ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কক্সবাজারের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত জবি শিক্ষার্থী নাবিলা


কক্সবাজারের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত জবি শিক্ষার্থী নাবিলা

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের ইনানী এলাকায় অবস্থিত ‘টুপটুপ’ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে মোট দশজনের মৃত্যু ঘটেছে। মৃতদের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলাসহ একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নাবিলার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে।

এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।

আরও পড়ুন: পাঠ্যবইয়ের মান যাচাইয়ে হঠাৎ প্রেসে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন

নিহত ছয়জনের মধ্যে রয়েছেন-রাজধানী ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা, মিলিতা মেহেজাবিন আলভী, খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা ও নাফিসতা মীম এবং ফারিহা কবির ও ফায়িজান আহম্মেদ। উল্লেখ্য, নাবিলা জবির রসায়ন বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

নিহতদের স্বজন, জবি লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল আহাদ সরকার জানান, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন তার কাজিন এবং অন্যজন পাঁচ বছর বয়সী ভাগনি। এছাড়া তার মামা মাসুদ ও মামী মেহেরুন্নেসা আহত অবস্থায় বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এদিকে, নাবিলার অকালমৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।

এক শোকবার্তায় তারা মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে এ অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ও মানসিক শক্তি কামনা করেন।

আরও পড়ুন: একাদশ শ্রেণিতে তৃতীয় ধাপের ভর্তি আবেদন শুরু ২৬ অক্টোবর

নাবিলাসহ একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় স্বজন, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার পর ধোঁয়া দেখতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি বিকট শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত পর্যটকেরা হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন বের হতে পারলেও অন্যরা রিসোর্টের ভেতরে আটকা পড়েন।

খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। সকাল ৯টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে রিসোর্ট থেকে দশজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া আরও নয়জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে সাতজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: আলীকদমের ৩৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রিসোর্টটির বেশির ভাগ অংশ কাঠ দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভবনের পেছনের অংশ ইট দিয়ে নির্মিত। প্রতিটি কক্ষে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও রেফ্রিজারেটর থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বেড়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০১ পি.এম


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর ছাত্রী ফুটবল ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে ১–০ গোলে পরাজিত করে শিরোপা অর্জন করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফুটবল দল। রানার্সআপ হিসেবে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। এই প্রতিযোগিতায় সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল অংশগ্রহণ করে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, যিনি চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়, কোচ, ম্যানেজার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে ট্রফি প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

প্রতিযোগিতার দাবা ইভেন্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, যাহা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে অর্জন করেছে। রানার্সআপ হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান লাভ করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। দাবা ইভেন্টে দেশের ২৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। ফুটবল ও দাবা—দুই ইভেন্টের বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন অতিথিরা।

১৪ অক্টোবর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় দেশের ২৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১০৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। দাবা প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের অরবিটাররা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, "জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় খেলাধুলায় আরও বেশি বিনিয়োগ করতে চায়।" তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের সঙ্গে শেখার পরিবেশ একসময় ছিল, কিন্তু তা অনেকটাই হারিয়ে গেছে। খেলাধুলাকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে এবং সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দের সঙ্গে শেখার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ড. আমানুল্লাহ জানান, দেশের আটটি বিভাগে স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, "আমাদের স্বপ্ন আধুনিক ও বিশ্বমানের স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা।" বিদেশের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্রীড়াবিজ্ঞান শিক্ষা এবং বাংলাদেশের বিপিএড শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস সায়েন্সের সঙ্গে আমাদের বিপিএড এক নয়। আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া শিক্ষা নিশ্চিত করতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও অলিম্পিক মানের স্পোর্টস কমপ্লেক্স গড়ে তুলতে হবে।

এছাড়া দাবা, আর্চারি, গণিত ও ইংরেজি অলিম্পিয়াড আয়োজনের বিষয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। তরুণ প্রজন্মকে নতুন করে সক্রিয় করে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। মেয়েদের সব ক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি সকলকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও পরাজিত সব দলের খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, "খেলায় হার-জিত থাকবেই; অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় বিষয়।" এবারের আয়োজনের সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে আরও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতা আয়োজনের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, "খেলাধুলায় অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।" বর্তমানে এর গুরুত্ব আরও বেশি। খেলাধুলা এখন আর শুধু আনন্দ বা বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পেশা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তরুণরাই আগামী দিনে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার নেতৃত্ব দেবে উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের দেশের ভবিষ্যতের আশার বাতিঘর হিসেবে অভিহিত করেন।

নারী ফুটবলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তাছলিমা আক্তার সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পেয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদিয়া। আর সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লিমা।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম এবং অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুল আলম। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, দপ্তরগুলোর পরিচালক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা হচ্ছে প্রথম কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০১ পি.এম


বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা হচ্ছে প্রথম কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

দেশে প্রথমবারের মতো কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। একই চুক্তির অধীনে বাংলাদেশের আটটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়ন, যৌথ শিক্ষাক্রম চালু করা এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে বৃত্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে।

বাংলাদেশের পক্ষে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং চীনের পক্ষে দেশটির শিক্ষা উপমন্ত্রী ওয়াং গুয়াংইয়ান এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্মেলনে ৪০টিরও বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং শতাধিক দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে। বেইজিং এগ্রিমেন্টের পাশাপাশি সম্মেলনে ‘চীনে বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক শ্বেতপত্র’, ‘লুবান ওয়ার্কশপের জাতীয় মানদণ্ড’ এবং আন্তর্জাতিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) সহযোগিতা এগিয়ে নিতে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল উন্মোচন করা হয়।

বেইজিং এগ্রিমেন্টে বাংলাদেশের সমর্থন ও সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা-প্রশিক্ষণের মানদণ্ড গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের উপযোগী করে প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মন্তব্য করেন, ‘এই সমঝোতা স্মারক এবং বেইজিং এগ্রিমেন্ট একত্রে বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষায় অভূতপূর্ব গতি সঞ্চার করবে।’

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘বৈশ্বিক কারিগরি শিক্ষার মানদণ্ড এবং বাস্তবধর্মী দ্বিপক্ষীয় যৌথ সহযোগিতা বাংলাদেশি তরুণদের জন্য বিশ্বজুড়ে বাস্তব কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।’

স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি বাংলাদেশ-চীনের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা আশাবাদ প্রকাশ করেন।

সহযোগিতা কাঠামোর অগ্রাধিকারমূলক ৬ উদ্যোগ

এই দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তির আওতায় দুই দেশ অগ্রাধিকারমূলক ৬টি সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করবে।

১. চীনের কারিগরি শিক্ষাক্রম, শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশের আটটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়ন করা হবে।

২. দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে একটি নতুন কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।

৩. কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য যৌথ ২+২ এবং ৩+১ মডেলের কারিগরি একাডেমিক কর্মসূচি চালু করা হবে।

৪. বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধার পাশাপাশি স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

৫. চীনের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহে বাংলাদেশি কারিগরি শিক্ষার্থীদের সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

৬. বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা বৃত্তির সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করা হবে।

চুক্তি বাস্তবায়নে চীনের গুয়াংডং, জিয়াংসি এবং অন্যান্য প্রদেশের খ্যাতনামা কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এই দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার মূল বাস্তবায়নকারী অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বান: দারিদ্র্য দূরীকরণে সাশ্রয়ী আবাসন ও আর্থিক কাঠামোর সংস্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০২ পি.এম


জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বান: দারিদ্র্য দূরীকরণে সাশ্রয়ী আবাসন ও আর্থিক কাঠামোর সংস্কার

ঢাকা, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ : জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দারিদ্র্যকে মানুষের মর্যাদার প্রতি একটি গুরুতর আঘাত এবং মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থে আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কারের জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস উপলক্ষে আজ প্রকাশিত এক বাণীতে জাতিসংঘের প্রধান উল্লেখ করেন যে, দারিদ্র্য মানুষের সুযোগ-সুবিধা সীমিত করে এবং সংকটকালীন মুহূর্তে মানুষকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়।

বর্তমান বছরের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’-এর ওপর আলোকপাত করে গুতেরেস বলেন, দারিদ্র্য কীভাবে আবাসনহীনতার ঝুঁকি বাড়ায় এবং উচ্চ ভাড়া, অনিরাপদ আবাসন ও গৃহহীনতা মানুষকে আরও গভীর দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়।

তিনি সতর্ক করেন যে, এর ফলাফল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহন করতে হতে পারে, যা অসমতাকে স্থায়ী করে, স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি করে, শিক্ষা ব্যাহত করে এবং স্থায়ী কর্মসংস্থান পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তোলে।

জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, ‘এই দুষ্টচক্র ভাঙতে হলে আয় ও আবাসনের চাপ যেন মানুষকে আরও অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিতে না পারে, তা প্রতিরোধ করতে হবে।’ সংকট মোকাবিলায় তিনি সাশ্রয়ী আবাসন ও মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শোভন কর্মপরিবেশ এবং সার্বজনীন সামাজিক সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

জাতিসংঘের প্রধান মনে করিয়ে দেন যে, দোহা রাজনৈতিক ঘোষণা দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং এর পেছনে থাকা অসমতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।

এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও পর্যাপ্ত অর্থায়নের পাশাপাশি শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেভিয়া প্রতিশ্রুতি এই পথকে আরও সহজ করেছে।

তিনি আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রতিনিধিত্বশীল এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর চাহিদার প্রতি সাড়া দেওয়ার জন্য জরুরি সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

বিশ্বে প্রয়োজনীয় সম্পদ ও জ্ঞান বিদ্যমান রয়েছে উল্লেখ করে গুতেরেস বিশ্ববাসীকে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান, যাতে প্রতিটি মানুষ একটি নিরাপদ আবাসন পায় এবং দারিদ্র্যমুক্ত পরিবেশে মর্যাদাপূর্ণ জীবন গড়ার সুযোগ লাভ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগ্রাসন রুখতে দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানোর আহ্বান : রুহুল কবির রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০২ পি.এম


আগ্রাসন রুখতে দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানোর আহ্বান : রুহুল কবির রিজভী

ঢাকা, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন, সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে একটি জাতির স্বকীয়তা দুর্বল করার প্রচেষ্টা চলছে। এই ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশের তরুণদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বরে মরমি সাধক লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘কালচার ফর ইউনিটি বাংলাদেশ’ নামক সংগঠন।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক কাজী জেসিন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেন, আমাদের ওপর বিভিন্নভাবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে আমাদের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার গ্যারান্টি হচ্ছে নিজস্ব সাংস্কৃতিক গভীরতার উন্মোচন, চর্চা ও অনুশীলন। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের চর্চা বিশ্বে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৬-১৭ বছরে দেশকে একমুখী করার চেষ্টা হয়েছে। এই সময়ে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হয়েছে এবং স্বাধীনতার কথা বলে অন্য দেশের দাসত্ব করা হয়েছে। তবে আশার বিষয় হলো, তরুণেরা এসব বিষয় উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, স্বাধীনতার কথা বলা হলেও কার্যত দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। বাংলাদেশের সিনেমা হলে ভারতীয় সিনেমা অবাধে প্রদর্শনের উদ্যোগও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের একটি উদাহরণ। একটি জাতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তার সার্বভৌমত্ব, এবং সেই সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদী চেতনা ও নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে ভাবনার যে বিকাশ ঘটেছে, তার প্রকাশ ঘটে জুলাই আন্দোলনে। নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে যখন মানুষ জেগে ওঠে, তখন গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি অমানবিক শাসনের পতন ঘটে।

বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, লালন শাহ, মুকুন্দরামসহ বাংলার লোককবিদের চিন্তায় মানবতাবাদী দর্শনের প্রকাশ ঘটেছে। তাদের দর্শন সহজ ভাষায় মানুষের মর্যাদা, আত্মপরিচয় ও মানবিকতার কথা বলেছে। পরবর্তী সময়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য-সংগীতেও এই ধারার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, লালনের গান ও বাউল সুর বাংলা সাহিত্য-সংগীতকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতেও বাউল সুরের প্রভাব বিদ্যমান। তাই সাংস্কৃতিক চর্চা ও জাতীয় চেতনায় মানবতাবাদী দর্শনকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%