১২:২৭ এম
রপ্তানি বৃদ্ধি, পরিবেশগত মানদণ্ড প্রতিপালন জোরদার এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ২ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাক-অর্থায়ন স্কিম চালু করেছে। এই স্কিমের আওতায় দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে গঠিত এ স্কিমের সাহায্যে চামড়া শিল্পকে টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক শিল্পে পরিণত করতে সহায়তা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই স্কিমের আওতায় অর্থায়ন করা হবে কারখানা নির্মাণ ও সম্প্রসারণ, যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোর জন্য, যেমন- ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি), স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি), ডাম্পিং ইয়ার্ড এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায়।
আরও পড়ুন: সততার কারণে এক বছরে দুই বার বদলি
এছাড়া লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জনের ব্যয়, বিদ্যমান ট্যানারি আধুনিকীকরণ এবং চামড়া শিল্পে ব্যবহৃত রাসায়নিক, সহায়ক উপকরণ এবং অন্যান্য সহায়ক পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এ তহবিল থেকে সহযোগিতা প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
স্কিমের আওতায় ঋণগ্রহীতারা সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়নে (রিফাইন্যান্স) সুবিধা প্রদান করবে।
রিভলভিং ভিত্তিতে তিন বছরের মেয়াদে পরিচালিত হবে এই তহবিল। নতুন কারখানা নির্মাণের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, যার মধ্যে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। বিদ্যমান কারখানা আধুনিকীকরণে সর্বোচ্চ চার বছরের ঋণ দেওয়া হবে, যেখানে ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ড রাখা হয়েছে। কার্যকর মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) ঋণের মেয়াদ হবে এক বছর, যা সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত নবায়ন করা যাবে।
বাংলাদেশের সব তফসিলি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই স্কিমে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
আরও পড়ুন: সরকারকে সময় না দিয়ে বিরোধিতা করছে বিরোধী দল: ডা. কাজী মনির
স্কিমের আওতায় নতুন চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার জন্য সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা, নতুন চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন অবকাঠামোর জন্য ২০ কোটি টাকা, বিদ্যমান স্থাপনা আধুনিকীকরণের জন্য ১০ কোটি টাকা এবং সহায়ক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যকর মূলধনের জন্য সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে।
টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক স্কিমের আওতায় বেশ কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছে। চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অর্থায়ন পাওয়ার দুই বছরের মধ্যে এলডব্লিউজি সনদ অর্জন করতে হবে। একই সময়ের মধ্যে উপকারভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ১০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে নিশ্চিত করতে হবে।
শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি দূরীকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকৃত ঋণগ্রহীতারা এই স্কিমের আওতায় অর্থায়নের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।
এছাড়া, একই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) এবং গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ) থেকে ইতোমধ্যে সহায়তা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোও এই স্কিমের সুবিধা নিতে পারবেন না।
আরও পড়ুন: বিসিএস গেজেটবঞ্চিতদের অনশন থেকে ছাত্রলীগের ৪ নেতাকর্মী আটক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন