শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৩৫ পি.এম
উপকূলের জেলেদের মুখে হাসির অভাব, দীর্ঘ অপেক্ষার পরও।"অপেক্ষায় ছিলাম কবে সুন্দরবনে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে। দীর্ঘ তিন মাস পর অনুমতি পেলাম, কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টি, মরা কাটাল ও বনদস্যুর চাঁদার টাকা ম্যানেজ করতে না পারাই সুন্দরবনে যাওয়ার অনুমতি নিয়েও যেতে পারিনি।
ভেবে ছিলাম পরিবারের মুখে হাসি ফোটাব, কিন্তু সেটা আর হলো না।"—এভাবেই খুলনার কয়রা উপজেলার ৬ নং কয়রা এলাকার জেলে আলামিন শেখ তার কষ্টের কথা ব্যক্ত করেন।
আলামিন শেখের মতো অনেক জেলে অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে যেতে পারেননি। অনেকেই সুন্দরবনে যাওয়ার অনুমতি নিতে আগ্রহী হননি।
সরকারি নিষেধাজ্ঞার তিন মাস পর বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের দুয়ার খুললেও উপকূলীয় বনজীবীদের মুখে স্বস্তির হাসি নেই। সুন্দরবনে যাওয়ার প্রতি তাদের অনীহা দেখা যাচ্ছে। তবে পর্যটকদের উপস্থিতিতে সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রাণ ফিরে আসতে শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের প্রবেশাধিকার বন্ধ ছিল। এরপর ১ সেপ্টেম্বর থেকে জেলে ও পর্যটকদের জন্য সুন্দরবন উন্মুক্ত করা হয়।
তবে বনজীবীরা জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জীবিকার তাগিদে বনে ফেরার আনন্দে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি, সৃষ্ট লঘুচাপ, মরা কাটাল ও বেপরোয়া জলদস্যু বাহিনী।
জেলেরা উদ্বেগের সঙ্গে জানান, সুন্দরবনে প্রবেশের পূর্বশর্ত হিসেবে বিপুল অংকের চাঁদা দিতে হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকার কারণে তাদের পক্ষে ম্যানেজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে উপকূলজুড়ে বনজীবীরা চরম উদ্বেগ ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।
কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনসংলগ্ন নদীতে মাছ ধরছিলেন আমজেদ গাজী। সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরেই তার সংসার চলে।
তিনি বলেন, "তিন মাস সুন্দরবনে ঢুকতে না পারায় খুব কষ্টে দিন কাটিয়েছি। এখন মাছ ধরতে না পারলে সংসার চলবে না, তাই নদীতে আসছি। কয়ডা মাছ পাইনি কি না, বনে যাইনি মরা কাটাল চলছে। সামনের রবিবারে গোনের জোয়ারে বনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। শনিবার পাশ নেব।"
দক্ষিণ বেদকাশির জেলে আব্দুল মজিদ ঢালি জানান, "তিন মাস কোনো আয়ের পথ ছিল না। এবার মাছ-কাঁকড়া ধরার মাধ্যমে দোকানদারের কাছে ধার শোধ করার পরিকল্পনা আছে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েই আমরা বনাঞ্চলে প্রবেশ করতে অনুমতি নিয়েছি। বনদস্যুর চাঁদা ম্যানেজ করতে কিছু টাকা ঘাটতি আছে ও মরা গোন থাকায় এখনো সুন্দরবনে যেতে পারিনি। শনি-রবিবার আল্লাহ ভালো করলে বনে যাওয়ার ইচ্ছা আছে।"
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জেলে অভিযোগ করেন যে, অনুমতি নিতে সরকারি রাজস্বের বাইরে বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ও কেউ কেউ বন বিভাগের নজর এড়িয়ে এবং কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে সুন্দরবনে ঢুকে বিষ দিয়ে মাছ ধরেছেন।
এ ছাড়া সারা বছর অভয়ারণ্যগুলোতে মাছ ধরা নিষেধ থাকলেও অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে মাছ ধরে থাকেন বিষ দিয়ে। এতে মাছ ও কাঁকড়ার সংখ্যা কমে গেছে বলে তাদের আশঙ্কা। একই সঙ্গে দস্যুদের চাঁদার ভয়ও বনে যাওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন জানান, তাদের স্টেশনে ৮৮৪টি নৌযানের বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট (বিএলসি) রয়েছে। আজ বেলা ১২টা পর্যন্ত ৩৪২ জন জেলে অনুমতিপত্র নিয়েছেন। কয়েকদিন বৃষ্টি হচ্ছে। অনুমতি পাওয়ার দিন থেকে নদীতে মরা কাটাল চলছে, এই জন্য অনেকে অনুমতি নেয়নি। অনেকেই নিলেও প্রস্তুতি নিচ্ছেন সামনে গোনে সুন্দরবনে যাবেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জে রেজিস্টার্ড বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) রয়েছে ২ হাজার ৭১৭টি। আজ পর্যন্ত অনুমতি নিয়েছেন ৬৮০ জন। সাতক্ষীরা রেঞ্জে রেজিস্টার্ড বিএলসি রয়েছে ২ হাজার ৯০০টি। আজ পর্যন্ত অনুমতি নিয়েছেন ৭৯০ জন। প্রতি নৌকায় দুই থেকে তিনজন করে প্রায় জেলেরা ধাপে ধাপে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী-নালায় প্রবেশ করেন।
তবে তিন মাস পর সুন্দরবন খুলে দেওয়ায় পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। সুন্দরবন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (টিওএএস) সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনটির অধীনে বর্তমানে ৭৫টি নৌযান রয়েছে।
সংগঠনটির সভাপতি মো. মঈনুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার জানান, "প্রথম দিন থেকে আজ (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত খুলনা থেকে ১০টি লঞ্চ ৩১০ জন পর্যটক নিয়ে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। আবহাওয়া ভালো হলে পর্যটকের সংখ্যা আরো বাড়বে।"
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এ জেড এম হাসানুর রহমান বলেন, "নিষেধাজ্ঞার সময় নিয়মিত মনিটরিং করা হয়েছে। যার ফলে সুন্দরবনের প্রাণ প্রকৃতি ও মাছের বংশ বিস্তার বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।"
তিনি আরো বলেন, "পর্যটক ও বনজীবীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সুন্দরবনের ক্যাম্প ও স্টেশনগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বনদস্যুর তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সুন্দরবন রক্ষায় কোস্ট গার্ড ও বনবিভাগের সমন্বয়ে নিয়মিত মনিটরিং চলমান আছে।"
তিনি জানান, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটক, জেলে ও বননির্ভর মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। পরিবেশ ও বন্য প্রাণীর ক্ষতি হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শাহজালাল বিমানবন্দরের সেই ‘ভিডিও’ নিয়ে ব্যাখ্যা দিল আনসার-ভিডিপিআনসার-ভিডিপি, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওর বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করেছে, যার শিরোনাম ‘আনসার সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ, টেনে-হিঁচড়ে টার্মিনালের ভেতরে নেওয়া হলো দর্শনার্থীকে’ ।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আনসার সদস্যদের সঙ্গে এক দর্শনার্থীর অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং পরবর্তী সময়ে তাকে আগমনী গেটের ভেতরে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ক্যাপশন এই বিভ্রান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আনসার সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ, টেনে-হিঁচড়ে টার্মিনালের ভেতরে নেওয়া হলো দর্শনার্থীকে’ শিরোনামে ভিডিওটি প্রচার করা হয়।ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে বাহিনীর গোয়েন্দা শাখার মাধ্যমে অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানের ফলস্বরূপ জানা যায়, ১ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় একজন যাত্রীর স্বজন নিষিদ্ধ স্থানে অবস্থান করছিলেন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে আনসার সদস্যরা তাকে সেখান থেকে সরে যাওয়ার জন্য একাধিকবার অনুরোধ করেন।তবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিরাপত্তা নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থান অব্যাহত রাখেন এবং আগমনী গেটের অভ্যন্তরে বারবার উঁকি-ঝুঁকি দিতে থাকেন। কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা পুনরায় তাকে সরে যেতে বললে তিনি তাদের সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রুপ, অশোভন মন্তব্য, গালাগালি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ঘটনাটি দায়িত্ব পালনরত অ্যাভসেকের একজন কর্পোরালের নজরে আসলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থান না করার নির্দেশ দেন। ওই ব্যক্তির সঙ্গে কর্পোরালের বাকবিতণ্ডা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।পরবর্তীতে অ্যাভসেকের ওই কর্পোরাল কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের নির্দেশ দেন যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আগমনী গেটের ভেতরে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যেতে হবে।বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অ্যাভসেক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারেই আনসার সদস্যরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আগমনী গেটের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত ভিডিও বা একপাক্ষিক ক্যাপশনের মাধ্যমে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হলে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধি, শৃঙ্খলা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করে থাকে। বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের কার্যক্রমকে বিচ্ছিন্ন ভিডিও বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন না করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বিবেচনায় প্রকৃত তথ্য উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘ভোট ব্যাংক’ ভাবার ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে গেছে। অতীতের ফ্যাসিবাদী শক্তি এই দেশের সনাতন ধর্মের ভাইবোনদের তাদের জন্য ভোট ব্যাংক মনে করতো, সেই ভ্রান্ত ধারণা ও মিথ আপনারা ভেঙে দিয়েছেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পলাশী মোড় থেকে শুরু হওয়া জন্মাষ্টমী উপলক্ষে র্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে সব ধর্মের ধর্মচর্চা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্র তা নিশ্চিত করবে।
তিনি বলেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না; এ কথাও সংবিধানে বলা হয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং উপাসনালয়ের কর্তাদের স্বাধীনতা ও উপাসনালয় স্থাপনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা শুধু সেটা কিতাবে, সংবিধানে ধারণ করেই বসে থাকতে চাই না। বাস্তবে আমরা এই সম্প্রীতি, এই স্বাধীনতা নিশ্চিত করবো এবং আমরা সেই ঘোষণা দিয়েছি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মীয় পরিচয় থাকতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় পরিচয়টা এখানে কোনো মুখ্য নয়। আমরা নাগরিকের পরিচয় এখানে থাকতে চাই। বাংলাদেশের সকল নাগরিক মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নৃগোষ্ঠী যারাই হোক, তারা ধর্মীয়ভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে নিজ নিজ ধর্মাচার, ধর্মীয় অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালন করবেন।
কিন্তু জাতীয়তা হিসেবে আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে থাকবো।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে সম্প্রীতি থাকবে। এই একটাই হবে আমাদের পরিচয়। এজন্যই আমরা বলি, আমাদের নেতা বলেছেন—সবার আগে বাংলাদেশ। যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তাহলে আমরা সবার আগে বাংলাদেশি, তারপরে আমাদের ধর্মীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক পরিচয়, নৃতাত্ত্বিক পরিচয়।
সবার আগে বাংলাদেশী এবং সবার জন্য বাংলাদেশ।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে কেউই যেন নিজেদের সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচয় না দেন। সবাই নাগরিকত্বের ভিত্তিতে পরিচয় দেবেন। ধর্মের ভিত্তিতে নয়, এই দেশের সমান অধিকারভুক্ত একজন নাগরিক হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তাহলে আমরা আজকে থেকে কী বলবো? ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখবো। সামাজিক সম্প্রীতি এবং শান্তি বজায় রাখবো। কেউ আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শব্দের উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। এটা হবে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহ-অবস্থান এবং সামাজিক শান্তি এবং সম্প্রীতি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তৌসিফ ভাইয়াকে নিয়ে আলোচনা শুরু করলে শেষ হবে না: বর্ণিতা
“তৌসিফ মাহবুবকে নিয়ে আলোচনা শুরু করলে শেষ হবে না। উনি একজন মানুষ হিসেবে খুবই পিওর, জেনুইন অ্যান্ড ভেরি কাইন্ড”—এভাবে মন্তব্য করেছেন ‘লাক্স সুপারস্টার’ বিদুষী বর্ণিতা, যিনি নিজের প্রথম সহশিল্পী সম্পর্কে কথা বলছিলেন।
ক্যারিয়ারের শুরুতেই তৌসিফ মাহবুবের মতো অভিজ্ঞ অভিনেতাকে সহশিল্পী হিসেবে পেয়ে বর্ণিতা উচ্ছ্বসিত।
কিছুদিন আগে কক্সবাজার বিমানবন্দর ও সমুদ্রসৈকতে শিহাব শাহীনের পরিচালনায় ওয়েব ফিল্ম ‘ক্যাফে আমব্রেলা’র শুটিং শেষ হয়েছে। শেষ দিনের শুটিংয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন তৌসিফ ও বর্ণিতা। এই ফিল্মের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো জুটি হিসেবে পর্দায় তাঁদের দেখা যাবে।
শুটিং শেষে কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে বিদুষী বর্ণিতা জানান, “অবশেষে শুটিং শেষ হলো। শেষ দিন কক্সবাজারে শুট করেছি। কিছুটা প্যারা হলেও বেশ মজা করেই শুটিং করেছি আমরা। সেদিন বৃষ্টি হওয়াতে সেটাও অনেক উপভোগ করেছি আমি।
সবকিছু মিলিয়ে চমৎকার একটা অভিজ্ঞতা।”
শুটিংয়ের পুরো সময়জুড়ে নিজের প্রথম সহশিল্পী তৌসিফ মাহবুবের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতা ও পরামর্শে মুগ্ধ বর্ণিতা।
অভিনেতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তৌসিফ ভাইয়া অনেক আন্তরিক, অনেক সহযোগিতাপরায়ণ। তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু করলে শেষ হবে না। উনি একজন মানুষ হিসেবে খুবই পিওর, জেনুইন অ্যান্ড ভেরি কাইন্ড।
এটা যে শুধু আমি প্রথম বলছি, এমন নয়। উনাকে নিয়ে সবাই এই কথাটাই বলে। শুধু যে সিন করার বিষয়ে তা নয়, সিনের বাইরেও বিভিন্ন বিষয়ে আমাকে নানান পরামর্শ দিয়েছেন। উনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন যেন সামনে আমি ভালো করতে পারি। একজন বন্ধু হিসেবে, বড় ভাই হিসেবে আমার মত একজন নতুনকে ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে বিভিন্ন বিষয় শিখিয়ে দিয়েছেন; যেটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমি খুবই ভাগ্যবতী যে, প্রথম কাজেই সহশিল্পী হিসেবে তার মত একজনকে পেয়েছি।”
বর্ণিতা তৌসিফের মানবিকতার একটি ঘটনার কথাও শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, “একটা গল্প শেয়ার করি, যেটা আমার মনে খুব দাগ কেটেছে। একবার শুটিংয়ে আমরা ইনটেন্স একটা সিন করছিলাম, সেসময় আমার পায়ে একটা চোট পেয়েছিলাম। পা থেকে অনেক রক্ত বের হচ্ছিল। শুটিংয়ের তাড়াহুড়োয় আমি সেটা খেয়াল করিনি কিন্তু তৌসিফ ভাইয়া সেটা খেয়াল করেছেন। এরপর তিনি শুটিং থামিয়ে প্রোডাকশন বয়কে দিয়ে হ্যাক্সিসল, ব্যান্ডেজ আনিয়ে আগে আমার পা ব্যান্ডেজ করিয়েছেন আর আমাকে বলছিলেন, আগে নিজের খেয়াল রাখতে হবে তারপরে কাজ। এরপর আমাদের কিছুদিন কাজ হয়নি, শুটিং বন্ধ ছিল। এরপর যখন আবার আমাদের সেটে দেখা হলো তখন সবার আগে তিনি আমার কাছে জানতে চেয়েছেন যে, আমার পা কেমন আছে? উনি ভীষণ ট্যালেন্টেড তো অবশ্যই পাশাপাশি অনেক মানবিক। এই বিষয়টা আমার অনেক ভালো লেগেছে।”
বর্ণিতার এমন প্রশংসায় সম্মানিত বোধ করছেন তৌসিফ মাহবুব। তিনি শুধু প্রশংসাই করেননি, নতুন এই অভিনেত্রীর মধ্যে দারুণ সম্ভাবনাও দেখতে পাচ্ছেন। তাঁর বিশ্বাস, ভবিষ্যতে অনেক দূর যাবেন বর্ণিতা।
তৌসিফ মাহবুব কালের কণ্ঠকে বলেন, “বর্ণিতা খুবই সম্ভাবনাময়ী একজন অভিনেত্রী। ওর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে যেটা আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে, সেটা হলো—নতুন হলেও নিজেকে প্রমাণ করার জন্য ও কখনো অতিরিক্ত কিছু করার চেষ্টা করেনি। খুব মনোযোগ দিয়ে কাজ করেছে, নির্দেশনা বুঝেছে এবং খুব দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “ওর মধ্যে একটা স্বাভাবিক স্ক্রিন প্রেজেন্স আছে, যেটা আসলে শেখানো যায় না। অভিনয়ের অনেক কিছুই শেখা যায়, কিন্তু ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে দর্শকের সঙ্গে একটা কানেকশন তৈরি করার ক্ষমতাটা ভেতর থেকে আসতে হয়। বর্ণিতার মধ্যে আমি সেই জিনিসটা দেখেছি।”
“ক্যাফে আমব্রেলা’র মাধ্যমে দর্শক বর্ণিতাকে নতুনভাবে চিনবেন বলেও মনে করেন তৌসিফ। তাঁর কথায়, “আমার বিশ্বাস, এই কাজটা দর্শকদের ওকে নতুনভাবে চিনতে সাহায্য করবে। এটা ওর শুরু মাত্র, সামনে ও আরও অনেক ভালো কাজ করবে—এমন সম্ভাবনা আমি ওর মধ্যে দেখেছি।”
সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শিগগিরই ওটিটি প্লাটফর্ম আইস্ক্রিনে মুক্তি পাবে ‘ক্যাফে আমব্রেলা’।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর নিয়ামতপুরে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যে বৃক্ষরোপণ, কমিউনিটিভিত্তিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট এবং পুকুর পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি, অংশগ্রহণমূলক জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি বিশ্লেষণ নিয়ে একটি মতবিনিময় সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার, বেলা সাড়ে ১১টার সময় উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের পানিহারা এলাকায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব কো-অপারেশন করিন থেভো, ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী, ইএসডিওর প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান, গোফরইমপ্যাক্ট প্রকল্পের প্রধান সাইফ মনজুর-আল-ইসলাম, নওগাঁর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুর্শিদা খাতুন।
অতিথিরা পানিহারা ভোলা পুকুরের পাড়ে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেন। এ সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং প্রকল্পের উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃক্ষরোপণের পর, অতিথিরা প্রকল্পের অংশগ্রহণমূলক জলবায়ু ঝুঁকি বিশ্লেষণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং স্থানীয় জনগণের জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ