ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাবার ক্যান্সার, ক্রিকেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত থেকে টেস্ট অভিষেক সারাংশের লড়াইয়ের গল্প


বাবার ক্যান্সার, ক্রিকেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত থেকে টেস্ট অভিষেক সারাংশের লড়াইয়ের গল্প

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে অভিষেক হল মধ্যপ্রদেশের অলরাউন্ডার সারাংশ জৈনের। রবিবার কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে শুরু হওয়া ম্যাচে ৩৩ বছর বয়সী জৈন সতীর্থ ও অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজার হাত থেকে টেস্ট ক্যাপ পান।

তার অভিষেকের কারণে প্রথম টেস্টে খেলা কুলদীপ যাদবকে একাদশের বাইরে রাখা হয়েছে।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক শুভমন গিল। টসের সময়েই জৈনের অভিষেকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি। তবে কুলদীপের বাদ পড়ার কারণ হিসেবে গিলের দেওয়া ‘ইনফেকশনে’র ব্যাখ্যা কিছুটা চমকে দেওয়ার মতো।

আরও পড়ুন: বিসিবি থেকে চাকরি হারালেন মোহাম্মদ আশরাফুল

আজকালের প্রতিবেদনে বলা হয়, গলে প্রথম টেস্টে ভারত ১৬৫ রানে জয় পেয়েছিল। সেই ম্যাচে কুলদীপ ২৫ ওভার বল করে মাত্র একটি উইকেট নিয়েছিলেন। অন্যদিকে রবীন্দ্র জাদেজা এবং অভিষেক হওয়া মানব সুথার বল হাতে বেশি প্রভাব ফেলেছিলেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার পরিবেশে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন জৈন।

ভারত ‘এ’ দলের সাম্প্রতিক শ্রীলঙ্কা সফরে দুই ম্যাচে ছয়টি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি অপরাজিত ৭০ রান করেছিলেন তিনি।

জৈনের অন্তর্ভুক্তিতে ভারতের হাতে এল আরও একটি ডান হাতি অফ-স্পিন বিকল্প। একইসঙ্গে ব্যাটিংয়েও বাড়ল গভীরতা। পাঁচ বোলারের কম্বিনেশন ধরে রাখতে চাওয়া ভারতীয় দলের কাছে তার অলরাউন্ড দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তান দলে ৩ নতুন ব্যাটার, বাদ পড়লেন মাসুদ ও সাজিদ

ইন্দোরে ১৯৯৩ সালের ৩১ মার্চ জন্ম জৈনের।

২০১৪-১৫ মরশুমে মধ্যপ্রদেশের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাঁর। তাঁর বাবা সুবোধ জৈনও মধ্যপ্রদেশের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে খেলেছেন। ইন্দোরের বিজয় ক্লাবে ক্রিকেট শেখার সময় রাজত পাতিদারের সঙ্গেও খেলেছেন সারাংশ।

২০২১-২২ মৌসুমে মধ্যপ্রদেশের প্রথম রঞ্জি ট্রফি জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। নকআউট পর্বে ১৩টি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ফাইনালে ৫৭ রান করেন তিনি।

২০২২-২৩ রঞ্জি ট্রফিতে ৩৫টি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ৩৬০ রান করেন জৈন। সেই পারফরম্যান্সের জন্য তিনি টুর্নামেন্টের সেরা অলরাউন্ডারের লালা অমরনাথ পুরস্কার পান।

আরও পড়ুন: জার্মান ভাইস মিনিস্টার ড. বারবেল কফলার আগামীকাল ঢাকায় আসছেন

২০২৫ বছরের দলীপ ট্রফিতেও দুরন্ত ছন্দে ছিলেন জৈন। সেন্ট্রাল জোনের হয়ে দুই ম্যাচে ১৬টি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল, দুই ম্যাচেই অর্ধশতরান করেন। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি।

এরপর ২০২৫-২৬ রঞ্জি ট্রফিতেও তাঁর পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। ৫৭.৫৫ গড় এবং ৩০টি উইকেটও তিনি নিয়েছেন।

অন্যদিকে, কুলদীপের বাদ পড়া প্রথমে শুধুই দলীয় কম্বিনেশনের সিদ্ধান্ত বলে মনে হয়েছিল। ২০১৭ সালে টেস্ট অভিষেকের পর থেকে মাত্র ১৯টি টেস্ট খেলেছেন বাঁ হাতি এই চায়নাম্যান বোলার। দলের ভারসাম্য এবং ফিঙ্গার স্পিনারদের প্রতি ভারতের আস্থার কারণে একাধিকবার তাঁকে বাইরে থাকতে হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড সফরের ১০টি টেস্টেও তাঁকে একটিতেও খেলানো হয়নি।

তবে কলম্বো টেস্টের আগে ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর কুলদীপের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী দলের সবচেয়ে কার্যকর বোলারদেরই বেছে নেওয়া হয় এবং কুলদীপ এখনও ভারতের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আরও পড়ুন: ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতির নির্বাচনে রানা-বারী পরিষদের পূর্ণ প্যানেলের জয়

স্পিন বোলিং কোচ সাইরাজ বাহুতুলেও কুলদীপের প্রশংসা করে জানিয়েছিলেন, তিনি ভাল বল করছেন এবং দলের পরিকল্পনায় এখনও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ‘ইনফেকশন’-এর কারণে তাঁর অনুপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

তবে কুলদীপের অনুপস্থিতির চেয়েও সারাংশ জৈনের কাছে বড় বিষয় তাঁর বহু প্রতীক্ষিত অভিষেক। দীর্ঘদিন ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পর এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের অলরাউন্ড দক্ষতার প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ পেলেন মধ্যপ্রদেশের এই ক্রিকেটার।

কলম্বো টেস্টে ভারতীয় একাদশ হল: যশস্বী জয়সওয়াল, কেএল রাহুল, দেবদত্ত পাড়িক্কল, শুভমন গিল (অধিনায়ক), ঋষভ পন্ত (উইকেটকিপার), রবীন্দ্র জাদেজা, ধ্রুব জুরেল, সারাংশ জৈন, মানব সুতার, মহম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ।

আরও পড়ুন: কামরুন্নাহার কলির ধর্ষণ ও হত্যার প্রধান আসামির বাড়ি গুঁড়িয়ে, মাটি তুলে নিচ্ছে জনতা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলাপাড়ায় কৃষক সেলিম গাজী অসময়ে ব্ল্যাক বেবি ছাদে তরমুজ চাষে ব্যাপক সফল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:১৬ পি.এম


কলাপাড়ায় কৃষক সেলিম গাজী অসময়ে ব্ল্যাক বেবি ছাদে তরমুজ চাষে ব্যাপক সফল

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ছাদ কৃষির পরিসর বেড়ে গেছে, এবং এ সাথেই নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে তরমুজের চাষ। আবহাওয়া এবং পরিবেশও তরমুজের চাষের জন্য বেশ উপযোগী। কলাপাড়ার ধুলাসার ইউনিয়নের নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মো. সেলিম গাজী অসময়ে ব্ল্যাক বেবি জাতের কালো রঙের তরমুজ চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন। অসংখ্য থোকায় থোকায় মাচায় মাচায় ঝুলছে কালো রংয়ের তরমুজ। ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রতিটি তরমুজকে জাল দিয়ে ঝোলানো হয়েছে। এই তরমুজ দেখতে প্রতিদিন উৎসুক জনতার ভিড় জমছে। শখের বশে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করার ফলে তিনি সাফল্য পেয়েছেন। তার সাফল্য দেখে অন্য কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ফলনও বেশ ভালো এসেছে। যখন দেখবে তখন মন জুড়িয়ে যায়। আর ছাদে রয়েছে রসালো ও সুস্বাদু এই তরমুজ। তরমুজ একটি উৎকৃষ্ট এবং তৃপ্তিদায়ক ফল। গরমের দিনে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে লবণ এবং পানি বেরিয়ে যায়, যা পূরণ করতে তরমুজ সহায়তা করে। এছাড়াও, তরমুজে লাইকোপিন রয়েছে, যা একটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট।

রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধুলাসার ইউনিয়নের নতুনপাড়া গ্রামে সেলিম গাজীর বাড়ির ছাদে পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতিতে চার আকৃতির মাচার ওপরে সবুজ পাতার নিচে ঝুলছে কালো রঙের তরমুজ। মাচায় ঝুলে থাকা তরমুজের ভারসাম্য রক্ষা করতে প্রতিটি তরমুজকে লাল জালি দিয়ে ঝোলানো হয়েছে। সবুজ কচি লতাপাতার মাঝে প্রায় ২৫ থানার গাছে ঝুলছে কালো রঙের তরমুজ। ছোট-বড় তরমুজে মাচা নুয়ে পড়েছে, দেখে মনে হচ্ছে যেন কালোর সমারোহ। পোকা দমনে ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করা হয়েছে। এ তরমুজ চাষ দেখতে এলাকাবাসী ভিড় করছেন। কৃষক সেলিম গাজীর সফলতা দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও এ জাতের তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তারা আমার কাছে পরামর্শ চাইছেন, এবং আমি পরামর্শ দিয়েছি। এক কথায়, কালো রঙের তরমুজ চাষে কৃষক সেলিম গাজী সত্যিই চমক দেখিয়েছেন।

কৃষক সেলিম গাজী বলেন, তিনি বাড়ির ছাদে বস্তায় মাটি ও গরুর গোবর ব্যবহার করে সার তৈরি করেন এবং সেই সার দিয়ে প্রথমে পলিথিনে তরমুজের বীজ চারা করেন। তিনি ৫০টি থানা ছাদে তরমুজের চারা রোপন করেন। প্রথমদিকের বৃষ্টিতে কিছু চারা নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু ২৫টি থানার চারা ভালো ছিল, যার ফলে ৪০টি তরমুজ হয়েছে। এই লাভ তার পরিবারের জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে। এই পদ্ধতির জন্য শুরুতে খরচ কিছুটা বেশি হলেও পরবর্তী সময়ে খরচ খুব কম হয়ে যায়। এছাড়াও, আগাছা হয় না বলেই কোন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা নেই। দফায় দফায় সার দেওয়ার ঝামেলাও নেই। জোষ্ঠ মাসে তিনি প্রথম চারা রোপন করেন এবং অনলাইনের মাধ্যমে বীজ ক্রয় করেন। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে তরমুজ চাষের বিস্তারিত জানেন এবং সার ও ঔষধ দেওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ পেয়ে থাকেন। এরপর তিনি প্রায় সাত হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ছাদে তরমুজ, শসা, করলা, লাউ চাষ করেন। এ তরমুজ শেষ হলে সামনে ৫০ থানার জিওব্যাগের মাধ্যমে চাষ করবেন বলে জানান। বীজের চারা গজালে বাঁশ ও সুতা দিয়ে মাচা তৈরি করেন। বাঁশের খুঁটি দিয়ে মাচায় চারা তুলে দেন। এভাবেই তিনি তার ক্ষেত প্রস্তুত করেছেন বলেন জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া জানান, সেলিম গাজী একজন আদর্শ কৃষক এবং তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ। এলাকায় বিষমুক্ত সবজি এবং নানা রকম ফসল ফলিয়ে নিজেদের চাহিদা মিটিয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, ছোট পরিসরে সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে কৃষিতে সফলতা অর্জন করা সম্ভব।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন বলেন, বর্ষা মওসুমে মালচিং পদ্ধতির মাধ্যমে তরমুজ চাষাবাদ করাটা উত্তম। কারণ, বস্তার কারণে কিছু দিনের মধ্যে বস্তা পচে যায়। তরমুজ একটি লাভজনক কৃষি উপাদান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই বছর ধরে বন্ধ দেশের একমাত্র গণহত্যা আর্কাইভ, নষ্ট হচ্ছে দুর্লভ নিদর্শন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২০ পি.এম


দুই বছর ধরে বন্ধ দেশের একমাত্র গণহত্যা আর্কাইভ, নষ্ট হচ্ছে দুর্লভ নিদর্শন

দুই বছর ধরে বন্ধ হয়ে রয়েছে দেশের একমাত্র গণহত্যা আর্কাইভ। ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলি নষ্ট হচ্ছে যথাক্রমে। কৌশিক দে, খুলনা থেকে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরটির অবস্থান মহানগরী খুলনার সাউথ সেন্ট্রাল রোডের ২৬ নম্বরের ছয়তলা ভবনে। এই স্থাপনার আশপাশের অন্য কোন ভবনের সঙ্গে মিল নেই।

শহরের দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাগুলোর মধ্যে এটি একটি উল্লেখযোগ্য স্থাপনাও বটে। এর ওপর সাদামাটা ও আভিজাত্যের একটি সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে ‘১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর’।

এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের গণহত্যা-নির্যাতনের চিহ্ন বহনকারী একমাত্র আর্কাইভ ও জাদুঘর। প্রবেশ পথের ডান পাশে খুলনার প্লাটিনাম জুট মিলের সেই অভিশপ্ত ‘বয়লার’-এর বিধ্বস্ত অংশ রয়েছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে নির্যাতন করে এবং এখানে নির্মমভাবে হত্যা করে।

গণহত্যার ইতিহাস সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে খুলনায় প্রায় একযুগ আগে এই প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট প্রধান ফটকে ভাঙচুরের পর থেকে এটি আর চালু হয়নি। সরকারি অনুদানের অভাবে জাদুঘরে রক্ষিত ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

জাদুঘরের সংশ্লিষ্ট ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে খুলনায় ২০১৪ সালের ১৭ মে যাত্রা শুরু করে এই আর্কাইভ ও জাদুঘর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুনের উৎসাহে নগরীর ময়লাপোতাসংলগ্ন শেরেবাংলা রোডের একটি বাড়ি ভাড়া ছিল জাদুঘরের প্রথম ঠিকানা।

২০১৫ সালের আগস্টে তখনকার প্রধানমন্ত্রী নগরীর ২৬ সাউথ সেন্ট্রাল রোডের দুইতলা একটি বাড়ি উপহার দেন। সংস্কারের পর ২০১৬ সালের ২৬ মার্চ সেই বাড়িতে স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে সংগ্রহশালাটি স্থায়ী ঠিকানা পায়। ২০২৪ সালে সেখানে প্রায় ৩২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর ছয়তলা ভবন নির্মাণ করে। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাদুঘরটি স্থাপনা শৈলী ও নকশার দিক থেকে খুলনার অন্যতম সুন্দর স্থাপনাগুলোর মধ্যে পড়ে। ওই বছরের মে মাসে জাদুঘরটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়, কিন্তু চালু ছিল মাত্র এক মাস।

২০২৪ সালের ২০ জুলাই সংস্কারকাজ ও কারফিউয়ের কারণে জাদুঘর বন্ধ করে দেওয়া হয়। ৪ আগস্ট গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা না দেওয়ার কারণেই সেখানে ভাঙচুর চালানো হয়। তখন জাদুঘরের মূল ফটকসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই থেকে নিরাপত্তা এবং আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন কারণে জাদুঘরটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

জাদুঘরের সংশ্লিষ্টরা জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে অন্যতম বৃহৎ গণহত্যা ঘটে খুলনার ডুমুরিয়ার চুকনগরে। ১৯৭১ সালের ২০ মে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে ওই গণহত্যার শিকার হন ১০-১২ হাজারেরও বেশি নিরীহ মানুষ। এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে খুলনায় জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখানে মুক্তিযুদ্ধ এবং সারা দেশের বিভিন্ন গণহত্যার নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে।

জাদুঘরে রয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর পাঞ্জাবি; শহীদুল্লা কায়সারের দুটি টাই ও ডায়েরি; বিবিসির সংবাদদাতা নিজামউদ্দীন আহমেদের কোট; সাংবাদিক সেলিনা পারভীনের কলম ও শাড়ি; সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের পাঞ্জাবি, পায়জামা ও পাণ্ডুলিপি; জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার লেখা বই এবং ডা. আলীম চৌধুরীর ভিজিটিং কার্ড, ল্যাম্প, ডেন্টাল টুলকিট ও ডায়েরি।

এসব নিদর্শন শহীদদের পরিবারের সদস্যরা এখানে দান করেন। জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধ, গণহত্যা, শহীদদের চিঠিসহ ১৯২ ধরনের নিদর্শন এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সাড়ে তিন শতাধিক ছবি রয়েছে। আর্কাইভে ১০ হাজারের বেশি ছবি এবং দুই হাজারের মতো ভিডিওসহ অসংখ্য দুষ্প্রাপ্য নথি সংরক্ষিত রয়েছে। জাদুঘরটি বন্ধ থাকায় এসব নিদর্শন ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন জানান, জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। ১১ সদস্যের ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হয়ে আসছে। এক্ষেত্রে তাদের দাবি, ‘গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর’ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি চালু করার ক্ষেত্রে কোন সাড়া মিলছে না।

এদিকে, গণপূর্ত বিভাগ অথবা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে জাদুঘর ও আর্কাইভ পরিচালনার জন্য অনুদান নিশ্চিত করা হচ্ছে না। আর্থিক সংকটের কারণে প্রথম পর্যায়ে আট অফিসার ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়। নিরাপত্তা, আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে এখন জাদুঘরটি বন্ধ হয়ে রয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের খুলনা জেলার সাবেক কমান্ডার ও আহ্বায়ক মো. আবু জাফর গণহত্যা-আর্কাইভ জাদুঘরটিকে দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন। তিনি কালের কণ্ঠে বলেছেন, ‘আমরা চাই এটি সংস্কার করে চালু করা হোক। দুষ্কৃতকারীরা ক্ষতি করে গেছে, এমন কারণ দেখিয়ে হাত গুটিয়ে থাকা ঠিক হবে না। ইতোমধ্যে জাদুঘরটি চালুর দাবি জানানো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে অনেকেই পিছিয়ে যাচ্ছে, সেজন্য সরকারের উচিত মুক্তিযুদ্ধের এই প্রতিষ্ঠানের জন্য এগিয়ে আসা।’

জাদুঘরের ট্রাস্টি সম্পাদক ডা. শেখ বাহারুল আলম জানান, ‘জাদুঘরটি চালু করতে ব্যক্তিগতভাবে অনেকের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমি একাত্তরের সঙ্গে নব্বই, চব্বিশসহ সকল গণ-আন্দোলনের ইতিহাস জাদুঘরে রাখার প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু এর জন্য কোনো সাড়া পাচ্ছি না।’ তিনি বলেন, ‘এখন এখানে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল, স্টাফ বেতনসহ প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টাকা খরচ হয়। সরকারি সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিবের দায়িত্ব পেলেন আবু আউয়াল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২২ পি.এম


রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিবের দায়িত্ব পেলেন আবু আউয়াল

মো. আবু আউয়ালকে রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একান্ত সচিব হিসেবে বর্তমানে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব মো. আবু আউয়াল।

জানা গেছে, সাধারণ প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখা থেকে শুক্রবার, ২১ আগস্ট এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

উপসচিব গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত ঐ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায় অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব মো. আবু আউয়ালকে একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো। রাষ্ট্রপতি যতদিন এই পদ অলঙ্কৃত করবেন অথবা আবু আউয়ালকে উক্ত পদে বহাল রাখার অভিপ্রায় পোষণ করবেন, ততদিন এ নিয়োগ আদেশ কার্যকর থাকবে।

দেশবাসীর সুবিধার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটে গৃহবধূর মরদেহ, দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মুবাশশির আলম রাহুল, জামালপুর প্রতিনিধি

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩২ পি.এম


তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটে গৃহবধূর মরদেহ, দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার

জামালপুর শহরের শেখের ভিটা রেলক্রসিং এলাকার একটি তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ ইসরাত জাহান (৩০) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে। একই সময়ে একই ফ্ল্যাটের অন্য একটি কক্ষে আটকে থাকা তাঁর দুই শিশু সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ইসরাতের স্বামী কাউসার আহাম্মেদ শাওন (৩৫) পলাতক রয়েছেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে শেখের ভিটা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, সকালে ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে দুটি শিশু বারবার পানি চাইতে শুরু করে। তাদের কান্নাকাটি শুনে আশপাশের লোকজনের সন্দেহ হলে বিষয়টি ভবনের মালিককে জানানো হয়। পরে দেখা যায়, ফ্ল্যাটটির মূল দরজায় বাইরে থেকে তালা দেওয়া রয়েছে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা সেই তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শিশু দুটিকে উদ্ধার করেন। এরপর তারা ফ্ল্যাটের অন্য একটি কক্ষে ইসরাত জাহানের নিথর দেহ দেখতে পান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

নিহত ইসরাত জাহান ও কাউসার আহাম্মেদ শাওন দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। তাদের মেয়ে স্নেহার বয়স ১০ বছর এবং ছেলে মমিন শাহরিয়ারের বয়স ৫ বছর।

স্থানীয় বাসিন্দা মৌসুমী আক্তার বলেন, জানালা দিয়ে বাচ্চা দুটি পানি চাইলে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করেন। এর পরেই ভেতরে ওই নারীর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে জামালপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ বা ঘটনার পেছনের রহস্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%