০১:১৮ পি.এম
ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ চলাকালে তিন নারী সাংবাদিক পুলিশের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগগুলো ‘নিরপেক্ষভাবে’ তদন্তের জন্য ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়েছে। খবর এনডিটিভির।
এক নারী সাংবাদিক অভিযোগ করেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভের সময় এক সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) তাকে যৌন হয়রানি করেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশি কার্যক্রমের ভিডিও ধারণ করার সময় ওই কর্মকর্তা তাকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন এবং পরে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।
ওই সাংবাদিক আরও জানান, পরে তিনি অন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে থানায় গিয়ে মামলা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও তাৎক্ষণিকভাবে মামলা নথিভুক্ত করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেছেন।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগে ইসরায়েলে হামলা নিয়ে নেতানিয়াহু ও সেনাপ্রধানের মধ্যে বিরোধ
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, তারা তিন সাংবাদিকের অভিযোগ গ্রহণ করেছে। ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের’ জন্য অভিযোগগুলো ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতের প্রেস কাউন্সিল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণে তারা ‘হতবাক ও উদ্বিগ্ন’ বলে মন্তব্য করেছে।
এক বিবৃতিতে প্রেস কাউন্সিল বলেছে, ‘গণতন্ত্রে এ ধরনের আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না।’ তারা সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও নথিভুক্ত করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
জাতীয় রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে সাংবাদিকদের কাজের সুযোগ না দেওয়ার ঘটনা ভারতের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে বলেও মন্তব্য করেছে প্রেস কাউন্সিল।
আরও পড়ুন: সার্বিয়ার নির্বাচনে ভুচিচের পরাজয়, বিরোধী জোট ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন
সংস্থাটি আরও বলেছে, নারী সাংবাদিকের অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সাংবাদিকরা যাতে হামলা বা হুমকির মুখে না পড়ে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে শনিবার কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা রাহুল গান্ধী বিক্ষোভে দিল্লি পুলিশের সদস্যদের বিরুদ্ধে নারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে জবাব দাবি করেন।
লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে বলেন, দিল্লি পুলিশ যেহেতু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে, তাই অমিত শাহকেই এ বিষয়ে জবাব দিতে হবে।
হিন্দিতে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘এক নারী সাংবাদিক যন্তর মন্তরে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন। শত শত সাংবাদিক ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানে বসে আছেন, তাদের একটাই দাবি—একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হোক। এটাই কি পুলিশের মৌলিক দায়িত্ব নয়? অথচ সেটিও করা হয়নি।’
আরও পড়ুন: আবারও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হলেন লুলা দ্য সিলভা
রাহুল গান্ধী দাবি করেন, শুধু শনিবারই যন্তর মন্তর থেকে শত শত মানুষকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নারী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং সাংবাদিকদের টেনে-হিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে নারী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের ভিডিও প্রমাণ সামনে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।
রাহুল বলেন, নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিল্লির নারী ও শিক্ষার্থীরা ‘সত্যাগ্রহ’ করছেন। অথচ যাদের তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা, সেই পুলিশই তাদের ওপর হাত তুলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘একজন নারীর অভিযোগ নথিভুক্ত করতেও যে সরকার ভয় পায়, তারা আসলে কী রক্ষা করছে? দিল্লি পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে। অমিত শাহজি, আপনি কোথায়? এর জবাব আপনাকেই দিতে হবে।
আরও পড়ুন: গ্যাবনে আট মাস পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন