনিষ্ঠ ও জনস্বার্থকেন্দ্রিক।
বিশেষ করে একটি নতুন সরকারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক, লেখক, গবেষক, বিশ্লেষক ও কলামিস্টদের গঠনমূলক ভূমিকা অত্যন্ত প্রয়োজন। সরকারের বয়স যখন মাত্র কয়েক মাস, তখন ভুলত্রুটি চিহ্নিত করে সময়মতো সতর্ক করা অনেক বেশি কার্যকর। কারণ সরকারকে যদি শুরুতেই বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতের অনেক বড় ভুল এড়ানো সম্ভব।
অতীতের অভিজ্ঞতা আমাদের এ কথাই শেখায়—ক্ষমতাসীন সরকার যখন দীর্ঘ সময় ধরে শুধু প্রশংসা শুনতে থাকে এবং সমালোচনাকে শত্রুতা হিসেবে দেখতে শুরু করে, তখন একসময় বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারের ধারণা ও জনগণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়। সেই দূরত্ব শেষ পর্যন্ত সরকার ও রাষ্ট্র—উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।
তাহলে এখনই সরকারের উচিত গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার চিন্তা না করে বরং গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনাকে গুরুত্ব দেওয়া। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোরও উচিত অভিজ্ঞ সাংবাদিক, গবেষক, লেখক, কলামিস্ট ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়ের ব্যবস্থা করা।
বাংলাদেশের গণমাধ্যম পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন একটি দায়িত্বশীল, স্বাধীন ও পেশাদার গণমাধ্যম পরিবেশ তৈরি করা। এমন একটি পরিবেশ, যেখানে সাংবাদিকরা ভয় বা প্রভাবমুক্তভাবে প্রশ্ন করতে পারবেন, গবেষকরা তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কথা বলতে পারবেন এবং সরকারের ভালো-মন্দ উভয় দিকই জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারবেন।
সরকারের দায়িত্ব দেশ পরিচালনা করা, আর গণমাধ্যমের দায়িত্ব জনগণকে তথ্য দেওয়া এবং ক্ষমতাকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা। এই দুইয়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও পেশাদার দূরত্ব বজায় থাকলেই রাষ্ট্র উপকৃত হবে।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফর তাই শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে দেখলে চলবে না। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য কী অর্জন হলো, কী সম্ভাবনা তৈরি হলো এবং কোথায় ঘাটতি রয়ে গেল—তা নিয়ে তথ্যভিত্তিক জাতীয় আলোচনা প্রয়োজন।
সরকারের প্রশংসা করার জন্য যেমন গণমাধ্যমের প্রয়োজন নেই, তেমনি সমালোচনা করার জন্যও সমালোচনা করা সাংবাদিকতার উদ্দেশ্য হতে পারে না। প্রয়োজন সত্যকে সামনে আনা। কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি কোনো ব্যক্তি, দল বা সরকারের একার নয়—প্রশ্নটি বাংলাদেশের। প্রশ্নটি বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের।
আজ যদি সরকার ও গণমাধ্যম উভয় পক্ষই নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী ও কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যম কাঠামো গড়ে তুলতে পারবে। আর সে লক্ষ্যেই এখন প্রয়োজন—চাটুকারিতা নয়, সত্য কথা বলার সাহস; অন্ধ সমর্থন নয়, গঠনমূলক সমালোচনা; আর ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ নয়, সর্বাগ্রে বাংলাদেশ ও জনগণের স্বার্থ।
লেখক : সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, যুবদল ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ); সদস্য, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একাধিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এর মধ্যে রয়েছে জিডিপির তুলনায় কম কর আদায়, ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) অনুষ্ঠিত জাতীয় আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘ইকোনথন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দেশের ভেতরেও আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ তৈরি করেছে; জিডিপির অনুপাতে কর আদায় আমাদের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম; ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরানো জরুরি; আর বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।’
বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার বিষয়টি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে এসেছে। গত দশকের তুলনায় অর্থায়নের ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সংরক্ষণবাদ ও শুল্ক-বাধা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ও অস্থির রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিবছর অর্থনীতিতে নতুন ক্ষতির বোঝা যোগ করছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসব বৈশ্বিক পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমদানিনির্ভর ও রপ্তানিমুখী অর্থনীতি হওয়ায় বৈশ্বিক ধাক্কাগুলো বাজারে পণ্যের দাম, টাকার বিনিময় হার এবং দেশের কারখানাগুলোর রপ্তানি আদেশে প্রভাব ফেলছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়ে আমাদের প্রতিটি দিনই সারপ্রাইজ এলিমেন্টের দিন। বাজেট তৈরি হয় এক অনুমানের ওপর—তারপর আসে জ্বালানির দামের ধাক্কা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, বন্যা কিংবা বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তা।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতির দিকে তাকালে দেখি, অনিশ্চয়তাই এখন স্বাভাবিক অবস্থা।’
অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মূল্যস্থিতি ফিরিয়ে আনা, করব্যবস্থাকে ন্যায্য, সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় জনগণের অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির বিষয়ে আমির খসরু বলেন, সময়সূচি যাই হোক, পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের অর্থনীতিকে প্রস্তুত করতে হবে। রপ্তানিকে শুধু বাণিজ্য-সুবিধার ওপর নির্ভর না করে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, অসম্পূর্ণ তথ্য ও সীমিত সময়ের মধ্যেই জনগণের কাছে জবাবদিহি রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সমস্যা লুকিয়ে রাখলে সমাধান হয় না; সমস্যা স্বীকার করার মধ্য দিয়েই সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চাপের মধ্যে চিন্তা করা, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং যুক্তি দিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরার সক্ষমতা নীতিনির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কায়সার হাসনাত আব্দুল্লাহর ছোট ভাই সানজিদ হাসনাত (৪৪) পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার হয়েছেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি টিম মোগরাপাড়া এলাকার ‘রেইন ফরেস্ট ইকো রিসোর্ট’ থেকে তাকে আটক করে।
সানজিদ হাসনাত, মৃত আব্দুল হাসনাতের পুত্র এবং সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এই অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের টিম মোগরাপাড়ার ওই রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
সোনারগাঁ থানার ওসি আব্দুল বারিক জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রুজুকৃত একটি মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে সানজিদ হাসনাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্পেনে আবাসন সংকটের ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সরকারের পদক্ষেপের দাবিতে দেশটির বিভিন্ন শহরে, বিশেষ করে রাজধানী মাদ্রিদে, হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছেন। শনিবার, পার্লামেন্টে সরকারের প্রস্তাবিত পদক্ষেপ বিরোধীদের বাধার মুখে আটকে যাওয়ার পর তারা নতুন করে বিক্ষোভে নামেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মাদ্রিদে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কেউ কেউ সাধারণ ধর্মঘটের দাবিতে পোস্টার নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজধানীতে ৮৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে উচ্ছেদসহ আবাসন সংকটের কারণে জনঅসন্তোষ বৃদ্ধি পাওয়ার পর সরকার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল, সেগুলো শুক্রবার পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যাত হয়।
২৬ বছর বয়সী নান্দো দে আঙ্গুলো, যিনি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন, রয়টার্সকে বলেন, বিষয়টি ‘লজ্জাজনক’। তার মতে, এটি প্রমাণ করে যে জনগণকেই রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে, অথচ রাজনীতিকদের জনগণের চাহিদার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া উচিত।
এদিকে, শুক্রবার দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের প্রস্তাবিত আইন পার্লামেন্টে পাস না হওয়ায় তিনি নভেম্বরে আগাম নির্বাচন ডাকতে পারেন। শনিবারের বিক্ষোভে জনসমাগমের মাত্রাও তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনা করবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সানচেজের কার্যালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ভ্যালেন্সিয়ায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। প্রায় ৩০ জন বিক্ষোভকারী শহরের বিখ্যাত ‘সিটি অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস’ ভবনে প্রবেশ করলেও পুলিশ পরে তাদের বের করে দেয়। তবে স্পেনের আরও প্রায় ৫০টি শহরে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
মাদ্রিদে ভাড়াটিয়া ইউনিয়নের মুখপাত্র ভ্যালেরিয়া রাকু সাংবাদিকদের জানান, শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হবে।
স্পেন সরকারের হিসাব অনুযায়ী, শনিবার মাদ্রিদের বিক্ষোভে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অন্যদিকে, ভারি বৃষ্টির কারণে বার্সেলোনা ও পাশের শহর হসপিতালেত দে লোব্রেগাতের নির্ধারিত বিক্ষোভ বাতিল করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ