মোঃ শরীফ উদ্দিন: ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:০৮ পি.এম
আসন্ন ০৯ নং চাপরতলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন মোহাম্মদ শাকিল আল-হোসাইন (মোঃ শাকিল মিয়া)। তিনি চাপরতলা ইউনিয়ন যুবসেনার সভাপতি মোঃ রাকিব মিয়ার বড় ভাই।
নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক জনসংযোগ ও শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু করেছেন। সম্প্রতি বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে তিনি ৭ নং ওয়ার্ডবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার অঙ্গীকার প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেম্বার পদপ্রার্থী মোঃ শাকিল আল-হোসাইন তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে ওয়ার্ডের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে চান। তিনি এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং তরুণদের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
আসন্ন নির্বাচনে ৭ নং ওয়ার্ডের ভোটাররা একজন সৎ ও কর্মঠ প্রতিনিধি হিসেবে তাকে নির্বাচিত করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ী ও নিরাপদ যাতায়াতের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। কিন্তু গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি যেন এক শক্তিশালী সিন্ডিকেটের লুটপাটের ময়দানে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়ের হওয়া এক অভিযোগ এবং বিআরটিসির অভ্যন্তরীণ তথ্য সেই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। জুলাই ২০২২ থেকে জুন ২০২৫—মাত্র তিন বছরে শুধু এই ডিপোতেই ১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকারও বেশি অপচয়, ক্ষতি ও চুরির অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া বিল, জ্বালানি ও ফেরি খরচ ফাঁকি, অগ্রিম ভাতা, টিএ/ডিএ আত্মসাৎ এবং হিসাব জালিয়াতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ যেভাবে গিলে খাওয়া হয়েছে, তা প্রতিষ্ঠানটির গভীরে প্রোথিত সিন্ডিকেটের চিত্রই তুলে ধরে।
দুদকে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোর রাজস্ব আদায়, জ্বালানি, বায়ু, জমা-রাজস্ব খাতে এবং নির্ধারিত ব্যয় নির্বাহের নামে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগকারী বিআরটিসির কেন্দ্রীয় স্টোর অফিসার মো. মোস্তাকিজুর রহমানের দাবি, জ্বালানি, গ্যারেজ, টুলস ও ফেরিসহ বিভিন্ন খাতে এবং প্রথম মাইলেজ ভাতা, দৈনিক ভাতা ও বিবিধ ব্যয়ের নামে ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে নগদ উত্তোলন করে প্রায় ১০-১২ কোটি টাকার অপচয়, ক্ষতি ও চুরি ঘটেছে। তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে এই সময়কালের ৪৩০ পাতারও বেশি তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগে চিহ্নিত প্রধান ব্যক্তিদের মধ্যে অভিযুক্ত মো. কামরুজ্জামান, যিনি সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত সিনিয়র ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে একই ডিপোতে ছিলেন এবং এখনও সেখানে কর্মরত। অভিযোগে আরও নাম উঠেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাশিয়ার মো. আ. করিম এবং হিসাব কর্মকর্তা মো. রমজান হোসেনের। এদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও দুদকের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
বিআরটিসির অভ্যন্তরে এই কর্মকর্তাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ার অভিযোগ উঠে আসছিল।
একইভাবে মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে, তার শ্বশুরবাড়ি কুমিল্লায় হওয়ায় তিনি সাবেক এমপি শেখ সেলিমের শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং সেই ছত্রছায়ায় বড় বড় ডিপোতে পোস্টিং পেয়েছিলেন। সম্প্রতি তাকে খুলনা বাস ডিপোর দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কর্মকর্তাদের একাংশ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ ডিপো ও ইউনিটে পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে।
এসব অভিযোগের পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত না হলেও, বিআরটিসির অভ্যন্তরীণ তথ্য ও দুদকে জমা দেওয়া নথিপত্রে চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোর আর্থিক অনিয়মের চিত্র স্পষ্ট। জ্বালানি তেল ও ফেরি বিল, গ্যারেজ শ্রমিকের মজুরি, মাইলেজ বিল, দৈনিক ভাতা এবং টিএ/ডিএর নামে ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে নগদ উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে ডিপোর রাজস্ব আদায়েও ঘাটতি দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা তিনিই এই সিন্ডিকেটের বতর্মান প্রধান বলে একটি সুত্র নিশ্চিত করেছন। “বিআরটিসিতে ফ্যাসিস্ট চেয়ারম্যান থাকলেই এরকম একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট টিকে থাকা সম্ভাব। বিগত দিনের দুর্নীতির একটি ভাগ বতর্মান চেয়ারম্যান কে দিতে হয়েছে। সকল অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে।তাই তার কর্মকর্তারাও দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে । বতর্মান সরকারের উচিৎ শিগগির তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
চেয়ারম্যান নিজেই এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে লুটপাটের স্বীকৃতি দিয়েছেন অর্থনৈতিক সুবিধা নেয়ার জন্য ।
আওয়ামী লীগ চলে গেলেও এই প্রতিষ্ঠানটিতে চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের এক নেতার জামাতা। তাই এই সিন্ডিকেট যে ক্ষমতার পালাবদলের পরও টিকে আছে, এমন চেয়ারম্যান পাওয়াতেই তা স্পষ্ট। অনেক ডিপোতে এখনও সেই সময়ের অবৈধ লিজ ও অবৈধ কাউন্টার এবং তাহার ব্যবস্থাপনা বহাল রয়েছে।
এদিকে একটি সুত্র জানায়, ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা মাসিক মাসোয়ারা হিসেবে
ম্যানেজারদের কাছ থেকে
নেন! আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা দুর্নীতির বরপুত্র বর্তমান বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা। ম্যানেজারা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেই ডিপোর ম্যানেজারের চেয়ার কেড়ে নেয়ার ভয় দেখানো শুরু করেন। ভয়ে মাসিক মাসোয়ারার টাকা দিতে বাধ্য হয় ম্যানেজাররা।বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার দাবি এই টাকা তিনি একানেন না বিএনপির এমপি, মন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয় তার এই চেয়ার টিকানোর জন্য। একথা গুলো ম্যানেজারদের সাথে সরাসরি বলে থাকেন চেয়ারম্যান। নাম না প্রকাশ করার সত্ত্বে এক ম্যানেজার বলেন চেয়ারম্যান কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পরিবারের লোক তাই সকল সুবিধা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোক জনকেই দিয়ে থাকেন। মুখে বিএনপি অন্তরে আওয়ামী লীগ।তিনি তো কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতার জামাতা।বিএনপির এমপি,মন্ত্রীর কথা বলে টাকা নেন কিন্তু সেই টাকা নিজেই ভোগ করেন। তাদের নাম শুধু বলে তারা কেহ কোন কিছু নেন না।
সুত্রের আরও দাবি,মাসিক মাসোয়ারার পরেও ভিন্ন ভিন্ন খাদে অর্থ বরাদ্দ করে সেই অর্থই হাতিয়ে নিচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা দুর্নীতির বরপুত্র বর্তমান বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা।
গত বছর আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলায় অপারেটিং ব্যায় খরচ নির্বাহের জন্য ধরা হয় ১৫ লক্ষ টাকা। বর্তমান চেয়ারম্যান সেখানে (আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলায় অপারেটিং ব্যায় খরচ নির্বাহের জন্য ৫৭ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছেন।)অথচ ৬ লক্ষ টাকাও খরচ হবে না।
চেয়ারম্যানের রুমের ডেকারেশনের বরাদ্দ ৫৬ লক্ষ টাকা। ভাউচার দিয়ে চেয়ারম্যানের পকেটে ৪০ লক্ষ টাকা।
সাবেক চেয়ারম্যান যে রুমে অফিস করেছেন সেই রুমের ডেকোরেশন এর জন্য ৫৬ লক্ষ টাকা বাজেট করেছেন অথচ সেই রুমেই বসেই বিআরটিসির সাবেক চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করেছেন। মাসিক মাসোয়ারা বাদে ও বর্তমানে ভিন্ন ভিন্ন খাদে অর্থ বরাদ্দ করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বর্তমান চেয়ারম্যান!
বিআরটিসির চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোর এই অভিযোগ কেবল কয়েকজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অনিয়মের চিত্র নয়। এটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক ছত্রছায়া, হিসাব জালিয়াতি এবং সিন্ডিকেটভিত্তিক লুটপাটের একটি বড় চিত্র।
দুদকে দায়ের করা অভিযোগ এবং টিআইবিসহ বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা মিলে একই সত্যকেই তুলে ধরছে বিআরটিসিকে গিলে খাওয়া সিন্ডিকেট এখনও সক্রিয়। দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া এই প্রতিষ্ঠানকে জনগণের সেবায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন খাতের দুর্নীতি নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। তিনি বলেছেন, “রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতা ও মেধাকে উপেক্ষা করে স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদে লোক বসানো গুরুতর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির শামিল। এ ধরনের সিন্ডিকেটভিত্তিক নিয়োগ কেবল প্রশাসনিক শৃঙ্খলাই ভেঙে দেয় না, জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতার ওপর জনগণের আস্থাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
টিআইবির গবেষণায় দেখা গেছে,পরিবহন খাতে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও সিন্ডিকেটই অনিয়ম-দুর্নীতির মূল কারণ।প্রাইভেট বাস খাতে বছরে অন্তত এক হাজার কোটি টাকারও বেশি চাঁদা ও ঘুষ আদায় হয়, যার বড় অংশ রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পকেটে যায়। বিআরটিএ ইতোমধ্যে দুর্নীতির তালিকায় শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিআরটিসির মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় একই ধরনের রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও হিসাব জালিয়াতি চললে জনগণের আস্থা আরও ক্ষুণ্ন হবে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
অর্থনীতিবিদ ও সুশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিআরটিসির মতো প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ করা সম্ভব নয়। একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, “যখন কোনো কর্মকর্তা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে লাভজনক পদে বহাল থাকেন এবং হিসাবের জালিয়াতি চলে, তখন তা ব্যক্তিগত দুর্নীতির পর্যায় পেরিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সংকট তৈরি করে। দুদক ও বিভাগীয় তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।” আরেকজন বিশ্লেষকের মতে, ক্ষমতার পালাবদলের পরও পুরনো সিন্ডিকেট যদি বহাল থাকে, তাহলে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি অর্থহীন হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. কামরুজ্জামানের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভব হয়নি।
বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ করেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলাকালীন সময়ে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতাকে আরো সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
এ সময় পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় যাত্রাবাড়ীতে চলন্ত বাস থেকে ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া এক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. রোকনুজ্জামান রোকন, বয়স ২৬।
যাত্রাবাড়ী থানার বরাত দিয়ে আকতার হোসেন জানান, যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ একটি দল চলন্ত বাস থেকে ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে ছিনতাইকারী রোকনুজ্জামান রোকনকে শনাক্ত করে। এরপর আজ সকালে আনুমানিক ৭টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার শনির আখড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে মামলা রয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, রাজপথে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করলে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইলের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা বিএনপির আয়োজনে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে’ অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “একটা গোষ্ঠী, ফ্যাসিস্ট এই বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। জনগণ দ্বারা বিতাড়িত হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে গেছে। তারা গুম, খুন, নির্যাতন ও নিপীড়ন করেছে। এই দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, নির্বিচারে গুলি করেছে। তারা আজ আবার বিভিন্ন কায়দায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।”
তিনি বলেন, “তাদের এখনো বোধোদয় হয়নি, কী কারণে পালিয়ে গেল। তারা একবারও লজ্জিত হয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাচ্ছে না। এই ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশে কী রাজনীতি করতে পারবেন? পারবেন না। আপনাদের এই দেশের জনগণ বিতাড়িত করেছে। জনগণই আপনাদের প্রতিহত করবে। কারণ বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রপ্রিয়।”
বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশকে ধ্বংস করেছে। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন দেশনায়ক তারেক রহমান।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণের দল বিএনপিকে এত সহজে ষড়যন্ত্র করে পার পাবেন—ভাবলে আহাম্মকের স্বর্গে বাস করা ছাড়া কিছুই না। জনগণ ভোটের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে। জনগণের দাবি ও অধিকার নিয়ে যখনই কেউ ষড়যন্ত্র করেছে, তারাই জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জনগণই তাদের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে, ভবিষ্যতেও দেবে।”
রাজপথে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১৭ বছর জনগণের দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করেছে। কাজেই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই রাজপথে যারা বিশৃঙ্খলা করবে, তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেব, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি বলেন, “কোনো অপশক্তি, কোনো ফ্যাসিস্ট যাতে এই দেশের ক্ষতি করতে না পারে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এ ব্যাপারে সজাগ থেকে একদিকে আমরা সাংগঠনিক কাজ করব, অন্যদিকে সরকারকে দেশ পরিচালনায় সহযোগিতা করব। আর জনগণের উন্নয়নের জন্য সমান্তরালভাবে কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু।
এর আগে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পৃথক পৃথক মিছিল নিয়ে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এসে সমাবেশে অংশ নেন।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শফিকুল রহমান লিটন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অমল ব্যানার্জি, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী ও শফিকুর রহমান খান শফিক, টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি আহমেদুল হক শাতিল, টাঙ্গাইল জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক একেএম মনিরুল হক (ভিপি মনির), টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিমুদ্দিন বিপ্লব, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব জাহিদ হোসেন মালা, জেলা মহিলা বিএনপির সভাপতি নিলুফা ইয়াসমিন এবং টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দূর্জয় হোড় শুভ।
এ ছাড়া জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ