ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিলের কপালে টেম্পল নামক রহস্যময় এআই ডিভাইস


ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিলের কপালে টেম্পল নামক রহস্যময় এআই ডিভাইস

ক্রিকেট মাঠে ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিলের কপালের পাশে একটি বিশেষ ডিভাইস নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে কৌতূহল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে অনুশীলনের সময় প্রথমবারের মতো তার কপালে এই যন্ত্রটি দেখা যায়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে একই ডিভাইস ব্যবহার করতে দেখা গেছে তাকে। এর পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, কী এই যন্ত্র এবং কেন ভারতীয় অধিনায়ক এটি ব্যবহার করছেন?

ডিভাইসটির নাম ‘টেম্পল’। এটি সাধারণ স্মার্টওয়াচ বা ফিটনেস ব্যান্ড নয়। এটি বিশেষভাবে তৈরি একটি ওয়্যারেবল প্রযুক্তি, যা মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের পরিবর্তন এবং শরীরের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় সংকেত পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। এর বাজারমূল্য প্রায় ৮৫ হাজার ভারতীয় রুপি।

আরও পড়ুন: ভারতের কাছে পাকিস্তানের হার, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ম্যাচে উত্তেজনা

জোমাটো ও ইটারনালের প্রতিষ্ঠাতা দীপিন্দর গোয়েলের উদ্যোগে তৈরি এই ডিভাইসটি আকারে ছোট এবং ডিম্বাকৃতির। এটি কবজিতে নয়, কানের সামনের দিকে কপালের পাশে বিশেষ আঠালো প্যাচের মাধ্যমে লাগানো হয়। ফলে অনুশীলন বা খেলার সময় এটি ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

টেম্পলের মূল প্রযুক্তির নাম ‘ব্রেনফ্লো’। এতে থাকা অপটিক্যাল সেন্সরের মাধ্যমে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের পরিবর্তন-সংশ্লিষ্ট সংকেত সংগ্রহ করা হয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে শরীর বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, সে সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার অন্যতম লক্ষ্য প্রযুক্তিটির।

এছাড়া ডিভাইসটিতে ‘এন্ট্রপি’ নামে একটি স্কোর রয়েছে, যার পরিসর ১ থেকে ২৫০। নির্মাতা দীপিন্দর গোয়েলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই স্কোরের মাধ্যমে শরীরের শারীরবৃত্তীয় চাপ ও পরিশ্রমের মাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ব্যায়াম, ঘুম, মানসিক চাপ, ক্যাফেইন গ্রহণ বা বিশ্রামের মতো বিষয় এই স্কোরে প্রভাব ফেলতে পারে।

সাধারণ স্মার্টওয়াচ যেখানে হৃদস্পন্দন, ঘুম ও শারীরিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে, সেখানে টেম্পলের লক্ষ্য হচ্ছে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের পরিবর্তন এবং মানসিক ও শারীরিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত সংকেত বিশ্লেষণ করা।

আরও পড়ুন: এবার জার্মানির ২৪ সদস্যের দল দিলেন ক্লপ

ক্রিকেটারদের জন্য এ ধরনের প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে। দীর্ঘ সময় ব্যাটিং, ফিল্ডিং বা অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালনের সময় একজন ক্রিকেটারকে শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি মানসিক চাপও সামলাতে হয়। টেম্পলের মতো ডিভাইস শরীরের প্রতিক্রিয়া, বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধার সম্পর্কে বাড়তি তথ্য দিতে পারে। তবে শুভমান গিল ঠিক কোন উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করছেন, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

শুধু ক্রিকেট নয়, অন্যান্য খেলাতেও এই প্রযুক্তির ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধুকেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টেম্পল ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের বাজারে ডিভাইসটির প্রথম ব্যাচের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার রুপি। ১ নভেম্বর থেকে এর প্রি-অর্ডার শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন দীপিন্দর গোয়েল। অর্ডার অনুযায়ী প্রতিটি ডিভাইস তৈরি করে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতাদের।

তবে টেম্পলকে প্রচলিত ব্রেন স্ক্যানিং যন্ত্র ভাবার সুযোগ নেই। এটি ইইজি এর মতো মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ রেকর্ড করে না। একই সঙ্গে এটি কোনো রোগ নির্ণয়ের যন্ত্র নয় বা চিকিৎসাগতভাবে সুস্থতা নিশ্চিত করার বিকল্পও নয়।

আরও পড়ুন: আইসিসির মাসসেরার মনোনয়নে সোবহানা মোস্তারি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মঠবাড়িয়ায় মোটরসাইকেলে হরিণের মাংস বহন, পল্লী বিদ্যুতের কর্মীসহ ২ গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৬ এম


মঠবাড়িয়ায় মোটরসাইকেলে হরিণের মাংস বহন, পল্লী বিদ্যুতের কর্মীসহ ২ গ্রেপ্তার

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মোটরসাইকেলে করে হরিণের মাংস বহন করার সময় আনুমানিক ২০ কেজি মাংসসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে পৌরসভার বহেরাতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে সোহাগ হোসেন (৪০) এবং অন্যজন হলেন বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার মাছকাটা গ্রামের মো. শাহজাহানের ছেলে মিরাজুল ইসলাম (৩৮)। জানা গেছে, মিরাজুল ইসলাম পল্লী বিদ্যুতের কর্মী।

থানা-পুলিশের সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঠবাড়িয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হৃদয় চাকলাদার তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বহেরাতলা এলাকায় অভিযান চালান। অভিযানের সময় মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার পথে সন্দেহভাজন ওই দুজনকে আটক করা হয়। তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ২০ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়।

পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে উদ্ধার করা মাংস জব্দ করে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।

মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মোটরসাইকেলে করে হরিণের মাংস পরিবহনের সময় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ, কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ এম


সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ, কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা

সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে কর্মপরিবেশ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। শ্রমিকরা নির্বিঘ্নে কাজে যোগদান করেছেন। শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলসহ (ডিইপিজেড) শিল্পাঞ্চলের সকল কারখানায় শান্তিপূর্ণভাবে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই শ্রমিকরা কারখানার নিজস্ব পরিবহনে অথবা পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে আসছেন। কারখানাগুলোর সামনে শ্রমিকদের স্বাভাবিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এদিকে, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিল্পাঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সাভারের হেমায়েতপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ কারখানার সামনে বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজিবির বিশেষ দলের নিয়মিত টহল, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাভার, ধামরাই ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলের সব এলাকায় সকাল থেকে শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন।

এর আগে, গত কয়েকদিন ধরে মাসিক বেতন বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন চলছিল। গাজীপুর, হেমায়েতপুর, নারায়ণগঞ্জ, মিরপুরসহ শিল্পাঞ্চল এলাকাগুলোতে সকাল থেকেই পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

তবে শ্রমিকদের বিক্ষোভের মধ্যে গত ১ নভেম্বর সরকার ৬ সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ডিসেম্বরেই নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণে শ্রমিক-মালিক দুপক্ষ একমত হয়েছেন। বাস্তবায়ন হলে জানুয়ারিতেই বর্ধিত বেতন হাতে পাবেন তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা।

সবশেষ ২০২৩ সালে ডিসেম্বরে ন্যূনতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলবায়ু-স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ৬ পদক্ষেপ, বছরে ১৬ লাখ জীবন বাঁচতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:২০ এম


জলবায়ু-স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ৬ পদক্ষেপ, বছরে ১৬ লাখ জীবন বাঁচতে পারে

জলবায়ু ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১৬ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব। পাশাপাশি, অর্থনীতিতে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের সুফলও অর্জন করা যেতে পারে। এই তথ্যটি বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

জাতিসংঘের এই সংস্থাটি তাপপ্রবাহের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করার পাশাপাশি পানীয় জল ও পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামোকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিবেদনটি কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আগে প্রকাশিত হয়েছে, যা কয়েক দিনের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে।

এছাড়া, হাত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস বৃদ্ধি, বাসা-বাড়িতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির দাম নির্ধারণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও করা হয়েছে।

জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবরটি জানিয়েছে।

ডব্লিউএইচওর প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘জলবায়ু সংকট মানেই স্বাস্থ্য সংকট। তবে এর ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির একটি বড় অংশ আমাদের হাতে থাকা উপায় ব্যবহার করে প্রতিরোধ করা সম্ভব।’

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট ছয়টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে ‘তিন ধরনের সুফল’ অর্জন সম্ভব। এই সুফলগুলোর মধ্যে রয়েছে- মানুষের সুস্থতা রক্ষা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা।

প্রাণহানি রোধের পাশাপাশি এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিবছর ১৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এড়ানো সম্ভব হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পদক্ষেপগুলো থেকে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের রাজস্ব সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি, মানুষের প্রাণ বাঁচানো, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানোর মাধ্যমে অর্থনীতিতে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বাড়তি সুফল আসতে পারে।

ডব্লিউএইচও স্বীকার করেছে, গবেষণাটি উচ্চাভিলাষী কিছু পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। এছাড়া, তথ্যের ঘাটতি এবং পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে কিছু অনিশ্চয়তা বিদ্যমান রয়েছে।

তবে টেড্রোস বলেন, প্রতিবেদনটি প্রমাণ করে যে পরীক্ষিত ও সাশ্রয়ী পদক্ষেপগুলোর ব্যাপক বাস্তবায়ন লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম। যাদের এই সহায়তা সবচেয়ে বেশি জরুরী, তারা সবচেয়ে বেশি সুফল পাবে।

আগামী সপ্তাহে তুরস্কে কপ-৩১ সম্মেলনে অংশ নিতে বিশ্বনেতাদের প্রস্তুতির মধ্যে টেড্রোস তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, জলবায়ু মোকাবিলার সব উদ্যোগের ‘কেন্দ্রে’ যেন স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে রাখা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানুষ চাইলেই নবী হতে পারে না: আল্লাহর বিশেষ দান নবুয়ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:২০ এম


মানুষ চাইলেই নবী হতে পারে না: আল্লাহর বিশেষ দান নবুয়ত

পার্থিব জীবনে নবুয়ত মানবজাতির প্রতি আল্লাহর সবচেয়ে বড় দান। আল্লাহ এই দান ও অনুগ্রহের জন্য যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন। নবী ও রাসুল হওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের ইচ্ছা ও প্রচেষ্টার কোনো ভূমিকা নেই। মহান আল্লাহ বলেন, ‘এরাই তারা, নবীদের মধ্যে যাদেরকে আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন, আদমের বংশ থেকে ও যাদেরকে আমি নুহের সঙ্গে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম এবং ইবরাহিম ও ইসমাইলের বংশোদ্ভূত ও যাদেরকে আমি পথনির্দেশ করেছিলাম ও মনোনীত করেছিলাম।’ (সুরা : মারইয়াম, আয়াত : ৫৮)

আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা সাদি বলেন, নবুয়ত ও রিসালাত আল্লাহর এমন দান যার সমতুল্য কোনো দান গত হয়নি, এমন অনুগ্রহ যার সমতুল্য কোনো অনুগ্রহ আগামীতেও আসবে না। আল্লাহ সুরা ফাতিহায় আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আমরা যেন এসব অনুগ্রহপ্রাপ্তদের পথের দিশা প্রার্থনা করি। (তাফসিরে সাদি, পৃষ্ঠা-৪৯৬)

নবী ও রাসুলরা মহান আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত। তাঁরা জন্মের সময় থেকেই মনোনীত। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এভাবে তোমার প্রতিপালক তোমাকে মনোনীত করবেন।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৬)

শৈশবে ইউসুফ (আ.) যখন স্বপ্নে দেখেছিলেন, চন্দ্র, সূর্য ও নক্ষত্ররাজি তাঁকে সিজদা করছে, তখন ইয়াকুব (আ.) তাঁর স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলেছিলেন তুমি নবী হবে, তোমাকে মানুষের জন্য মনোনীত করা হবে। (তাফসিরে শাওকানি : ৩/৭)

আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.)-কে নবুয়ত দানের সময় বলেছিলেন, ‘তিনি বলেন, হে মুসা! আমি তোমাকে আমার রিসালাত ও বাক্যালাপ দ্বারা মানুষের জন্য মনোনীত করেছিল। সুতরাং আমি যা দিলাম তা গ্রহণ কোরো এবং কৃতজ্ঞ হও।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৪৪)

আল্লামা শাওকানি (রহ.) আয়াতের ব্যাখ্যায় লেখেন, আয়াতে ব্যবহৃত ইসতিফা শব্দটি যাচাই করা ও মনোনীত করার অর্থ প্রদান করে। অর্থাৎ আমার রিসালাতের জন্য আমি সমকালীন মানুষের ভেতর তোমাকে মনোনীত করলাম। আয়াতে বাক্য দ্বারা বাক্যালাপ উদ্দেশ্য। আল্লাহ মুসা (আ.)-কে রিসালাত ও কোনো মাধ্যম ছাড়া কথা বলার মাধ্যমে সম্মানিত করেছিলেন। (তাফসিরে শাওকানি : ২/২৭৮)

সাধারণ মানুষের দায়িত্ব হলো, আল্লাহ যাকে নবী হিসেবে মনোনীত করেছেন তার আনুগত্য করা। নবী-রাসুলের আনুগত্য না করে অন্তরে নবুয়ত লাভের আকাঙ্ক্ষা অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়। পবিত্র কোরআনে কুরাইশ নেতাদের এমন আকাঙ্ক্ষার নিন্দা করে বলা হয়েছে, ‘এবং তারা বলে, এই কোরআন কেন অবতীর্ণ করা হলো না দুই জনপদের কোনো প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তির ওপর? তারা কি তোমার প্রতিপালকের করুণা বণ্টন করে? আমিই তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করি পার্থিব জীবনে।’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ৩১-৩২)

ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, আয়াতে তোমার প্রতিপালকের করুণা দ্বারা উদ্দেশ্য নবুয়ত। অর্থাৎ তারা নবুয়ত বণ্টন করে যে, যাকে ইচ্ছা তাকে তা দেবে? আমিই পৃথিবীতে একজনকে ধনী অন্যজনকে দরিদ্র্য করি। যখন তারা পার্থিব জীবনের বিষয়গুলোই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তখন তাদের ওপর নবুয়ত প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করা সম্ভব কিভাবে? (তাফসিরে কুরতুবি : ১৬/৮৩)

আকাঙ্ক্ষা, আগ্রহ বা দীর্ঘ সাধনার মাধ্যমে নবুয়ত লাভ করা সম্ভব নয়। আল্লামা সাফফারিনি (রহ.) বলেন, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের বিশ্বাস হলো, চেষ্টা, সাধনা, ইবাদত, কঠোর আনুগত্য, আত্মশুদ্ধি, চারিত্রিক মাধুর্য ইত্যাদির মাধ্যমে নবুয়ত লাভ করা সম্ভব নয়। নবুয়ত ও রিসালাত মহান আল্লাহর অনুগ্রহ। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে তা দান করেন তাঁর চিরন্তন জ্ঞান ও ইচ্ছার মাফিক। (লাওয়ামিউল আনওয়ারিল বাহিয়্যাতি : ২/২৬৭)

এটাও মনে রাখতে হবে যে আল্লাহ কখনো কোনো অযোগ্য ব্যক্তিকে নবী বা রাসুল মনোনীত করেননি। এই মহান ঐশী দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা যার আছে তিনি নবী বা রাসুল হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। শায়খ আবদুর রাজ্জাক আফিফি (রহ.) বলেন, এটা যুক্তি ও বুদ্ধির আলোকে অসম্ভব নয় যে অনুগ্রহকারী ও কল্যাণকারী আল্লাহ তাঁর কতিপয় বান্দাকে দান ও অনুগ্রহের জন্য বিশেষায়িত করবেন; তিনি তা করবেন সেই বান্দার চিন্তার প্রশস্ততা, দুনিয়াবিমুখতা, পূর্ণ ধৈর্য, উত্তম নেতৃত্ব, চারিত্রিক পূতঃপবিত্রতার কারণে।

যেন বান্দা নবুয়তের বিপদ সহ্য করতে পারেন, যেন তিনি অদৃশ্য বিষয়গুলো তাদের সামনে স্পষ্ট করতে পারেন, তাদের সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্যের বিষয়গুলো বর্ণনা করেন, মানবজাতি ও পৃথিবীর কল্যাণগুলো তুলে ধরতে পারেন। মহান আল্লাহ নবী-রাসুলদের মনোনীত করেছেন জগত্গুলোর জন্য অনুগ্রহস্বরূপ, অবিশ্বাসীদের অক্ষমতাস্বরূপ এবং সমগ্র মানবের জন্য দলিলস্বরূপ। (মুজাক্কিরাতুত তাওহিদ, পৃষ্ঠা ৪৪)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%