মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৫৮ পি.এম
ভোলা-ঢাকা নৌপথে প্রথমবারের মতো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে পরীক্ষামূলকভাবে ‘বেগম রোকেয়া’ ও ‘সুফিয়া কামাল’ নামে দুটি ফেরি চলাচলের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো এ নৌযাত্রা শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিসি।
ওইদিন ১৩টি পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে ভোলার ইলিশা নৌবন্দর ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ফেরি ‘বেগম রোকেয়া’ এবং ঢাকা থেকে ছেড়ে আসে ‘সুফিয়া কামাল’। ওইদিন থেকে শুরু হওয়া এ ফেরি সার্ভিসটি এরই মধ্যে নৌপথে চলাচলে সাড়া জাগিয়েছে।
সরকারের এ নৌদপ্তরটি ভোলা-ঢাকা ফেরি চলাচল সার্ভিস এখন নিয়মিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন-বিআইব্লিউটিসির ডিজিএম মুহাম্মদ তানভীর হোসেন।
তিনি বাসসকে বলেন, এ বিষয়ে তার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পরীক্ষামূলক এই ফেরিযাত্রায় অংশ নেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে ফেরিটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ভোলার ইলিশা নৌবন্দর ঘাট ছাড়ে।
তিনি বলেন, পরীক্ষামূলক চলাচলের সময় ফেরির রুটের নাব্যতা, দূরত্ব ও যাতায়াতে প্রয়োজনীয় সময় এবং ঢাকায় কোন ঘাটে ফেরিট ভেড়ানো সুবিধাজনক হবে, এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। গত এক সপ্তাহ ধরে পরীক্ষামূলক চলাচলের পর এ বিষয়ে এখন চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফেরিতে উঠা যানবাহনের সম্ভাব্য ভাড়াও নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্ট কমিটি।
বিআইডব্লিউটিসি ভোলা অঞ্চলের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. কাওসার আহমেদ বাসসকে বলেন, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভোলা-ঢাকা রুটে নিয়মিত ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এজন্য নতুন ফেরি তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে ঘাট পরিদর্শনসহ রুটের দূরত্ব ও সময় নির্ধারণের কাজও করা হয়েছে।
গত রোববার পরীক্ষামূলক ফেরি চলাচল শেষে রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত বিআইডব্লিউটিসির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোলার ইলিশা থেকে ঢাকার কাঁচপুর রুটে ফেরি চলাচলের বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়।
‘বেগম রোকেয়া’ নামক ফেরির ইনচার্জ মাস্টার মো. মোসাহেদুল ইসলাম বাসসকে বলেন, এ রুটে ফেরি চলাচলে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগছে।
গত ২৭ আগস্ট ভোলার ইলিশা ফেরিঘাট থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়ে এখন নিয়মিত এই রুটে ‘বেগম রোকেয়া’ ও ‘সুফিয়া কামাল’ নামে দুটি ফেরি চলাচল করছে।
ফেরি চলাচলের সম্ভাব্যতা ও যাচাই কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, বিআইডব্লিউটিসি’র সহকারী মহাব্যবস্থাপক খান মো. জাফর, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম মাওলা, উপ-পরিচালক মাসুদুল হক এবং ব্যবস্থাপক মো. আল-আমিন।
নৌদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ভোলার ইলিশা ঘাট থেকে ফেরি চলাচল করলেও এর গন্তব্য ছিল লক্ষ্মীপুর। এবারই প্রথম এ ঘাট থেকে সরাসরি ঢাকার উদ্দেশ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফেরির যাত্রা শুরু হলো। ফলে দীর্ঘদিনের ভোলা-ঢাকা সরাসরি ফেরি সার্ভিস চালুর দাবি বাস্তবায়ন হওয়ায় খুশি এলাকাবাসী ও স্থানীয় পরিবহন চালকরা।
এ বিষয়ে ভোলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, পরিবহন মালিক, চালক ও শ্রমিকরা বলেন, এতোদিন ইলিশা থেকে ফেরি লক্ষ্মীপুরে গেলেও সরাসরি ঢাকার পথে ফেরি চলাচল ছিল উপকূলীয় জনপদ ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। এ রুটে ফেরি চলাচলের মধ্য দিয়ে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে ভোলাবাসীর। পাশাপাশি ভোলার কৃষিপণ্য, মাছ ও ইলিশসহ বিভিন্ন পণ্য রাজধানীর বাজারে পাঠাতে সরাসরি ফেরি সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তাদের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে রাজধানী থেকে ভোলায় পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও পরিবহন ব্যবস্থা আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য হবে বলে আশা করছেন তারা।
এদিকে, ভোলা-ঢাকা নৌপথে প্রায় তিন বছর আগে ব্যক্তি মালিকানায় পণ্য পরিবহন ও যাত্রীবাহী বাহন আনা-নেওয়ার লক্ষ্যে ‘কার্নিভাল ক্রুুজ’ এবং ‘কার্র্নিভাল ওয়েভ’ নামে দুটি ফেরি চালু হয়। ওই ফেরিতে বর্তমানে নির্দিষ্ট পরিমাণ পরিবহন আসা-যাওয়া করলেও বাকিদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। ফলে সরকারি ফেরি চালুর খবরে পরিবহন মালিকরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশা, নিয়মিত ফেরি সার্ভিস চালু হলে ভোলাসহ উপকূলীয় এলাকা থেকে রাজধানীতে পণ্য পরিবহন আরও সহজ, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য হবে।
পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন ফেরিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ পরিবহন আসা যাওয়া করায় ফেরির সিরিয়াল পেতে ২ থেকে ৩ দিন সময় লাগে। সরকারি এ ফেরি চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে সেই ভোগান্তি লাঘব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নৌদপ্তর সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, এর আগে দীর্ঘ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে ভোলার ইলিশা-লক্ষ্মীপুর নৌপথে প্রথম ফেরি সার্ভিস চালু হয়। বর্তমানে ওই রুটে পাঁচটি ফেরি চলাচল করছে। সেই ইলিশা ঘাট থেকেই এবার ফেরির নতুন গন্তব্য শুরু হলো রাজধানী ঢাকার কাঁচপুর ঘাটে।
‘ভোলা স্বার্থ রক্ষা’ উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক মো. শওকাত হোসেন বলেন, ভোলা-ঢাকা রুটে ফেরি চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। সরকারি উদ্যোগে এ ফেরি সার্ভিস চালু করার সিদ্ধান্তকে তিনি উপকূলীয় এলাকার সাথে রাজধানীর নৌ যোগাযোগে নতুনযুগের সূচনা বলে অভিহিত করেন।
ভোলার জেলা প্রশাসক মো.শামীম রহমান বাসসকে বলেন, একদিকে আগামীর সড়কপথ যোগাযোগ, অন্যদিকে নৌপথে ফেরি সার্ভিস এবং প্রতিদিনের লঞ্চ সার্ভিস, সব মিলিয়ে আগামীর ভোলা ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় জেলাগুলোর সাথে দেশের সব অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়নের নতুন দিগন্তের সূচনা ঘটবে।
এদিকে ভোলা-ঢাকা নৌপথে প্রায় তিন বছর আগে ব্যক্তি মালিকানায় যাত্রীবাহী ফেরি ‘কার্নিভাল ক্রুজ’ চালু হয়।
ভোলা স্বার্থ রক্ষা কমিটির নেতাদের অভিযোগ, ওই ফেরিতে বর্তমানে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে গ্যাসের সিলিন্ডার বহন করা হচ্ছে। তাদের দাবি, প্রতিদিন ‘কার্নিভাল ক্রুজে’ প্রায় ১২টি এলএনজি গ্যাসবাহী গাড়ি পারাপার করা হয়। তবে বিআইডব্লিউটিসির ‘বেগম রোকেয়া’ ফেরিতে একসঙ্গে কমপক্ষে ২৫টি গাড়ি পরিবহনের সুযোগ থাকবে।
সরকারি ফেরি পরীক্ষামূলকভাবে চালুর খবরে পরিবহন মালিক সমিতির নেতারাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশা, নিয়মিত ফেরি সার্ভিস চালু হলে ভোলা থেকে রাজধানীতে পণ্য পরিবহন আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য হবে।
ভোলা-ঢাকা রুটে পরীক্ষামূলক এই ফেরি চলাচল সফল হলে দ্বীপজেলা ভোলার সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি নৌপথে পণ্য পরিবহনের সুযোগ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নৌপরিবহন এবং নৌ বিষেজ্ঞরা মনে করছেন, ভোলা-ঢাকা রুটে নতুন সরকারি ফেরি সার্ভিসের মধ্য দিয়ে পণ্য পরিবহনে নতুন যুগের সূচনা করলো উপকূলীয় নৌপথ।
উল্লেখ্য, উপকূলীয় জেলা ভোলা ও তৎসংলগ্ন জেলাগুলো থেকে ভোলার ইলিশা-লক্ষ্মীপুর নৌ রুটে ফেরি চলাচলের মাধ্যমে প্রতিদিন পণ্য আনা-নেওয়া হয়ে থাকে। এবার ঢাকার সাথে ভোলার সরকারি ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ায় সেই পণ্য নিয়ে রাজধানীতে যেতে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘ বিড়ম্বনার অবসান ঘটলো বলে মনে করছেন ভোলাবাসী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদকে সংহত করি, নারী আন্দোলন অগ্রসর করি"—এই স্লোগানকে সামনে রেখে পিরোজপুরের কাউখালীতে মাসব্যাপী সাংগঠনিক কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কাউখালী সাংগঠনিক জেলা শাখার নিজস্ব কার্যালয়ে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও পুরাতন সদস্যদের সদস্যপদ নবায়ন সংক্রান্ত এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এই সাংগঠনিক মাস উদযাপিত হবে।
সংগঠনের সহ-সভাপতি জাহানুর হাবিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তারা নারী অধিকার রক্ষা ও সংগঠনকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের
সাধারণ সম্পাদক: সাহিদা হক
সহ-সাধারণ সম্পাদক জ্যেষ্ঠ প্রভাষক কুমকুম ভট্টাচার্য, শিক্ষিকা পদ্ম দত্ত,
সাংগঠনিক সম্পাদক ছায়া সমাদ্দার
নারী নেত্রী মাহাফুজা খানম, মৌমিতা সাহা, রিপা আক্তার প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, নারী সমাজকে সংগঠিত ও সচেতন করার মাধ্যমে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে তৃণমূল পর্যায়ে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা জরুরি। মাসব্যাপী এই কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন সদস্য সংগ্রহের পাশাপাশি পুরাতন সদস্যদের সদস্যপদ নবায়ন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি উল্লেখ করেছেন যে, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ২০০টির বেশি শত্রু বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় আকাশ প্রতিরক্ষা দিবস উপলক্ষে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
প্রতিবেদনে তিনি আরও জানান, ইরান তাদের নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি ও মোতায়েন করছে। কিছু ক্ষেত্রে যুদ্ধের সময় শত্রু বাহিনীও জানত না, ইরানের কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাদের বিমানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করতে আত্মনির্ভরতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
এদিকে, ইরানজুড়ে ৩ হাজার ৮০০টির বেশি স্থানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে বলে একটি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপসমন্বয়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাদেকিয়ান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মোতায়েনকৃত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অনেকগুলোই দুর্গম এলাকায় অবস্থিত।
মোহাম্মদ সাদেকিয়ান বলেন, দেশজুড়ে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চারটি প্রধান মিশন পরিচালনা করে। এগুলো হলো- শনাক্তকরণ, নজরদারি, প্রতিহতকরণ এবং আকাশপথের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা। বিমান প্রতিরক্ষার প্রধান দায়িত্ব হলো ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আকাশসীমায়, এমনকি দেশের আকাশসীমার বাইরেও যেকোনো উড়ন্ত বস্তু শনাক্ত করা।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের হামলা চালায়। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা প্রাণ হারান। এরপরই মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরাইলকে লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় তেহরান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোণা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলার কলমাকান্দা উপজেলা সদরের বাজার এলাকায় সরকারি জায়গা ও পুকুরের ওপর অবৈধভাবে নির্মিত একটি দুইতলা ভবন অপসারণের কাজ শুরু করেছে জেলা পরিষদ।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে জেলা পরিষদের নির্দেশে স্থাপনাটির অবৈধ অংশ অপসারণে এ অভিযান চালানো হয়।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি জমিতে নির্মিত এ ভবনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা জেলা প্রশাসনের প্রয়োজনীয় কোনো অনুমোদন নেয়া হয়নি। পুকুরের পানিতে পিলারের মাধ্যমে ভবনের নিচের অংশ নির্মাণ করায় এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং বাজারের সৌন্দর্য ব্যাহত করছিল।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. নুরুজ্জামান নুরু বাসসকে বলেন, ‘জেলা পরিষদের জায়গায় স্থাপনা তুলতে হলে অবশ্যই অনুমতির প্রয়োজন। এ ভবনটি কোনো অনুমোদন না নিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে জলাশয়ের ওপর তৈরি করা হয়েছিল। ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইন অনুযায়ী এটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে।’
অভিযানকালে দেখা গেছে, শ্রমিকরা ভবনের ওপরের দুইতলার অংশ ভাঙার কাজ করছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে অবৈধ ওপরের অংশ অপসারণ করা হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে আইনি প্রক্রিয়া মেনে পুরো স্থাপনার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কলমাকান্দা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুজ্জামান আসিফসহ জেলা পরিষদ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।
সরকারি জলাশয় ও সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের এ কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে ডাক পৌঁছে দেওয়ার পর ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে টঙ্গী-আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভারের ওপর এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত পুলিশ কনস্টেবল শামীম আহমেদ (কং/৮৮১) জিএমপি হেডকোয়ার্টারের বার্তাবাহক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার মানিকদী দক্ষিণপাড়া এলাকার আঙ্গুর মিয়ার পুত্র।
জিএমপি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে গাজীপুর পুলিশ কমিশনার কার্যালয় থেকে ডাক নিয়ে ঢাকার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের উদ্দেশ্যে রওনা হন শামীম আহমেদ। ডাক পৌঁছে দেওয়ার পর ফেরার পথে দুপুর ২টার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন টঙ্গী-আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভারের ওপর সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টঙ্গীর আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর সাড়ে ২টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জিএমপির টঙ্গী পূর্ব থানার পুলিশ খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে।
দায়িত্ব পালনকালে সড়ক দুর্ঘটনায় কনস্টেবল শামীম আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জিএমপি পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ