০৩:৪৭ পি.এম
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। বিশ্লেষকদের মতে, এ হামলাটি শুধু সামরিক প্রতিক্রিয়া নয়; বরং এটি হল ইরানের নতুন নেতৃত্বের আরও ঝুঁকিপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক কৌশলের প্রকাশ।
দীর্ঘকাল ধরে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত মূলত প্রক্সি গোষ্ঠী, গোপন অভিযান ও সীমিত পাল্টা প্রতিক্রিয়া পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার তেহরান সরাসরি ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর হামলাও ভবিষ্যতে সরাসরি ইরানি প্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে।
গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির পরেও উত্তেজনা কমেনি। ইরানের অভিযোগ আছে যে, আলোচনা চলমান থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তেহরানের মতে, কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেও বাস্তবে তা বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, তেহরান সেই পুরোনো যুদ্ধবিরতির সমীকরণ বদলে দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রকৃত উদ্যোগ না দেখা গেলে তাদের অবস্থানও বদলাবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ইরানি নেতৃত্ব আরও শুধু প্রতিরোধ ও কৌশলগত ধৈর্যের ওপর নির্ভর করতে চায় না। তারা সামরিক শক্তি ও আঞ্চলিক প্রভাব ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতা নিজেদের পক্ষে বদলাতে আগ্রহী। এ কারণেই সাম্প্রতিক হামলাকে অনেকেই ইরানের নতুন নীতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হিসেবে দেখছেন।
এসময় তেহরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান মতপার্থক্যকেও কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। ইরানের লক্ষ্য হল এমন একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করা, যেখানে শুধু ইরান নয়, বরং তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধেও ইসরায়েল সহজে সামরিক অভিযান চালাতে সাহস পাবে না।
আরও পড়ুন: ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন