মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৪৭ এম
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আমাদের সামনে পরীক্ষা পদ্ধতি ও প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন সমস্যা ছিল, সেগুলো পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, সম্প্রতি তিনি একটি ডাটা সংগ্রহ করেছেন, যেখানে দেখা গেছে যে অনেক শিক্ষার্থী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে। দেশের সামাজিক অর্থনীতির উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা কীভাবে হিউম্যান ক্যাপিটাল বৃদ্ধি করতে হবে, তা নিয়ে আলোচনা করেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাখাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রেখেছেন।
তিনি জানান, সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অনেকে এসএসসি সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছিলেন। পুনর্মূল্যায়নের পর দেখা গেছে, অনেকে আবার গ্রেড এ ও জিপিএ ফাইভ অর্জন করেছেন। পরীক্ষা পদ্ধতির অসংগতিগুলোও খুঁজে বের করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের হাতে অন্য কোনো উপায় নেই, তাদের শিক্ষাবোর্ডের মধ্যদিয়ে যেতে হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের ৯০ শতাংশ প্রশ্ন গাইড বই থেকে আসে। তিনি জানান, আমরা কিভাবে এই পরিবর্তন ঘটানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেছি।
তিনি আরও বলেন, "আমি যদি এআই দিয়ে ভিন্ন প্রশ্ন করি তাহলেও সমস্যা আছে।" সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা এটার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, তাহলে কোন পরীক্ষা পদ্ধতি সঠিক হবে।
মিলন বলেন, ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। তিনি প্রশ্ন করেন, জেনারেলকে ইংলিশ মিডিয়াম করার প্রয়োজন কি না, কারণ ইংরেজি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষা।
তিনি উল্লেখ করেন, চিকিৎসা এবং প্রকৌশলসহ আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক ক্ষেত্রেই বাংলার সংযোজন নেই, তবে আমাদের প্রচুর বাংলা পড়তে হবে।
মিলন বলেন, প্রতিবেশি দেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলে তিনি অ্যাডুকেশন সিস্টেম কেমন, তা দেখেছেন এবং প্রশ্ন করেন, এটা কেন বাংলাদেশে সম্ভব নয়। তিনি বলেন, "সেই সময় তো বাংলাপিডিয়াও ছিল না।" তবে গ্লোবাল ভিলেজে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে। তিনি মন্তব্য করেন, "আমরাও পারব, আমরা বাংলাদেশি মনে রাখতে হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ আলজেরিয়াকে জ্বালানি ও সার খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, দেশের পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
১২ অক্টোবর সোমবার, বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানির সঙ্গে সাক্ষাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। সাক্ষাৎকালে, তাঁরা দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সহযোগিতার সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করেন।
শামা ওবায়েদ আলজেরিয়ার সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য অনুরোধ জানান বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। তিনি খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার খাতে দেশটির সহযোগিতার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উভয় দেশের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আলজেরিয়ায় জীবাণুবিয়োজ্য ও পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের জন্য রাষ্ট্রদূতকে উৎসাহিত করেন।
বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ওষুধশিল্প, কৃষি, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানি দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি জ্বালানি, ওষুধশিল্প, জাহাজ নির্মাণ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং উভয় দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সরকারি সফর বিনিময়ের ওপর জোর দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ষাটনলের সটাকি লঞ্চঘাটের কাছে মেঘনা নদীতে জেলেদের ধাওয়া করতে গিয়ে একটি স্পিডবোট ডুবে গেছে, যা নৌ পুলিশের। এই ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর নেই, তবে পুলিশের একটি শটগান নদীতে তলিয়ে গেছে।
এটি সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে ঘটে, যখন লঞ্চঘাট থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে স্পিডবোটটি ডুবে যায়। রাত ১০টা পর্যন্ত শটগানটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
চাঁদপুরে নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজমগীর হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "অভিযানের সময় স্পিডবোটটি ডুবে যায় এবং পুলিশের একটি শটগান পানির নিচে তলিয়ে যায়।"
চাঁদপুর নৌ অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান জানান, ডুবে যাওয়া স্পিডবোটটি নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে শটগান উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে ডুবুরি দল নামানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর চকবাজারের ছোট কাটারায় মনজুর খান প্লাজার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় প্রায় ৭ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার সময় ছিল সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ১১টার পর। তবে, পুরোপুরি আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে জানা গেছে।
আগুন লাগার ঘটনা ঘটে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে।
দোকানিরা জানান, ভবনটিতে ব্যাগ কসমেটিকস, ছাতা ও গ্যাস ম্যাচসহ বিভিন্ন মালামালের গোডাউন ছিল। ফায়ার সার্ভিস এখনও আগুনের সূত্রপাত এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানাতে পারেনি। তবে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে ৬ তলায় আগুন দেখতে পান। এরপর কালো ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা জানান, খবর পেয়ে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করে। সরু গলি, প্রচণ্ড ধোঁয়া এবং পানির স্বল্পতার কারণে আগুন নেভাতে তাদের বেগ পেতে হয়েছে।
তারা আরও জানান, আগুন লাগা ভবনটির আশপাশে বাসাবাড়ি রয়েছে। তবে সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে স্থানীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক আন্দোলন সংক্রান্ত সহিংসতায় গত জুন থেকে অক্টোবরের শুরুতে অন্তত ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বজনরা তাদের মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বেআইনি আটক, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগও উঠেছে।
যুক্তরাজ্য-নিবন্ধিত মানবাধিকার সংগঠন জম্মু কাশ্মীর হিউম্যান রাইটস অবজারভেটরি (জেকেএইচআরও) ৪৭ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনে ৫ জুন থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত নিহত ৯০ জনের নাম ও ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে বিদ্যুতের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে তা অঞ্চলটির সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলনের একপর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ ওঠে।
নিখোঁজের পর মিলল মৃত্যুর খবর
প্রতিবেদনে ২৬ বছর বয়সী ফাহাদ বারকাতের মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। তার পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ৭ জুন রাতে রাওয়ালাকোটের একটি সামরিক হাসপাতালে রক্ত দিতে গিয়েছিলেন তিনি। রাত ১১টা ৩১ মিনিটে বোনকে শেষ বার্তা পাঠানোর পর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।
ফাহাদের বোনের দাবি, হাসপাতালের ফটকে প্রবেশের সময় রাত ১টার কিছু আগে তার গলায় গুলি লাগে। তবে মানবাধিকার সংগঠনটি নিশ্চিত করতে পারেনি, কে তাকে হত্যা করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাহাদের পরিবার দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বাস করেছিল, তিনি পুলিশের হেফাজতে আছেন। পরে সংবাদমাধ্যম ডন নিহত বেসামরিক ব্যক্তিদের তালিকায় তার নাম প্রকাশ করে।
জেকেএইচআরওর অভিযোগ, ফাহাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আগে তাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করে একটি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল।
সংগঠনটি এ ঘটনার স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের পাশাপাশি হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ, রক্তদাতাদের নথি, ময়নাতদন্ত ও দাফনের রেকর্ড প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।
নির্বাচন বয়কট ঘিরে সংঘাত
আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) স্থানীয় নির্বাচন বয়কটের আহ্বান জানিয়েছিল। ২৭ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত কয়েক ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনটির দাবি, বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারছে না।
আঞ্চলিক আইনসভার ৪৫ আসনের মধ্যে ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানের অন্য এলাকায় বসবাসরত শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিলের দাবি জানায় জেএএসি।
পাকিস্তান সরকার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, আসনগুলো সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত এবং কাশ্মীরের বিতর্কিত মর্যাদা নিয়ে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত।
পরে কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জেএএসিকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং সংগঠনটির কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিরাপত্তা অভিযানও শুরু হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ জুন পর্যন্ত বিক্ষোভে বেসামরিক মানুষ ও পুলিশসহ অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আটক হন। পরে জেএএসি ৫ জুন থেকে ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর দাবি করে। তবে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সশস্ত্র ব্যক্তিরা সহিংসতায় জড়িত ছিলেন। জেএএসি ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ দাবি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
নিখোঁজ ও বেআইনি আটকের অভিযোগ
জেকেএইচআরওর প্রতিবেদনে শওকত নওয়াজ মীরের ঘটনাও উঠে এসেছে। পরিবারের অভিযোগ, ৩০ জুন ধিরকোট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু গ্রেপ্তারের কারণ, আইনি ভিত্তি কিংবা তাকে কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।
তিন মাস পেরিয়ে গেলেও শওকতের সন্ধান না পেয়ে তার বোন ইয়ামিন মীর জুলাইয়ে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টে আবেদন করেন। তাকে আদালতে হাজির করা এবং তার অবস্থান জানানোর দাবি জানান তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ ও সরকারি দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়নি বলেও আবেদনে দাবি করা হয়।
আরেক ঘটনায়, ৫ সেপ্টেম্বর চিত্রা টোপি গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা গুলিতে এক হামলাকারী নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে তার পরিচয় জাবির মুমতাজ হিসেবে জানা যায়। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
মরদেহ নিতে হলে তাকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করে একটি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল। পরিবার রাজি না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ নিজেরাই দাফন সম্পন্ন করে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২৯ বছর বয়সী নাকাশ জারদাদ রাওয়ালাকোটে নিজের মহিষের খামারে থাকার সময় সংঘর্ষের মধ্যে ছোড়া গুলিতে নিহত হন বলে জানিয়েছে জেকেএইচআরও। তার পরিবারের প্রশ্ন, বিক্ষোভে অংশ না নেওয়া একজন মানুষ নিজের জমিতে থেকেও কীভাবে প্রাণঘাতী গুলির শিকার হলেন।
তদন্তের দাবি
অঞ্চলটিতে তথ্য সংগ্রহও কঠিন হয়ে পড়েছে। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট বন্ধের পাশাপাশি বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেয়। ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ জুন মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়। ৩১ আগস্ট থেকে ধাপে ধাপে ইন্টারনেট চালু হলেও রাওয়ালাকোট ও সুদনোতি এলাকায় নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল।
জেকেএইচআরওর পরিচালক আজর আহমেদ বলেন, কোনো পরিবারকে যেন স্বজনের মরদেহ খুঁজতে না হয় কিংবা আটক, দাফন ও মৃত্যুর বিষয়ে গুজবের ওপর নির্ভর করতে না হয়। তার মতে, হেফাজত, চিকিৎসা, মর্গ ও দাফনের নথি প্রকাশ করা হলে অনেক ঘটনার জট খুলতে পারে। কর্তৃপক্ষের নীরবতা মানুষের দুর্ভোগ বাড়ায় এবং জনআস্থা ক্ষুণ্ন করে।
সংগঠনটি বলেছে, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সব মৃত্যুর পেছনে একই ব্যক্তি, পরিস্থিতি বা আইনি কারণ ছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। প্রতিটি ঘটনার আলাদা তদন্ত প্রয়োজন। জুন থেকে সংঘটিত সম্ভাব্য বেআইনি মৃত্যু ও গুরুতর আহত হওয়ার সব ঘটনার দ্রুত, স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে তারা।
নিহতদের পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের সরকার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ